• Colors: Purple Color

রাজনৈতিক উত্তাপ এবং বিরোধী দলের সংসদ কক্ষ ত্যাগের (ওয়াক আউট) মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের পর সংসদ অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব ও সমর্থনের প্রক্রিয়া শেষ হলে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালেই বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ শেষ করেন। ভাষণ শেষে তিনি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং ডিজিটাল স্ক্রিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সমাপ্ত হওয়ার পর নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন আগামী রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। তবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার আগে তিনি চলতি অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ক্রমানুসারে এই সদস্যরা সংসদ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় রয়েছেন:মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (এমপি, ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (এমপি, ঢাকা-২), ড. আব্দুল মইন খান (এমপি, নরসিংদী-১), মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী (এমপি, কুমিল্লা-৬) এবং এ টি এম আজহারুল ইসলাম (এমপি, রংপুর-২)।

 

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঁদপুর রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্য কর্তৃক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারী ও শিশুর ওপর নিপীড়ন, বসতভিটা ভাঙচুর, গড়গড়িয়ায়প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করে কৃত্রিম লেক খনন এবং সিলেটের খাদিমনগরে ১৫টি গারো পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে আদিবাসীছাত্র, যুব ও নারী সংগঠনসমূহেরব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা বাঙালিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরে এসেও তাঁদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীরা তাঁদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে এলেও সরকারের পক্ষথেকে তাঁদের প্রতি আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ পাওয়া যায়নি।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে অর্থপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, আগামী দিনে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নারী সম্পাদক অনন্যা দ্রং, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিলসহ অনেকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতারা সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন।

সমাবেশ শেষে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সিরাজগঞ্জে রেলসেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে সেতুর নিচে পড়ে দুই খালাতো ভাই নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা রেলসেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামের ফয়সাল কবির (২৫) ও একই এলাকার সামির হোসেন (২৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই ভাই বেলকুচি উপজেলা থেকে ঘাটিনা রেলসেতু এলাকায় শিমুল ফুল দেখতে এসেছিলেন। এ সময় তাঁরা ওই সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। বেলা আড়াইটার দিকে পঞ্চগড় থেকে আসা ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ধাক্কা দিলে দুই ভাই ছিটকে সেতুর নিচে পড়েন। সামির হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়সাল কবিরকে উদ্ধার করে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সন্ধ্যায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। নতুন নোট পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি বেআইনি হলেও বিক্রি হতে দেখা যায়। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে ও গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের সামনের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে নতুন নোট। এই দুই জায়গায় ৮০টির বেশি নোট ও ছেঁড়া টাকার বেচাকেনার অস্থায়ী দোকান আছে। এ বছর দুই টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা।

তবে এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ নাগরিকদের জন্য টাকার নতুন নোট ছাড়েনি বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন টাকার নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন নোট কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারাও বলছেন, ব্যাংকে গিয়েও নতুন নোট পাননি তাঁরা। নতুন নোটের ব্যবসায়ীরা জানান, চার-পাঁচ দিন ধরে নতুন নোটের বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে। এবার আগে থেকে ছুটি শুরু হয়েছে বলে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক বেশি।

নতুন নোটের দরদাম

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মতিঝিল ও গুলিস্তান ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নোটের ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছেন সেভাবে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। আর দামও গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তবে নতুন নোটের মাধ্যমে বেশি চাহিদা ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটের বান্ডিলের। পাশাপাশি বাজারে দেখা মিলছে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নকশার নোট। অধিকাংশ ক্রেতা নতুন নকশার নোটের জন্য কিছুটা বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন। ক্রেতাদেরও নতুন নকশার নোটের ওপর চাহিদা বেশি।

এই দুই নতুন নোটের বাজারে দুই ধরনের দাম চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে দাম কিছুটা কম। এই দুই বাজারে পুরোনো নকশার ২ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তি দামে। ১০ টাকার পুরোনো নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর নতুন নকশার নোটে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকার নতুন নকশার নোট ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বটতলায় কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আহমেদ সজীবের সঙ্গে। ২০ টাকার এক বান্ডিল নতুন নোট কিনতে তাঁকে বাড়তি গুনতে হয়েছে ৩৩০ টাকা। আহমেদ সজীব বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পাবনার সাঁথিয়ায় যাব। বাড়ির ছোট ভাইসহ শিশুরা আছে। মূলত তাদের জন্যই এই নোট কেনা। সকালে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটের সামনে আসি।’

আর ৫০ টাকার পুরোনো নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে বান্ডিলপ্রতি ২০০ টাকার। নতুন নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ১০০ টাকার নতুন ও পুরোনো নকশার নতুন নোটের বান্ডিল ৩০০ থেকে ৪০০ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকা নোটের বান্ডিলপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও বিক্রেতাভেদে দাম কিছুটা কমবেশি রয়েছে। অনেক ক্রেতাকে আবার দরদাম করে বান্ডিলপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমাতে দেখা গেছে।

মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের গেটের সামনে নতুন নোট বিক্রির অস্থায়ী দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়
মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের গেটের সামনে নতুন নোট বিক্রির অস্থায়ী দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়
 

গুলিস্তানে প্রথম নতুন নোট কিনতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী দুই বন্ধু সাকিব শাহরিয়ার ও আবু তোরাব। তাঁরা বলেন, ‘গ্রামে যাব তাই ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে এসেছি। বান্ডিলপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।’

গুলিস্তানে নতুন নোট বিক্রেতা সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, এখন দাম কিছুটা কম আছে। তবে এবার বাজারে নতুন নোট কম এসেছে। তাই কয়েক দিন পর চাহিদা আরও বাড়লে দামও বেড়ে যেতে পারে।

নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি বেআইনি

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা যদি এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি উৎসবে নতুন নোটের চাহিদা থাকে। তবে নতুন নোটের আকাঙ্ক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা ক্যাশলেস বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। নতুন নোট কোনো পণ্য নয়, যে তা বিক্রি হবে। নতুন পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।’ তিনি আরও বলেন, কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত থাকেন তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যদি নতুন নোট বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগাম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে আজ। তবে শুক্রবার (১২ মার্চ) প্রথম দিনে ঘরমুখী মানুষের তেমন ভিড় নেই রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে। ফলে ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরতে পারছে মানুষ। 

এদিন ভোর ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস। সোয়া ৬টায় কক্সবাজার অভিমুখী পর্যটক এক্সপ্রেস এবং ভোর সাড়ে ৬টায় সিলেট অভিমুখী পারাবত এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়।

সূচি অনুযায়ী অন্যান্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে কমলাপুর থেকে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় নেই। টিকিট ছাড়া প্লাটফর্মে কেউ ঢুকতে না পারায় নেই বাড়তি যাত্রীচাপ।

নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় খুশি যাত্রীরা। তারা জানান, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার ঈদ যাত্রার শুরুটা সুন্দর হয়েছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টিকিটবিহীন যাত্রী এড়াতে প্ল্যাটফর্মের বাইরে বাঁশের বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে গত ৩ মার্চ থেকে যাত্রীদের মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— ঈদযাত্রার ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে আজ থেকে। চলবে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত।

মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি কনস্ট্রাকশন সাইটের গেস্টহাউসে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন আরও দুজন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, হঠাৎ বিস্ফোরণের পর গেস্টহাউসের ভেতর থেকে সাত বাংলাদেশিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের নাম তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার বলে জানা গেছে। এছাড়া, গুরুতর দগ্ধ অপর দুইজনও বাংলাদেশি।  তাদের নাম জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই বিস্ফোরণের ফলে গেস্টহাউসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ জানান, আহত দুজনের মধ্যে একজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং অপরজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিতে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব