১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল চেক প্রজাতন্ত্র!

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোলটি দেখে ফেললাম আমরা। ম্যাচের প্রথম ৫ মিনিটের পারফরম্যান্স বিবেচনায় গোলটি তাদের প্রাপ্যই ছিল।

ডান প্রান্ত ধরে বাড়ানো একটি লম্বা থ্রো তাড়া করে বল নিয়ন্ত্রণে নেন হ্লোজেক, এরপর ডি-বক্সে বল বাড়িয়ে দেন। সেখানে সোইকার সঙ্গে দারুণ এক ওয়ান-টু পাসে বল দেয়া-নেয়া করে নিচু শটে গোল করেন চেক প্রজাতন্ত্রের সাদিলেক।

চেক দলে অনেক পরিবর্তন

ছয় দিন আগের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলের হতাশাজনক হারের পর, আজ নিজেদের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ওয়েস্ট হ্যামের মিডফিল্ডার সুচেক। তাঁর সঙ্গে আজ মূল একাদশে জায়গা হারিয়েছেন খালোপেক, জেলেনি, প্রোভোদ ও শুলৎস। তাঁদের পরিবর্তে আজ দলে সুযোগ পেয়েছেন হোলেশ, সাদিলেক, দারিদা, চের্ভ এবং হ্লোজেক। আক্রমণেরভাগে শিকের সঙ্গী হচ্ছেন হ্লোজেক।

অন্যদিকে, মেক্সিকোর কাছে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ হুগো ব্রুস। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় স্ফেফেলো সিথোলে আজকের ম্যাচে নিষিদ্ধ, বাদ পড়েছেন থেম্বা জেওয়ানে। এ ছাড়া ফস্টার ও সিবিসিকে আজ রাখা হয়েছে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় (বেনঞ্চে)। তাঁদের জায়গায় আজ দলে সুযোগ পেয়েছেন এমবাথা, মাসেকো ও অ্যাপোলিস।

১১ জুন রাতে শুরু বিশ্বকাপের একটি চক্র শেষ হচ্ছে বাংলাদেশ সময় আজ সকালে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপের সর্বশেষ দুটি দল হিসেবে আজ সকালে মাঠে নামছে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় চক্র শুরু হয়ে যাবে আজ রাতে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে। এই চক্রের প্রথম দিনেই নকআউট পর্বের প্রথম দলটিকে পেয়ে যেতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ।

চেক প্রজাতন্ত্র-দক্ষিণ আফ্রিকা, আটলান্টা (রাত ১০টা)

নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া ‘এ’ গ্রুপের দুই দল চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য আজ দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে পারবে না। উদ্বোধনী ম্যাচে সহস্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে হারা দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে যাওয়া চেক প্রজাতন্ত্র আজ মুখোমুখি হচ্ছে আটলান্টায়।

বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু ম্যাচে যারাই জিতুক তাদের পয়েন্ট হবে ৩। ম্যাচটি ড্র হলে দুই দলেরই বিপদ। এমন কিছু হলে সেরা আটটি তৃতীয় দলের মধ্যে থেকে রাউন্ডে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে দুই দলের।

দ্বিতীয় ম্যাচও জিততে চায় মেক্সিকো
দ্বিতীয় ম্যাচও জিততে চায় মেক্সিকোএএফপি

মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়াদালাহারা (আগামীকাল সকাল ৭টা)

দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সুযোগ আছে দুই দলেরই। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া। আজ যারা জিতবে তারা ৬ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি উঠে যাবে শেষ ৩২-এ। যারা হারবে তারাও নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতে বা ড্র করে উঠে যেতে পারে পরের রাউন্ডে। স্বাগতিক হিসেবে মেক্সিকোই আজ ফেবারিট।

তবে প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ইউরোপীয় দল চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া বুঝিয়ে দিয়েছে নিজেদের দিনে কী করতে পারে তারা। সন হিয়ুং-মিনের দল টানা দ্বিতীয়বার উঠে যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। মেক্সিকোর সুযোগ ২০১৮ সালের পর আবার নকআউট পর্বে ওঠার।

সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (রাত ১টা)

চার দলেরই পয়েন্ট ১, তবে ফেয়ার প্লের হিসাবে এগিয়ে থাকায় আপাতত ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে সুইজারল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের সঙ্গে ড্র করা সুইসরা চাইবে আজই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার কাজটা এগিয়ে রাখতে।

সন হিয়ুং-মিনের দল টানা দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার অপেক্ষায়
সন হিয়ুং-মিনের দল টানা দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার অপেক্ষায়

অল-ইউরোপিয়ান ম্যাচে আজ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারালে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে গ্রানিত জাকার দল।

ফেয়ার প্লের হিসাবে পিছিয়ে থাকায় সমান পয়েন্ট নিয়েও চার দলের মধ্যে চারে থাকা বসনিয়ারও একই হিসাব। ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা বসনিয়ার সামনে সুযোগ প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার।

কানাডা-কাতার, ভ্যাঙ্কুভার (আগামীকাল ভোর ৪টা)

নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্টটা এবারই পেয়েছে কানাডা ও কাতার। সেই দুদলই আজ মুখোমুখি ভ্যাঙ্কুভারে। দুদলেরই সামনে সুযোগ ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক পা দিয়ে রাখার। স্বাগতিক কানাডাই ফেবারিট আজ।

জেসি মার্শের কানাডার বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই খেলেন ইউরোপের বিভিন্ন লিগে। অন্যদিকে হুলেন লোপেতেগির দলের ২৬ জনের ২৫ জনই খেলেন কাতারের ঘরোয়া লিগে। অভিজ্ঞ দুই কোচের কার কৌশল আজ কাজে লাগবে কে জানে!

ম্যাচটি ড্র হলে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থাকবে দুদলের জন্যই, এমনকি আজ যারা হারবে তাদেরও সুযোগ থাকবে শেষ ম্যাচটি জিতে পরের পর্বে যাওয়ার।

৪৭ ও ৪৮তম দল হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি খেলেছে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। অর্থাৎ ৪৮টি দলের প্রতিটি একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটি দলের এখনো দুটি করে ম্যাচ বাকি।

তবে কিছু দল শুরুতেই তিন পয়েন্ট তুলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে কিছুটা হলেও এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব গ্রুপে মাত্র একটি দল জয় পেয়েছে, সেসব শেষ বত্রিশে খেলার আশা করতেই পারে।

এখন দেখে নেওয়া যাক, সব দলের প্রথম ম্যাচ শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষে কারা, দ্বিতীয় স্থানে কারা।

‘এ’ গ্রুপ
শীর্ষে স্বাগতিক মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্টও ৩, তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে ২-১ গোলে।

‘বি’ গ্রুপ
এই গ্রুপের প্রথম দুটি ম্যাচই ১-১ ড্র হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ও কাতার এবং কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা—চারটি দলই একটি করে গোলে ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে। তবে ফেয়ার প্লের নিয়মে শীর্ষে সুইজারল্যান্ড, দুইয়ে কানাডা।

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে মেক্সিকো
জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে মেক্সিকো, রয়টার্স
 

‘সি’ গ্রুপ
স্কটল্যান্ড তাদের প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে আছে। মরক্কো ও ব্রাজিল নিজেদের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ফেয়ার প্লেতে দ্বিতীয় স্থানে মরক্কো। ব্রাজিল তিনে।

‘ডি’ গ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ২-০ গোলে জিতেছে তুরস্কের বিপক্ষে। শীর্ষে তাই যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া।

‘ই’ গ্রুপ
এই গ্রুপের শীর্ষে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারানো জার্মানি। দুইয়ে থাকা আইভরিকোস্টও ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে।

‘এফ’ গ্রুপ
তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে সুইডেন শীর্ষে। জাপান ও নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। তবে ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে জাপান গ্রুপে দ্বিতীয়।

স্পেন ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচের একটি দৃশ্য। আটলান্টা স্টেডিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, ১৫ জুন
স্পেন ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচের একটি দৃশ্য। আটলান্টা স্টেডিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, ১৫ জুনরয়টার্স

‘জি’ গ্রুপ
এই গ্রুপের দুটি ম্যাচই ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। নিউজিল্যান্ড, ইরান, বেলজিয়াম ও মিসর-সব দলই প্রথম ম্যাচ শেষে ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে। তবে ফেয়ার প্লেতে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড, ইরান দ্বিতীয়।

‘এইচ’ গ্রুপ
স্পেন থাকা গ্রুপটিতে এই মুহূর্তে শীর্ষে উরুগুয়ে, দুইয়ে সৌদি আরব। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন গোল শূন্য ড্র করেছে কেপ ভার্দের সঙ্গে। উরুগুয়ে-সৌদি আরব ম্যাচও ড্র হয়েছে, তবে ১-১ হওয়ায় তারাই শীর্ষ দুটি স্থানে।

‘আই’ গ্রুপ
নরওয়ে প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে ভালো সূচনা করেছে। ফ্রান্সও সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে। গোলে এগিয়ে নরওয়ে শীর্ষে, ফ্রান্স দ্বিতীয়।

‘জে’ গ্রুপ
আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে আছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে অস্ট্রিয়া, তারা জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে।

[caption id="attachment_276718" align="alignnone" width="701"] পয়েন্ট তালিকা[/caption]

‘কে’ গ্রুপ
শীর্ষে আছে কলম্বিয়া। তারা উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ডিআর কঙ্গো ও পর্তুগাল ১-১ ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। তবে দুইয়ে ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো দ্বিতীয়।

‘এল’ গ্রুপ
ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ঘানা ১-০ গোলে হারিয়েছে পানামাকে। শীর্ষে ইংল্যান্ড, দুইয়ে ঘানা।

হ্যারি কেইনের বাঁ পায়ে ব্যান্ডেজ। কিন্তু মুখে হাসি। পরম ভালোবাসায় চুমু খাচ্ছেন স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ডকে। ইংল্যান্ড দল ডালাস স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে এমন ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ব্যান্ডেজ দেখে ইংল্যান্ড সমর্থকদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার কড়া ট্যাকলের শিকার হন। সামান্য আঘাত পেয়েছেন কেইন। তবে বলকান দেশটির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৪–২ গোলের জয়ে কেইনের খেলা দেখে যেকোনো ইংল্যান্ড সমর্থকের ভালো লাগার কথা!

কেইন জোড়া গোল করেছেন—শুধু সে জন্য নয়। ইংলিশ সমর্থকরা তাঁকে যে উচ্চতায় দেখতে চান, ক্রোয়াটদের বিপক্ষে তেমনই দুটি ‘বেদি’তে দাঁড়িয়েছেন ইংল্যান্ডের জার্সির এই সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোল এখন কেইনের। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলও তাঁর। তবে এই জায়গাটায় ভাগীদার তিনি একাই নন। আপাতত আছেন আরও একজন। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের লাল রংয়ের জার্সি পরে কেইন–বেলিংহামদের খেলা দেখছেন লিনেকার।

ক্রোয়েশিয়ার জালে কেইন দ্বিতীয় গোল করার পর লিনেকারের উদ্‌যাপনে এতটুকু কৃত্রিমতা ছিল। দুই হাতের দশটি আঙুল তুলে ধরেন। ইংল্যান্ডের সমর্থক মাত্রই জানেন, ওই দশটি আঙুল আসলে ১০ গোলের অনুচ্চারিত সংকেত। বিশ্বকাপে লিনেকার ও কেইনের গোল এখন সমান ১০টি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের হয়ে আর কেউ এত গোল করতে পারেননি।

অর্থাৎ কেইন এবং লিনেকার এখন সমানে সমান। সেটা শুধু গোলসংখ্যায় নয়। খেলার ধরনেও। দুজনেই স্ট্রাইকার। ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন দুজনেই—সেখানে অবশ্য একটু পার্থক্য আছে। লিনেকার ইংল্যান্ডের হয়ে শুধু ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন, কেইন ১০ পরে এখন ৯ নম্বরে থিতু হয়েছেন। পাশাপাশি দুজনেই টটেনহামের সাবেক খেলোয়াড়।

বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বুট’ ট্রফি আছে দুজনের শোকেসেই। ’৮৬ আসরে লিনেকার সর্বোচ্চ ৬ গোল করে জেতেন সোনার সেই বুট। কী আশ্চর্য, ২০১৮ বিশ্বকাপে কেইনও গোল্ডেন বুট জেতেন ৬ গোল করে! মিল আছে আরও। সেটা ঘটে গেল গতকাল রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোল করার পথে লিনেকার ম্যাচ খেলেন ১২টি। কেইনও গতকাল রাত পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১০ গোল করতে ম্যাচ খেললেন ১২টি!

কিন্তু কেইন যে লিনেকারের পাশে থাকবেন না, তা এতক্ষণে সবার বুঝে ফেলার কথা। এবার বিশ্বকাপে কেবল এক ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড। কেইন সেখানে যেভাবে আলো জ্বাললেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ক্লাব ফুটবলে গত মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোলের ফর্ম টেনে এনেছেন বিশ্বকাপেও।

অতএব, লিনেকারের পেছনে পড়া এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। তাতে ইংল্যান্ড কিংবদন্তির খুশিই হওয়ার কথা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সংবাদমাধ্যম টকস্পোর্টকে বলেছেন, ‘আমি সত্যিই চাই সে আমাকে ছাড়িয়ে যাক। তা না হলে আমরা (বিশ্বকাপ) জিততে পারব না। আমাদের কোনো সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে কেইনকে সেরা ফর্মে থাকতে হবে।’

প্রথম ম্যাচে কেইন সে দাবি মিটিয়েছেন। সেরা ফর্মের কেইনকেই তো দেখা গেল—যিনি ভুল শুধরে নিতে জানেন। যেমন ধরুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১২ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টিটি। কেইনের প্রথম শট মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। বেশ দুর্বল শট, সেটা বলেছেন ধারাভাষ্যকারই। ভাগ্যিস, ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচ কেইন শট নেওয়ার আগে গোললাইন ছেড়ে বের হওয়ার ভুলটা করেছিলেন। এ কারণে পেনাল্টিটি আবারও নেওয়ার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কেইন দ্বিতীয়বার দুর্বল শট নেওয়ার ভুল করেননি। গোলকিপারের ডান দিক দিয়ে জোরাল শটে সোজা জালে।

পেনাল্টি থেকে করা এই গোলেও রেকর্ড গড়েন কেইন। বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোল এখন কেইনের। সেটা টাইব্রেকারের হিসাব বাদে।

কালও পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছেন কেইন
কালও পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছেন কেইন, রয়টার্স
 

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও কেইন সর্বোচ্চ ৬টি করে পেনাল্টি শট নিয়েছেন। মেসির দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার। কিন্তু কেইন তাঁর ৬ পেনাল্টি শটের ৫টিতেই গোল করেছেন, অন্যটি বাইরে মেরেছিলেন। বিশ্বকাপে কেইনই এখন পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বিশ্বকাপে চার পেনাল্টি শটের সবগুলোতেই গোল করেছেন পর্তুগালের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ইউসেবিও। বিশ্বকাপে ডাচদের হয়ে দুবার ফাইনাল খেলা সাবেক লেফট উইঙ্গার রব রেনসেব্রিঙ্ক ও আর্জেন্টিনার সাবেক স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাও চার পেনাল্টি শটে সবগুলোতে গোল পেয়েছেন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চার পেনাল্টি শটের তিনটিতে গোল পেয়েছেন। একটি শট সেভ হয়েছে। ঘানার সাবেক মিডফিল্ডার আসামোয়া জিয়ানের আরেকটু বেশি দুর্ভাগ্য। চারটি পেনাল্টি শটের দুটিতে গোল পেয়েছেন। একটি মেরেছেন পোস্টে, অন্যটি ক্রসবারে!

