১০ ফেব্রুয়ারি শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা...
দেশের বাজারে আজ শনিবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৫ টাকা। এর আগে দাম ছিল ২ লাখ ৬১...
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। প্রণালি...
দেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ট্যাক্স (কর) ও দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু...
রাজধানীর কোলাহল ছাপিয়ে রাত দুইটার নিস্তব্ধতায় যাঁদের বঁটির ধারালো শব্দে বেঁচে থাকার ছন্দ তৈরি হয়, সেই অদম্য নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের...
তুলনামূলক কম খরচে উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর ও শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে চান অনেকেই। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ফলে ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি-টানা তিন দিন শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি থাকবে।
তবে এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটি ভোগ করার পর শ্রমিকদের দিয়ে পরবর্তীতে একদিন কাজ করাতে পারবেন কারখানা মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে একদিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।
ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াল। মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স তাঁরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্সএআই অধিগ্রহণ করার পর এই মাইলফলক তৈরি হয়েছে।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে, এই চুক্তিতে যৌথ কোম্পানির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার। ফলে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ৮৪ বিলিয়ন ডলার—মোট সম্পদমূল্য বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন বা ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
চুক্তির আগে মাস্কের হাতে স্পেসএক্সের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মালিকানা ছিল। এই শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৩৬ বিলিয়ন বা ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ডিসেম্বর মাসে দেওয়া দরপত্রের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন এই রকেট কোম্পানির মোট মূল্যায়ন করা হয়েছিল ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার। একই সঙ্গে, চলতি মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান হয়। এতে এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি ডলার। সেই হিসাবে কোম্পানিটিতে ইলন মাস্কের আনুমানিক ৪৯ শতাংশ অংশীদারত্বের মূল্য দাঁড়ায় ১২২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
একীভূতকরণের পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআইয়ের ২৫০ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, যৌথ কোম্পানিতে মাস্কের মালিকানা এখন প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার মূল্য ৫৪২ বিলিয়ন বা ৫৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
ফলে স্পেসএক্স এখন মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এ ছাড়া তাঁর কাছে টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ১৭৮ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। টেসলার শেয়ার অপশন আছে আরও প্রায় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে গদ নভেম্বর মাসে মাস্কের জন্য অনুমোদিত রেকর্ড পারিশ্রমিক প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এক বছরেরও কম সময়ে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ইলন মাস্কের দুটি কোম্পানি একীভূত হলো। গত মার্চে তিনি ঘোষণা দেন, তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত হয়েছে। ওই চুক্তিতে এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয় ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি ডলার এবং এক্সের ৩৩ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে ঋণ বাদ দিয়ে টুইটার অধিগ্রহণে মাস্ক যে অর্থ দিয়েছিলেন, এটা তার প্রায় সমান।
তবে এসব চুক্তিতে মাস্ক একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় ছিলেন। ফলে মাস্ক ঘোষিত মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এখন সব প্রতিষ্ঠানই স্পেসএক্সের কাঠামোর মধ্যে এসেছে। সেই সঙ্গে স্পেসএক্স চলতি বছরের শেষ দিকে আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে শিগগিরই এসব কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের কঠোর নজরদারির মুখোমুখি হতে হবে।
এর আগে ডিসেম্বর মাসে ইলন মাস্ক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক অর্জন করেন। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্ট একাডেমি বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইলন মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার এক লাখ কোটি ডলারের মালিক হতে পারেন। সেই পথেই এগোচ্ছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।
এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে আজ সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ইসহাক ডিপো সংলগ্ন টোল প্লাজায় সড়ক অবরোধ করেন।
এদিকে টানা ৪ দিনের কর্মবিরতিতে বন্দর ও বেসরকারি আইসিডিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ কন্টেইনার জট। বন্দরের এমন অচলাবস্থায় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দর এলাকায় সভা সমাবেশে নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা থাকায় যে কোন তৎপরতা ঠেকাতে বন্দরের একাধিক প্রবেশ মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করায় হ্যামস গার্মেন্টসকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) লিড প্লাটিনাম সনদে (সার্টিফিকেশনে) ১১০–এর মধ্যে ১০৮ স্কোর পেয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিজিএমইএ।
আজ শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানটি বিজিএমইএ এবং হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, পরিচালক ফারুক হাসান, ইউএসজিবিসির কনসালট্যান্ট অনন্ত আহমেদ, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)–এর অন্তর্বর্তী কমিটির কনভেনর এহসানুল করিম কায়সার প্রমুখ।
এ সময় বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে যে নম্বর পেয়েছে, তা বিশ্বের যেকোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর। এই সাফল্য সারা বিশ্বের কাছে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০–এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, জিএমইএর বর্তমান পর্ষদ যেভাবে পোশাকশিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বিজিএমইএর এই সংবর্ধনা উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
বিজিএমইএর পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে, যা দেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যে এর সঠিক প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। উল্লেখ্য যে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধির অনুমানের তুলনায় যা অনেক কম। দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।
বুধবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে এডিবি এশিয়ান দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছে এডিবি।
এডিবি এর আগে চলতি অর্থবছরের জন্য চার দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রাক্কলনের কথা উল্লেখ করে এডিবির পূবাভাসের এপ্রিল সংস্করণে বলা হয়েছে, এ সময়ে অর্থনীতি ধীর গতিতে প্রসারিত হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক বিক্ষোভ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে উৎপাদন খাত স্থিতিশীল হওয়ায় পরবর্তী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪১তম।
— চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৫% এবং আগামী বছর ৫.৭% হতে পারে।
— সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ও ঝুঁকি এখন বাণিজ্যঋণ নিয়ে।
— মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এরপর বিএনপি সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরেছে। তবে গত আগস্টের পর থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে। এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ১–এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ঝুঁকি স্কোর ৫ দশমিক ১। বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪১তম।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ‘রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরলেও রূপান্তরের ঝুঁকি এখনো আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমালেও আস্থা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি পরিমাপ করে। সেগুলো হচ্ছে—বাজার চাহিদা, বাজার ব্যয়, বিনিময় হার, রাষ্ট্রের ঋণমান ও বাণিজ্যঋণ। ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয় ১ থেকে ১০ স্কেলে; ১০ মানে সর্বোচ্চ ঝুঁকি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বাণিজ্যঋণ–সংক্রান্ত। এ ক্ষেত্রে স্কোর সর্বোচ্চ ১০। বিপুল খেলাপি ঋণ, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে; দুর্বল তদারকি এবং সীমিত ঋণতথ্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ব্যাংকগুলো বড় ঋণগ্রহীতা ও সেবা খাতকে বেশি ঋণ দিলেও ঝুঁকি কম থাকা সত্ত্বেও গৃহস্থালি ও আবাসন খাত তুলনামূলক কম ঋণ পায়।
উচ্চ সুদের হার ও খেলাপি ঋণের চাপে বাজারের ব্যয়ও বেশি—এই সূচকে স্কোর ৮। বাজার চাহিদায় স্কোর ৭, যেখানে আঞ্চলিক গড় ৫ দশমিক ১। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিয়মকানুন–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিশ্চয়তা এবং প্রবাসী আয়ের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা বাজার চাহিদায় ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
মুদ্রা বিনিময় হার মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে—স্কোর ৫। ভাসমান বিনিময় হার চালু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। গত বছরের শুরুতে বড় অবমূল্যায়নের পর টাকা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়ালেও মহামারিপূর্ব অবস্থার নিচে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় সংস্কার অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।
রাষ্ট্রের ঋণমান এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম মাথাপিছু আয়, প্রতিষ্ঠানগত উদ্বেগ ও প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ স্কোরকে নিচের দিকে টানছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ঋণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংস্কার–সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়ে গেছে।
প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস
ব্যবসা–বাণিজ্যের শ্লথগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ—করোনা মহামারি ছাড়া গত কয়েক দশকের মধ্যে দুর্বলতম। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ–অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তন, বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা এবং বৈদেশিক চাহিদার মন্দা এতে ভূমিকা রেখেছে।
মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা। সাময়িকভাবে কমার পর আবার বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে (বার্ষিক) উঠেছে, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মজুরি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ হওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং ভোক্তা চাহিদা সীমিত রয়েছে।
বাহ্যিক চাপ বাড়ছে
রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক নতুন চাপের মুখে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ক্রয়াদেশ কমে আসা এবং জার্মানিসহ ইউরোপে চাহিদা হ্রাসের কারণ। মোট পণ্য রপ্তানির এক–পঞ্চমাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। সেবা রপ্তানি কমায় প্রভাব আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক কম শুল্ক ও নতুন বাণিজ্যচুক্তি স্বল্প মেয়াদে স্বস্তি দিলেও আগামী নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ মধ্যমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। উত্তরণের পর পণ্য রপ্তানিতে ৯–১২ শতাংশ শুল্ক বসতে পারে, যা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে।
তবে চলতি বছর দেশে রপ্তানি বাড়তে পারে বলে মনে করছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। নতুন বাণিজ্যচুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার ফলে ক্রয়াদেশ বাড়তে পারে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নত হওয়া এবং এলডিসি উত্তরণের আগে বাণিজ্য–সুবিধা বহাল থাকাও সহায়ক হতে পারে।
বৈদেশিক লেনদেন ও বিনিয়োগ
কঠোর মুদ্রানীতি ও আইএমএফ সহায়তায় রিজার্ভ গত বছরের মাঝামাঝি ২২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। তবু বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে মাত্র চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
সরকারি ব্যয় সংকোচন ও ঋণের উচ্চ খরচে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখতে চায়। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ থাকায় শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর আস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অনিশ্চয়তার উৎস দূর করলেও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্যসহায়তা মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছে।