বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে প্রতি বছর ঈদের ঠিক আগে মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলা বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। 

যদিও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরের দোকানগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু কিছু দোকানি মূল বাজারের তুলনায় ক্রেতাদের থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন।

বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এমনটা। সেখানে বড় বাজারের চেয়ে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চাহিদার শীর্ষে থাকা গরম মসলার বাজারও এবার বেশ স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে প্রতি একশোগ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোল মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরার মসলা ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, মসলার দাম যা বাড়ার সেটা ডলার সংকটের সময় গত দুই বছর আগে বেড়েছিল। এবার ঈদের নতুন করে গরম মসলার দাম বাড়েনি।

এদিকে গত সপ্তাহে সব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে থাকলেও সেই তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় নেমেছে। শুধু গোল বেগুন প্রতিকেজি ১০০ টাকা থাকলেও বাকি সবজিগুলো ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তো সব সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সেই তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি। 

‘দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো।’

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। সামনে ঈদে পরিবহন সমস্যা, যানজট হওয়ার কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমে ঈদের সময় দাম বাড়তে পারে। মূলত নতুন সবজি উৎপাদন হয়ে বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।

এদিকে তবে বেড়ে যাওয়া ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অবশ্য শুধু ডিম বিক্রি করে এমন কিছু দোকানে ১৪৫ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে ডিম। আবার পাড়া মহল্লার কোনো কোনো দোকানিকে ১৫৫ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে।

তবে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে। 

 

দেশে বর্তমানে আবাসিক ফ্ল্যাট, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে প্রায় ৫ কোটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের ঝামেলাকে সহজ করেছে এলপিজি সিলিন্ডার। রান্নার এই জ্বালানি সচেতনভাবে ব্যবহারে যেমন জীবনে এসেছে স্বস্তি, তেমনি অসচেতনতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারে তা ঘটাতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। গ্যাস মজুত, পরিবহন ও ব্যবহারে সামান্য ভুলে হতে পারে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি।

● ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না জানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বেশির ভাগ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। সিলিন্ডার লিক হয়ে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে যায়। এরপর বৈদ্যুতিক সুইচের স্ফুলিঙ্গ বা ম্যাচের কাঠি জ্বালালেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

● নিরাপদ এলপিজি ব্যবহারের প্রথম শর্ত হলো সিলিন্ডার কেনার সময় অনুমোদিত ডিলার থেকে সেফটি ক্যাপ ও থার্মোসিল দেখে নেওয়া।

● সিলিন্ডার সব সময় খাড়া অবস্থায়, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন সমতল স্থানে রাখতে হবে। কোনোভাবেই এটিকে শোবার ঘর, রান্নাঘরের বন্ধ কেবিনেট, আন্ডারগ্রাউন্ড বেসমেন্ট কিংবা সিঁড়িঘরের নিচে রাখা যাবে না; কারণ, এলপিজি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচু ও আবদ্ধ স্থানে জমে মারাত্মক বিস্ফোরক পকেট তৈরি করে।

● রান্নার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে জানালা-দরজা খুলে দেওয়া এবং রান্না শেষে রেগুলেটরের চাবি বন্ধ করার অভ্যাস করা জরুরি।

● রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে কখনো দেশলাই জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করা যাবে না; কারণ, সুইচের সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

● লিক পরীক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সাবান-পানির পরীক্ষা। পানিতে সাবান বা ডিশ ওয়াশার গুলিয়ে ফেনা তৈরি করে হোস পাইপ ও রেগুলেটরের সংযোগস্থলে লাগালে যদি বুদ্​বুদ উঠতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে গ্যাস লিক হচ্ছে।

●সিলিন্ডার দুর্ঘটনা রুখতে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বিইআরসির সমন্বিত তদারকি আরও জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন । অবৈধ উপায়ে এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর (ক্রস-ফিলিং) বন্ধ করা এবং বাজারজাতকৃত প্রতিটি সিলিন্ডারের সংবিধিবদ্ধ পুনঃপরীক্ষার মেয়াদ বা টেস্ট ডিউ ডেট নিয়মিত যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। একটু সতর্কতা ও সঠিক নিয়ম অনুসরণই পারে এলপিজি সিলিন্ডারজনিত প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি রোধ করতে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেই বিষয়টি বোঝা যায়। সেটা হলো, শেয়ারবাজার বা পণ্যের বাজারে মাঝেমধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু বন্ড বাজার যখন অস্থির হয়ে ওঠে, তখন গুরুত্ব দিতেই হয়।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্ড বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পারস্পরিক শুল্কনীতির গতি কমাতে বাধ্য করেছিল। এখন আবারও বন্ড ব্যবসায়ীরা সতর্কসংকেত দিচ্ছেন। তবে এবার পরিস্থিতি শান্ত করার মতো খুব বেশি কিছু ট্রাম্পের হাতে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টউড ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ড্যানিয়েল অ্যালপার্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বন্ড বাজারে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আর (ট্রাম্প) নিজেই যে সমস্যার মধ্যে আমাদের ফেলেছেন, সেখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে, তা যেন তিনি বুঝতে পারছেন না।’

সহজ করে বললে, বন্ড ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প যেভাবে ‘স্বল্পমেয়াদি’ বলে দাবি করছেন, বাস্তবে বিষয়টি হয়তো তেমন নয়। এ ধারণা শক্তিশালী হলে বন্ডের দাম আরও কমতে পারে।

এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সিএনএনের সাংবাদিক ডেভিড গোল্ডম্যান বন্ড বাজারকে পুরোনো দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাল্লার এক পাশে থাকে বন্ডের দাম, অন্য পাশে থাকে সুদের হার।

এখন নানাবিধ অর্থনৈতিক শঙ্কার কারণে সেকেন্ডারি বাজারে বন্ডের দাম কমছে। এর মধ্যে আছে—

  • ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি।
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল জাতীয় ঋণ।
  • ভোক্তা ঋণের চাপ।
  • ইরান যুদ্ধের ব্যয়।
  • সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অর্থায়নের ব্যয়।

বন্ডের দাম যত কমে, সুদের হার তত বাড়ে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সরকারকে মূলত বলছেন, ‘আমাদের অর্থ ধরে রাখতে চাইলে আরও বেশি সুদ দিতে হবে।’

এর অর্থ হলো, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়বে। যে কারণে শেষমেশ করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগও কমে যাবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঋণের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে। এমনকি মন্দার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যদিও সেই পরিস্থিতি এখনো খুব কাছাকাছি নয়।

গতকাল মঙ্গলবার বন্ড বাজারের উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও তা দূর হয়নি। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার উঠে যায় ৫ দশমিক ২ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে।

শেয়ার ও পণ্যের বাজারে সাধারণত ট্রাম্প বা অন্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া হয়, কিন্তু বন্ড বাজার ভিন্ন ধরনের।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত প্রায় তিন মাসে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’। তাঁর এমন মন্তব্যে প্রায় প্রতিবারই শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।

গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র স্বার্থে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। এতে শেয়ারবাজার ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে ওঠে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়। কিন্তু বন্ড বাজারে তার প্রভাব পড়েনি; বরং বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রি চলতেই থাকে।

বিষয়টি হলো, বিনিয়োগকারীরা শুধু যুদ্ধ বা তেলজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তাঁদের দৃষ্টিতে এখন একসঙ্গে একাধিক সংকট।

বার্কলেজের গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক চেয়ারম্যান অজয় রাজাধ্যক্ষ সোমবার এক নোটে লেখেন, ‘গল্পটি খুবই সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর—উন্নত বিশ্বে ঋণ অনেক বেশি, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গুর। এ দুটি সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও নেই...জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’।

সিএনএন

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়।

বুধবার (২০ মে) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী।

দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা।

শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান।

পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।

দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ।

বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন|

দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল।

উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানাকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর আগে তিন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশন শেষে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এই অধিবেশনে জেলা প্রশাসকেরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বন্ধ চিনিকল আবার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকদের এই প্রস্তাবের কথা জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।

উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআইভিত্তিক) সরবরাহব্যবস্থা তদারক করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।

দুই বছরের কৌশলগত কাঠামো বানাচ্ছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

এদিকে ডিসি সম্মেলন শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি দুই বছর মেয়াদি নতুন কৌশলগত কাঠামো তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এ কাঠামো সাজানো হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্য কমিয়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ জন্য এখন থেকে প্রতিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তা কতটুকু কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেক প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।

দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চীন ও ভারত থেকে আরও ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। 

শনিবার (২ মে) জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘লিলা কিংস্টন’ চীন থেকে ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে শুক্রবার বিকেলে বন্দরে এসে পৌঁছায়। অন্যদিকে, শনিবার ভোরে ভারত থেকে ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘প্রাইভেট সোলানা’ কুতুবদিয়া এঙ্করেজে নোঙর করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে নতুন আসা এই জ্বালানি দিয়ে প্রায় চার দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। এর মধ্যে ডলফিন জেটিতে দুটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ আছে আরও চারটি। একটি জাহাজ থেকে ইতিমধ্যে ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস বা লাইটারিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবে এই চালানগুলো আসছে। গত এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ টনের বেশি জ্বালানি আমদানি করা হয়েছিল। মে মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বিপিসি, যার মধ্যে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলও রয়েছে। 

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব