প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। দেখা গেছে ভুল পাসের ছড়াছড়ি। ম্যাচের একেবারের শুরুর দিকে একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আনিকা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর প্রথমার্ধের বাকি গল্পটা ভারতের।
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে গোল করেন পিয়ারি। এর ৯ মিনিট আগে তিনি একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। নইলে বাংলাদেশ ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকতে পারত!
গোল...
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ভারতের হয়ে প্রথম গোল করলেন পিয়ারি।
নিজের শরীরটাকে চমৎকারভাবে ঘুরিয়ে পোস্টের কোনা দিয়ে বলটিকে নিখুঁতভাবে জালে জড়িয়েছেন তিনি। ভারতের হয়ে এটি তাঁর ২০তম গোল।
দ্বিতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচে আজ রাত আটটায় মাঠে নামছে গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সাফ নারী ফুটবলের বড় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। আর ভারতের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ পিটার বাটলার।
এই প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার। কদিন আগেও তিনি ছিলেন দলের অধিনায়ক। তাঁর জায়গায় রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুরমা জান্নাতকে।
অন্যদিকে চোটের কারণে আগের ম্যাচ মিস করা মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা সুস্থ হয়ে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে একাদশে ফিরেছেন।
তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে দল থেকে বাদ পড়েছেন উমেলাহ মারমা। তবে শিউলি আজিমকে আজও শুরুর একাদশের বাইরেই রেখেছেন কোচ বাটলার। গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই কৌশল ও একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে সর্বশেষ খেলা নিজেদের সেরা তারকা সাবিত্রা ভান্ডারি এই টুর্নামেন্টে আসেননি চোটের কারণে। তাঁকে ছাড়াই প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা।
আজ দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে নেপাল। ফলে টানা দুই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই অষ্টম নারী সাফের সেমিফাইনালে পা রাখল হিমালয়ের দেশটি।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভুটান। শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে এক জয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আর টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা।
এদিকে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে আজই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সেরা কারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে আজ রাত আটটায় মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। সমীকরণের হিসাবে, ম্যাচটি ড্র হলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ভারত হবে গ্রুপ সেরা, আর রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ রানার্সআপ হলে সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হতে হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল নেপালের। সাফের গত ৭ আসরের মধ্যে ৬ বারই ফাইনাল খেলা নেপাল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
অবশ্য সাফের গত দুই আসরে এই নেপালকে তাদেরই ঘরের মাঠে স্তব্ধ করে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতি আছে বাংলাদেশের!
আসন্ন সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ম্যাচটি হয়তো কেবলই নিয়ম রক্ষার, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে লড়াই বলে কথা। জয় দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
রবিবার (৩১ মে) হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আসরের শেষ চারে জায়গা করে নেয় মারিয়ারা।
ভারতের গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি শুরু হবে।
ম্যাচকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের নিবিড় প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন সাবিনা-রূপনারা। সকালে গোয়ার ডন বস্কো ট্রেনিং গ্রাউন্ডে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়েছে দল। সেখানে ওয়ার্ম-আপ ও পাসিং ড্রিলের পর, পজেশন হোল্ড এবং ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ম্যাচ সিনারিও প্র্যাকটিস করেন ফুটবলাররা।
অনুশীলনের শেষভাগে এসে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের মূল মনোযোগ ছিল ট্যাকটিক্যাল পজিশনিং ও সেট-পিস কৌশলের ওপর। স্বস্তির খবর হচ্ছে, স্কোয়াডের সবাই পুরোপুরি ফিট আছেন। ফলে ভারতের বিপক্ষে আজ পূর্ণশক্তির দলই মাঠে নামাতে পারছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার বলেন, আমরা এখন একটি সম্পূর্ণ আলাদা দল এবং অনেক ভালো ফুটবল খেলছি। আমাদের দলে কিছু প্রকৃত ম্যাচ উইনার আছে। ভারতের যদি আক্রমণ করার মানসিকতা থাকে, তবে আমাদেরও তা আছে। আমরা যেমন প্রয়োজনবোধে রক্ষণভাগ সামলাতে জানি, তেমনি গোল করার সুযোগও তৈরি করতে পারি।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালও যে ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে হতে পারে, সেটি এত দিনে হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন অনেকে। সেই ২০১৬ সালে মিলানে রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেতিকো মাদ্রিদের ফাইনাল অতিরিক্ত আধা ঘণ্টা পেরিয়ে টাইব্রেকারে গিয়ে শেষ হয়েছিল।
এক দশক পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আজ আবারও দেখল ৯০ মিনিট পার হতে, দেখল টাইব্রেকারও। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি।
টাইব্রেকারে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি গড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।
শিরোপা ধরে রাখতে বেশ ঘামই ঝরাতে হয়েছে পিএসজিকে। ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলকিপার মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।
কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনালএএফপি
পিএসজি এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল গত বছরের ফাইনাল শুরু করা ১০ জন নিয়েই। যে একটি পরিবর্তন, সেটি এই সাপোনভই। এক বছর আগে এই মঞ্চে শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি; বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পিএসজির লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে ফেরে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা খিচা কাভারাস্কেইয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি (১-১)।
পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলেএএফপি
এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাস্কেইয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গিওকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।
আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরপরই পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন দাভিড রায়া। ৪ শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মাগালাইসের বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজি শিবিরে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকা পিএসজি এবার টানা ট্রফি জিতে নাম লেখাল রিয়ালেরই পাশে।
পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ মাইলফলকের। এক হাজারতম ওয়ানডে বলে কথা! এই মাইলফলকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।
৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২০১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাবর আজম ও গাজি ঘুরির ফিফটিতে ৪২.৩ ওভারে এই রান তাড়া করেছে পাকিস্তান।
যদিও এ দুজন নয়, হাজারতম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মূল নায়ক অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস। রাওয়ালপিন্ডিতে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে যা প্রথম। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রানে তিনি আউট করেছেন জশ ইংলিশ, মারনাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসকে।
৫ উইকেট নিয়েছেন মিনহাসএএফপি
রান তাড়ায় ৪৯ রানে ২ উইকেট হারালেও বাবর ও ঘুরি তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১২৭ রান তুললে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। বাবর আউট হয়েছেন ৬৯ রানে, ঘুরি ৬৫ রানে। দুজনকেই আউট করেছেন এলিস। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২ জুন।
হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা। এডিনবার্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেট হেরেছেন নিগার সুলতানারা।
টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছিল। এই রান স্কটল্যান্ড তাড়া করেছে ৮ উইকেট আর ২৬ বল হাতে রেখে।
স্কটল্যান্ড যেভাবে রান তাড়া করেছে, তাতে একবারও মনে হয়নি বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচটি জিততে পারে। ওপেনিং জুটিতে স্কটল্যান্ডের দুই ব্যাটার ডার্সি কার্টার–ক্যাথরিন ফ্রেসার মিলে তোলেন ৩৩ রান। ২৩ রান করা কার্টারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রিতু মনি। পরে স্কটিশদের দ্বিতীয় উইকেট জুটি তোলে আরও বেশি রান।
এর আগে ফিফটি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কেরও। ৩৯ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন নিগার। যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা। এর আগে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে।
২৬ রানের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার জুরাইয়া ফেরদৌস, দিলারা আক্তার। প্রথম দশ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ৫৪ রান। পরের অংশে নিগার, সোবহানারা লড়াই করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৩১ মে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় তারকা এখন ঋতুপর্ণা চাকমা। বাংলাদেশকে গত সাফ জেতাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। ফাইনালে তাঁর জয়সূচক গোল স্তব্ধ করে দেয় নেপালিদের। এরপর গত বছর জুলাইয়ে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে তাঁর বাঁ পায়ের জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। প্রথমবার বাংলাদেশ ওঠে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে।
সেই ঋতুপর্ণা এবার গোয়ায় চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক মিশনে প্রথম ম্যাচে ঠিক আগের মতো আলো কাড়তে পারেননি। তবে মাঠে তাঁর চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। মালদ্বীপ ম্যাচে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ২২-২৩টি ক্রস করেছেন।
[caption id="attachment_275270" align="alignnone" width="935"] বাংলাদেশের নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা[/caption]
কিন্তু ক্রসগুলো ঠিকঠাক হচ্ছিল না। কোনোটি হয়তো এক পা ভেতরে ঢুকে করতে পারতেন, কোনটি আরেকটু আগেই। সময়ের গরমিল হওয়ায় ক্রস থেকে ভালো ফল আসেনি। যদিও ম্যাচের মাত্র ১১ সেকেন্ডে করা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী যে গোলটি করেছেন, সেটি তাঁরই পাস থেকেই এসেছে।
আজ সকালে মারগাঁওয়ের ডন বস্কো কলেজ মাঠে অনুশীলন শেষে কোচ পিটার বাটলার নিজেই টেনে আনেন ঋতুপর্ণার প্রসঙ্গ। বলেন, ‘ঋতুর জন্য ওই দিনটি খারাপ ছিল এবং এমনটা হতেই পারে।’
এরপর ঋতুকে দেন দরাজ সার্টিফিকেট, ‘ঋতু আমার কাছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা উইঙ্গার। সে তরুণ এবং দারুণ প্রতিভাবান; সে দলের জন্য একপশলা টাটকা বাতাসের মতো, তা ছাড়া মনিকা ফিরে আসায় আমি খুশি।’ কোচ প্রশংসা করেছেন আনিকারও। বলেছেন, ‘আনিকা দলের খেলায় সম্পূর্ণ নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।’
বাটলারের উত্তর, ‘আমরা এখন একটি সম্পূর্ণ আলাদা দল এবং অনেক ভালো ফুটবল খেলছি। আমাদের দলে কিছু প্রকৃত ‘ম্যাচ উইনার’ আছে। বিশেষ করে ভারতের আক্রমণ করার মানসিকতা থাকলে আমাদেরও তা আছে। আমরা যেমন প্রয়োজনবোধে রক্ষণভাগ সামলাতে জানি, তেমনি গোল করার সুযোগও তৈরি করতে পারি।’
১৫ বছর বয়সী এক কিশোর কাঁদছে। এই বয়সী কারও কান্নার নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ পরীক্ষায় অঙ্কে কম নম্বর পেয়ে কাঁদতে পারে, কেউ কাঁদতে পারে প্রথমবারের মতো কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কিংবা কেউ বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া করেও কাঁদতে পারে। গতকাল রাতেও এক কিশোর কেঁদেছে। যদিও বাকিদের কান্নার চেয়ে এই কিশোরের কান্নার পার্থক্যটা বিশাল। তাঁর কান্না গতকাল রাতে ছুঁয়ে গেছে লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর মন।
সেই কান্নার দৃশ্য টেলিভিশন পর্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর পরপর ভাইরাল হয়েছে। অনেককে আফসোসও করতে দেখা গেছে। ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা ছেলেটির হাতে এবারের আইপিএল ট্রফিটা উঠতে পারত। শিরোপা জিততে না পারার আফসোস থাকবে, কিন্তু এই কান্নার দৃশ্য জন্ম দেওয়ার আগে বৈভব সূর্যবংশী নামের এই কিশোর যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য।
ব্যাট হাতে তাঁকে তাণ্ডব করতে দেখে বারবার প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি সত্যিকারের খেলা নাকি কোনো ভিডিও গেম। ক্রিকেটে ব্যাটিং কি তবে এতই যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও এমন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন!
ব্যাটিং মোটেই সহজ কোনো কাজ নয়। কিন্তু সূর্যবংশীর মতো অমিত প্রতিভাধর কেউ এসে হুটহাট ব্যাট করাকে এমন ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেন। গতকাল রাতেও বেঞ্চে বসে কান্নার আগে রাজস্থান রয়্যালসের সূর্যবংশী করেছেন ৪৭ বলে ৯৭ রান। এমন ইনিংস খেলে যেকোনো ব্যাটসম্যান যেভাবে খুশিতে উৎফুল্ল হবেন।
তবে সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে মনে হবে, বল বোধ হয় একটু বেশিই খেলেছেন! অবশ্য আর কিবা করার ছিল। একে তো মন্থর উইকেট, তারওপর সঙ্গীরা যখন ক্রিজে আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন, তখন স্বভাববিরুদ্ধভাবে একটু ‘দেখেশুনে’ খেলতে হয়েছে তাঁকে। ম্যাচ হারার পাশাপাশি অবশ্য সেঞ্চুরির আক্ষেপও থাকবে তাঁর। শেষ চার ইনিংসের তিনটিতেই যে ‘নার্ভাস নাইন্টিজে’ ফিরেছেন তিনি।
সূর্যবংশীর দল রাজস্থান রয়্যালস শেষ পর্যন্ত ফাইনালে যেতে পারেনি। গুজরাট টাইটানসের কাছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরেছে ৭ উইকেটে। সূর্যবংশীও কাছাকাছি গিয়েও সেঞ্চুরি পাননি। কিন্তু তাঁকে দেখতে আসার দর্শকদের মনোরঞ্জন তিনি ঠিকই করেছেন। নিউ চণ্ডীগড়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং স্টেডিয়ামে তখন আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার শুরুর আরও প্রায় তিন ঘণ্টা বাকি।
নিরাপত্তাকর্মীর পাশ কাটিয়ে গ্যালারিতে ঢোকার সময় গর্বভরে সূর্যবংশীর গোলাপি রঙের ০৩ নম্বর জার্সি দেখিয়ে এক কিশোর বলে উঠল, ‘আমরা এসেছি বৈভবকে দেখতে।’ আসলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য দর্শকের মনের কথাই যেন বলছিল সে।
গতকালের আগে এই বিস্ময়বালক গ্রুপ পর্বে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন। প্লে-অফে এসে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে খেলেছেন আরও দুটি দুর্দান্ত ইনিংস। বুধবার তিনি একাই প্যাট কামিন্সদের সব পরিকল্পনা তছনছ করে দিয়েছিলেন। এমন সহজতায় ব্যাট চালিয়েছিলেন, যেন টেলিভিশনে নিজের প্রিয় কার্টুনের চ্যানেল বদলাচ্ছেন।
তবে শুক্রবারের ইনিংসটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। সেটি শুধু আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসই নয়, বৈভবের প্রতিভার নতুন একটি দিকও সামনে নিয়ে এসেছে। এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যবহৃত ৪ নম্বর পিচেই শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হয়। বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় উইকেটটি ছিল মন্থর এবং অসম বাউন্সের, বিশেষ করে ইনিংসের শুরুর দিকে। গুজরাট টাইটানসের লম্বা গড়নের পেসাররা সেটির পুরো সুবিধা নেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বল ছোট লেংথে ফেলে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।
অন্য প্রান্ত থেকে সূর্যবংশী দেখেছেন, মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ফিরে গেছেন যশ্বসী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল। এরপর চোটের কারণে রবীন্দ্র জাদেজার অনুপস্থিতিতে দুর্বল হয়ে পড়া মিডল-অর্ডারের দায়িত্বও অনেকটা কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে।
এর মধ্যেই হেলমেটে বলের আঘাতও সহ্য করতে হয়েছে। স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ও নির্ভার ক্রিকেট খেলেন বৈভব। কিন্তু চারপাশে এত প্রতিকূলতা তৈরি হওয়ায় সেদিন নিজের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন, ধৈর্য দেখিয়েছেন এবং সমাধান খুঁজেছেন প্রতিটি চ্যালেঞ্জের।
ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী, এএফপি
প্রথম ছক্কা মারতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ বল পর্যন্ত। আইপিএলে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি, যদিও সেটিও এসেছে মাত্র ৩১ বলে। প্রায় ১৮ ওভার ক্রিজে ছিলেন তিনি, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যা তাঁর দীর্ঘতম ইনিংস। ম্যাচ শেষে রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা বলেন, ‘আজ ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। চারপাশে উইকেট পড়ছিল, ফলে এটি অনেক কঠিন একটি ইনিংস ছিল। কিন্তু ও স্নায়ুর দৃঢ়তা ধরে রেখেছে। আমাদের লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ওর।’
সাঙ্গাকারা আরও বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারের জন্য ও অবিশ্বাস্য রকম পরিণত। খেলার পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে, ম্যাচও দারুণ পড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওর মধ্যে কোনো ভয় নেই।’
বৈভব সূর্যবংশী কতটা পরিণত ক্রিকেট খেলেন, তা বোঝা যায় তাঁর ব্যাটিংয়ে। তিনি এমনকি টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিলের ফিল্ড সাজানোর পরিকল্পনাও ভেস্তে দিতে পারেন, বদলে দিতে পারেন মোহাম্মদ সিরাজের বোলিং পরিকল্পনা।
রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী, রয়টার্স
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে গিল শর্ট ফাইন লেগ থেকে একজন ফিল্ডারকে কভার-পয়েন্টে সরিয়ে এনে অফ সাইডের ভেতরের বৃত্ত আরও শক্ত করেছিলেন। তখন লেগ সাইডের সীমানায় একমাত্র ফিল্ডার ছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে, যেখানে এর আগে আউট হয়েছিলেন জয়সওয়াল। সূর্যবংশী সেই ফাঁকটাই কাজে লাগান। ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিকে দুর্দান্ত এক সুইপ করে ফাইন লেগ অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন, যে শট ওই দৈর্ঘ্যের বলে খুব কম ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেন।
পরের বলেও একই কৌশল। প্রায় দাঁড়িয়ে থেকেই তিনি বলটিকে একই ফাঁক গলে গুজরাট টাইটানসের ডাগআউটের দিকে পাঠান। শটটি দেখে গুজরাটের কোচ আশিস নেহরাও নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। আর গ্যালারিতে থাকা ২৫ হাজারের বেশি দর্শকও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
এরপরও দর্শকদের রোমাঞ্চে ভাসিয়ে যেতে থাকেন বৈভব। পরের ওভারে কাগিসো রাবাদা নিজের পরিচিত হার্ড লেংথ থেকে সরে আসতেই ১৫২ কিলোমিটার গতির বল মিড-অফের ওপর দিয়ে চার মেরে দেন তিনি। প্রেস বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর তখন বৈভবের ০৩ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরে জোরে জোরে নাড়াচ্ছিল। তার সঙ্গে থাকা বড়রাও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছিলেন প্রাণভরে। শেষ পর্যন্ত তাঁর আনন্দময় ইনিংসটা থেমেছে ৯৭ রানে।
দর্শকদের এমন আনন্দ অবশ্য পুরো আইপিএল মৌসুমজুড়ে দিয়েছেন সূর্যবংশী। একের পর এক চার-ছক্কায় এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান তাঁর। ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেট ও ৪৮.৫০ গড়ে এই রান করেছেন তিনি। ৭২২ রান করে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিল ফাইনাল নিশ্চিত করায় তাঁর সামনে সুযোগ আছে সূর্যবংশীকে টপকে যাওয়ার। যদিও এখনো ৫৫ রানে পিছিয়ে আছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। সেই কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’টা সূর্যবংশীর কাছেই থেকে যাবে।
এবারের আসরে গেইলের ছক্কার রেকর্ডসহ অসংখ্য রেকর্ড ভেঙেছেন সূর্যবংশী। গতকাল রাতের ৭ ছক্কাসহ তাঁর মোট ৭২টি। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১২ আইপিএলে ৫৯টি ছক্কা মেরে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল।
ক্লাব ফুটবল শেষে বেশির ভাগ খেলোয়াড় এখন বিশ্বকাপে মনোযোগ দিয়েছেন। যাঁদের দেশ বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি, তাঁরা চলে গেছেন অবকাশে। কিন্তু দুটি ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টা ভিন্ন। তাঁরা রোমাঞ্চভরে ক্ষণ গণনা করছেন মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির।
ক্লাব ফুটবলের চূড়ান্ত প্রাপ্তি বলে ধরা হয় যেটিকে, সেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আজ রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে পিএসজি ও আর্সেনাল। নিজেদের ইতিহাসে সেরা সময় পার করতে থাকা পিএসজির সামনে সুযোগ শিরোপা ধরে রাখার। আর ২০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠা আর্সেনালের আকাঙ্ক্ষা ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রথম শিরোপা স্মারকটি ছুঁয়ে দেখার।
লম্বা সময় ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগকে পাখির চোখ করেছিল পিএসজি। নেইমার, এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসিদের মতো তারকাদের এনেও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সাফল্য মেলেনি। এই তিন মহাতারকার বিদায়ের পরই যেন নিজেদের আসল রূপটা খুঁজে পায় পিএসজি। স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকের অধীনে অবিশ্বাস্য এক দলে পরিণত হয় প্যারিসের ক্লাবটি এবং গত মৌসুমে জিতে নেয় নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।
যেটি একেবারেই আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না; বরং ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজেদের ছাপ রেখে যেতেই যেন দলটির উত্থান। যার প্রমাণ বলতে পারেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠা। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় আর্সেনালকে হারাতে পারলে রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে (রিয়াল টানা তিনবার জিতেছিল) চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুটি শিরোপা জেতার কীর্তি গড়া হয়ে যাবে।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি। এমিরেটসে প্রথম লেগ ১-০ গোলে জেতার পর পার্ক দে প্রিন্সেসে দ্বিতীয় লেগে পিএসজি জিতেছিল ২-১ গোলে। আর্সেনালকে কীভাবে হারাতে হয়, সেটা ভালোই জানা আছে পিএসজির। যদিও ম্যাচের ফল ছাড়া বাকি পরিসংখ্যানে ছাপ ছিল আর্সেনালেরই আধিপত্যের। মাঝের এক বছরে আর্সেনাল অনেক বদলেও গেছে। সেটা ইতিবাচক অর্থেই। ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও পুনরুদ্ধার করেছে। আর্সেনালকে নিয়ে তাই একটু বেশিই সতর্ক থাকতে হবে এনরিকেকে।
অনুশীলনে হাস্যোজ্জ্বলই দেখা গেল উসমাদ দেম্বেলেদের, এএফপি
এই ম্যাচে পিএসজির তুরুপের তাস আক্রমণভাগের দুই খেলোয়াড় উসমান দেম্বেলে ও খিচা কাভারাস্কেইয়া। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুজনেই জোড়া গোল করেছেন। দেম্বেলে-কাভারাস্কেইয়া জুটি যদি ফাইনালে একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারেন, তবে পিএসজির টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলার পথটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আর্সেনালের জন্য সময়টা এখন ইতিহাসের পাতাটাকে নতুন করে সাজানোর। আজ রাতে পিএসজিকে হারাতে পারলেই ঐতিহাসিক ‘ডাবল’। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মঞ্চেও নিশ্চিতভাবেই বড় অনুপ্রেরণা হবে। গত মৌসুমের সঙ্গে তুলনা করলে আর্সেনালের প্রায় প্রতিটি বিভাগই নতুনভাবে গড়ে উঠেছে। গত মৌসুমের ব্যাক ফোর থেকে সম্ভবত একমাত্র উইলিয়াম সালিবাই এবার একাদশে থাকবেন।
মাঝমাঠেও এসেছে নতুন মাত্রা। একটু নিচে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আছেন ডেক্লান রাইস, মার্টিন জুবিমেন্দি ও মার্টিন ওডেগার্ড। সৃষ্টিশীল বিকল্প হিসেবে আছেন এবেরেচি এজে। উইংয়ে গতিময় ও পরিশ্রমী বিকল্প হিসেবে যোগ হয়েছেন ননি মাদুয়েকে। আর আক্রমণভাগে গতবার চোটের কারণে না থাকা কাই হাভার্টজের সঙ্গে আছেন ভিক্টর ইয়োকেরেসের মতো শক্তিশালী ফরোয়ার্ড। আর এঁদের সঙ্গে দলের অন্যতম সেরা তারকা বুকায়ো সাকা তো আছেনই।
মিকেল আরতেতার ক্লাসে আর্সেনালের খেলোয়াড়েরা, এএফপি
ফাইনালের আগে আর্সেনালের সঙ্গে নিজেদের দলের তুলনা করে পিএসজি কোচ এনরিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি না, এই দুই দল একেবারে বিপরীতধর্মী। আর্সেনাল আসলে আরতেতার চিন্তা ও ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।’ অন্য দিকে আর্সেনাল তারকা হাভার্টজ শুনিয়েছেন নিজেদের লক্ষ্যের কথা, ‘আমার মনে হয়, আমরা আন্ডারডগ কি না, সেটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা মাঠে নামব এবং ওদের হারাব।’
গত মৌসুমের সেমিফাইনালের স্মৃতি উঁকিঝুঁকি মারলেও এবারের ফাইনাল তাই অনেক দিক থেকেই আলাদা। দলে নতুন গভীরতা ও বৈচিত্র্য যোগ হওয়ায় গতবারের পরাজয়ের বদলার স্বপ্ন দেখতেই পারে আর্সেনাল। আর পিএসজি তো চাইবেই, টানা দ্বিতীয়বার ট্রফিটা হাতে নিয়ে আরও জোরালোভাবে ইউরোপীয় ফু্টবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিতে।
ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব আর্সেনাল। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের আসরে এখনও পুরোপুরি ‘মহাশক্তি’ হয়ে উঠতে পারেনি তারা। কারণ, ক্লাবটির ঝুলিতে এখনও নেই কোনো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মর্যাদার এই পুরস্কারটি ছাড়া কোনো ক্লাবই ইউরোপীয় ফুটবলের এলিট কাতারে জায়গা করে নিতে পারে না।
ম্যাচটি শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং এটি আর্সেনালের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ। কোচ মিকেল আর্তেতার দল জিততে পারলে সেটিই হবে ক্লাবটির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।
আর্সেনালের ইতিহাসে দেশীয় সাফল্যের অভাব নেই। ১৯৭১ সালের ডাবল জয়, ২০০৪ সালে টানা ৪৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ‘ইনভিনসিবলস’ খেতাব এসব মুহূর্ত ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কিন্তু ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, লিভারপুল, বার্সেলোনা কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের পাশে আর্সেনালকে বসাতে গেলে বড় ঘাটতি হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপিয়ান কাপের অনুপস্থিতি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘরোয়া সাফল্য যত বড়ই হোক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছাড়া বৈশ্বিক মর্যাদা পূর্ণতা পায় না। যেমন এসি মিলান কিংবা আয়াক্স এখন আগের মতো প্রভাবশালী না হলেও, ইউরোপিয়ান সাফল্যের কারণে আজও তাদের আলাদা মর্যাদা রয়েছে।
গত বছর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর পিএসজির অবস্থানও বদলে গেছে। আগে শুধুমাত্র ফরাসি লিগে আধিপত্যের জন্য সমালোচিত হলেও, এখন কোচ লুইস এনরিকের দলকে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হিসেবে দেখা হয়।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে পিএসজি'র বিপক্ষে আর্সেনালের একটি আক্রমণ
ফাইনালে পিএসজি ফেভারিট হলেও আর্সেনালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় এখনো অপরাজিত আর্তেতার দল। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও সেট-পিস থেকে গোল করার দক্ষতা তাদের বড় শক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচে আর্সেনাল যদি প্রথম গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল করা প্রতিটি ম্যাচেই জিতেছে গানাররা।
ফুটবলবিশ্বে ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে সম্মান অর্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মনে করেন অনেকে। আর সেই সম্মানকে স্থায়ী রূপ দিতে আর্সেনালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়।
বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের জন্য জুতায় বিশেষভাবে নকশা তৈরি করে আলোচনায় ব্রিটিশ শিল্পী জর্ডান ডসন। নিজের শোবার ঘরে বসে শুরু করা ছোট্ট উদ্যোগই তাকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের কাছে।
লন্ডনের এক পাব-এ বসে সিএনএনকে নিজের কাজ দেখাচ্ছিলেন ৩১ বছর বয়সী ডসন। ব্যাগ থেকে বের করলেন একজোড়া ফুটবল বুট। বললেন, 'এগুলো ঘানার প্লেয়ার আন্তোয়ান সেমেনিওর জন্য। বিশ্বকাপে এগুলো পরবেন তিনি।'
সাধারণ সাদা বুটকে রঙ, নকশা আর ব্যক্তিগত গল্পে ভরিয়ে তোলাই ডসনের বিশেষত্ব। তার ডিজাইন করা বুট ব্যবহার করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মার্কাস রাশফোর্ড, এনজো ফার্নান্দেজ ও জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার মতো তারকা ফুটবলাররা।
শৈশব থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক ছিল ডসনের। স্কুলজীবনে শিল্পকলায় সময় কাটাতেন বেশি। পরে লন্ডনের চেলসি কলেজ অব আর্টসে ফাইন আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে সেই ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি কাজ পাওয়া সহজ ছিল না।
জীবিকা চালাতে লন্ডনের একটি নাইকি স্টোরে চাকরি নেন তিনি। সেখান থেকেই বাড়িতে নিয়ে আসা অতিরিক্ত জুতাকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে জুতা আর শিল্প—দুই ভালোবাসাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেন নিজস্ব স্টাইল।
শুরুর দিকে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজের প্রস্তাব দিয়েও সাড়া পাননি। তবে ২০১৮ সালে, নাইকির একটি ক্যাম্পেইনে কাজের সুযোগ পেয়ে ভাগ্য বদলে যায় তার।
এক ব্র্যান্ড ইভেন্টে পরিচয় হয় ইংল্যান্ড ফুটবলার ডেকলান রাইসের সঙ্গে। রাইসের জন্য বিশেষ বুট ডিজাইন করার পর থেকেই একে একে আরও ফুটবলারের সঙ্গে কাজের সুযোগ আসে।
ডসন জানান, তিনি শুধু নাম বা পতাকার ডিজাইন করেন না। বরং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিত্ব ও গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেন বুটের নকশায়।
বর্তমানে ফুটবলের বাইরে এনবিএ, এনএফএল ও ফর্মুলা ওয়ানের তারকাদের সঙ্গেও কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন এই শিল্পী। এরই মধ্যে রেড বুলের একটি ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির জন্যও ডিজাইন করেছেন তিনি।
ডসনের ভাষায়, 'আমি সবসময় বড় স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। প্রতিটি খেলাধুলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের তারকাদের জন্য কাজ করতে চাই।'