কলম্বিয়া ৩:১ উজবেকিস্তান (ফুল টাইম)

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ‘প্রথম ম্যাচ’টিতে জিতেছে কলম্বিয়া। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা উজবেকিস্তানকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

ম্যাচের প্রথম চল্লিশ মিনিটে কোনো গোলই পায়নি কলম্বিয়া। বিরতির আগে দানিয়েল মুনিওজের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে বিরতির পর ৬০তম মিনিটে উজবেকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান আব্বোসবেগ ফাইজুল্লায়েভ। ১–১ সমতা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। পাঁচ মিনিট পরই কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াজ। আর শেষ দিকে যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন হামিন্তন কাম্পাজ।

৩–১ গোলের জয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে কলম্বিয়া। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে পর্তুগাল–ডিআর কঙ্গো ১–১ ড্র করেছে।

কলম্বিয়ার শেষ গোলটি করেছেন মিডফিল্ডার হামিন্তন কাম্পাজ (২১ নম্বর জার্সি)
কলম্বিয়ার শেষ গোলটি করেছেন মিডফিল্ডার হামিন্তন কাম্পাজ (২১ নম্বর জার্সি)এএফপি
০৯: ৩০
 

 

ইংল্যান্ড ৪ : ২ ক্রোয়েশিয়া

চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে দুই দল সমানে লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। আর এই সুযোগে প্রতিপক্ষে জালের আরও ২ গোল দেয় ইংল্যান্ড। এতে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডকে শুরুতে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। পরে বাতুরিনার গোলে ক্রোয়েশিয়া কামব্যাক করলেও দুর্দান্ত হেডে দলকে আবারও লিড এনে দেন কেইন। বিরতিতে যাওয়ার আগে পিটার মুসা সমতা ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের হয়ে জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ড একটি করে গোল করেন। 

এদিন ম্যাচে ১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে লুকা মদ্রিচ নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করলে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পায়।

তবে কেইন শট নেওয়ার সময় কিছুটা ইতস্তত করছিলেন। তাকে হতাশ করে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা একই সঙ্গে চরম হতাশ ও বিস্মিত হয়।

যদিও রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিন ভিএআর পরীক্ষার জন্য খেলা পুনরায় শুরু করতে একটু সময় নেন। যেখানে দেখা যায়, কেইন শট নেওয়ার আগেই লিভাকোভিচ তার গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন।  এই কারণে ইংলিশ তারকা ১২ গজ দূর থেকে পেনাল্টি নেওয়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয়বার কেইন আর কোনো ভুল করেননি। তিনি আগেরবারের মতো একই দিকে শট নিয়েছিলেন। বলটি নিখুঁতভাবে জালের নিচের ডান কোণায় জড়ায়। ক্রোয়েশিয়া পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি।

[caption id="attachment_276692" align="alignnone" width="919"] ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।[/caption]

৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

ছয় মিনিট পর কর্নার থেকে ডেকলান রাইসের অ্যাসিস্টে কেইনের হেডে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮১তম গোল করেন তিনি এবং বিশ্বকাপে দশম গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা গ্যারি লিনেকারের পাশে বসেন।

যোগ করা পাঁচ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে পিটার মুসা ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। ইভান পেরিসিচের হেড পাসে ডান পায়ের শটে স্কোর ২-২ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে দৌড়ে বক্সে ঢুকে ক্রোয়েশিয়ার জালে গোল করেন জুড বেলিংহাম। যদিও ম্যাচের ৮০তম মিনিটে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে তুলে নেন টমাস টুখেল।

এরপর ৮৫তম মিনিটে বদলি মেনে গোল করেন বার্সা তারকা রাশফোর্ড। সাকার দেওয়া বল বক্সের মধ্যে পেয়ে দুর্দান্ত শটে প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর বাকি সময় দুই দল আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। তাই ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, জ্যারেল কোয়ানসা, নিকো ও'রাইলি, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডেকলান রাইস, ননি মাদুয়েকে, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন, হ্যারি কেইন।

ক্রোয়েশিয়া একাদশ: দমিনিক লিভাকোভিচ, ইওস্কো গভার্দিওল, লুকা ভুসকোভিচ, ইয়োসিপ শুতালো, ইভান পেরিসিচ, পেতার সুচিচ, লুকা মদরিচ, ইয়োসিপ স্তানিসিচ, মার্তিন বাতুরিনা, মালিও পাসালিচ, পেতার মুসা।

 

পর্তুগাল ১ : ১ ডিআর কঙ্গো

বিশ্লেষকদের মতে ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্য দাবিদার পর্তুগাল। ফলে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল রোনালদোর দল। তবে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি রোনালদো-ভিতিনাহরা। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪৮তম স্থানের থাকা দলটির বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল পর্তুগাল

বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাতে ম্যাচের ৬ মিনিটে গোল করে দুর্দান্ত শুরুও করেছিল পর্তুগাল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতায় ফেরে কঙ্কো। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল। ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে।

[caption id="attachment_276679" align="alignnone" width="780"] পর্তুগাল ১ : ১ ডিআর কঙ্গো[/caption]

অফসাইডে বাতিল পর্তুগালের গোল  

৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করেছিলেন জোয়াও ক্যানসেলো। তবে সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী রেফারির পতাকা উঠে যায়—অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

‘উই হ্যাভ হিস্টরি ইন হিউস্টন!’

ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে আবেগ! ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম গোলেই পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো!

প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের ৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা ক্রসে হেডে গোল করেন ইওয়ান উইসা। ক্রসটি দেন আর্থার মাসুয়াকু।

আফ্রিকার দলটি সমতায় ফেরার পরই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

হেডে গোল করছেন উইসা
হেডে গোল করছেন উইসারয়টার্স

পর্তুগালের একাদশ 

পর্তুগালের একাদশ: কস্তা; কানসেলো, আরাউজো , ভেইগা, মেন্দেস; ভিতিনিয়া, নেভেস; ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো, নেতো; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

মাত্র ৯৯ রানেই পড়ে যায় ৮ উইকেট। বাংলাদেশ দলের জন্য ম্যাচটা বলতে গেলে ওখানেই শেষ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টি-টুয়েন্টির সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হেরেছে ৪ উইকেটে।

১ ওভার বাকি থাকতে অলআউট বাংলাদেশের ১৩১ রানের ইনিংসটা ধাক্কা খেতে খেতেই এগিয়েছে। ১৭ বলের উদ্বোধনী জুটিতে ২৬ রানের ভালো শুরু এলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি। স্পেনসার জনসনকে কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে তানজিদ হাসান ক্যাচ দিলে প্রথম উইকেট পড়ে বাংলাদেশের।

১৪ বলে ২০ রান করে সাইফ ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশর বলে। দুই ওপেনার আউট হওয়ার পর উইকেট পড়েছে নিয়মিত বিরতিতে। অবশ্য ৩৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন তাওহিদ হৃদয়। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস চোটের কারণে খেলেননি, তাঁর পরিবর্তে তাই আজ বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিয়েছেন হৃদয়। কিন্তু তিনিও ৫ বলে ৮ রান করেই অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হয়ে যান। ইনিংসের মাঝপথ পর্যন্ত যেতে যেতেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট নেই। ২ বছর পর টি-টুয়েন্টিতে ফেরা সৌম্য সরকার ১৮ বলে করেছেন ১৭ রান।

দলের রান এক শ পেরোনোর আগেই বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে। বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই আউট হয়েছেন এলোমেলো শট খেলে। এরপর অবশ্য এক প্রান্তে হাল ধরেন মেহেদী হাসান। রিশাদ হোসেন-শরীফুল ইসলামদের সঙ্গ খুব বেশি না পেলেও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে ১২ বলে ২৩ রানের শেষ উইকেট জুটিতে কিছুটা লড়াই করেছেন মেহেদী। মোস্তাফিজ ৫ বলে ৭ রান করে এলবিডব্লু হলেও ২২ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকেও ভালোই বেগ দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু স্কোরবোর্ডে যে রান, তা দিয়ে বোলারদের পক্ষে লড়াই করাটা কঠিনই ছিল। এক কুপার কনোলির ২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংসই সহজ করে দেয় অস্ট্রেলিয়ার জয়।

তিনে নেমে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলে ৪৭ রান আসে কনোলির ব্যাট থেকে। অভিষেক আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলতে নেমে ৩২ রানে ২ উইকেট পাওয়া আবদুল গাফফার যখন তাঁকে ফেরান, ততক্ষণে ম্যাচ বলতে গেলে পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার হাতে। লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে আরও ৩ উইকেট হারালেও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতেছে ১০ বল বাকি থাকতেই। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি আগামী শুক্রবার।

জর্ডানকে ৩–১ গোলে হারাল অস্ট্রিয়া

ম্যাচজুড়ে লড়াই করলেও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ল জর্ডান। প্রথমবার বিশ্বকাপে পা রাখা এশিয়ান দলটি অস্ট্রিয়ার কাছে হেরেছে ৩–১ গোলে।

শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে অস্ট্রিয়া
শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে অস্ট্রিয়া, এএফপি
 

২০ মিনিটে রোমানো স্মিড অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৫০ মিনিটে সেটি শোধ দেন আলী ওলওয়ান। ৭৬ মিনিটে জর্ডান আবার পিছিয়ে যায় আত্মঘাতী গোলে। কর্নার থেকে আসা বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন ইয়াজান আল–আরব।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ দিকে সেলিম ওবাইদের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় অস্ট্রিয়া। যা কাজে লাগিয়ে গোল করেন মার্কো আরনাউতোভিচ।

‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার মতো অস্ট্রিয়ার পয়েন্টও তিন। তবে গোল হজম করায় পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রিয়া দুইয়ে।

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা জর্ডানের খেলোয়াড়েরা দর্শকদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা জর্ডানের খেলোয়াড়েরা দর্শকদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানানএএফপি

মেসি ৩: ০ আলজেরিয়া

কাতার বিশ্বকাপ যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করলেন লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি করলেন জাদুকরী এক হ্যাটট্রিক। মেসির মায়া ছড়ানোর ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ৩–০ গোলে।

এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসার করা সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড। এখন আরেক গোল করলে এককভাবে শীর্ষে উঠবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মেসি। দি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে করেন চোখধাঁধানো এক গোল।

এরপর আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুলে মেসি নিজের দ্বিতীয় গোলটি পান ম্যাচের ৬০ মিনিটে। ৭৬ মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত গোলে মেসি আদায় করে নেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনটা মেসি ও আর্জেন্টিনা শুরু করল বড় বার্তা দিয়ে। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ হলেও, ক্ষুধাটা এখনো চার বছর আগের মতোই আছে।

দুর্দান্ত মেসি
দুর্দান্ত মেসিএএফপি

মেসি ছুঁলেন ক্লোসাকে 

অবিশ্বাস্য! হ্যাট্রটিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠলেন মেসি। রোনালদো নাজারিওর ১৫ গোল ছাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেললেন সর্বোচ্চ গোল করা ক্লোসাকে। বিশ্বকাপে মেসির গোল এখন ক্লোসার সমান ১৬টি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

স্ট্যান্ডিং অভেশন নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মেসি
স্ট্যান্ডিং অভেশন নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মেসি, এএফপি

বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাট্রটিক 

আটকে রাখা গেল না মেসিকে। হ্যাটট্রিকটা পেয়েই গেলেন জাদুকর–মেসি। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দারুণ এক গোলে আদায় করে নিলেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।

বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন মেসি
বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন মেসিএএফপি

নরওয়ে ৪–১ ইরাক

ম্যাচের তখন ৮৩ মিনিট। ইরাকের গোলকিপার জালাল হাসানকে ডান প্রান্তে একা পেয়ে যান আর্লিং হলান্ড। বেশ জোরে শটও নেন। কিন্তু জালালের পায়ে লেগে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় হলান্ডের হ্যাটট্রিকটা আর হলো না। শেষ বাঁশি বাজার পর নরওয়ের স্ট্রাইকারকে তাই বিশ্বকাপ অভিষেকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো জোড়া গোলে।

তবে বোস্টন স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ের ৪-১ গোলে জয়ের এ ম্যাচে এমন কিছুই প্রত্যাশিত ছিল। ম্যাচটা হবে ‘হলান্ড শো’—হ্যাটট্রিক পেতে পারেন কিংবা নিদেনপক্ষে জোড়া গোল করবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। পৃথিবীর উত্তর প্রান্তের এই ‘গোলমেশিন’ বিশ্বকাপ অভিষেকে সেটা করলেন ম্যাচের ৪৩ মিনিটের মধ্যে। প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝখানে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৪ মিনিট।

কিন্তু এ ম্যাচকে পুরোপুরি হলান্ডের বলা যাচ্ছে না। কারণ, পার্শ্বচরিত্ররাও আছেন। ২৯ ও ৪৩ মিনিটে হলান্ডের জোড়া গোলের পর ৭৬ মিনিটে নরওয়ের হয়ে আরও একটি গোল করেন স্কিরি অস্টিগার্ড। যোগ করা সময়ে ৬ মিনিটে নরওয়ে শেষ গোলটি পেয়েছে ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনের কাছ থেকে! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, আত্মঘাতী গোল।

ম্যাচে ইরাকের হয়ে একমাত্র গোলটিও আইমেন হুসেইনের। সেটা সমতাসূচক গোল। ২৯ মিনিটে হলান্ড নরওয়েকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৩৯ মিনিটে হেডে গোল করেন আইমেন। পরে আত্মঘাতী গোল করায় বিশ্বকাপে বিরল এক তালিকায়ও নাম লেখান তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোলও করলেন আইমেন।

আইমেনের গোল উদ্‌যাপন
আইমেনের গোল উদ্‌যাপন, এএফপি
 

বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয় গোল পেল ইরাক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিল ইরাক। ৪০ বছর ৯ দিন পর আইমেনের কল্যাণে আরেকটি গোলের দেখা পেল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো জাতীয় দলের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝখানে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়ের ব্যবধান। এ ম্যাচেরই জয়ী দল নরওয়ে তালিকায় শীর্ষে।

১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর ৫৬ বছর ২৮ দিনের বিরতি নিয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল নরওয়ে।

সেই নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার প্রথম ম্যাচেই পেল চার গোলের দেখা। বিশ্বকাপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। আর সেই জয়ে যে হলান্ডের অবদানই বেশি, তা না বললেও চলে।

‘আই’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচ জিতেই শীর্ষে নরওয়ে। দ্বিতীয় ফ্রান্সের সংগ্রহও সমান ৩ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে নরওয়ের সঙ্গে পিছিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল। পয়েন্ট না পাওয়া সেনেগাল তিনে ও ইরাক চারে।

যতটা ভালো হলে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা খুশি হতেন, ঠিক ততটাই মধুর হলো লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপের শুরুটা।

কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩–০ গোলে। তিনটি গোলই করেছেন মেসি। এই হ্যাটট্রিকের পথে মেসি গড়েছেন রেকর্ড, দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপেও দারুণ কিছুর বার্তাও।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে লাগলেও শেষ পর্যন্ত জালে জড়ায়।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামা মেসি পরে আরও দুটি গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন। এরপর ৭৬ মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।

এই তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এর ফলে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে, গার্ড মুলার ও রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে হয়ে গেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাঁর মতো ১৬ গোল আছে মিরোস্লাভ ক্লোসারও। পরের লক্ষ্য রেকর্ডটা নিজের করে নেওয়া।

রোনালদোকে ছাড়িয়ে

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি বিশেষ রেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার এখন তিনি (৩৮ বছর ৩৫৭ দিন)। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।

শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপের পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করা ফুটবলারদের তালিকাতেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১০ আসর।

৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতাদের তালিকায়ও তিন নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। তাঁর সামনে আছেন শুধু ক্যামেরুনের রজার মিলা এবং পর্তুগালের পেপে।

মেসির আবেগ

ম্যাচে প্রথম গোল করার পর উদ্‌যাপনের সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আবেগঘন এক মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখে তখন জল। হয়তো বিশ্বকাপে নিজের শেষ যাত্রার প্রথম ম্যাচে গোল করার আনন্দ, কিংবা আরেকটি স্বপ্নের পথে যাত্রার অনুভূতি—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এমন শুরু যেন নতুন করে উৎসবে মেতেছে আর্জেন্টিনা। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই, ছিলেন মেসি।