ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালির গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জীবনের প্রথম ভোট দিলেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৪০ এর দিকে তিনি কেন্দ্রে এসে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি কেন্দ্রের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

নুরুল হক নূর বলেন, ৩৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের ভোট দিলাম ও আমি নিজেই প্রার্থী। আজ জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, এটাই বড় অর্জন। আশা করছি, দিনশেষে জনগণের রায়ই প্রতিফলিত হবে।

এদিকে, পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনে একযোগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬ জন, নারী ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন।

জেলায় স্থায়ী ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫১৩টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ২ হাজার ৮৯০টি ও অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ২৪৬টি। মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৬টি। জেলার ৮টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়নে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে।

 

বিনা কারণে তিন কর্মীকে আটক ও নয়টি ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ভোট কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ভোট শুরু হয়েছে দুই ঘণ্টা হয়েছে। সারা দিনের ভোট বাকি। ফলে এখনই বলা যাবে না।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার তিনজন কর্মীকে বিনা দোষে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নয়টি ভোটকেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি পুলিশ, আর্মি ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার পর আশুগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে আনোয়ার হোসেন মৃধা ও নূর আলমকে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর আছিয়া সফিউদ্দীন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা নাছির মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা তিনজন রুমিন ফারহানার পক্ষের কর্মী।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের আটক করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের মধ্যে। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা গত রোববার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

আজ মহা আনন্দের দিন, নতুন উৎসবের সূচনা হলো। এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

গণভোটে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কার ত্বরান্বিত হবে।

ভোট দেওয়ার পরে মেয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।ছবি: প্রধান উপদেষ্টাের প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ মহা আনন্দের দিন, নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। দেশব্যাপী এই জন্মোৎসব পালন করা হবে।

প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম সুষ্ঠু, সুন্দর, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবো আশা করি তা পূরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইসকাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেয়ার যে ওয়াদা করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেই মনে করছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ওয়াদা করেছিলাম উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেবো। ট্রেনে বাসে লঞ্চে সবাই বাড়ি চলে গেছে ভোট দেয়ার জন্য। সবাই উৎসবে মেতেছে। জাতিকে সুষ্ঠু, সুন্দর, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবার যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, আশা করি তা পূরণ হবে।

ভোটের দিন সামান্য ভুলত্রুটি হলেও দ্রুত তা সমাধান করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, আগের নির্বাচনে ভোটের সময় খালি মাঠ আর কুকুর দেখতাম। এবার তো কোথাও কুকুর দেখা যাচ্ছে না।

সিইসি আরও বলেন, টিভিতে দেখেছি কেন্দ্রের বাইরে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কথা বলেছেন। এই সৌহার্দ্য দেখে ভাল লেগেছে। দাবি করেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মহলও সন্তুষ্ট। আমাদের ১৭ লাখ লোক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি। আশা করি ভবিষ্যতেও সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবো।

'পাতানো নির্বাচন হচ্ছে কি না সেটা জনগণই বলবে। আমরা কারো পক্ষে কিংবা বিপক্ষে নেই। দেশে আর কখনো পাতানো নির্বাচন হবে না। পাতানো নির্বাচন ও ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে,' যোগ করেন এএমএম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় টাকা নিয়ে ধরা খাওয়াটা ভালো, ভোট কেনার প্রয়াস সফল হবে না। কারো কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে থাকলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার পর রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের পর গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ভোট সুষ্ঠু আছে। সবাই ভোট দিতে আসছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।

গণমাধ্যমকে সত্য প্রকাশের অনুরোধও করেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ভোট দিতে কেন্দ্রের সামনে জড়ো হচ্ছেন মানুষ। তার মধ্যে অনেকে কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটাররা কেন্দ্রে হাজির হন। কোথাও কোথাও ভোটারের লাইন দীর্ঘ হতে দেখা গেছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদেরকেও এর মধ্যে ভোট দিতে দেখা গেছে।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবারই দেশজুড়ে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠায় ইসি। সারারাত ধরেই ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার ২৯৯টি আসনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোটের লড়াইয়ে নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। 

মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন এবং এদের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। আর মোট প্রার্থীদের মাঝে মাত্র ৮৩ জন হলেন নারী।

মোট প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন ও স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় ফকিরখালি রোডের মাথায় অবস্থিত এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন।

ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিকূলতাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।বরং জনগণকে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সেনাবাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দল গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে মনে করছেন। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের রায় মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, জয়-পরাজয়ের চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের রায় দিতে পারেন, সেটিই প্রধান বিষয়।

১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে দেখা গেছে। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া জি এম সি ইনিস্টিটিউট কেন্দ্রে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোট দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, আমার এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ইনশাআল্লাহ আমি আশাবাদী। এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবে।

তিনি আরও বলেন, এই আসনে তিনি যতবার নির্বাচন করেছেন, এলাকার মানুষ তাকে বিজয়ী করেছেন। এই এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমার ওপর আস্থা রাখে এবং আমাকে বন্ধু মনে করে। আমার প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে, তাদের প্রতিও আমার একই রকম ভালোবাসা রয়েছে, যোগ করেন তিনি।

কক্সবাজার-১ আসনের এই প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এমন একটি মুহূর্ত এসেছে, যখন সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী এই আসনে নির্বাচন করে তার চেয়েও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) ভোটকেন্দ্রে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।

ভোট দেওয়ার আগে জয়ের ব্যাপারে আশাব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার ৩৫১৭১৮ জন। এ আসনে পুরুষ ভোটারের ১৭৯৬১৬, নারী ভোটার ১৭২০৯৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ৪ জন ভোটার। এই আসনে মোট কেন্দ্র ১২৭ এবং মোট প্রার্থী আট জন। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান রহমান, আমজনতার দল মো. নিলাভ পারভেজ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মোবারক হোসেন, জনতার দল খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ মো. আশফাকুর রহমান, জাতীয় পার্টি মো. সামসুল হক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আহাম্মদ সাজেদুল হক।

 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় দেশের মানুষ। সেই সঙ্গে অনেকেই পরিকল্পনা করছে নিজের ভোট প্রদানের ছবিটা স্মৃতি করে রেখে দেওয়ার। কিন্তু এ বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা ঠিক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এবার ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি।

অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। আর হিজড়া ১২২০ জন।

৩০০ আসনে মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে; ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

 

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশ উপজেলায় নগদ ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকাসহ একটি মাইক্রোবাস (নোয়া) জব্দ করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার আবদুল বারিহাট এলাকা থেকে মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়।

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাত দেড়টার দিকে এসব টাকা ও মাইক্রোবাসটি থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব টাকা ও মাইক্রোবাসটি থানায় হস্তান্তর করতে বলেছেন বলে সেনাবাহিনী জানায়।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জব্দ করা টাকা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকা জব্দ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, একটি মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে ঘিরে রয়েছেন সেনাসদস্যরা। ওই ব্যক্তি টাকা গুনছেন। এ সময় একজন ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। টাকা গুনতে থাকা ব্যক্তি উত্তরে জানান, তিনি মিজানুল হক চৌধুরীর ‘এস্টেট ম্যানেজার’।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মিজানুল হক চৌধুরী নামে এক প্রার্থী রয়েছেন। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে মিজানুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি সাড়া না দেওয়া তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও রাজীব হোসেনকেও ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনিও কল রিসিভ করেননি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে একযোগে এই ভাষণ সম্প্রচার করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ধারণা করা হচ্ছে, ভাষণে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন সিইসি।

এছাড়া, দেশজুড়ে নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ, ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য রাখবেন তিনি। ’

ভাষণে সিইসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি।

এর আগে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সিইসি। সে অনুযায়ী, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ডামাডোলের মাঝে মাতৃবিয়োগের শোক—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী যে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং মানুষ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে কাউকে না কাউকে বিরোধী দলে থাকতে হবে। তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের চেয়ে এককভাবে সরকার গঠন এবং শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে কেউ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে নিয়ে বিএনপির ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্ক—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমি প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষের। যদি এমন কোনো চুক্তি হয় যা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী, তবে সেই দেশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও খুনের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর তার বিচার হবে না, এটা হতে পারে না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত করেছে। এ কারণেই অনেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হয়েছেন, যা কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। দুর্নীতি দমনে বিএনপির ইশতেহারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।