পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরানে। সম্ভাব্য এই যুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজধানী তেহরানে এখন নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এসব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।
তিনি বলেন, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন স্কুলে থাকা প্রায় ৫১৮টি পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
নাসিরি জানান, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে টয়লেট, পানি ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসযোগ্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল বসানোর কাজও শিগগিরই শেষ হবে।
এছাড়া মেট্রোর বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পার্কিং এলাকাসহ ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নাসিরি।
উল্লেখ্য, তেহরানের জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। তবে, বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।
প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
মূলত, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।
অন্যদিকে ইরান সরকারও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করেছে, তাদের ওপর কোনও ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।