সুইডেনের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। দারুণ খেলা ডাচদের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি সুইডিশরা। উড়ে গেছে ৫–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে। নেদারল্যান্ডসের জয়ে জোড়া গোল করেছেন কোডি গাকপো ও ডেনজেল ডামফ্রাইস।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এফ’–এর শীর্ষে উঠে এল নেদারল্যান্ডস। নিজেদর প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২–২ গোলে করেছিল তারা। আর সুইডেন প্রথম ম্যাচে ৫–১ গোলে হারিয়েছিল তিউনিসিয়াকে।
সুইডেনের বিপক্ষে এবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৫ম গোলের দেখা পেল নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে ৫ম গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ম্যাচ খেলেছে একটি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ওই ম্যাচের সব আলো একাই কেড়ে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন, অনেক রেকর্ডও তিনি লিখেছেন নতুন করে।
তবে আলবিসেলেস্তে তারকা এখন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার কাজটা করছেন নিয়মিতই। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচেই যেমন তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে তিনটি বড় রেকর্ড।
প্রথম রেকর্ডটি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিন গোল করা মেসির বিশ্বকাপ গোল সংখ্যা এখন ১৬। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখন তাঁর দখলে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটি গোল করলেই তিনি ১৭ গোল নিয়ে এককভাবে এই তালিকার শীর্ষস্থানটি নিজের করে নেবেন।
ক্লোসার দখলে থাকা আরেকটি রেকর্ডও ভেঙে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে আছেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল আর্জেন্টাইন তারকার বিশ্বকাপে পাওয়া ১৬তম জয়, জার্মানির হয়ে ক্লোসারও বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতার সংখ্যাটা সমান। এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি ম্যাচ জিতলেই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা খেলোয়াড় হয়ে যাবেন মেসি।
তৃতীয় রেকর্ডটি বক্সের বাইরে থেকে গোল করার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোলের প্রথমটি তিনি পেয়েছিলেন বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শটে। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে সব মিলিয়ে তাঁর গোল পাঁচটি।
এত দিন এই রেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের রিভেলিনোর দখলে ছিল, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ওই গোলের পর তাঁর পাশে বসেছেন মেসি। দূরপাল্লার শটে আরেকটি গোল করলেই মেসি এই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে থাকবেন। ব্রাজিলের হয়ে ১৯৭০ ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপ খেলে বক্সের বাইরে থেকে পাঁচটি গোল করেন রিভেলিনো।
২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে গোল করেছিলেন মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর এবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে আলজেরিয়া। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও এখন আলোচনায় রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে লিওনেল মেসির একটি ট্যাকল নিয়ে অসন্তুষ্ট আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এএফএফ)। এ ঘটনায় ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন সূত্রের বরাতে খবরটি দিয়েছে রয়টার্স ও দ্য অ্যাথলেটিক।
১৭ জুন কানসাস সিটিতে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দিকে ট্যাকল করেন মেসি। ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে আলজেরিয়ার অভিযোগ, মেসির বুটের তলা আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ডান পায়ের গোড়ালি ও অ্যাকিলিস টেন্ডনে গিয়ে লেগেছিল। এ ঘটনায় রেফারি কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেননি। শুধু ফ্রি কিক দিয়েছিলেন।
আলজেরিয়ার অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য অ্যাথলেটিককে কিছু তথ্য দিয়েছেন। প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকা ওই ব্যক্তি জানান, রেফারিংয়ের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলেও আলজেরিয়া মেসির ঘটনাটিকেই অভিযোগের কেন্দ্রে রেখেছে।
মেসির ট্যাকলের বাইরে ম্যাচের আরও দুটি ঘটনা নিয়েও অসন্তুষ্ট উত্তর আফ্রিকার দেশটি। একই সূত্রের দাবি, আলজেরিয়ার উইঙ্গার হাজ মুসা ও মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজাকে লক্ষ্য করে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কনুইয়ের দুটি আঘাতের ঘটনাও ফিফার কাছে উত্থাপন করা হয়েছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা না করলেও নিজের হতাশা আড়াল করেননি। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার কোনো মানে হয় না। কিন্তু সবাই ঘটনাটি দেখেছে, আমিও দেখেছি।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে রেফারি ছিলেন সাইমন মার্সিনিয়াক। পোল্যান্ডের এই রেফারি ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও দায়িত্বে ছিলেন।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের দারুণ জয়ে স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল শিবিরে। দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল আছে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে। কিন্তু এখনো নিশ্চিত হয়নি দ্বিতীয় পর্বের টিকিট।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। দ্বিতীয় পর্বে যেতে সেই ম্যাচে একাধিক সমীকরণের মুখে ভিনিসিয়ুসরা।
এক অর্থে নকআউটের টিকিট পাওয়ার সমীকরণটা সহজ— স্কটিশদের বিপক্ষে হার এড়াতে হবে। কিন্তু হারলেই বড় বিপদ। শেষ ম্যাচে জিতলে, হারলে বা ড্র করলে কোন পথে ব্রাজিলের জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটি দেখে নেওয়া যেতে পারে।
ব্রাজিল শীর্ষ দুইয়ে থেকে সুযোগ পাবে শেষ ৩২-এ। প্রথম ম্যাচ ড্র হওয়ায় ব্রাজিল-মরক্কো দুই দলের হেড-টু-হেড সমান। তাই পয়েন্ট সমান হলে দেখা হবে গোল ব্যবধান। সে ক্ষেত্রে মরক্কো যদি হাইতির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়লাভও করে, তাতেও ব্রাজিল শীর্ষ দুইয়ের বাইরে যাবে না।
আর ব্রাজিল যদি গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকে, তবে শীর্ষস্থানে থেকেই যেতে পারবে পরবর্তী পর্বে। অন্যদিকে মরক্কো যদি ড্র–ও করে, তাও তারা থাকবে গ্রুপ ‘সি’-এর দ্বিতীয় অবস্থানে।
ব্রাজিলকে তাকিয়ে থাকতে হবে মরক্কো ম্যাচের দিকে। হাইতির বিপক্ষে মরক্কো যদি ড্র করে, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ব্রাজিল শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২–এ যাবে। অন্যদিকে মরক্কো জিতলে ব্রাজিল হবে দ্বিতীয়। স্কটল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে থাকবে তৃতীয় অবস্থানে।
স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ৬। তখন ব্রাজিলক তাকিয়ে থাকতে হবে মরক্কো ম্যাচের দিকে। মরক্কো যদি হাইতির বিপক্ষে জয়লাভ করে কিংবা ড্র করে, তাহলে ব্রাজিল গ্রুপ শেষ করবে তৃতীয় স্থানে থেকে। তখন সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ব্রাজিলের। ১২ দলের মধ্যে থাকতে হবে শীর্ষ আটে।
| দল | ম্যাচ | জয় | পরাজয় | ড্র | গোল ব্যবধান | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ব্রাজিল | ২ | ১ | ০ | ১ | +৩ | ৪ |
| মরক্কো | ২ | ১ | ০ | ১ | +১ | ৪ |
| স্কটল্যান্ড | ২ | ১ | ১ | ০ | ০ | ৩ |
| হাইতি | ২ | ০ | ২ | ০ | -৪ | ০ |
নতুবা ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেবে ব্রাজিল। কিন্তু মরক্কো যদি হাইতির বিপক্ষে হেরে যায়, তবে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপ মানে শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, গ্যালারির আবেগ, রং আর উৎসবও। ব্রাজিল ও হাইতির ম্যাচ ঘিরে ফিলাডেলফিয়ার স্টেডিয়াম এলাকায় দেখা গেল সেই চিরচেনা বিশ্বকাপ-উন্মাদনা। হলুদ-সবুজ জার্সি, মুখে-শরীরে রং, অভিনব সাজপোশাক আর প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন সমর্থকেরা। ব্রাজিলের ভক্তদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নিজেদের দলকে সমর্থন জানাতে হাজির হন হাইতির সমর্থকেরাও। মাঠে খেলা শুরুর আগেই সমর্থকদের আবেগ, প্রত্যাশা আর উৎসবের রঙে জমে ওঠে ফিলাডেলফিয়া। এসব নিয়েই এই ছবির গল্প।








হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ে ফিরেছে ব্রাজিল। এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষেও উঠে গেছে দলটি। ম্যাচ শেষে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিল ‘ভালো খেলেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের পর আনচেলত্তি মিক্সড জোনে বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছি। আমাদের খেলার মান বেড়েছে, তীব্রতা বেড়েছে। আর আক্রমণেও আমরা আগের ম্যাচের চেয়ে আরও বেশি নির্ভুল ছিলাম। যাই হোক, আজ আমরা উন্নতি করেছি। পরের ম্যাচে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’
[caption id="attachment_276789" align="alignnone" width="852"]
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি, এএফপি[/caption]ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মাতেউস কুনিয়া। অন্য গোলটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। তবে তিনটি গোলই এসেছে প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সে সব কাজে লাগানো যায়নি।
তবে মোটের ওপর দলের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স নিয়েই সন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছেন ব্রাজিল কোচ, ‘আমার মনে হয়, আক্রমণভাগে আমাদের সমন্বয় ভালো ছিল। ওরা ঠিকঠাকই খেলেছে। আমাদের সামনে সব সময় (হাইতির) পাঁচজন খেলোয়াড় ছিল। আমার মনে হয়, আমরা ভালো খেলেছি।’
ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচটি খেলবে ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
ম্যাচের অর্ধেকের বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলেও তুরস্ককে ১–০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। এই জয়ে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল লাতিন আমেরিকার দলটি।
বিপরীতে, টানা দুই ম্যাচ হেরেছে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তুরস্কের। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল তারা।
আজ সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৫ সেকেন্ডেই প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায় মাতিয়াস গালারজার গোলে। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আলমিরন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও দলটি তুরস্ককে সমতা আনতে দেয়নি।
প্যারাগুয়ে–তুরস্ক ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলই খেলেছে গতিময় ফুটবল। আক্রমণে, প্রতি–আক্রমণে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে দুই দলই। এর মধ্যেই মের্ত মুলদুরকে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলে লাল কার্ড দেখেছেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন। ফিফার নতুন নিয়মে এটিই প্রথম লাল কার্ড।
এর আগে কিক অফ বাঁশির মাত্র ৬৫ সেকেন্ডেই গোল করে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন মাতিয়াস গালারজা। প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলা শেষেও দলটি সেই ব্যবধানেই এগিয়ে। যদিও এই মুহূর্তে দলটি ১০ জনের।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ১০ জনের দল হয়ে পড়ল প্যারাগুয়ে। লাল কার্ড দেখেছেন মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। মুখ ঢেকে মের্ত মুলদুরকে কিছু একটা বলেছেন তিনি। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী রেফারি তা ভিএআরে চেক করেন। এরপর দেখান লাল কার্ড।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করেছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে হাইতিকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেলেসাওরা। এদিন শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই জোড়া গোল করেছেন কুনহা। অন্য একটি গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এদিন ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় জালে বল পাঠিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু রাফিনিয়ার সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করেন রেফারি। ২২ মিনিটে আবারও সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল।
ডান দিক থেকে থ্রু পাস পেয়ে হাইতির গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে মিস করেন রাফিনিয়া। চিপ করলেও ফাঁকা জালে বল পাঠাতে পারেননি বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটেই অবশ্য গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। থিয়াগোর জায়গায় দলে ঢোকা মাতেউস কুনহা লিড এনে দেন। ডান প্রান্ত থেকে শট নিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির গোলকিপার জন প্লেসিড শট ঠেকিয়ে দিলেও জটলার মধ্যে বল পেয়ে জালে পাঠান কুনহা।
৩৬ মিনিটে আবারও কুনহা গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। দারুণ এক মুভে আক্রমণের শুরুটা করেন ভিনিসিয়ুস। দৌড়ে বল নিয়ে এগিয়ে বাঁয়ে কুনিয়াকে ডিফেন্সচেরা পাস বাড়ান ভিনি।
সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয় গোলের পরই ধাক্কা খায় ব্রাজিল। চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যান রাফিনিয়া। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের বদলি হিসেবে নামেন রায়ান।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির গোলরক্ষক জন প্লাসিডকে একা পেয়ে তার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার। এতে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে নিজের বেঞ্চ পরীক্ষা করেন আনচেলত্তি। মূল একাদশের খেলোয়াড়দের মাঠে নামান তিনি। কিছু আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। তবে মাঠে নেমে বল জালে জড়িয়েছিলেন এন্দ্রিক। কিন্তু অফসাইডে বাদ হয় সেই গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ৩ ওভারেই ৪২ রান তুলে ফেলেছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু তখনো লম্বা পথ বাকি। ওই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অনেকটা সময় ম্যাচেও ছিল। কিন্তু শেষটা হয়েছে ৭ রানের হারে, যে হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজও হেরে গেছে বাংলাদেশ দল।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ শেষ ৩ বলে ১৮ রানের সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। চোটে পড়া লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় প্রথম বলেই ছক্কা মেরে আশা দেখান। কিন্তু পরের বলে চার মেরে ইনিংসের শেষ বলে তিনি ক্যাচ দেন বাউন্ডারি লাইনের কাছে।
ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী পরশু সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও আজ বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করেছিল। শরীফুল ইসলামের বদলে নাহিদ রানা আর মেহেদী হাসানের জায়গায় সুযোগ পান নাসুম আহমেদ। দুজনেই ইনিংসের ৪ ওভার পেরোনোর আগে উইকেটও পেয়েছেন।
১১ বলে ৬ রান করা জশ ইংলিসকে এলবিডব্লু করেন নাসুম, ফর্মে থাকা কুপার কনোলি ৪ বলে ১ রান করে আউট হন নাহিদের বলে ক্যাচ দিয়ে। পাওয়ার–প্লের মধ্যেই আরও একটা উইকেটও পেয়ে যায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন মিচেল মার্শ।
৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৪৩। ওখান থেকেই তাদের হাল ধরেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটিতে ৫০ বলে আসে ৯৭ রান। ২৬ বলে ৪৫ রান করে ডেভিড আউট হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রেনশ। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫২ বলে ৮৯ রান।

বড় রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ ঝোড়ো শুরু করে ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন ঠিকঠাক। কিন্তু ইনিংস বেশি লম্বা করতে পারেননি। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হয়ে যান রেনশর বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে।
তিনে নামা সৌম্য ৯ বলে ১৫ রান করে আউট হন। তবে তখনো দলকে পথ হারাতে দেননি সাইফ হাসান ও পারভেজ। শুরুটা একটু ধীর হলেও পরে তা কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছিলেন সাইফ।
এই দুজনের জুটিতে ৩৬ বলে আসে ৫৩ রান। কিন্তু অ্যারন হার্ডির বলে পারভেজ ২২ বলে ৩৬ ও সাইফ ৩৩ বলে ৪২ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর বাকি পথটা আর পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
শামীম হোসেন ৮ বলে ৭ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর হৃদয়ের সঙ্গী হন আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া আব্দুল গাফফার। কিন্তু তারা রানের গতির সঙ্গে ঠিকঠাক পাল্লা দিতে পারেননি।
গাফফার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ১১ বলে ১৩ রান করে। শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে স্ট্রাইক রেট ভালো করলেও হৃদয়ের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৬ বলে ১৭। সেখান থেকে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর কঠিন কাজটা করতে পারেননি গাফফার ও সাকলাইন।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ৩ ওভারেই ৪২ রান তুলে ফেলেছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু তখনো লম্বা পথ বাকি। ওই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অনেকটা সময় ম্যাচেও ছিল। কিন্তু শেষটা হয়েছে ৭ রানের হারে, যে হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজও হেরে গেছে বাংলাদেশ দল।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ শেষ ৩ বলে ১৮ রানের সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। চোটে পড়া লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় প্রথম বলেই ছক্কা মেরে আশা দেখান। কিন্তু পরের বলে চার মেরে ইনিংসের শেষ বলে তিনি ক্যাচ দেন বাউন্ডারি লাইনের কাছে।
ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী পরশু সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও আজ বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করেছিল। শরীফুল ইসলামের বদলে নাহিদ রানা আর মেহেদী হাসানের জায়গায় সুযোগ পান নাসুম আহমেদ। দুজনেই ইনিংসের ৪ ওভার পেরোনোর আগে উইকেটও পেয়েছেন।
১১ বলে ৬ রান করা জশ ইংলিসকে এলবিডব্লু করেন নাসুম, ফর্মে থাকা কুপার কনোলি ৪ বলে ১ রান করে আউট হন নাহিদের বলে ক্যাচ দিয়ে। পাওয়ার–প্লের মধ্যেই আরও একটা উইকেটও পেয়ে যায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন মিচেল মার্শ।
৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৪৩। ওখান থেকেই তাদের হাল ধরেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটিতে ৫০ বলে আসে ৯৭ রান। ২৬ বলে ৪৫ রান করে ডেভিড আউট হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রেনশ। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫২ বলে ৮৯ রান।

বড় রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ ঝোড়ো শুরু করে ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন ঠিকঠাক। কিন্তু ইনিংস বেশি লম্বা করতে পারেননি। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হয়ে যান রেনশর বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে।
তিনে নামা সৌম্য ৯ বলে ১৫ রান করে আউট হন। তবে তখনো দলকে পথ হারাতে দেননি সাইফ হাসান ও পারভেজ। শুরুটা একটু ধীর হলেও পরে তা কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছিলেন সাইফ।
এই দুজনের জুটিতে ৩৬ বলে আসে ৫৩ রান। কিন্তু অ্যারন হার্ডির বলে পারভেজ ২২ বলে ৩৬ ও সাইফ ৩৩ বলে ৪২ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর বাকি পথটা আর পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
শামীম হোসেন ৮ বলে ৭ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর হৃদয়ের সঙ্গী হন আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া আব্দুল গাফফার। কিন্তু তারা রানের গতির সঙ্গে ঠিকঠাক পাল্লা দিতে পারেননি।
গাফফার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ১১ বলে ১৩ রান করে। শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে স্ট্রাইক রেট ভালো করলেও হৃদয়ের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৬ বলে ১৭। সেখান থেকে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর কঠিন কাজটা করতে পারেননি গাফফার ও সাকলাইন।
ভুয়া খবরের জেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝেই তোলপাড় আর্জেন্টিনার মিডিয়াপাড়ায়! আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির পরিবারকে জড়িয়ে ভুয়া খবর প্রচার করে চাকরি খোয়াতে হলো আর্জেন্টিনার এক জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেলের পুরো টিমকে।
চলমান বিশ্বকাপের মধ্যেই আর্জেন্টিনার চ্যানেল ‘লুজু টিভি’ গতকাল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর দেয়। যে কারণে তারা তাদের ‘এল শো দেল বেরানো’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফ্লোরেনসিয়া পিনিয়া এবং সেই সঙ্গে পুরো টিমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।
এই খবর অনুষ্ঠানের পুরো টিম ছড়িয়েছে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে। হুট করেই সেদিন প্রেজেন্টার ফ্লোরেনসিয়া অনুষ্ঠান থামিয়ে দেন। গম্ভীর মুখে দর্শকদের জানান, মেসির বাবা নাকি একটু আগেই মারা গেছেন! এখানেই শেষ নয়; তিনি আরও যোগ করেন, বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে মেসি নাকি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ ক্যাম্প ছেড়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসবেন।

পরে মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হোর্হে মেসি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নতি হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় যে ধরনের দাবি, গুজব ও অনুমানভিত্তিক খবর ছড়ানো হয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে হতাশ। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ যে সংবেদনশীলতা, সম্মানবোধ ও ন্যূনতম বিবেচনার অভাব দেখিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।’
মেসির পরিবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই যে হোর্সে মেসির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য কেবল তাঁর নিকটতম পরিবারের সদস্যদের কাছেই রয়েছে। তাই পরিবার বা তাদের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে প্রকাশিত নয়—এমন কোনো বক্তব্য, তথ্য বা দাবি সত্য বলে গণ্য করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সবাইকে দায়িত্বশীলতা, সংযম ও মানবিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পরে মেসির পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্লোরেনসিয়া পিনিয়া।