• Colors: Purple Color

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে তিনি শহীদের কবরের পাশে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। তিনি শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এর আগে শনিবার বিকেলে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক ঘুরে দেখে চকরিয়া মালুমঘাট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কমসূচির শুভ উদ্বোধন শেষে পেকুয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মো. ওয়াসিম চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত। তার আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়েছেন মো. সফিক (৩৮) নামের যুবদলের স্থানীয় একজন নেতা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মারধরের শিকার ওই নারীর স্বামী যুবদল নেতার মাছের খামারে কাজ করেন। ওই নারীর অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস ধরে তাঁর স্বামীর বেতন বকেয়া রেখেছেন যুবদল নেতা। পবিত্র ঈদুল আজহায়ও বেতন না পাওয়ায় তাঁদের দিন কষ্টে কেটেছে। এরপর থেকে তাঁর স্বামী যুবদল নেতার খামারের কাজে যান না। এ ঘটনায় ওই যুবদল নেতা তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ওই নারী আরও বলেন, আজ সকালে বাড়ির পাশে নদীতে তাঁর স্বামী জাল বসান। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ওই জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় সফিক তাঁর স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তাঁর স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও পেটানো হয়। যুবদল নেতা সফিক তাঁর খামারে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে অভিযুক্ত সফিক স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে নারীকে পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী তাঁর খামারের মাছ চুরি করেন। আজ সকালে জাল নিয়ে আসার পথে ওই নারী ও তাঁর স্বামী তাঁর ওপর আক্রমণ করেন। তাঁরা তাঁর নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও দেখে এরই মধ্যে অভিযুক্ত সফিককে ধরতে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি ঢুকেছে এবং ক্রমান্বয়ে পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধ ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও কোথাও বাঁধের পাশে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিপাত কমে গেলে ঢলের পানি নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত বাঁধ ভাঙার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও উন্মুক্ত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় সরকার। ‘স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়ন’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনার বার্তা দিয়েছে ঢাকা।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে সরকারের এমন ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি (বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির পথনকশা)’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে মূলত বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনের পাশাপাশি তিনটি আলাদা কর্ম–অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও চ্যালেঞ্জকে নতুন সুযোগে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তাঁর মতে, বর্তমান জ্বালানিসংকটের ব্যাপ্তি ১৯৭০-এর দশকের দুই দফা তেলসংকটের চেয়েও বড় হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশককে অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উন্নয়নের একটি ‘হারানো দশক’ হিসেবে পরিণত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানিসংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির এই উন্নয়নের মুখে আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন বা রূপকল্প রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করতে চান। এ ক্ষেত্রে তিনটি মূল লক্ষ্য হলো—স্থিতিশীলতা আনা, সংস্কার করা এবং উন্নয়ন সাধন করা। আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতির কাজের ক্ষেত্রে তাঁর এই রূপকল্পকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।’

খলিলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে প্রথম প্রয়োজন আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। দেশীয় ব্যবসায়ী, নাগরিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৩ জুন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৩ জুন, ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার মাত্র ১০০ দিনের কিছু বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছে। তবে আমাদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সুদৃঢ়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমরা বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর, স্থিতিশীল ও শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে চাই, যেখানে প্রতে৵ক নাগরিক সমৃদ্ধি ও মর্যাদার ন্যায্য অধিকার ভোগ করবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, আমরা সব সময় নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার কথা বলেছি। বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোনো দেশের বিনিয়োগকারীর কাছে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তারা শুধু ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি; বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তেছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে জোর

সম্মেলনের প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন (ডানে)। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম (বাঁয়ে) সঞ্চালনা করেন। ১৩ জুন
সম্মেলনের প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন (ডানে)। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম (বাঁয়ে) সঞ্চালনা করেন। ১৩ জুনছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

সম্মেলনের প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বিনিয়োগ ও অর্থনীতির সঙ্গে কূটনীতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এ সময় তাঁরা সংযুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ও তাদের যেকোনো সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাজারে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কানেক্টিভিটি বাড়াতে কাজ করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বড় বিনিয়োগ পুঁজিবাজার থেকে

দেশের আর্থিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ এখন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে আসা উচিত।

সম্মেলনের দ্বিতীয় কর্ম–অধিবেশনে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন (ইকু৵ইটি) ও ঋণ সংগ্রহের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন এবং ঋণ গ্রহণ করা উচিত।’ বিদ্যমান আর্থিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারি আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থায়নের প্রবাহে পরিবর্তন এসেছে এবং বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে ঋণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের খরচ বাড়ছে। এমনকি যেসব বহুপক্ষীয় ঋণদাতা আগে ১ শতাংশের নিচে ঋণ দিত, তাদের সুদের হারও এখন ১ থেকে ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।’

ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী একটি নতুন ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ব্যবসাসংক্রান্ত নিয়মকানুন সহজীকরণ বা ‘ডি-রেগুলেশন’ কার্যক্রম তদারকি করতে সরকার একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপনের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আমি দেশের সকলের কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান। 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণ মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দেই একটি পরিষ্কার একটি দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিস্কার পরিবেশে বাস করবে।’

শনিবার (১৩ জুন) বেলা তিনটায় ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসাধারণের প্রতি এই আহ্ববান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি শুরু করব এবং আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত আল্লাহর রহমতে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।’

সকলের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত পরিষ্কার বিশুদ্ধ একটি বাতাসে রূপান্তর করতে পারব।’

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ করে এখানে খুব সম্ভবত বিভিন্ন জেলার প্রশাসকবৃন্দ সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সকলের কাছে আমার নির্দেশনা থাকবে যে- আপনার নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ঘোষণা করছি। আমরা শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমরা আশা করি আমাদের ইচ্ছা আমাদের প্রত্যাশা যে আমরা আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

 

রাউজান, চট্টগ্রাম

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব