৭ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিউচি। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। বুধবার...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
দেশে গাড়ি তৈরিতে এবার সরাসরি বিনিয়োগ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি করপোরেশন। তারা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় কৌশলগত বিনিয়োগ করবে। এরই অংশ হিসেবে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছে জাপানি এই প্রতিষ্ঠান।
এত দিন র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ নিজেদের কারখানায় জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন থেকে গাড়ি এনে সংযোজন করত। এখন র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হলো মিতসুবিশি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই।
নতুন বিনিয়োগ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিতসুবিশির সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি, র্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার দিয়ে শুরু
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৭ সালে দেশে যানবাহন সংযোজন শুরু করে। স্থানীয়ভাবে তারা প্রথম সংযোজন করে মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার। এরপর একে একে ফুসো বিএম১১৭ বাস, মার্সিডিজ ওএফ১৬২৩ বাস, প্রোটন এক্স৭০, জ্যাক ও জিএমসি ট্রাক ও পিকআপ ট্রাক সংযোজন করা হয়। গাজীপুরের গাড়ির এই কারখানা সম্প্রসারণে গত বছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি।
র্যানকন জানায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের গাড়ি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। জাপানের মিতসুবিশির আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়ি সংযোজনের মধ্য দিয়ে র্যানকন অটোর যাত্রা শুরু হয় ওই বছর। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে এই মডেল উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় র্যানকন অটো। বর্তমানে ৯৮ হাজার বর্গফুটের এ কারখানায় চার ধরনের গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিতসুবিশির এক্সপ্যান্ডার মডেল ও প্রোটনের এক্স-৭০ মডেলের ব্যক্তিগত সংযোজন ও গাড়ি রং করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মোটর গাড়ি উৎপাদন করতে যাচ্ছে। মিতসুবিশির মতো একটি বৈশ্বিক অটোমোবাইল কোম্পানি যখন বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করে, তখন এটি একটি বার্তা দেয়। আশা করছি এই বিনিয়োগ অন্যান্য বড় কোম্পানিকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলবে।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সম্ভবত দেশে প্রথম এফডিআই। আমরা আশা করি, এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য দেশ থেকে অনেক নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে। আগামী মাস থেকে আমরা টোকিওগামী ফ্লাইট শুরু করছি, যা আগে বন্ধ ছিল। এতে দুই দেশের যোগাযোগ ও ব্যবসা–বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে র্যানকন গ্রুপ বাংলাদেশে মিতসুবিশি মোটরস গাড়ির বিক্রয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশে অটোমোবাইল ভ্যালু চেইন ব্যবসায় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।’
র্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘মিতসুবিশি করপোরেশন সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। এটি সম্ভবত বাংলাদেশে চার চাকার গাড়ি উৎপাদনে প্রথম সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ। আশা করি এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য বৈশ্বিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ‘মূল্যস্ফীতি সেভাবে বৃদ্ধি পাবে না’ বলে দাবি করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতিটা সেভাবে বৃদ্ধি পাবে না কেন, এটা একটু বোঝা দরকার। সারা পৃথিবীতে জ্বালানির মূল্য যে অনুপাতে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সেটা অত্যন্ত সামান্য।’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শিল্পমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, নিলে সেটা কী?
জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ব্যাখ্যা করেন, কেন মূল্যস্ফীতি বাড়বে না? তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যভেদে তেলের দাম ভিন্ন হয়, নিজস্ব ট্যাক্সের কারণে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অনেক অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালনের দাম ২ ডলার ৮০ সেন্ট বা ৭০ সেন্ট ছিল, সেটি এখন ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। আশপাশের যেকোনো দেশ অথবা বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় যেকোনো অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করলে তুলনামূলকভাবে জ্বালানি পণ্যের মূল্য প্রতিটি দেশে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়। এটার জন্য সরকারের আলাদা পদক্ষেপ নিতে হয় না।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের এখানে যে বৃদ্ধিটা হয়েছে, ডিজেলের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ডিজেলকে আমরা ১১৫ টাকা করেছি। আমি শুধু বোঝার জন্য বলছি, একটা শিল্পকারখানায় তাদের যে কস্ট অব প্রোডাকশন (উৎপাদন খরচ) থাকে, তার মধ্যে ৭ থেকে ৮ শতাংশ থাকে জ্বালানির মূল্য। সেই ৭ থেকে ৮ শতাংশকে যদি ১০০ পারসেন্ট ধরি, তার ১৫ শতাংশ ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পায়, তবে তা মোট খরচে খুব সামান্য প্রভাব ফেলে।’
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, একইভাবে পরিবহনের ক্ষেত্রে, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলার জন্য কমবেশি ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। এই ৩০ লিটার ডিজেলের ক্ষেত্রে সাড়ে চার শ টাকার মতো মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ট্রাকের পণ্য পরিবহনের জন্য হিসাব করা হলে বাড়তি মূল্যের ভার পড়বে ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর।
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘তার মানে এমনি শুনলেই যেটা মনে হয় যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আমরা যদি পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের হিসাব করি, তাহলে সেই বৃদ্ধিটা মূল্যস্ফীতির জন্য ওই রকম উদ্দীপক নয়। এটা ঠিক, আপনি অর্থনীতিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যেখানে ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্সটা ইমব্যালেন্সড (মৌলিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়া) হয়ে যায়। সে জন্য পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরা সেই নীতি মডেস্টলি নিয়েছি এবং খুবই একটা মডারেট মূল্য বৃদ্ধি করেছি।’
রেমিট্যান্সে চাপ তৈরির শঙ্কা
বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর চাপ পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্সের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা (ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা) বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে এবং বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ থেকে প্রধানত তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য, চামড়াজাত ইত্যাদি পণ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে।
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চলমান অস্থিরতা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রয়েছে, যার আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বিমা খরচ বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি হ্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে রপ্তানির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এটি দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্সের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতির পরিমাণ ৭ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ মিলিয়ন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন এবং ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ও মালদ্বীপের সঙ্গে দুই দশমিক ৮৫ মিলিয়ন বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংসদে গত পাঁচ বছরের রপ্তানি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন, ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিদেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত
মৌলভীবাজার-১ আসনের নাছির উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ২০০৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো কর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৫।
আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক ও জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর এ ঘোষণার পর তেলের দাম বেড়েছে।
এর আগে গত শনিবার ইরান ঘোষণা দেয়, তারা আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্কবার্তা দেয়, কোনো জাহাজ প্রণালির দিকে এগোলে হামলা করা হবে।
এ পরিস্থিতিতে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলার। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত এ আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক বিবিসিকে বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কারণে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বার্তার প্রতিক্রিয়াতেই তেলের বাজারে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
গতকাল রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। তার আগের দিন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এ সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে।
বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে চাপে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়।
সরবরাহ সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশে সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মসপ্তাহ কমানো হয়েছে, জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি চীনেও নানা ধরনের কাটছাঁট করা হচ্ছে, যদিও চীনের মজুত প্রায় তিন মাসের আমদানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পর চীন সরকার মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানার চেষ্টা করছে।
এদিকে জেট জ্বালানির দাম বাড়ায় এশিয়া অঞ্চলে সেবা দেওয়া বিমান সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, ইউরোপে হয়তো ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত রয়েছে। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে শিগগিরই ফ্লাইট বা উড়ান বাতিল হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে টানা কয়েক দফা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহের শেষে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কিছুটা কমেছে।
বিবিসি
বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
তিনি আরও বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানির পূর্ণ মজুত রয়েছে। একইসঙ্গে জুন মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এরপর বলেন, জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীও জানান, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আগামী দুই মাসের জন্য যথেষ্ট।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রাণালিতে চলমান অবরোধের প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশে; জ্বালানি তেল মজুতে মেতে উঠেছে অসাধু চক্র। ফলে, অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ক্রেতাসাধারণের মনেও। ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্কের কারণে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল বাজারে ফিরতে পারে।
আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এই তেলের দাম কমেছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের দিন যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় পাকিস্তানে শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে আশাবাদ দেখা দিয়েছে—এতে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবহনের প্রধান জলপথ এটি।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে।
মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার ইরান থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হতে বাধা দিয়েছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ এক নোটে বলেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এবং যাতায়াতের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
তাদের মতে, বাজারে এখন স্থিতিশীলতা ফিরবে, এমন সম্ভাবনার চেয়ে সরবরাহ ব্যাহত হবে, এমন আশঙ্কাই বেশি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের ৩০ দিনের যে মেয়াদ, তা এ সপ্তাহে শেষ হচ্ছে, এই শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর অনুরূপ শিথিলতাও গত সপ্তাহান্তে নীরবে শেষ হয়েছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) সাপ্তাহিক মজুতের কী তথ্য প্রকাশ করে, তার দিকে বাজারের নজর থাকবে। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বেড়েছে, তবে ডিজেল ও পেট্রলের মজুত কমে যেতে পারে।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা তৃতীয় সপ্তাহে বেড়েছে।
এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে ওঠে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।
চার মাস জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার বাড়তি দামে আমদানিতে দরকার ৩০০ কোটি ডলার।
ভর্তুকির জন্য বাড়তি লাগবে ৩৮,৫৪২ কোটি টাকা।
২০২২ সালে এমন সংকটের পর দারিদ্র্য বেড়েছিল ৯ শতাংশের বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে এসব পণ্য আমদানিতে চার মাসে প্রয়োজন ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। আবার ভর্তুকি দিতে লাগবে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
সরকার এই চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার (প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা) ঋণের খোঁজ করছে। গত মার্চ থেকে আগামী জুন সময়ের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন–সহযোগীদের কাছ থেকে এই ঋণ নিতে চায় সরকার। ঋণ পাওয়া যায় কি না, তা আলোচনা করে দেখতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা।
চিঠির সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে একটি অবস্থানপত্র। সেখানে জরুরি ঋণসহায়তার জন্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। অবস্থানপত্রে ঋণ তিনভাবে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রথমত, এই ঋণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি নিশ্চিতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখবে। তৃতীয়ত, দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ইত্যাদির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে তা ব্যয় করা যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপের মুখে পড়েছে। এই ঋণসহায়তা জরুরি প্রয়োজন মেটানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দরকার।
বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১৪ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ চাওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ৩১ মার্চ বলেন, তিনি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এবং বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল।
বাড়তি দরে আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দ্রুত কমতে থাকে। একটি পর্যায়ে তা ৪ হাজার ৮০০ কোটি (৪৮ বিলিয়ন) ডলার থেকে নেমে আসে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের নিচে। অন্যদিকে ৮৬ টাকার ডলারের দাম ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবস্থাপনাকে।
জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে দেয় তখনকার সরকার। দফায় দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও সারের দাম। কিন্তু মজুরি মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বাড়েনি।
অর্থনীতির এই পরিস্থিতি বিপুলসংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামিয়ে দেয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত গবেষণায় জানায়, তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। তিনি বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করার জন্য ঋণের সুদের হার বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। বাড়তে থাকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুত সাড়ে ৩ হাজার কোটি (৩৫ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। এর ১০ দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যেটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বাংলাদেশ সময় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি এখনো খোলেনি। অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আবার যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও শিগগিরই জ্বালানির দাম আগের পর্যায়ে যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধে জ্বালানি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে নতুন সরকার জরুরি ঋণের খোঁজে নামল।
আমদানির চাপ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮৩৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির ব্যয় ৫১৪ কোটি ডলার। সার আমদানিতে লেগেছে আরও ২৬২ কোটি ডলার। বাসসের একটি খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮৮ কোটি ডলার।
জ্বালানির দাম বাড়লেই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। অর্থ মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্রে বলেছে, যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ২৫০ শতাংশ, এলএনজি ১০০ শতাংশ এবং সারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালের মার্চ-জুন সময়ে যেখানে জ্বালানি ও সার আমদানিতে ৩০১ কোটি ডলার লেগেছিল, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৫৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অবস্থানপত্রে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিস্থিতিও তুলে ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার কোটি (৩০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি থাকলেও মার্চে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি (২৯ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, এই হিসাব আইএমএফ নির্দেশিত পদ্ধতিতে করা, যা বিপি ৬ নামে পরিচিত।
ভর্তুকির চাপ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অবস্থানপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ-জুন (২০২৬) সময়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে ৩৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বাড়তি ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ভর্তুকি দাঁড়াবে ৯৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। বাজেটে ভর্তুকি বরাদ্দ আছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্ববাজারে বাড়লেও এপ্রিলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। তবে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ে ৯ এপ্রিল একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান অর্থমন্ত্রী।
ঋণের জন্য যোগাযোগ
ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। অতীতেও বাজেট সহায়তা নেওয়া হয়েছিল, তবে সে সময় উন্নয়ন–সহযোগীরা নানা সংস্কারের শর্ত দিয়েছিল। এর কিছু বাস্তবায়িত হলেও কিছু হয়নি। ফলে নতুন ঋণ সহায়তা পেতে সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে আইএমএফের মতো সংস্থাগুলো জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের মতো খাতে সবার জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিরোধী। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্রে বলেছে, এই ভর্তুকি হবে স্বল্পমেয়াদি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী। পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশ উন্নয়ন–সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেটসহায়তা চাইছে। তাই বাংলাদেশের এই উদ্যোগ অস্বাভাবিক নয়। তবে তিনি মনে করেন, উন্নয়ন–সহযোগীরা জানতে চাইবে সরকার কী ধরনের নীতি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে জ্বালানির দাম কেন সমন্বয় করা হয়নি।
ঢাকা