• Colors: Purple Color

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) সই হয়। এই চুক্তি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। রিট আবেদনকারী হলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম। তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

চুক্তিটি সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস বলেন, আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধরার মতো ব্যবস্থা। কেননা, চুক্তিতে বাংলাদেশের ১৩১টি বিষয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ৬টি বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। চুক্তিটি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্যই নয়; বরং বৃহত্তর জনসাধারণের জন্যও ক্ষতিকর। চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি আগামীকাল উত্থাপন করা হবে।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় চুক্তির বিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক লিখিত নোটিফিকেশন ইস্যু এবং আদান–প্রদান কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। রিটে পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এরপর আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোও একইভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঈদুল ফিতরের সময় দুই-তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা মোটামুটিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা হয়তো সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারিনি। এবার আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে চাই।

রবিউল আলম রবি বলেন, বাংলাদেশে সড়ক প্রশস্ত করার চাহিদা রয়েছে। গত দুই মাসে সংসদ সদস্যদের দেওয়া ডিও অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু বাজেটে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে—এটা আমার ধারণা, অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলছি। এ বছরের বাজেটে কী পাওয়া যাবে, তা এখনো জানা নেই। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সাংবাদিকরা মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা আমাদের রয়েছে। তবে আমাদের মহাসড়কগুলো এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। আমরা এখনো থ্রি-হুইলারের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ হলো, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোট সংযোগ সড়ক রয়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন নিয়ন্ত্রণ কিছুটা বেশি করা গেছে। পর্যায়ক্রমে এটি আরও নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে থ্রি-হুইলার চলছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি খুবই বিপজ্জনক এবং একটি খারাপ প্রবণতা। এটি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের আরও তৎপর হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্রিয় করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা খেলতে গিয়ে ট্রেনের কাচে ঢিল ছোড়ে। এসব এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে কাজ চলছে।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি অপরাধ। যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে আনা হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন, যানজট এড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার চ্যালেঞ্জ আরও বেশি হবে, কারণ বিপুল সংখ্যক গরুবাহী ট্রাক চলাচল করবে। গতবার প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা থেকে বাইরে গিয়েছিল, এবার তা আড়াই কোটির কাছাকাছি হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় এক কোটি পশু পরিবহন করা হবে। ফলে যানবাহনের চাপ অনেক বাড়বে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও সর্বোচ্চ সফলতা অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জামায়াত জোটের প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান আজ সোমবার বলেন, নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত কমিশন অনুমোদন করেছে। যেকোনো সময় তা সরকারিভাবে প্রকাশ করা হবে।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে মোট ৫০টি। এর মধ্যে ৪৯ জন সদস্য গতকাল রোববার শপথ নিয়েছেন। বর্তমান সংসদের আসনবিন্যাস অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোট ১৩টি নারী আসন পায়। জোটের ১২ জন প্রার্থী গতকাল শপথ নিলেও বাকি একটি আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জোটের অন্যতম প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন করায় শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে এবং বাছাই শেষে তা বৈধ বলে গণ্য হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল ইসি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর এটি। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) পলিটিক্যাল ব্যুরোর পররাষ্ট্রবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি ৫ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত চীন সফর করবেন।

বিএনপি সরকার গঠনের পর চীনে এটি দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের সফর। এর আগে, ২০ এপ্রিল চীন সফরে যান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর কয়েক দিন আগে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে বিএনপির ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশটির সফরে যান।

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রিসভার অনেক তারকা প্রার্থী হেরেছেন। তৃণমূল প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হেরেছেন। তিনি হেরেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে মুখোমুখি হয়েছিলেন। শুভেন্দু ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতছেন। ভবানীপুর ছাড়া নন্দীগ্রাম আসনেও জিতেছেন বিজেপির এ নেতা।

মমতার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তারকা প্রার্থী ও মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন। আনন্দবাজার অনলাইনের তথ্যমতে তৃণমূলের কয়েকজন তারকা প্রার্থী বিজেপির কোন প্রার্থীর কাছে কত ভোটে হেরেছেন, তা তুলে ধরা হলো।

সুজিত বসু: বিধাননগর আসন থেকে নির্বাচন করা তৃণমূলের সুজিত বসুর দিকে নজর ছিল সবার। তৃণমূলের এ ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। মমতার বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সুজিতের হার হয়েছে বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য: রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এ বারও দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তিনি বিজেপির সৌরভ সিকদারের কাছে ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। ২০১১ সালেই দমদম উত্তরের বিধায়ক হয়েছিলেন চন্দ্রিমা। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের ভোটে আবার দমদম উত্তরে লড়েন এবং জেতেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের কাছে হেরেছেন ১৬ হাজার ৯৫৬ ভোটে। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে বরাহনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ চক্রবর্তী: ব্যারাকপুর থেকে হেরে গেছেন তৃণমূলের আরেক তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। এ চলচ্চিত্র পরিচালক দ্বিতীয়বারের মতো ব্যারাকপুরের ভোটের মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি ভোটে তিনি বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে হেরে যান।

দেবাশিস কুমার: রাসবিহারী আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস কুমার বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হেরে গেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন তিনি। রাসবিহারী কেন্দ্র মানেই অভিজাত, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির বসতি।

অরূপ বিশ্বাস: তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়েছিলেন টালিগঞ্জ আসন থেকে। বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারীর কাছে তিনি ৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গেছেন।

শশী পাঁজা: তৃণমূলের হয়ে এ বারও শ্যামপুকুর আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে শশীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পূর্ণিমা। শশী পাঁজা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজার পুত্রবধূ।

রত্না চট্টোপাধ্যায়: বেহালা পশ্চিম আসন থেকে এবার তৃণমূলের হয়ে নির্বাচন করেছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। ২৪ হাজার ৬৯৯ ভোটে তিনি বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ’র কাছে হেরেছেন। এর আগে ২০২১ সালে ওই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন রত্না।

অতীন ঘোষ: কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসন থেকে তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষকে এবারও প্রার্থী করেছিলেন। বিজেপির প্রার্থী রিতেশ তিওয়ারির কাছে তিনি ১ হাজার ৬৫১ ভোটে হেরেছেন।

শ্রেয়া পাণ্ডে: মানিকতলায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তাপস রায়ের কাছে তিনি ১৫ হাজার ৬৪৪ ভোটে হেরেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক সাধন পাণ্ডে মারা যান। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি। এ বারের নির্বাচনে কন্যা শ্রেয়াকে প্রার্থী করে তৃণমূল।

ব্রাত্য বসু: দমদমেও তৃণমূলের নক্ষত্রপতন হয়েছে। এই আসনে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী ব্রাত্য বসু বিজেপির অরিজিৎ বক্সীর কাছে ২৫ হাজার ২৭৩ ভোটে হেরে গেছেন। তবে ব্রাত্য বসু তুলনামূলক ভাবে সহজ জিতবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

পরেশচন্দ্র অধিকারী: কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে তৃণমূলের শক্তিশালী প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী বিজেপির দধিরাম রায়ের কাছে ২৯ হাজার ৫৮৪ ভোটে হেরেছেন। পরেশচন্দ্রের জন্য এবারের লড়াই সহজ ছিল না। রাজ্যের স্কুলে শিক্ষক বা এসএসসি নিয়োগ মামলায় দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরিও গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরেশচন্দ্রের ভোটের ফলাফলে এ ঘটনা প্রভাব রেখেছে।

উদয়ন গুহ: দিনহাটা থেকে তৃণমূলের তিন বারের বিধায়ক উদয়ন গুহও হেরে গেছেন। কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের কাছে তিনি ১৭ হাজার ৪৪৭ ভোটে হেরে যান।

স্বপ্না বর্মণ: রাজগঞ্জে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল সোনাজয়ী সাবেক অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মণকে। বিজেপির দীনেশ সরকারের কাছে তিনি ২১ হাজার ৪৭৭ ভোটে হেরেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ির এই আসনে জিতেছিল তৃণমূল। তখন তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন খগেশ্বর রায়। এ বার তাঁর জায়গায় এই আসনে স্বপ্নাকে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল।

গৌতম দেব: শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব তৃণমূলের টিকিটে শিলিগুড়ি আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে নেমেছিলেন। কিন্তু বিজেপির ‘ভরসার মুখ’ শঙ্কর ঘোষের কাছে তিনি ৭৩ হাজার ১৯২ ভোটে হেরে গেছেন। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনেও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে বিজেপির প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন গৌতম।

অর্পিতা ঘোষ:  দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আসন থেকে এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন নাট্যকর্মী ও সাবেক সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। বিজেপির বিদ্যুৎকুমার রায়ের কাছে তিনি ৪৭ হাজার ৫৭৬ ভোটে হেরেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে এবার ২ দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট হয় ১৫২ আসনে। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় ১৪২টি আসনে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। ভোট গণনার ফলাফলের যে ধারা, সন্ধ্যা পর্যন্ত যা বিচ্যুতিহীন, তাতে স্পষ্ট, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি।

আজ রাত একটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩ (একটি আসনে ভোট গ্রহণ নতুন করে হবে) আসনের ফলাফলে বিজেপি ২০৬টিতে হয় জয়ী ঘোষিত, নয়তো এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এমন আসনসংখ্যা ৮০-এর আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় তৃণমূল। ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাম ফ্রন্টকে হারিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতার দল তৃণমূল। এবার সেখানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।

সরকার সামরিক বাহিনীকে আরও জনমুখী করতে দায়বদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থে ভবিষ্যতে সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার (৫ মে) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ড. শামছুল ইসলাম বলেন, বিগত নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জেলা প্রশাসকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ডিসিদের।

গত ৩ মে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠ প্রশাসনে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে এবারের সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ৬ মে শেষ হওয়া এ সম্মেলনে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক অংশ নিচ্ছেন।

ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব সম্মেলনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ই-গভর্ন্যান্স এবারের সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে ডিসিদের মতবিনিময় ও কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব