বিশ্বকাপের এই এক মজা! ৪৮ দল হওয়ায় সম্ভাবনাটা আরও বেড়েছে। কুরাসাও প্রমাণ করল সেটাই।

২০২৩ সালের মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল কুরাসাও। সেই ম্যাচের আগে ক্যারিবিয়ান এই দ্বীপ দেশটির নাম জানতেন না অনেকেই। জনসংখ্যায় বিশ্বকাপের ইতিহাসেই ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবারের টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়ার পর তাদের পরিচিতিটা আরেকটু বেড়েছে। কিন্তু হিউস্টনে আজ রাতে যা ঘটল, তাতে কুরাসাওকে আসলে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ অভিষেকে ৭ গোল করে ছোট্ট দ্বীপ দেশটিকে আরও ভালোভাবে মনে রাখার সুযোগ করে দিল জার্মানি।

কুরাসাওকে তাই অন্তত জার্মানদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। হিউস্টন স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার ‘ব্লু ওয়েভ’ সমর্থক এবং দলটির বাইরে দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরের এক চিলতে ভুখন্ডে এক লাখের কিছু বেশি কুরাসাওবাসীরাও এই ম্যাচকে মনে রাখবেন জনম জনম!

মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার একটি দেশ। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই যেখানে তাঁদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উৎসব, সেখানে একটা গোল কী করতে পারে! সেটাও যদি হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির জালে! কাই হাভার্টজদের সাত গোলও যেটা করতে পারেনি, কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া সেটা করতে পেরেছেন মাত্র এক গোলেই। তেমন কিছু না আসলে, আজ থেকে ১০০ বছর পরও যখন কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে খেলার প্রসঙ্গে উঠবে, গল্প হবে প্রথম গোলটি করেছেন কে—তখন কোমেননসিয়ার নামটা উচ্চারিত হবে। অমরত্ব আর কি!

অনেকের মতেই, হিউস্টনের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম ‘মিস–ম্যাচ’—অর্থাৎ দুই দলের শক্তির ব্যবধানে বড় বেশি অসমতা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম জার্মানির সঙ্গে ৭২ ধাপের ব্যবধানে পিছিয়ে কুরাসাও—যেটা ২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া–আইভরিকোস্ট ম্যাচের পর সবচেয়ে বড় ব্যবধান। এমন ম্যাচে জার্মানি কী করতে পারে, সেটা তো ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জালে তাঁদের ৮ গোলেই পরিস্কার। ইউলিয়ান নাগলসমানের দলটিও কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে একটি বার্তা দিয়েছে, যেটা পঞ্চম গোলের পর থেকেই বলছিলেন ধারাভাষ্যকার, ‘জার্মানি নিজেদের ফিরে পেয়েছে!’

খবরটা বিশ্বকাপে বাকি দলগুলোকে খুশি করবে না, তা নিশ্চিত।

জার্মানি আসলে কুরাসাওয়ের স্পর্ধার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার পথে দলটিকে গুরুত্বপূর্ণ এক পাঠও দিয়েছে। বিশ্বকাপে ছোট দল বলে তিল পরিমাণ ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। তা না হলে ২১ মিনিটে কুরাসাও সমতায় ফেরার পর জার্মানি কেন গুণে গুণে আরও ছয় গোল করবে। কারও কারও হয়তো ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালও মনে পড়েছে। সেবার জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল, এবার কুরাসাও। কিন্তু স্কোরলাইন একই। বাংলাদেশে অনেক ফুটবল সমর্থকের ভাষায় , ‘সেভেন আপ।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রীতিমতো গোলবন্যার উৎসবে মাতলো জার্মানি। প্রতিপক্ষ কুরাসাওকে ৭-১ ব্যবধানে হারিয়ে আসর শুরু করল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের হাভার্টেজ জোড়া গোলের পাশাপাশি আরও পাঁচ নাম তোলেন স্কোরবোর্ডে।

রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে অভিষিক্ত কুরাসাওয়ের মোকাবিলা করে জার্মানরা।

ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটেই এনমেচার গোলে লিড পায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি কুসারাও। ১৪ মিনিট বাদে বক্সের ভেতর থেকে কুরাসাওয়ের রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শট ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি চলে যায় গোলপোস্টে।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে সহজ হেডে গোল করেন জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। প্রথমার্ধের বাকি সময়েও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে জার্মানরা। যোগ করা সময়ের শেষ পর্যায়ে পেনাল্টিতে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন কাই হাভার্টজ। শেষ পর্যন্ত ৩-১ এ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় কিমিখের দল।

বিরতির পর একের পর এক কঠিন আক্রমণে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলে জার্মানরা। বিরতইর পত দ্বিতীয় মিনিটেই  জশুয়া কিমিখের পাস ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন মুসিয়ালা।

এরপর ম্যাচের ৬৮, ৭৮ ও ৮৮ ঠিক ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও তিনটি গোল করে জার্মানি। স্কোরবোর্ডে নাম তোলেন নাথানিয়েল ব্রাউন, ডেনিজ উনদাভ ও হাভার্টাজ।

উল্লেখ্য, ১২ বছর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। বেলোহরিজন্তের সেই স্মৃতি আরও একবার ফিরিয়ে আনলো ডিম্যানশাফটরা।

নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো শুরু করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে আজ ১ নম্বর গ্রুপের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে ৮ উইকেটে ১৩৯ রান করে ডাচরা। সেই লক্ষ ৫ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ নারী দল। জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫০ রান। ৩৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় এই রান করেছেন বাংলাদেশ ওপেনার।

দিলারা আক্তারের সঙ্গে জুয়াইরিয়ার ৬৭ রানের উদ্বোধনী জুটিই মূলত বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ৭.৫ ওভারেই এই রান করেছেন তাঁরা। জুটির ৫০ রানই এসেছে জুয়াইরিয়ার ব্যাট থেকে। অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যারোলিনা ডি ল্যাঙ্গার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে জুয়াইরিয়ার বিদায়ের ঠিক পরের বলেই আউট হয়ে যান অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

২৩ বলে ২৬ রান করে ওপেনার দিলারা যখন ফিরলেন, বাংলাদেশের স্কোর ১০.২ ওভারে ৭৯/৩। পরের ওভারে সোবহানা মোস্তারিও (১০ বলে ৪) ফেরার পর স্কোরটা হয়ে যায় ৮৫/৪।

দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পর শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার
দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পর শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারএএফপি

এরপর স্বর্ণা আক্তারকে নিয়ে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান শারমিন আক্তার। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ ও স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে ডাচ মেয়েদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন অধিনায়ক বাবেটা ডি লিডি। বাংলাদেশের পেসার মারুফা আক্তার ৩১ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বুধবার হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নেদারল্যান্ডস: ২০ ওভারে ১৩৯/৮ (ডি লিডি ৫০, সিগার্স ১৬; মারুফ ২/৩১, রিতু ১/১৭, রাবেয়া ১/২৬, সানজিদা ১/২৯, ফারিহা ১/৩২)।
বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ১৪১/৪ (জুয়াইরিয়া ৫০, শারমিন ৩৭*, দিলারা ২৬, স্বর্ণা ১৮*; ডি ল্যাঙ্গা ২/২৭)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: জুয়াইরিয়া ফেরদৌস।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে এক উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে, ব্যাট করে ২৭৫ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাবে, শেষ ওভারে এক উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জেতে অজিরা।  

ইনিংসের প্রথম ওভারেই, বারলেটের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ২ রানে ফেরেন সৌম্য সরকার। 

দ্বিতীয় উইকেটে, ৫১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে আউট হন ১৯ রান করা তানজিদ হাসান তামিম। অপরদিকে, অধিনায়ক শান্ত ফেরেন ২৪ রান করে। দু'জনই আউট হন ম্যাট রেনশো'র বলে। 

এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ৯২ রানের জুটি গড়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন; পরে আবারও ক্রিজে এসে তুলে নেন মিরপুরে তার প্রথম ফিফটি। 

অন্যদিকে, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। পার্টনারশিপ ভাঙ্গে হৃদয় ৮৩ রান করে ডারউইশের বলে ফিরলে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে থামে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৫৬ রান করে। 

জবাবে, ৭০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। অন্যপ্রান্তে অবিচল কুপার কনোলি লাবুশেন, গ্রীন, পিককে নিয়ে কিছু ছোট ছোট জুটি গড়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

ম্যাচের শেষদিকে, ৪ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সেট ব্যাটার কনোলি ১৪৯ রানে আউট হলে ম্যাচ নেমে আসে শেষ উইকেটে। তবে, ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের পরও ২-১'এ সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগার'রা। 

অস্ট্রেলিয়া ২: ০ তুরস্ক

তুরস্ক পারল না। একের পর এক আক্রমণ করেও একবারও অস্ট্রেলিয়ার জালে বল জড়াতে পারেনি দলটি।

নিজেদের গোলপোস্টের সামনে নিখুঁত দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটারই ফল পেয়েছে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করেছেন নেস্তরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় গোল

আবার পাল্টা আক্রমণ, আবার গোল!

গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে বল পান কনর মেটকাফ। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে সেখান থেকে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান তিনি।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। ম্যাচে ব্রাজিলের শুরুটা বাজে হলেও ধীরে ধীরে খেলায় উন্নতি করেছে। তবে এখনো নিজেদের সেরা ছন্দের কাছাকাছিও নেই ‘সেলেসাও’রা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, প্রথমার্ধে দলের খেলা তাঁর পছন্দ হয়নি। তবে আনচেলত্তি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের ভাগ্য প্রথম ম্যাচেই নির্ধারিত হয় না।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রথমার্ধের খেলাটা আমাদের ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। দল ভালো খেলেনি, ভারসাম্যে কিছু সমস্যা ছিল। অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেছি, অনেক বল হারিয়েছি। এই জায়গাগুলোয় আমাদের উন্নতি করতে হবে।’

দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন আনচেলত্তি। তাঁর ভাষায়, ‘দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। প্রথম ম্যাচের পর আমরা ভাবতে পারি না যে দলটি নিখুঁত। এই ফল আমরা মেনে নিচ্ছি, যা মোটেও খারাপ নয়। পরের ম্যাচে আমরা আরও লড়াই করব। বিশ্বকাপ তো প্রথম ম্যাচেই জেতা যায় না।’

প্রথমার্ধে খারাপ খেলার পেছনে স্নায়ুচাপকেও দায়ী করেন ব্রাজিলের এই ইতালিয়ান কোচ, ‘আমার মনে হয় প্রথমার্ধটা কঠিন ছিল। দল কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। ম্যাচটাও ছিল কঠিন। তবে আমি বিশ্বাস করি, পরের ম্যাচে দল আরও উন্নতি করবে।’

ভিনিসিয়ুসের গোলে হার এড়িয়েছে ব্রাজিল
ভিনিসিয়ুসের গোলে হার এড়িয়েছে ব্রাজিল, এএফপি
 

ম্যাচের কোন দিকটি ভালো লেগেছে জানতে চাইলে আনচেলত্তির উত্তর, ‘দল শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়েছে। ইতিবাচক বিষয় হলো, আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা এখন পরিষ্কার। আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং আক্রমণভাগে আরও আগ্রাসী দল গড়ে তুলতে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

ভক্তদের সমালোচনা নিয়েও এ সময় কথা বলেন আনচেলত্তি, ‘আপনাকে অবশ্যই সমালোচনা মেনে নিতে হবে, যখন দল ভালো খেলতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো খেলোয়াড়ের সমালোচনা করি না, সমালোচনা পুরো দলের। কারণ, প্রথমার্ধে দল ভালো খেলেনি।’

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলকে উদ্ধার করেছেন ভিনিসিয়ুস। তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘ভিনি ভালো খেলেছে, সে বিপজ্জনক ছিল। তার যে মান ও সামর্থ্য, আমি বিশ্বাস করি সে দারুণ একটি বিশ্বকাপ কাটাবে।’

‘বি’ গ্রুপ থেকে ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে পরের ম্যাচ খেলবে আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়।

১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে স্কটল্যান্ড। আর ২৮ বছর পর ফেরার আসর জয় দিয়েই উড়ন্ত শুরু করেছে রাঙাল ইউরোপিয়ান দলটি। হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে তারা। দলের হয়ে একমাত্র গোল দেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। 

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে লড়াই করলেও একমাত্র গোলের দেখা পায় স্কটল্যান্ড। দেশের হয়ে অধিনায়ক ম্যাকগিনের এটি ২১তম গোল হলেও গুরুত্বের বিচারে অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গোল হজমের পর দারুণভাবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে হাইতি। বিশেষ করে ডান প্রান্তে লুইসিয়াস ডিডসনের গতিময় আক্রমণ স্কটিশ রক্ষণকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে। ৩৪ মিনিটে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের ভুল থেকে প্রায় সমতা ফিরিয়ে ফেলেছিল হাইতি, তবে জ্যাক হেন্ড্রি বিপদমুক্ত করেন দলকে।

৪২ মিনিটে জ্যাঁ-রিকনার বেলগার্দে রক্ষণ ভেঙে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর আগে উইলসন ইসিদরের হেডও পোস্টের বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে স্কটল্যান্ডও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। বেন গ্যানন-ডোক একাধিকবার ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে এগোলেও শেষ পাসে সফল হতে পারেননি। চে অ্যাডামসও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন, যদিও অফসাইডের কারণে সেই আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।

প্রথমার্ধের একমাত্র হলুদ কার্ডটি দেখেন হাইতির বেলগার্দে। লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডের ওপর দেরিতে করা স্লাইড ট্যাকলের জন্য তাকে সতর্ক করেন রেফারি।

বিরতির পর আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে হাইতি। খেলা শুরুর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় স্কটিশ ডিফেন্ডার অ্যারন হিকি হলুদ কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কটল্যান্ড কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হাইতির দিকে চলে যায়। একের পর এক আক্রমণে স্কটিশ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা।

শেষ দিকে ম্যাচের নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায়। ৮৪ মিনিটে বেলগার্দের ক্রস থেকে পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে স্কটল্যান্ড। ৮৬ মিনিটে স্কট ম্যাকটমিনে প্রায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও হাইতির ডিফেন্ডার হ্যানেস ডেলক্রোয়া গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন।

শেষ পর্যন্ত জন ম্যাকগিনের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। ১৯৯০ সালের ১৬ জুন সুইডেনকে হারানোর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে জয় পেল স্কটল্যান্ড। ১-০ গোলের এই জয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষেও উঠে এসেছে স্টিভ ক্লার্কের দল।

 

ব্রাজিল ১–১ মরক্কো

বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে তিন দিন আগে। কিন্তু ছোট দলগুলোর ম্যাচে কি আর বিশ্বকাপ জমে! সবার চোখ ছিল তাই আজ ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে থাকা দুই দল ব্রাজিল ও মরক্কোর লড়াই। অনেকের মতে, গ্রুপ পর্বে এটাই সবচেয়ে বড় ম্যাচ!

সেই বড় ম্যাচ ১–১ গোলে ড্র হওয়ায় রাত জাগার ক্লান্তি হয়তো পুরোপুরি উশুল হয়নি দর্শকের। ব্রাজিলের সমর্থকদেরও মনটা একটু উসখুস করার কথা। ভিনিসিয়ুসের পা থেকে উছলে পড়া জাদুতে গোলটি ছাড়া প্রথমার্ধে ‘হরর শো’ দেখায় ব্রাজিল। উল্টো ২১ মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর জয়ে ‘ফেবারিট’ ছিল মরক্কোই।

কারণ, মাঝমাঠে মরক্কোর ‘ফ্লুইড ফুটবল’ ঠেকাতে কাসেমিরোকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রক্ষণে রজার ইবানিয়েজের ‘নিখোঁজ সংবাদ’ও পরিষ্কার ফুটে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এই দুজনকে তুলে ফাবিনিও ও দানিলোকে নামিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তারপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। কখনো পেরেছে, কখনো পারেনি।

গত চার–পাঁচ বছরে ফুটবলে ‘বিপ্লব’ ঘটানো ‘আটলাসের সিংহ’ মরক্কোও ব্রাজিলের অগোছালো মাঝমাঠের সুযোগ নিয়ে আর গোল করতে পারেনি; বরং বিরতির পর ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। তবে যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার নিল এল আয়নাউয়ির দূরপাল্লার শট ব্রাজিলের গোলকিপার আলিসন রুখে দিতে না পারলে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ থেকে আর পয়েন্ট পাওয়া হতো না ব্রাজিলের।

সাইবারির গোলে মরক্কোর উদ্‌যাপন
সাইবারির গোলে মরক্কোর উদ্‌যাপন,এএফপি
 

মরক্কোর মাঝমাঠের ক্ষুরধার খেলার সামনে ব্রাজিলের আসলে মাঝমাঠ বলতে তেমন কিছু ছিল না! এর মধ্যেই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ঝলকে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন ভিনিসিয়ুস। যেন অনেকটাই ‘কামথ দ্য আওয়ার, কামথ দ্য ম্যান!’

ভিনিসিয়ুসের জ্বলে ওঠার রসদটা আসলে জুগিয়েছে সাইবারির ওই গোল। যে গোলে ভুল আছে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার। বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি, সেখান থেকে বল পান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। তাঁর থ্রু পাসটা ধরে ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারকে দুই পাশে রেখে আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে গোল করেন সাইবারি। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকান দলের বিপক্ষে এটাই প্রথম গোল মরক্কোর।

আশ্চর্যের ব্যাপার, গোল হজমের পর পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জেগে না উঠে আরও বাজে খেলেছে! মাঝমাঠে প্রচুর বল হারায়। ফলে বল নিয়ে এগিয়ে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটেই ১২টি শট নিতে পেরেছে মরক্কো।

মাঝমাঠের খেলায় পারেনি ব্রাজিল। মাগালায়েসের মতো ব্রাজিলের অন্যরাও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি
মাঝমাঠের খেলায় পারেনি ব্রাজিল। মাগালায়েসের মতো ব্রাজিলের অন্যরাও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি, এএফপি
 

কিন্তু এরপরই ভিনিসিয়ুসের চমক। ৩২ মিনিটে বাঁ প্রান্তে ব্রুনো গিমারেসের পাস পান ভিনি। চিরাচরিত ভঙ্গিতে কাট–ইন করে বক্সে ঢুকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ভিনিসিয়ুসের ডান পায়ের শট তিরের ফলার মতো আশ্রয় নেয় জালে। এ যেন রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ভিনির সেই চিরাচরিত গোল আর ডাগআউটে আনচেলত্তি!

ভিনির জন্য উপলক্ষটাও দারুণ ছিল। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচে দলের হার এড়ানো গোল করলেন। ব্রাজিলের প্রয়োজনে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না—ভিনিকে নিয়ে এই দুর্নামটা এখন একটু হলেও ঘুচবে। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের দুশ্চিন্তা বাড়বে রাফিনিয়াকে নিয়ে। প্রথমার্ধে ব্রাজিল উইঙ্গারকে প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে গিমারায়েসের ক্রস থেকে সহজ গোল করতে পারেননি রাফিনিয়া।

অবশ্য শুধু রাফিনিয়া কেন, একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা ইগর থিয়াগোও ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে কর্নার থেকে হেডে গোলের দারুণ সুযোগ হারান। সেই সুযোগ নষ্ট হতে দেখে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হতাশা ঝাড়েন রোনালদো, কাকা ও রবার্তো কার্লোস। ব্রাজিলের সোনালি দিনের এসব সারথি নিশ্চয়ই নিজেদের অতীতকে স্মরণ করেছেন।

আনচেলত্তির দুশ্চিন্তা বাড়বে পাকেতাকে নিয়েও। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে দারুণ অ্যাক্রোবেটিক ভঙ্গিতে তাঁর শট একটুর জন্য মরক্কোর জালে আশ্রয় নেয়নি। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা আফ্রিকান দলটির গোলকিপার ইয়াসিন বুনু শটটি ঠেকান। এর বাইরে পাকেতা শুধু মাঠে দৌড়েছেন, ব্রাজিলের সৃষ্টিশীল মাঝমাঠ কিংবা ইউরোপিয়ান ধাঁচের ‘ডিরেক্ট ফুটবল’—কোথাও প্রথম বিভাগে ‘পাস’ করবেন না পাকেতা। সাদামাটা লেগেছে।

ম্যাচ শেষে দর্শকদের অভিবাদনের জবাবে রাফিনিয়া
ম্যাচ শেষে দর্শকদের অভিবাদনের জবাবে রাফিনিয়া, এএফপি
 

ব্রাজিলের এমন সাদামাটা ফুটবলের মাঝখানে একচিলতে আশার প্রতীক ভিনিসিয়ুসের গোলটি। আসলে ওই গোল ছাড়া ম্যাচে প্রায় কোনো সময়েই ব্রাজিলকে ব্রাজিলের মতো খেলতে দেখা যায়নি। উল্টো গত ৯২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের শঙ্কায় পড়েছিল ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত ভিনিতে রক্ষা!

‘সি’ গ্রুপ থেকে সমান ১টি করে পয়েন্ট পেল ব্রাজিল ও মরক্কো। আগামী শনিবার নিজেদের পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির দল।

প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেই সিরিজটা নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে তারা মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাইয়ের হাতছানি নিয়ে। এর আগে বড় এক সুখবরই পেয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় ক্রিকেটারদের ২ কোটি টাকা বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ তাঁর প্রেস সচিব আশরাফুল আলম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

১৬ বছর পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ডিএলএসে ৮৬ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় তারা। ২০০৫ সালে কার্ডিফে সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এবারই প্রথম ওয়ানডেতে অজিদের হারিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডিএলএসে তাদের ৫ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচ জিতে সিরিজটাও নিশ্চিত করে নেয় বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এখন শুধু ইংল্যান্ডকেই সিরিজ হারানো বাকি আছে বাংলাদেশের।

আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডে খেলার পর দুই দল চট্টগ্রামে যাবে টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন হবে তিনটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচ।

ঢাকা

দারুণ খেলেও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করেছে কানাডা। টরন্টো স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকেরা। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে আগে গোল খেয়েছে কানাডাই।

তবু দমে যায়নি ‘বি’ গ্রুপের দলটি। আক্রমণাত্মক খেলা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ১–১ গোলে সমতায় ফিরে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের মুখ দেখেছে কানাডা।

২১ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ইয়োভো লুকিচ। ৭৯ মিনিটে বদলি নামা ফরোয়ার্ড কাইল লারিনের গোলে সমতায় ফেরে কানাডা। ম্যাচে দুই অর্ধেই কানাডা বেশ কিছু গোলের সুযোগ পেয়েছে। ৫৩ মিনিটে তাদের নিশ্চিত গোল বসনিয়া ডিফেন্ডার সিয়াদ কোলাসিনাচ পা দিয়ে ‘ক্লিয়ার’ করলেও বল পোস্টে লেগে ফিরেছে। এ ছাড়া প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে কানাডা।

বসনিয়ার হয়ে গোল করেন ইয়োভো লুকিচ
বসনিয়ার হয়ে গোল করেন ইয়োভো লুকিচ,এএফপি
 

এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মোট ৬ ম্যাচ খেলে সব কটিতেই হেরেছিল কানাডা। এবার স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট পেলেও আক্ষেপ ঝরেছে কানাডার কোচ জেসে মার্সের কণ্ঠে।

ম্যাচ শেষে মার্স বলেন, ‘প্রথমার্ধ নিয়ে আমি হতাশ। আমরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, যতটা আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে চেয়েছি ততটা পারিনি।’

প্রথম পয়েন্ট পাওয়া নিয়ে মার্স বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার মুহূর্ত থেকেই চিত্রটা বদলে যায়। এখনো সবকিছু আমাদের হাতেই আছে। পয়েন্টটি গ্রুপে টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজকের ম্যাচ থেকে যা শিখেছি, পরের ম্যাচে তার প্রতিফলন দেখতে চাই।’

কানাডা কোচ জেসে মার্স
কানাডা কোচ জেসে মার্স, এএফপি
 

২১ মিনিটে লুকিচের গোলটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম গোল। এই গোল হজমের পর আক্রমণে ধার আরও বাড়ায় কানাডা। শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে বদলি নামার ৪ মিনিট পর লারিনের গোলে স্বস্তি ফেরে কানাডার সমর্থকদের মনে। বিশ্বকাপে আলফানসো ডেভিসের পর কানাডার দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গোল পেলেন লারিন।

‘বি’ গ্রুপে কানাডা ও বসনিয়া দুই দলই ১ পয়েন্ট করে পেল। ১৯ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হবে কানাডা। এর আগে ১৮ জুন বসনিয়া খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্র ৪–১ প্যারাগুয়ে

মেক্সিকো পেরেছে, পারল যুক্তরাষ্ট্রও। তবে আরও ভালোভাবে।

এবারের বিশ্বকাপে তিন আয়োজক। এর মধ্যে মেক্সিকো তাদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ২-০ গোলে। আরেক স্বাগতিক কানাডা অবশ্য ভালো খেলেও কানাডার সঙ্গে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তিন আয়োজকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো শুরুটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মরিসিও পচেত্তিনোর দল জিতেছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে।

জয়টা শুধু স্বাগতিকদের মধ্যেই বড় নয়, প্রতিপক্ষ বিবেচনায়ও বড়সড়ই। এই প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে। লাতিন অঞ্চলে ১৮ ম্যাচে হজম করেছে মাত্র ১০ গোল। সেই দলটির জালেই যুক্তরাষ্ট্র আজ বড় জড়াল ৪ বার।

যুক্তরাষ্ট্রের চার গোলের প্রথমটিই অবশ্য আত্মঘাতী। তবে কৃতিত্ব স্বাগতিকদের। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ম্যাচের ৭ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়ান প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এবারের বিশ্বকাপে যা প্রথম আত্মঘাতী গোল। প্রথমার্ধ শেষে এই ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০-তে। এর মধ্যে ৩১ ও বিরতির বাঁশির আগে দুটি গোল করেন ফোলারিন বালোগান।

দুটি গোল করেন বালোগান (২০ নম্বর জার্সি)
দুটি গোল করেন বালোগান (২০ নম্বর জার্সি), এএফপি
 

প্রথমার্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া স্বাগতিকেরা দ্বিতীয়ার্ধে ছিল আরও গোছালো। তবে প্যারাগুয়েও এ সময়ও কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাতে লড়াই জমলেও গোল এসেছে ধীরে। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে প্যারাগুয়ের হয়ে একটি গোল শোধ দেন মরিসিও। ম্যাচের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ গোলটি করেন জিওভান্নি রেইনা।

লাতিন বাছাইয়ে ব্রাজিলকে ১–০ আর আর্জেন্টিনাকে ২–১ গোলে হারানো প্যারাগুয়ের জন্য এত বড় হার বড় ধাক্কা। এবারের আগে দলটি ২০১০ বিশ্বকাপে খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় হারে এখন শেষ ৩২ নিয়ে জটিল সমীকরণ সামনে।

প্যারাগুয়ের পরের ম্যাচ ২০ জুন তুরস্কের বিপক্ষে। আর যুক্তরাষ্ট্র ১৯ জুন খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।,