রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের দুটি সিল মারা ব্যালট ও গণভোটের চারটি ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় লোকজন।‌ এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিকেলে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সহায়তায় ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ইউএনওর দাবি, ঘটনাটি কেন্দ্র করে তিনি ‘মবের’ শিকার হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের সিলমারা দুটি ব্যালট ও চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেন স্থানীয় লোকজন। বিদ্যালয়টি রংপুর-৬ আসনের নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র ছিল। এ‌ ঘটনার খোঁজ নিতে দুপুরে পীরগঞ্জের ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও নির্বাচন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গেলে ভোট ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে তাঁদের অবরুদ্ধ করা হয়।

ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না। কারণ, আমাদের কাছে সংরক্ষিত যে ব্যালটগুলো আছে, ওটার সাথে ওই সিলটা, ওই নম্বরটা মিল আছে কি না—এইটা আমরা আসলে ওই সময় দেখতে পাচ্ছিলাম না। ওখানে আসলে মব একটা ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়েছে।‌ ওরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্টেটমেন্ট চাচ্ছিল যে ওখানেই আমাদের বলতে হবে বিষয়গুলো।পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পীরগঞ্জ

ওই এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, ওই বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সিল মারা ব্যালট পায়। তারপর এলাকার লোকজন বিষয়টি দেখলে পীরগঞ্জের ইউএনও পপি খাতুনকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশের সহায়তায় বের হন ইউএনও।

পপি খাতুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এবং এগুলো সিজ (জব্দ) করার জন্য যাই। আসলে সিজ করতে গেলে তো একটা প্রক্রিয়া লাগে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়—কে দেখল, কে পেল। তাই না? সিজার লিস্ট (জব্দ তালিকা) তৈরি করে ওসি সাহেবসহ আমরা যখন ব্যাক করব, তখন আমাদের ওপর মব ভায়োলেন্স করা হয়। ওরা আসলে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখে ওখানে একটা পেশিশক্তির প্রদর্শন বা একটা হুমকি প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদান করে। আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না। কারণ, আমাদের কাছে সংরক্ষিত যে ব্যালটগুলো আছে, ওটার সাথে ওই সিলটা, ওই নম্বরটা মিল আছে কি না—এইটা আমরা আসলে ওই সময় দেখতে পাচ্ছিলাম না। ওখানে আসলে মব একটা ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়েছে।‌ ওরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্টেটমেন্ট চাচ্ছিল যে ওখানেই আমাদের বলতে হবে বিষয়গুলো।’

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ‘ইউএনওর সঙ্গে আমরাও যাই। তিনি বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙেছে।’

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রতীকে সিল মারা দুটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষর আছে। এ ছাড়া গণভোটে  ‘হ্যাঁ’ সিলযুক্ত দুটি ও ‘না’ সিলযুক্ত দুটি ব্যালট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ব্যালটের বিপরীত পাশে নির্বাচন কমিশনের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৯। ভোট গ্রহণ হয়েছে ২ হাজার ৪০২টি। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ হাজার ৫৩২ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ৮৩২। আসনটিতে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন। ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, ‘সব এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট শুরু করি। সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স থেকে ব্যালট গণনা করে ফলাফল শিট তৈরি করা হয়। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নাই।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম বলেন, তাঁরা ঘটনাটি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।

শার্লি বোচওয়ে তার বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে একটি সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণভোটে অবদান রাখা সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আমি আন্তরিকভাবে প্রশংসা করি। বাংলাদেশ ও এর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং পরবর্তী ধাপে সমর্থন জোগাতে কমনওয়েলথের যে অঙ্গীকার, সেটি আমি আবারও পুনর্নিশ্চিত করছি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা অবশিষ্ট দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির মিত্র শরিক দলগুলো আরও তিনটি আসন লাভ করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যান্য শরিকেরা আরও ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের সংসদ একটি বৈচিত্র্যময় এবং প্রতিনিধিত্বশীল রূপ পেতে যাচ্ছে।

 

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে সর্বোচ্চ আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়াবেন।

আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই যুগ পর সরকার গঠন করছে বিএনপি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। দলটি এ ঘোষণা আগেই দিয়েছে।

নির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। আর তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অর্থাৎ বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৭৭ আসন। ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কবে, কারা থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে শপথ হয় বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়ান।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ, সংসদ নেতা নির্বাচন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এরপর সুবিধাজনক একটি সময় নির্ধারণ করা হয় শপথের জন্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।’

তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে যদি বলা হয় আগামীকাল বা পরশু, সেটারও প্রস্তুতি আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সংসদ সদস্যদের শপথ হওয়ার পর জানা যাবে মন্ত্রিসভার শপথ কবে হবে।

শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি আছে বলে জানান তিনি।

দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন জোট-নির্ভর দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব শক্তির প্রদর্শন করেছে।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হওয়া এই নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জোটগত হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭। ফলে সরকার গঠনের পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত।

বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে এবং জোটগতভাবে ২১২টিতে জয় পেয়েছে। তবে ৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।

১৯৯১ সালে ১৮টি, ২০০১ সালে ১৭টি ও ২০০৮ সালে ২টি আসনে জয় পেয়েছিল জামায়াত। সেই তুলনায় এবারের ফল দলটির জন্য ঐতিহাসিক মোড়।

৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।

১৭ বছর পর জামায়াত নিজস্ব নেতৃত্বে জোট গড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সরকার গঠনের মতো আসন না পেলেও জোটগত ৭৭ আসন প্রাপ্তিকে জামায়াতের বড় উত্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

জামায়াতে ইসলামী অতীতে রাজধানী ঢাকায় একটি আসনও পায়নি। কিন্তু এবার ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে—ঢাকা-৪, ৫, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬। এ ছাড়া জোটের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।

এ ছাড়া ঢাকার আরও পাঁচটি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭—এই আসনগুলোতে জামায়াত বা জোটের প্রার্থীরা হেরেছেন কম ভোটের ব্যবধানে। এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে ৩ হাজার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে আর ঢাকা-৭ আসনে ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেক আসনে হারলেও দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে।

ফলাফলের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চল—রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—খুলনা বিভাগ জামায়াতের সাফল্যের প্রধান ক্ষেত্র।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমে সাফল্য

ফলাফলের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চল—রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—খুলনা বিভাগ জামায়াতের সাফল্যের প্রধান ক্ষেত্র। খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে, রংপুরের ৩৩টির মধ্যে ১৬টি এবং রাজশাহীর ৩৯টির মধ্যে ১১টি আসনে জয় পেয়েছে।

সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সব আসনে জয় দলটির আঞ্চলিক প্রভাবের গভীরতা দেখায়। রংপুর ও কুড়িগ্রামের সব আসন জোটগতভাবে জয়ী হওয়াও তাৎপর্যপূর্ণ; এর মধ্যে দুটি আসন পেয়েছে শরিক এনসিপি।

তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি এগিয়ে। ঢাকার ৭০টির মধ্যে ৮টি এবং চট্টগ্রামের ৫৮টির মধ্যে ৩টি আসনে জামায়াত এককভাবে জয় পেয়েছে। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে কেবল জোটের শরিক খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে—এমন আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যকেও কেউ কেউ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন।

ভোট-সমীকরণের রূপান্তর

এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে—এমন আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যকেও কেউ কেউ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন।

গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য বা জোটও একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

এই ক্ষেত্রে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিমের পর্যবেক্ষণে কয়েকটি বিষয় এসেছে। তিনি বলেন, জামায়াত রক্ষণশীল ডানপন্থী পরিচয় থেকে মধ্য-ডানপন্থী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করেছে এবং অনেকাংশে সফল হয়েছে। এত দিন বিএনপিকে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী ঘরানার ভোটগুলোর প্রধান জিম্মাদার মনে করা হতো। এই ক্ষেত্রে জামায়াতকে সহযোগী মনে করা হতো। এবার সেই ভোটে জামায়াত ভাগ বসাতে পেরেছে। এ ছাড়া দলটি নিজেদের ‘ক্ষমতামুখী নয়, পরিবর্তনের পক্ষে’ শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর প্রভাবও তরুণদের মধ্যে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে—সেটাই এ দেশে ঘটেছে। জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে।

তবে জামায়াতের এই উত্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসন ছিল।যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে—সেটাই এ দেশে ঘটেছে। জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে। তাদের দমন-পীড়নমূলক শাসন, বিরোধী দলকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন করতে না দেওয়ার কারণে এটা হয়েছে।

ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়। সানাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলোতেও প্রকাশ করা হয় এটি।

অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা  এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।'

প্রধান বলেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন । আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ  ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার  আপোসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি  অঙ্গীকারের কথা। তাঁদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।'

তিনি উপদেষ্টা বলেন, 'বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।'

প্রফেসর ইউনূস বলেন, 'একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।'

শুভেচ্ছা বার্তার শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশ পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সাফল্য কামনা করে লেখেন, ‘পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক—এই কামনা করি। মহান আল্লাহ্ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় নাহিদ ইসলামের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে এনসিপি যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, 'মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ত্রিশটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তার মধ্যে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র ও সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা— এ এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য কেবল নির্বাচনী পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে অম্লান। আপনার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল সেই আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। আপনার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান জাতির হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে কিছুদিন উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আমার জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে আপনার কর্মদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীরতা, নীতিগত দৃঢ়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে, নতুন ধারণা স্থান পায় এবং প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। আপনার দলের এই অল্প সময়ের সাফল্য প্রমাণ করে—বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষত তরুণ সমাজ, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত। এই আস্থা রক্ষা করা এখন আপনাদের বড় দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকের এই অর্জন আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। সংগ্রামের পথ থেকে রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ— এই রূপান্তর যেন আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০০৮ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য নতুন বেঞ্চমার্ক।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়নে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, সত্যিকার অর্থেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। অপতথ্য নির্বাচনে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে প্রচার করতে পারলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল বলে মনে করে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও এবারের নির্বাচনে তাঁরা প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র চার শতাংশ।

নতুন সরকারকে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে বলেন তিনি।

রংপুর নগরের কেরামতিয়া জামে মসজিদ। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সামনের চা-দোকানে গল্পে মেতেছিলেন মুন্সিপাড়ার সবুজ আলী, মকবুল হোসেন, আহম্মদ মিয়ারা। আলোচনার মূল বিষয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল।
ভোটের ফলাফলে বিস্মিত সবুজ আলী বলেন, ‘ভোটের আগে মনে হচ্ছিল এবার রংপুরে জাতীয় পার্টি হারবে। কিন্তু এ রকম শোচনীয়ভাবে হারবে, এটা চিন্তা ছিল না।’

কথার ফাঁকে সত্তরোর্ধ্ব সবুজ আলী নিজেকে জাতীয় পার্টির একজন কর্মী পরিচয় দেন। বলেন, ‘এরশাদ যখন জেলে, সেই ’৯১ সালে, তখন থেকে লাঙ্গলকে ভোট দেই। এবারও দিছি। কিন্তু জাতীয় পার্টিক নিয়া রংপুরের মানুষের আর ওই আবেগ নাই। মানুষ এবার মুখ ফিরি দিছে।’

রংপুরের ৬টি আসনে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যেমন আওয়ামী লীগ নাই হয়ে গেছে, তেমনি জাতীয় পার্টিকেও রংপুরের মানুষ প্রত্যাখান করেছেন।আখতার হোসেন, এনসিপির সদস্যসচিব
 

সবুজ আলীর এই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে। জাতীয় পার্টির ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগে কোনো আসন পায়নি জাতীয় পার্টি। এমনকি রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনেও দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের হেরেছেন।

বিভাগের ৮ জেলায় সংসদীয় আসন ৩৩টি। এর মধ্যে ১৮টি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। জামায়াতের প্রার্থীরা ১৬টিতে এবং ২টিতে জয় পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা। বিএনপি পেয়েছে ১৪টি আসন। একটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী।

জাপার প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরের মানুষ। শহরে তাঁর পুরোনো বাড়ি রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি জেল থেকে প্রার্থী হয়ে পাঁচটি আসনে দাঁড়িয়ে সব কটিতেই জিতেছিলেন। সেই নির্বাচনে রংপুর বিভাগে ১৭টি আসন জিতে জাপা। ১৯৯১ সালের পর আরও তিনটি নির্বাচনে রংপুর বিভাগে ভালো ফল করে জাপা। ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩টি আসন পেয়েছিল জাপা।

রংপুর-৪ আসনের জয় পাওয়া এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, রংপুরের ৬টি আসনে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যেমন আওয়ামী লীগ নাই হয়ে গেছে, তেমনি জাতীয় পার্টিকেও রংপুরের মানুষ প্রত্যাখান করেছেন।

জামায়াতের এমন বিজয়ে বিস্ময়

এবার বিভাগে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতের আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মাত্র একটিতে করে জয়লাভ করেছিল। ২০০১ সালে বিভাগে জামায়াতের আসন বেড়ে চারটি হলেও ২০০৮ সালে এসে একটি আসনও পায়নি জামায়াত। ১৮ বছর পর এই অঞ্চলে জামায়াতের এমন বিজয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আনাম বলেন, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিকাশ নেই। তারা কী করতে চায়, তার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তারা রংপুর অঞ্চলের মানুষের ইমোশন (আবেগ) নিয়ে রাজনীতি করেছে। কিন্তু মানুষ এবার ‘হামার ছওয়াল ইমোশনে’ সাড়া দেয়নি। জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখান করা ‘সংক্ষুব্ধ’ ভোটারদের জামায়াত কাজে লাগাতে পেরেছে বলেই মনে করেন তিনি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ, রংপুরের মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলায় ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হয়ে আসছিল জামায়াত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব আসনে ঘিরে জোরালো তৎপরতা শুরু করে দলটি। ভোঠের মাঠে তাদের এমন সাংগঠনিক দক্ষতা ও কৌশল এবার ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এ টি এম আজম খান বলেন, এর আগে এই এলাকায় জামায়াত-বিএনপির প্রভাব ছিল না। যার কারণে মানুষ নতুনটাকে বেছে নিয়েছে।

আগামী দিনে ভালো করতে চায় বিএনপি

অতীতের তুলনায় এবার রংপুরে বিএনপির আসনও বেড়েছে। ১৯৯১ সালে বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ১টি ও ১৯৯৬ সালে ৩টি আসন পায় বিএনপি। ২০০১ সালে বিএনপি ৯টি আসন পেলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলটিকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিহাটের ১৪টি আসন পায়। দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ধরলে এই ৪ জেলার ১৫টি আসনেই তাদের দখলে। কিন্তু বিভাগীয় শহর রংপুরসহ কুড়িগ্রাম, নীলফামারীতে কোনো আসন পায়নি বিএনপি। গাইবান্ধার ৫টি আসনের মধ্যে শুধু গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম কায়সার জয়লাভ করেন।

বিএনপি রংপুর, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে রংপুর বিভাগে বিএনপির আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, তৃণমূল কর্মীদের অবম্যূল্যায়ন না করার কারণে সেই সুযোগ ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি।
রংপুরের একজন বিএনপি নেতা বলেন, রংপুর বিভাগীয় শহর হলেও বিএনপি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রংপুরকে নেতৃত্ব দেওয়ার লোক নগন্য। আবার যাঁরা আছেন, তাঁরাও রংপুর থেকে ভোট করেননি। স্থানীয় নেতাদের ওপর ভোটারদের আস্থার সংকট ছিল। যে সংকট ঠাকুরগাঁও বা লালমনিরহাটে ছিল না।

তবে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আবদুল খালেক বলেন, ‘প্রতিটি জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। অনেক জায়গায় বিএনপি-জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোট কাটাকাটি করেছেন, মাঝখান দিয়ে জামায়াত প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তবে বিএনপির যাঁরা হেরেছেন, খুব অল্প ভোটে হেরেছেন। এটা কোনো সমস্যা নয়। সাংগঠনিকভাবে কাজ করলে আগামী দিনে এগুলো ভালো হবে।’

ভুলত্রুটি খুঁজছে জাতীয় পার্টি

রংপুর বিভাগে নীলফামারী সদর আসন বাদ দিয়ে ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। কোনোটিতে জাতীয় পার্টি জিতেনি। দলের সাধারণ সম্পাদক গাইবান্ধার দুটি আসনে ভোট করলেও একটিতে তৃতীয় হয়েছেন, আরেকটিতে জামানত হারান।
রংপুরে জাপা নেতা-কর্মীদের ধারণা ছিল, দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের অন্তত তাঁর আসনে জিতবেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন এ আসন ধরে রাখার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে। এর পর থেকে রংপুরের মানুষের আলোচনায় জি এম কাদের।

জাপা নেতারা অবশ্য দলের চেয়ারম্যানের হারকে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা এটিকে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ হিসেবে দেখছেন। জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন বলেন, ‘আমরা গণসংযোগ করেছি। প্রতিটা বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। সবাই স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয় পার্টির পক্ষে সাড়া দিছে। এখানে জাতীয় পার্টির এই ধরনের রেজাল্ট হওয়ার কথা না। এটা “সূক্ষ্ম কারচুপি” ছাড়া আর কিছু হয়নি।’

জাপা চেয়ারম্যানের গতকাল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের বিফ্রিং করার কথা থাকলেও করেননি। সারা দিন তাঁর রংপুরের বাসভবন দ্য স্কাই ভিউতে ছিলেন।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন চৌধুরী বলেন, আজ সকাল থেকে জাতীয় পার্টি রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকার নেতা–কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। বেলা দুইটার পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে চলে যান। জি এম কাদের ভোট নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, তা জানতে চাইলে মিলন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বলেছেন, সবাই মিলে সংগঠন ঠিক করো। ভুলক্রটি কোথায়, কী কারণে এমন হলো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয়লাভ করেছেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তান। তারা তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গহিরা গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সচরাচর এমন দৃশ্য দেখা যায় না।

এই তিন সাংসদ হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে তাদের এই বিজয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই আসনে তিনি মোট ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। এছাড়া এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু ২২ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে পাশের আসন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীরই ভাতিজা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। চাচা-ভাতিজার এই যুগপৎ বিজয় গহিরা গ্রামের মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনেও ধানের শীষের জয়জয়কার। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গহিরা গ্রামের আরেক সন্তান সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।আগামী ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। পূর্ববর্তী সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর এই আইনি প্রক্রিয়ার কথা তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তখন আইন উপদেষ্টা বলেছিলেন, আমাদের আইনে আছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন হবে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে। আরও একটি বিধান রয়েছে- তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। আগামীর বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ তথ্য জানান।

এ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্রনেতারা। একইসঙ্গে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করা বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও অভিনন্দন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে কিছু আসনে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। প্রাপ্ত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। এবার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট ঘোষণা করলো ইসি।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। দলটির মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি করে আসন পেয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। দলটির নির্বাচনী জোটের সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। আরেক জোটসঙ্গী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২টি আসন, খেলাফত মজলিশ পেয়েছে ১টি আসন।

এছাড়াও, ইসলামী আন্দোলন ১টি এবং ৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে।