Suspendisse mauris nibh
Aliquam dui nulla, fermentum sit amet ante et, tempor facilisis metus. Aenean aliquam ultricies tellus at elementum. Morbi quis cursus tortor, id vulputate felis.
Aliquam dui nulla, fermentum sit amet ante et, tempor facilisis metus. Aenean aliquam ultricies tellus at elementum. Morbi quis cursus tortor, id vulputate felis.
পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা কমাতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরব সাগরে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা দেওয়ার মধ্যেই ট্রাম্প এমন কথা বললেন।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, আরব সাগরে ইরানের একটি ড্রোন তাদের বিমানবাহী রণতরির কাছাকাছি চলে আসায় সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এ মুহূর্তে আলোচনা চলছে। তবে সেই আলোচনা কোথায় হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এ আলোচনা বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে; কিন্তু আলোচনা যে হচ্ছে—এটা নিশ্চিত। তারা কিছু একটা করতে চায়। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কিছু হয় কি না। তারা কিছুদিন আগেও একটি সুযোগ পেয়েছিল; কিন্তু তখন বিষয়টি কার্যকর হয়নি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ‘‘মিডনাইট হ্যামার’’ অভিযান চালিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তারা এমন কিছু আবার ঘটতে দিতে চায় না।’
গত বছরের জুনে চালানো ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানকে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এসবের মধ্যেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীকে পারস্য উপসাগরে পাঠিয়েছে; যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর উদ্যোগে একটি সমাধানের চেষ্টা জোরদার হয়েছে। এতে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।
গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে এবং ‘মর্যাদা, বিচক্ষণতা ও বাস্তবতার নীতি’ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, এ আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাঠামোর মধ্য থেকে হতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আত্মরক্ষার্থে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরি থেকে উড্ডয়ন করা একটি যুদ্ধবিমান ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বিমানবাহী রণতরি ও তাতে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা এফ–৩৫সি যুদ্ধবিমান ইরানের তৈরি শাহেদ–১৩৯ মডেলের ড্রোনটি ভূপাতিত করে। সে সময় রণতরিটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ড্রোনটি বিমানবাহী রণতরির দিকে আগ্রাসীভাবে এগিয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী উত্তেজনা কমানোর নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ড্রোনটি জাহাজটির দিকে আসতে থাকে।
আল–জাজিরা
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের (যুবরাজ্ঞী) বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসলোতে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার তাঁর বিচার শুরুর কথা রয়েছে।
মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিচার শুরু হচ্ছে।
২৯ বছর বয়সী হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎছেলে।
নরওয়ের পুলিশ মারিয়াস হোইবিকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছুরি নিয়ে হামলা এবং আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আবারও অপরাধ করার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।
হোইবি তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচারকাজ শুরু হলে কিছু কম গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনাকে নরওয়ের রাজপরিবার ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নরওয়ের মানুষ এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর আরেকটি খবরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে–ম্যারিট ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নরওয়ের ভবিষ্যৎ রানি মেটে-ম্যারিট এ ঘটনাকে তাঁর ‘অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জেফরি এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার সব ভুক্তভোগীর প্রতি আমি গভীর সহমর্মিতা আর সংহতি প্রকাশ করছি।’
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন, ‘তাঁর (জেফরি এপস্টেইন) সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি ভীষণ বিব্রতকর।’

প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে চার রাত ছিলেন। তবে ওই সময় এপস্টেইন ওই বাড়িতে ছিলেন না। ক্রাউন প্রিন্সেস তখন এপস্টেইনকে এ–ও জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন মা হিসেবে ১৫ বছর বয়সের ছেলেকে ‘দুজন নগ্ন নারীর সার্ফ–বোর্ড বহনের ছবিযুক্ত ওয়ালপেপার’ দেখানো ‘অনুচিত’ হবে কি না।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে মারিয়াস হোইবির বিরুদ্ধে একজন নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। নোরা হাউকল্যান্ড নামের ওই নারীর সঙ্গে একসময় তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আর নোরা হলেন হোইবির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ হওয়া একমাত্র ভুক্তভোগী। অন্যদের নাম জানা যায়নি।
সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, হোইবি গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে থাকা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে ২০২৩ সালে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরের বছর হোইবিকে ২০১৭ সালের একটি সংগীত উৎসবে কোকেন ব্যবহার করার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।
ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাধা কমানো, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কেনার কারণে শুল্ক কমানো হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধা এবং তার অনুরোধের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছি। চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ ধার্য করবে।
ট্রাম্প আরও জানান, নরেন্দ্র মোদি ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অন্যান্য পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ২৫ শতাংশ পারস্পারিক শুল্ক ছাড়াও রাশিয়ান তেল কেনার শাস্তিস্বরূপ সকল আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর নিজের টুইটারে দেওয়া পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলতে পেরে দারুণ লাগছে। আমি খুবই আনন্দিত যে ভারতে তৈরি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮% করা হয়েছে।
গত বছরের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক হার আরোপ করেছিলেন। পরে তা আরও বাড়ানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অনুপযুক্ত, উসকানিমূলক ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি নতুন প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ব্রেট র্যাটনারকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। এ সময় জেফরি এপস্টেইনসহ আরেক তরুণীও ছিলেন। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু ছবিতে এমন দৃশ্য সামনে এসেছে।
‘রাশ আওয়ার’ এবং ‘এক্স-ম্যান: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’-এর মতো সিনেমার পরিচালক ব্রেট র্যাটনারকে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের পাশে একটি সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে থাই দুজন নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে গত ডিসেম্বরে র্যাটনার, এপস্টেইন ও প্রয়াত ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, এসব ছবিও একই জায়গায় তোলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নথিপত্রে ব্রেট র্যাটনারের সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবিসি এ বিষয়ে তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।
এপস্টেইন ফাইল কী, এতে কী আছে
২০১৯ সালে নারী পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তাঁকে কেন্দ্র করে সংগৃহীত কয়েক লাখ ফাইলের অংশ হিসেবে এসব নতুন ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত ছবির ছোট সংস্করণে দেখা যায় র্যাটনার, এপস্টেইন এবং ব্রুনেল বিভিন্ন নারীর সঙ্গে হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ অবস্থায় আছেন। তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার খাতিরে নারীদের পরিচয় আড়াল করা হয়েছে।
অবশ্য ভুক্তভোগী নারীদের একজন আইনজীবী দাবি করেছেন, নথিপত্র প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত অনেক নারীর পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে।

মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রামাণ্যচিত্র ও বিতর্ক
এসব ফাইল ঠিক সেই দিনই মুক্তি পায়, যেদিন মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘মেলানিয়া: টুয়েন্টি ডেস টু হিস্টোরি’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি সমালোচকদের কাছে খুব একটা ভালো সাড়া পায়নি এবং এর অর্থায়ন নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০১৭ সালে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের সময় যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর এটিই ব্রেট র্যাটনারের প্রথম কাজ। তবে তিনি সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শুক্রবারের নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্ক, বিল গেটস, লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।
তাঁদের মধ্যে ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুর একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাঁকে মাটিতে শুয়ে থাকা এক নারীর ওপর হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আগেই তাঁর রাজকীয় পদবি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে এপস্টেইনের অর্থে মডেলিং এজেন্সি চালানোর অভিযোগ উঠা মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের বিরুদ্ধেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে প্যারিসের কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।
বিবিসি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।
খামেনি বলেন, তাঁরা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।
খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’
বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাঁদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
এএফপি
প্রতিরক্ষা খাতে এবারও বাজেট বাড়ালো ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় করা হবে পৌনে ৮ লাখ কোটি রুপিরও বেশি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। উন্নত প্রযুক্তির নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে কাজে লাগবে এসব অর্থ। এছাড়া, নৌবহর উন্নয়ন ও সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্যও বরাদ্দ হয়েছে বাজেট। মওকুফ করা হবে বিমান তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের শুল্কও।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পার্লামেন্টে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান।
মূলত, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করতে প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বাজেট বাড়িয়ে চলেছে ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও হয়নি এর ব্যতিক্রম। নতুন এ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার কোটি রুপি।
এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি মূলধন খাতে এবং রাজস্ব খাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি। এই দুই খাতে এবার বরাদ্দ বেড়েছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৮৪ ও ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। নতুন বাজেটে বেশ খুশি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং বলেন, 'প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের খবরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খুবই খুশি। আমরা এবার যা বরাদ্দ পেয়েছি, তা গেল বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, 'এই বাজেট জনগণের অনুভূতি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উন্নত ভারত গঠনের যে লক্ষ্য রয়েছে তা পূরণেও একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।'
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণে বরাদ্দ হয়েছে ২ দশমিক ১৯ লাখ কোটি রুপি। রাফাল বিমান, আধুনিক সাবমেরিন ও ড্রোনসহ নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে ব্যয় হবে এ অর্থ। এছাড়া নৌবহর আধুনিকায়নের জন্যও রয়েছে উচ্চ বাজেট।
বলা হচ্ছে— বেসামরিক, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিমানের উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ওপর মওকুফ করা হবে শুল্ক। এছাড়া বিমান যন্ত্রাংশের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঁচামালের ওপর দেয়া হবে শুল্কছাড়। সবমিলিয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণই এখন নয়াদিল্লির মূল লক্ষ্য
এদিকে, নয়া অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্যও বৈদেশিক সহায়তা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে দেশটি। সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ভুটানের জন্য। এছাড়াও নতুন অর্থবছরে নেপালকে ৮শ কোটি, শ্রীলঙ্কাকেও ৪শ কোটি এবং আফগানিস্তানকে দেড়শ কোটি রুপি সহায়তা দেবে নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশের জন্য ভারতের বরাদ্দকৃত অর্থে পরিমাণ ৬০ কোটি রুপি। এর আগে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছিলো দেশটি। পরে সেটি কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছিলো।
উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত থাকে—‘পার্ট এ’ এবং ‘পার্ট বি’। প্রথাগতভাবে ‘পার্ট এ’তে সরকারের নতুন নীতি ও প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা থাকে এবং ‘পার্ট বি’ মূলত আয়কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর টানা ৪০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার(৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশেই তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহজে মিশে যেতে সক্ষম হয়।
হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ৩০ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় তারা পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
বিএলএ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংগঠনটি দাবি করেছে, অভিযানে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিএলএ-এর দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয়, যাতে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটির বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান পাকিস্তানের নিরাপত্তা কৌশলে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে। এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার ঘটনা বেলুচিস্তানের ইতিহাসে বিরল।
সূত্র : রয়টার্স
গাজা ও মিসরের মধ্যকার সীমান্ত পারাপারের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। তবে এটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে এবং শুধু ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয়গুলো সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং রাজনৈতিক স্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার থেকে রাফা সীমান্ত সীমিত আকারে শুধু বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন, মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
কোগাট আরও উল্লেখ করেছে, সীমান্তটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করছে। সংস্থাটি যোগ করেছে, এই প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর উভয় দিক থেকে বাসিন্দাদের প্রকৃত যাতায়াত শুরু হবে। আপাতত প্রতিদিন এ ক্রসিং দিয়ে দেড় শ জন গাজা ছাড়তে পারবেন, আর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে ফিরতে পারবেন ৫০ জনের মতো।
এএফপি,
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়েছেন লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন। দেশটির সাবেক এই মন্ত্রী বলেছেন, আলোচিত ও সমালোচিত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ক নিয়ে যাতে আর কোনো ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি না হয়, সে জন্যই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর।
এপস্টেইন–কাণ্ডে পদ ছাড়ার মতো পরিণতি ভোগ করার ঘটনা লর্ড ম্যান্ডেলসনের জন্য এবারই প্রথম নয়। গত বছর একই কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করার পর বিশ্বজুড়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। নতুন এসব নথিতে ৭২ বছর বয়সী লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম এসেছে।
এপস্টেইনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিনটি পৃথক লেনদেনে ২৫ হাজার ডলার করে সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন এপস্টেইন।
এ তথ্য প্রকাশের পর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়ে দলের সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান লেবার পার্টির প্রভাবশালী এই রাজনীতিক। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘সপ্তাহান্তে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের সঙ্গে আমি আরও যুক্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত বোধ করছি।’
লর্ড ম্যান্ডেলসন আরও লেখেন, ‘২০ বছর আগে তিনি (জেফরি এপস্টেইন) আমাকে অর্থ দিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ আমি মিথ্যা বলেই মনে করি। এর কোনো নথি কিংবা স্মৃতি এখন আমার কাছে নেই। এসব আমাকে যাচাই করতে হবে।’
‘এই যাচাই প্রক্রিয়া চলার সময়টায় আমি লেবার পার্টিকে আরও বিব্রত করতে চাই না। এ কারণে আমি দলের সদস্যপদ ছাড়ছি’—চিঠিতে যোগ করেন লর্ড ম্যান্ডেলসন।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডনব্রাউনের প্রশাসনে মন্ত্রী ছিলেন লর্ড ম্যান্ডেলসন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন।
পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরানে। সম্ভাব্য এই যুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজধানী তেহরানে এখন নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এসব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।
তিনি বলেন, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন স্কুলে থাকা প্রায় ৫১৮টি পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
নাসিরি জানান, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে টয়লেট, পানি ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসযোগ্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল বসানোর কাজও শিগগিরই শেষ হবে।
এছাড়া মেট্রোর বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পার্কিং এলাকাসহ ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নাসিরি।
উল্লেখ্য, তেহরানের জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। তবে, বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।
প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
মূলত, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।
অন্যদিকে ইরান সরকারও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করেছে, তাদের ওপর কোনও ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বন্দোবস্ত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধের কৃত্রিম আবহের বিপরীতে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।’ তবে প্রস্তাবিত সেই আলোচনার রূপরেখা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ইরান সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা দেখি কিছু করা যায় কি না। অন্যথায় কী ঘটে, তা আমাদের দেখতে হবে…আমাদের একটি বিশাল নৌবহর সেদিকে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আলোচনা করছে।’

সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপের মুখে ট্রাম্প বারবার হামলার হুমকি দেওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নেতৃত্বে এক বড় নৌবহর ইরান অভিমুখে পাঠিয়েছে, যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপের মুখে ট্রাম্প বারবার হামলার হুমকি দেওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, তাঁরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এর আগে ট্রাম্পকে দেশটিতে হামলার হুমকি বন্ধ করতে হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে, তবে সেখানে পাঠানো মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ‘প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ’ করতে প্রস্তুত।
এরই মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌ মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করলে গত শুক্রবার তাদের সতর্ক করে দেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক সহযোগী বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি যেকোনো অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে।’
গতকাল এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের উপকূলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে যে তারা নিজেদের আঙিনায় কীভাবে অনুশীলন করবে।’
আরাগচি আরও লেখেন, ‘সেন্টকম এমন একটি জাতীয় বাহিনীর কাছে “পেশাদারত্ব” দাবি করছে, যাদের মার্কিন সরকার “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে; আবার সেই একই “সন্ত্রাসী সংগঠন” যে সামরিক মহড়া চালানোর অধিকার রাখে, তা–ও তারা স্বীকার করছে!’
তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা দেখি কিছু করা যায় কি না। অন্যথায় কী ঘটে, তা আমাদের দেখতে হবে…আমাদের একটি বিশাল নৌবহর সেদিকে যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আরাগচি বলেন, এ অঞ্চলে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি সব সময়ই ঘোষিত লক্ষ্যের উল্টো ফল বয়ে এনেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের বদলে তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এরই মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌ মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করলে গত শুক্রবার তাদের সতর্ক করে দেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে ‘বেশ নাজুক ও সংবেদনশীল’ অবস্থায় রয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে লারিজানির বক্তব্যকে তিনি একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। আসাদি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ইরানি কর্মকর্তারা মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন।
আল–জাজিরা