নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রিজারটন’ আবার ফিরেছে নতুন মৌসুম নিয়ে। চতুর্থ মৌসুমে শুধু রোমান্স বা রাজকীয় সাজসজ্জাই নয়, উঠে এসেছে একটি সংবেদনশীল ও দীর্ঘদিনের সামাজিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়—নারীদের যৌন অভিজ্ঞতা ও সে বিষয়ে অজ্ঞতার বাস্তবতা। এ মৌসুমে প্রেম, সম্পর্ক আর সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নারীর অবস্থানকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অজানা জীবন তৃতীয় মৌসুমের শেষে ফ্রান্সেসকা ব্রিজারটন ও জন স্টার্লিংয়ের বিয়ে হয়। নতুন মৌসুমে দেখা যায়, তারা হাইল্যান্ডস থেকে লন্ডনে ফিরে এসেছে দাম্পত্য জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে। কিন্তু তাদের রাজকীয় পোশাক আর সামাজিক আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট—ফ্রান্সেসকার যৌনতা সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞতা।

রিজেন্সি যুগে অবিবাহিত অভিজাত নারীদের যৌনতা সম্পর্কে কিছুই জানানো হতো না। বিপরীতে, পুরুষেরা ইউরোপ ভ্রমণের সুযোগ পেত এবং সেখানে অভিজ্ঞতা অর্জন করাকে প্রায় স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হতো। এই বৈষম্য নতুন দম্পতির সম্পর্কের ভেতর অস্বস্তি তৈরি করে। ফ্রান্সেসকা বুঝতে পারে যে দাম্পত্য জীবনে তার হয়তো এমন কিছু অনুভব করার কথা, যা সে জানেই না।

 ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

নারীর সঙ্গে নারীর কথা
নিজের অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে ফ্রান্সেসকা আশ্রয় নেয় পরিবারের নারীদের কাছে। মা লেডি ব্রিজারটন ও ভাবি পেনেলোপের সঙ্গে সে খোলামেলা আলোচনা শুরু করে। এই অংশ সিরিজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে দেখানো হয়েছে, পুরুষদের জন্য যা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা, নারীদের জন্য তা কীভাবে নিষিদ্ধ ও গোপন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ফ্রান্সেসকার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী হান্না ডডের ভাষায়, নারীরা যদি একে অন্যের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পায়, তাহলে তারা নিজের শরীর বা অনুভূতি সম্পর্কে জানবে কীভাবে? এই প্রশ্নই সিরিজের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ায়।
সম্পর্কের ভেতরের নীরবতার কারণ, ফ্রান্সেসকা ও জন দুজনই স্বভাবে অন্তর্মুখী। তাদের বিয়ে নতুন, একে অপরকে জানার পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলাটাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সিরিজে দেখানো হয়েছে নীরবতা ভাঙার চেষ্টা। সম্পর্কের ভেতরে সততা আর খোলামেলা আলোচনার গুরুত্ব এখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভিন্নতা ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান
এই মৌসুমে ফ্রান্সেসকার চরিত্র ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। সেটা হলো, সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার অনুভূতি। সে প্রায়ই ভিড় থেকে সরে নিরিবিলি থাকতে চায়, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অনেক দর্শক এই চরিত্রের ভেতর নিজেদের আলাদা অনুভব করার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। সিরিজের নির্মাতারা সরাসরি কিছু না বললেও, এই ভিন্নতাকে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

বেনেডিক্টের প্রেম আর নতুন জগৎ
চতুর্থ মৌসুমের মূল গল্প এগিয়ে গেছে বেনেডিক্ট ব্রিজারটনের প্রেমকে কেন্দ্র করে। এক মুখোশ বলের রাতে সে পরিচিত হয় রহস্যময় তরুণী সোফির সঙ্গে। এই গল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্রিজারটনের ‘নিচের তলা’ বা গৃহপরিচারকদের জগৎও সামনে এসেছে। অভিজাত সমাজের ঝলমলের আড়ালে যাদের জীবন সংগ্রামে ভরা, সেই বাস্তবতা নতুন করে দেখা যায়।

 

রানি ও লেডি ড্যানবেরির টানাপোড়েনে পুরোনো চরিত্রদের মধ্যেও সম্পর্কের নতুন রূপ দেখা যায়। রানি শার্লট ও লেডি ড্যানবেরির বন্ধুত্বে তৈরি হয় টানাপোড়েন। রানি চান না যে লেডি ড্যানবেরি ছুটিতে যান, কারণ, তিনি তাকে ছাড়া নিজেকে অসহায় মনে করেন। এখানে ক্ষমতা ও বন্ধুত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেডি ড্যানবেরির আত্মসম্মান ও নিজের জন্য সময় চাওয়ার বিষয়টি নারীর আত্মপরিচয় ও সীমা নির্ধারণের বার্তা দেয়।

‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স
‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স

নারীর অভিজ্ঞতা কেন নিষিদ্ধ? এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নারীরা কেন অভিজ্ঞতা পেতে পারবে না? কেন তাদের শরীর ও অনুভূতি সম্পর্কে জানাটাও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ? ব্রিজারটন এই প্রশ্নগুলোকে রোমান্টিক নাটকের কাঠামোর ভেতর রেখেই সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছে।

‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুমের প্রথম কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। বাকি চার পর্ব মুক্তি পাবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।

বিবিসি অবলম্বনে

ঢাকা

আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো অ্যারিয়ানে বসেছিল ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কারের আসর। বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় আসর গ্র্যামিতে এবার সর্বোচ্চ ৯টি মনোনয়ন পেয়েছেন র‍্যাপার কেনড্রিক লামার। সাতটি মনোনয়ন নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে লেডি গাগা। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারে বাজিমাত করলেন কারা?

কেনড্রিক লামারের দাপট
বছরের সেরা গান ও শিল্পীদের পুরস্কৃত করতে এ বছর রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি মোট ৯৫টি বিভাগে পুরস্কার দিচ্ছে। এর মধ্যে বিকেলে (বাংলাদেশ সময় ভোরে) অনুষ্ঠিত প্রাক্‌-সম্প্রচার পর্বেই ৮৬টি বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মূল টেলিভিশন সম্প্রচারে রাখা হয়েছে বাকি ৯টি বড় ও পারফরম্যান্সনির্ভর বিভাগ।

পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি
পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নতুন ইতিহাস লিখলেন মার্কিন র‍্যাপ তারকা কেনড্রিক লামার। এবারের গ্র্যামির আসরে পাঁচটি পুরস্কার জিতে তিনি ভেঙে দিয়েছেন র‍্যাপারদের মধ্যে সর্বাধিক গ্র্যামি জয়ের রেকর্ড। এত দিন এই রেকর্ড ছিল র‍্যাপার জে-জি’র দখলে। জে-জি’র মোট গ্র্যামি ছিল ২৫টি, আর কেনড্রিক লামার তা ছাড়িয়ে এখন পৌঁছালেন ২৭টিতে।

ব্রিটিশ গায়িকা লোলা ইয়াং সেরা পপ সলো পারফরম্যান্স বিভাগে ‘মেসি’ গানের জন্য জয় পেয়েছেন, হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে। গুরুত্বপূর্ণ ‘সং অব দ্য ইয়ার পুরস্কার’ পেয়েছেন বিলি আইলিশ।

মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি
মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি

পুরস্কার ছাড়াও গ্র্যামিতে ছিল পারফরম্যান্স। গানে গানে মঞ্চ মাতান রোজে, ব্রুনো মার্স, লেডি গাগা, জাস্টিন বিবার, টেইলর, দ্য ক্রিয়েটর ও রেজিনা কিং। গ্র্যামির সঞ্চালনায় এবার শেষবারের মতো ফিরেছেন ট্রেভর নোয়া। টানা ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গ্র্যামি পুরস্কার
রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: ‘লুথার’, কেনড্রিক লামার ও সিজা
অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’, ব্যাড বানি
সং অব দ্য ইয়ার : ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার’, বিলি আইলিশ
বেস্ট নিউ আর্টিস্ট: ওলিভিয়া ডিন
বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্স: ‘মেসি’, লোলা ইয়ং
বেস্ট পপ ডুয়ো অথবা গ্রুপ পারফরম্যান্স: ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’, লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্স
বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম: ‘মেহ্যাম’, লেডি গাগা
রেস্ট র‍্যাপ অ্যালবাম: ‘জিএনএক্স’, কেনড্রিক লামার

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

ঢাকা

অভিনেত্রী সিডনি সুইনি রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। ‘হোয়াইট লোটাস’ ও ‘দ্য হাউসমেইড’ তারকা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তাঁর নেই—এ নিয়ে যত চাপই থাকুক না কেন।
কসমোপলিটন সাময়িকীতে প্রচ্ছদ হয়েছেন সিডনি। সেখানেই দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি সুইনি বলেন, ‘আমি শিল্পের মানুষ। আমি রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে এখানে আসিনি। এটা এমন কোনো ক্ষেত্র নয়, যেখানে আমি কখনো নিজেকে কল্পনাও করেছি। আমি যে মানুষটি হয়েছি, তার কারণও এটা নয়।’

২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, তাঁর পুরো মনোযোগ তাঁর কাজের ওপরই। তিনি বলেন,‘আমি অভিনেতা হয়েছি কারণ আমি গল্প বলতে ভালোবাসি।’ নিজের মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরে যোগ করেন, ‘আমি কোনো ধরনের ঘৃণায় বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবাইকে একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, সম্মান ও বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি করতে হবে।’

সিডনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই উল্টো তিনি আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়ছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সব সময় শিল্প তৈরি করতেই এখানে এসেছি, তাই এটা এমন কোনো আলোচনা নয়, যেখানে আমি সামনে থাকতে চাই। আর মনে হয়, সেই কারণেই মানুষ বিষয়টা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আমাকে তাদের নিজেদের “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু অন্য কেউ আমার ওপর কিছু আরোপ করছে—সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।’

‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি
‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি

মনে করা হচ্ছে, গত বছরের আমেরিকান ঈগল ব্র্যান্ডের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর আর কাজের বাইরে কথা বলতে চাচ্ছেন না তিনি। কসমোপলিটনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি আরও বলেন, অন্যের বিশ্বাস বা মতামত তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ‘মানুষ যখন বলে দেয় আপনি কী বিশ্বাস করেন বা কী ভাবেন—বিশেষ করে যখন সেটা আপনার সঙ্গে মেলে না—তখন সেটা খুবই অস্বস্তিকর। এটা আমার জন্য অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। কারণ, এটা আমি নই। এর কোনোটাই আমি নই,’ বলেন তিনি।

এর আগে গত ডিসেম্বরে পিপল সাময়িকীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যে বিষয়টিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেছিলেন, সেই বিতর্ক তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি অনলাইনে থাকি, সব দেখি। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি। বিষয়টা এমন পর্যায়ে গেছে, যেখানে সবকিছু হজম করা আমার জন্য আর স্বাস্থ্যকর নয়।’

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজ থেকে পোস্ট করেছেন নগরবাউল জেমস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।'

নগরবাউল জেমস আরও লিখেছেন, 'মহান আল্লাহ তায়ালা যেন খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত করেন—আমিন।' 

এছাড়াও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন জেমস।

সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে চিত্রনায়িকা পপিকে তার নিজ বাড়িতে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। হত্যার এই হুমকি দিয়েছেন তার চাচাতো বোনের স্বামী তারেক আহমেদ চৌধুরী । 

গত ১৯ নভেম্বর পপির বড় চাচা কবির হোসেন মারা গেলেও তিনি হুমকির কারণে তাকে দেখতে যেতে পারেননি তিনি। 

পপির অভিযোগ, চাচা কবির হোসেনের কাছ থেকে ২০০৭ সালে জমি ক্রয় করেন তিনি। সেই জমি দখলে রেখেছেন তার চাচাতো বোন মুক্তা ও তার স্বামী তারেক আহমেদ চৌধুরী নিজের সম্পত্তি বুঝে চাইলে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান তারেক। এমনকি খুলনার মাটিতে গেলেও তিনি বেঁচে ফিরতে পারবেন না বলে তাকে হুমকি দেয়া হয় তাকে। 

পপি বলেন, আমার চাচা যখন বাইরের লোকদের কাছে জমি বিক্রয় করছিলেন তখন আমি আমাদের পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে আমি নিজেই আমার সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সম্পত্তি ক্রয় করি। আমার চাচা ২০০৭ সালেই জমি রেজিট্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু এর কয়েবছর পর যখন আমি আমার জায়গা বুঝে নিতে যাই তখনই আমাকে হুমকি দেয়া হতো।

জানা যায়,  শুধু পপিকে নয়, তার আরেক চাচা বাবর হোসেনকেও নানা সময়ে হুমকি দিয়েছেন তারেক। এ বিষয়ে সম্প্রতি খুলনায় সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েক দফা খুলনার জমিদার বাড়িতে গেলেও দেখা করেননি অভিযুক্ত তারেক। এমনকি মোবাইল ফোনে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার স্ত্রী মুক্তা ফোন রিসিভি করে এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বিশ্বসঙ্গীত জগতের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর  মনোনয়ন প্রকাশিত হয়েছে। সংগীতজগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন র‌্যাপার কেন্ড্রিক লামার, যিনি সর্বোচ্চ নয়টি মনোনয়ন পেয়েছেন। তারপরেই আছেন লেডি গাগা ও ব্যাড বানি, যারা বিভিন্ন বিভাগে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন।

এবারের গ্র্যামিতে রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার ও অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার—তিনটি প্রধান বিভাগেই মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্ড্রিক লামার, যা তাকে বছরের সবচেয়ে আলোচিত শিল্পীতে পরিণত করেছে। 

লেডি গাগা পেয়েছেন সাতটি মনোনয়ন, আর লাতিন তারকা ব্যাড বানি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন—একই বছরে প্রথমবারের মতো কোনো স্প্যানিশ-ভাষী শিল্পী হিসেবে সেরা অ্যালবাম, সেরা রেকর্ড ও সেরা গানের বিভাগে একযোগে মনোনয়ন পেয়েছে তার অ্যালবাম 'Debí Tirar Más Fotos (I Should Have Taken More Photos)'–এর মাধ্যমে।

কে-পপ ঘরানাও এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে জায়গা করে নিয়েছে। রোজে ও ব্রুনো মার্সের গান 'APT'মনোনয়ন পেয়েছে তিনটি প্রধান বিভাগে—রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার ও বেস্ট পপ ডুয়ো/গ্রুপ পারফরম্যান্স। 

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ছবি 'Kpop Demon Hunters'–এর গান 'Golden'পেয়েছে তিনটি মনোনয়ন—সং অব দ্য ইয়ার, বেস্ট পপ ডুয়ো/গ্রুপ পারফরম্যান্স এবং বেস্ট সং রিটেন ফর ভিজ্যুয়াল মিডিয়া।

‘বেস্ট নিউ আর্টিস্ট’ বিভাগেও এসেছে তরুণ প্রতিভাদের চমক। তালিকায় রয়েছেন অলিভিয়া ডিন, লিওন থমাস, ক্যাটসআই এবং অ্যালেক্স ওয়্যারেনসহ আরও অনেকে।

এবারের গ্র্যামি বিবেচিত হয়েছে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত গান ও অ্যালবাম। এই সময়সীমার বাইরে থাকায় টেইলর সুইফটের 'The Life of a Showgirl' মনোনয়নে জায়গা পায়নি।

ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। মৃত্যুর পর থেকে একাধিক তথ্য নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবশান ঘটল ময়নাতদন্তের রিপোর্টে।

সিঙ্গাপুর সরকার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তুলে দিল গায়কের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গের হাতে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুবা ডাইভিং করার সময় নয়, সিঙ্গাপুরের একটি দ্বীপে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা গিয়েছেন তিনি।

সিঙ্গাপুর পুলিশ (এসপিএফ) প্রয়াত গায়কের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রাথমিক অনুসন্ধানের একটি অনুলিপি ভারতীয় হাই কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি, সিঙ্গাপুর পুলিশ জুবিনের স্ত্রী গরিমার সঙ্গেও কথা বলে।

প্রসঙ্গত, ভারত-সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী এবং ভারত ‘আসিয়ান’ পর্যটনের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন গায়ক।

সিঙ্গাপুরের প্রশাসন আরও জানিয়েছে, জুবিনের মৃত্যু নিয়ে পুলিশি তদন্ত এখনও চলছে। তাই তার অনুরাগীদের এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশে অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে কেফায়া জড়িয়ে হাজির হলেন হলিউড অভিনেতা হাভিয়ের বার্দেম।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এমি অ্যাওয়ার্ডের ৭৭ তম আসরে গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ জানাতে এ রূপে উপস্থিত হন তিনি।

একটি সিরিজের সেরা সহকারী অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে টাক্সিডো স্যুটের সাথে কেফায়া জড়িয়ে আসেন অনুষ্ঠানে। লাল গালিচায় দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে সাহসী ভাষণ দেন তিনি। এতে গাজায় চলা ইসরায়েলি সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান হাভিয়ের। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে জোর দাবি জানিয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষ করেন তিনি।

এ সময়, আরও বেশ কয়েকজন শিল্পীও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানান কেফায়া এবং হ্যান্ডব্যাগ পরে। সেইসাথে, তারা ‘আগুন বন্ধ কর’ বলে উচ্চস্বরে চিৎকারও করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

হাভিয়ের বার্দেম ও হান্না আইনবাইন্ডার

অপরদিকে, ‘হ্যাকস’ তারকা হান্না আইনবাইন্ডার একটি কমেডি সিরিজে সেরা সহ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেন এবং তার বক্তৃতার শেষে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

সিনেমার গান (প্লেব্যাক) আসলে নায়ক, পরিচালকের গান হয়; আমার গান হয় না। আমি কেবল অডিওর গানেই থাকব। এমনটা বলেছেন দেশের জনপ্রিয় গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রিন্স মাহমুদ লেখেন, অনেকগুলো সিনেমার কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি, যা অনেকেই ভাবতে পারেন না। আমি যাকে পছন্দ করি, এমন একজনের (এই সময়ের সবচেয়ে বড় ও সম্মানিত একজন, যাকে কেউ ফেরায় না; একটা ফোন পাওয়া তো দূর, তার কাছে যাওয়ার জন্য বসে থাকে) সাথে আমি দেখা করতে পারিনি। কারণ, সিনেমায় আসলে আমার নতুন কিছু দেয়ার নাই।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন– যে যাই বলুন, সিনেমার গান আসলে নায়ক, পরিচালকের গান হয়; আমার গান হয় না। অকারণ ক্রেডিট নেয়ার কোনো মানে হয় না। পুরোনো দিনের সুরকারদের জন্য হয়তো ঠিক ছিল কিন্তু এখন নয়।

নিজের জনপ্রিয় গান উল্লেখ করে প্রিন্স লেখেন– আমি কেবল অডিওর গানে থাকব। যেখানে ‘মা’, ‘এতো কষ্ট কেন ভালোবাসায়’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’, ‘বাবা’, ‘বাংলাদেশ’ (আমার সোনার বাংলা), ‘হিমালয়’, মাহাদির ‘সুনীল বরুনা’ (তুমি বরুনা হলে), রুমির ‘মাটি’ (মাটি হব মাটি), তাহসানের ‘ছিপ নৌকো’, তপুর ‘সোনার মেয়ে’, তানজির তুহিনের ‘আলো’, ‘অনাগত’, এলিটার ‘কবি’ বা মিনারের ‘একাকিত্বের কোনো মানে নেই’র মতো আমার গান হবে..

প্রসঙ্গত, গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত এম রাহিমের ‘জংলি’ সিনেমায় মৌলিক চারটি গানের সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেন প্রিন্স মাহমুদ। এর মাধ্যমে প্রায় আট বছর পর অ্যালবাম করেন এই গীতিকবি-সুরস্রষ্টা।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনাটি তখন সারা দেশে আলোড়ন তোলে। পরে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। সেই বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

এবার সেই সিনেমায় মেজর সিনহার চরিত্রে ঢালিউড ‘মেগাস্টার’ শাকিব খান অভিনয় করতে যাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমের দাবি। তিনি যদি এই চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটা হবে তার ২৬ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মে উপস্থিতি।

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশ যাপন করছেন। বাংলাদেশে ফিরবেন আগামী সপ্তাহে। দেশে ফেরার পর সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এই সিনেমার শুটিং শুরু করবেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, সাকিব ফাহাদ পরিচালিত এই সিনেমায় শাকিব খান পর্দায় হাজির হবেন মেজর সিনহার চরিত্রে!

তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরাসরি কোনো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করবেন না শাকিব, বরং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক দক্ষ এজেন্টের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। যিনি দেশের হয়ে লোমহর্ষক সব অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

গল্পে থাকবে সত্য ঘটনা ও নাটকীয়তার মিশ্রণ, যা তুলে ধরবে তার চাকরি জীবনের নানান প্রেক্ষাপট ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য।

নতুন এই প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের সরকারি অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে দাবি গণমাধ্যমের। সিনেমায় বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় টেকনিক্যাল ক্রু যুক্ত থাকবেন।

সিনেমাটির অধিকাংশ শুটিং হবে থাইল্যান্ডে। শাকিব খানের বিপরীতে ছোটপর্দার এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে নেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন আছে। যদিও এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি।

পরিচালক সাকিব ফাহাদ একাধিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, সিনমাটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে হলেও কাহিনীতে কিছুটা নাটকীয়তা থাকবে। দেশপ্রেম, অ্যাকশন ও মানবিক আবেগ, সব মিলিয়ে এটি হবে শক্তিশালী গল্পের সিনেমা।

পরিচালক গণমাধ্যমে জানান, সিনেমাটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে হলেও কাহিনিতে কিছুটা কাটছাঁট থাকবে। তবে দেশপ্রেম, অ্যাকশন এবং মানবিক আবেগ- সব মিলিয়ে এটি হবে একটি শক্তিশালী গল্পের সিনেমা।

জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে এর শুটিং শুরু হয়ে ডিসেম্বরে মুক্তি দেয়া হবে। সিনেমাটি একযোগে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।