যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প সরানোর অনুমোদন পেয়েছে ইরান ফুটবল দল। এমনটাই দাবি করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। খবর, দ্য গার্ডিয়ান'র। 

শনিবার (২৩ মে) ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এক বিবৃতিতে জানান, ফিফার অনুমোদনের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।

এর আগে, ইরানের অনুশীলন ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল অ্যারিজোনার কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল।

মেহেদি তাজ বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের বেস ক্যাম্প ফিফার অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। ইস্তাম্বুলে ফিফা ও বিশ্বকাপ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং তেহরানে ফিফা মহাসচিবের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনার পর আমাদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

ফেডারেশনের দাবি, মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে ক্যাম্প স্থাপন করলে ভিসা জটিলতা কমবে। কারণ দলটি মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তাজ আরও জানান, ইরান এয়ারের ফ্লাইট ব্যবহার করেও যাতায়াতের সুযোগ থাকতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।

গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরান আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান।

উল্লেখ্য, এ বছর মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে গত মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচ খেলবে।

৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী অন্তত চারজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হতে যাচ্ছেন। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ক্যাটাগরি–১–এ রংপুর, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগ থেকে তিনটি পরিচালক পদের জন্য প্রার্থী মাত্র তিন জন। এ ছাড়া ক্যাটাগরি–৩–এও আছেন একজন মাত্র প্রার্থী।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন ঢাকা বিভাগের দুই পরিচালকও। এখানে দুটি পরিচালক পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও আজ যাচাই–বাছাইয়ে গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন খসরুর মনোয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে আগামীকাল তাঁর আপিল করার সুযোগ আছে।

নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবক ও সমর্থকারী কাউন্সিলরের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা না দেওয়ায় জসিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই বিভাগে মনোয়নপত্র বৈধ হওয়া দুই প্রার্থী হলেন ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাইদ বিন জামান ও জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ।

সিলেট বিভাগ থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাজশাহী থেকে মীর শাকরুল আলম ও রংপুর থেকে মির্জা ফয়সল আমীনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা নিশ্চিতই বলা যায়। চট্টগ্রাম বিভাগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন ও লক্ষ্মীপুরের মঈন উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নির্বাচনে আছেন ফেনীর শরীফুল ইসলাম। তিন প্রার্থীর মধ্যে এই বিভাগ থেকে দুজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন।

খুলনা থেকেও নির্বাচিত হবেন দুই পরিচালক। এই বিভাগে লড়াইয়ে থাকা তিনজন হলেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার শফিকুল আলম, যশোরের শান্তনু ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গার আব্দুছ সালাম। বরিশাল বিভাগ থেকে একটি পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশালের স্বত্বাধিকার ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও ভোলার মুনতাসির আলম চৌধুরী।

ক্যাটাগরি–২–এ ঢাকার মেট্টোপলিটনের ৭৬টি ক্লাব থেকে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এই ক্যাটাগরি থেকে ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তাঁরা হলেন আবাহনীর ফাহিম সিনহা, মোহামেডানের মাসুদুজ্জামান, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লুৎফুর রহমান, শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের আসিফ রাব্বানী, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের ফৈয়াজুর রহমান, ধানমন্ডি ক্লাবের ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের তামিম ইকবাল, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্সের আমজাদ হোসেন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের মির্জা ইয়াসির আব্বাস, এক্সিউম ক্রিকেটার্সের ইসরাফিল খসরু, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের রফিকুল ইসলাম, ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ঢাকা মেরিনার ইয়াংয়ের শানিয়ান তানিম, ফেয়ার ফাইটার্সের সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, তেঁজগাও ক্রিকেট একাডেমির বোরহানুল হোসেন, পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাবের সাকিফ আহমেদ, কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্লাবের মেজর ইমরোজ আহমেদ ও ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্সের মাহমুদ উর রহমান।

ক্যাটাগরি–৩–এ সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থার কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে একজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

পরিচালক পদে মনোয়নপত্র বৈধ হওয়া এই ৩৩ জনের মধ্য থেকে ৭ জুনের ভোটে বিসিবির ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। অন্য দুই পরিচালক আসবেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত হয়ে। যাঁরাই নির্বাচিত হবেন, প্রার্থী তালিকাতেই এটা স্পষ্ট যে বিসিবির আগামী পরিচালনা পর্ষদ হবে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ ও রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট। প্রার্থীদের প্রায় এক–তৃতীয়াংশই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের আত্মীয়স্বজন। বাকিদের অনেকে দলটির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল তৃতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার পরিবারে জন্ম নিয়েছে একটি পুত্রসন্তান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখবরটি নিজেই জানিয়েছেন দেশের ক্রিকেটের এক সময়ের জনপ্রিয় এই তারকা ক্রিকেটার। নবজাতক সন্তানকে মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও রহমত উল্লেখ করে আশরাফুল তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ! আজ রাত ১০:৩৫ মিনিটে মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবারে আরেকটি পুত্র সন্তান দান করেছেন। প্রথমে একটি কন্যাসন্তান, তারপর একটি পুত্রসন্তান, আর আজ আবার একটি পুত্রসন্তানের বাবা হওয়ার সৌভাগ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।

[caption id="attachment_274675" align="alignnone" width="623"] ফেসবুকে মোহাম্মদ আশরাফুল[/caption]

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আল্লাহর এই অগণিত নিয়ামতের জন্য আমি আল্লাহর কাছে অন্তরের গভীর থেকে শুকরিয়া আদায় করছি। সন্তান হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত ও রহমত। আল্লাহ যেন আমার সকল সন্তানকে নেক, সুস্থ, দ্বীনদার ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দান করেন।

পোস্টের শেষদিকে ভক্ত-সমর্থকদের কাছে সন্তানদের জন্য দোয়ার আবেদনও জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি লেখেন, আপনাদের সকলের কাছে আমার সন্তানদের জন্য দোয়ার আবেদন রইল। আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল’।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটার আশরাফুল ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর দীর্ঘ সময় দেশের হয়ে খেলেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৬১টি টেস্ট, ১৭৭টি ওয়ানডে এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক রান ৬৬৫৫।

বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন এবং তরুণ ক্রিকেটারদের মাঝে নিজের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছেন।

 

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে সাবেক মার্কিন ফুটবলার থমাস ডুলির নাম চূড়ান্ত হলো। ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে কোচের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

নতুন দায়িত্ব নিয়ে আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন আমেরিকান বংশদ্ভূত এই জার্মান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ডুলি।

কোচ নিয়োগের দৌড়ে শুরুতে ওয়েলসের সাবেক ইউরোজয়ী কোচ ক্রিস কোলম্যানের নাম বেশ জোরেসোরে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটে-বলে মেলেনি বাফুফের।

এদিকে, গেলো দুইদিন একদল সমর্থক বাফুফেতে আরও হাইপ্রোফাইল কোচ আনার জন্য মানববন্ধন করেছে। আজ বেলা ১২টায় বাফুফের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ফুটবল সমর্থকরা।

 

৪৮ দলের বিশ্বকাপ এখনো মাঠে গড়ায়নি। আরও সপ্তাহ তিনেক বাকি। অথচ এর মধ্যেই ৬৬ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে গেছে। স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালে হতে যাওয়া ২০৩০ বিশ্বকাপে ১৮টি দল বাড়ানোর আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’।

১৯৯৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলেছে ৩২টি দল। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া উত্তর আমেরিকা আসরে দল বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তিতে ২০৩০ আসরেও একইসংখ্যক দল অংশ নেওয়ার কথা।

এএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক মাস আগে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) পক্ষ থেকে ৬৬ দলের প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। বিশ্বকাপে যেসব দেশ খেলার সুযোগ পায় না, তাদের বিশ্বকাপে খেলার পথ সুগম করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তখন বিষয়টি শুধুই প্রাথমিক আলোচনা বা ধারণা নেওয়ার পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে বেশ কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশনের আগ্রহের কারণে প্রস্তাবটি নতুন রূপ পাচ্ছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, এএফপি
 

ফিফা এবং এর শীর্ষ নেতৃত্ব এখন এই ভাবনাটিকে ফুটবলের বহুমাত্রিকতার অংশ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখতে শুরু করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রায়ই বিশ্বকাপকে একটি ‘উৎসব’ হিসেবে আখ্যা দেন, বিশেষ করে যেসব দেশ কখনো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পায়নি, তাদের জন্য। এই ৬৬ দলের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের দেশগুলোর জন্য ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।

দলসংখ্যা বাড়লে যে বিশ্বকাপের বাইরে থাকা দলগুলোর জন্য সুযোগ বাড়ে, সেটির বড় দৃষ্টান্ত এবারের আসরই। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে নামবে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দলগুলো। এখন ফিফার নীতিনির্ধারক ও কয়েকটি কনফেডারেশনও ভাবছে বিশ্বকাপকে আরও কীভাবে বড় করা যায়।

তবে ঠিক এই মুহূর্তে ৬৬ দলের ভাবনাটি প্রস্তাবনা পর্যায়েই আছে। এটি বাস্তবে রূপ দিতে লম্বা পথই পাড়ি দিতে হবে। তবে একসময় ৪৮ দলের বিশ্বকাপকে ‘পাগলামি’ বলে উড়িয়ে দিলেও সেটি যেমন এখন বাস্তব, দল আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও এখন উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

‘এএস’ লিখেছে, দুই বছর পর পর ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের যে গুঞ্জন ছিল, তা আপাতত বাতিল বলেই মনে হচ্ছে।

নাজমুল হোসেনকে কেন বুঝিয়ে–সুঝিয়ে টেস্টের অধিনায়কত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা এখন বোঝা যাচ্ছে। মুখের যুক্তি নয়, পরিসংখ্যানই কথা বলছে নাজমুলের হয়ে।

পরিসংখ্যানে যাওয়ার আগে নাজমুলের টেস্ট অধিনায়কত্বের ইতিবৃত্তটা একবার বলতে হয়। ২০২৪ সালে তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাজমুল। টি–টুয়েন্টিতে রানখরায় ভোগায় গত বছরের শুরুতে এ সংস্করণে অধিনায়কত্ব ছাড়েন। সে বছর জুনে নাজমুলকে ওয়ানডের অধিনায়কত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অনেকটা অভিমান থেকে টেস্টের অধিনায়কত্বও ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাজমুল।

গত বছর নভেম্বরে টেস্ট অধিনায়কত্বে ফেরেন নাজমুল। এর পেছনের কারণ হিসেবে তখন জানা গিয়েছিল, শুরুতে অধিনায়কত্ব নিতে রাজি ছিলেন না নাজমুল। পরে এক পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে রাজি করানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত নাজমুলও তাতে রাজি হন। এরপর তাঁর অধিনায়কত্বে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজেও একই ব্যবধানে ধবলধোলাই করে নাজমুলের দল।

সেই নাজমুল এখন টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

 
সিলেট টেস্টটা অধিনায়ক হিসেবে নাজমুলের অষ্টম জয়। মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ভাঙলেন নাজমুল। ২০১১ থেকে ২০১৭—এ সময়ের মধ্যে ৩৪ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ৭ ম্যাচ জিতেছিলেন অধিনায়ক মুশফিক। নাজমুল ২০২৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে এ সংস্করণে ১৮ ম্যাচে ৮ জয় পেয়েছেন। বাংলাদেশ দলের আর কোনো অধিনায়ক এত টেস্ট জিততে পারেননি। মুশফিকের চেয়ে ১৬ ম্যাচ কম খেলেই তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন নাজমুল। ১৯ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে এ তালিকায় তৃতীয় সাকিব আল হাসান।

টেনশন…টেনশন!

মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যাচটা ফেলে দিলেন গালিতে। তাইজুল ইসলাম আর লিটন দাসের ভুল–বোঝাবুঝিতে পরের ক্যাচটার জন্য গেলেনই–না কেউ। শরীরী ভাষায় ভয় ও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। সমর্থকদের মনেও প্রশ্ন, কী হচ্ছে এসব!

শেষে অবশ্য যা হওয়ার কথা ছিল, তা–ই হয়েছে। ‘একটা ভালো বলের…’ জন্য যে অপেক্ষা ছিল, তা শেষ হয়েছে তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন সাজিদ খান।

আগের উইকেটের জন্য ৭২ বলের অপেক্ষা ছিল, পরের দুটির জন্য কেবল ১২ বল। ওই যে একটা উইকেট আরেকটা নিয়ে আসে! শরীফুল ইসলামের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রান করে বিদায় নিতেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় উদ্‌যাপনের উপলক্ষ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান থেমেছে ৩৫৮ রানে। ৬ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক তাইজুল।

গতকাল সালমান আগা আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে শেষ বিকেলে দুই উইকেট নিয়ে কালই নিজেদের অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাইজুল। আজ সকালে বাংলাদেশের জন্য খেলাটা ছিল ৩ উইকেটের, পাকিস্তানের ১২১ রানের।

জয়ের নায়ক তাইজুল
জয়ের নায়ক তাইজুল
 

যদিও সেই আশঙ্কা দূর হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচটা শেষ করতে বাংলাদেশের লেগেছে এক ঘণ্টা। রিজওয়ানের ৯৪ ছাড়া ২৮ রান করেন সাজিদও। এ দুজন ফিরতেই আজ সকালেও বিশ্ব রেকর্ড গড়ে রানতাড়ার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল, তা শেষ হয়েছে ৭৮ রানের হারে।

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের উল্লাস
বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের উল্লাস
 

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আড়াই যুগে মনে রাখার মতো একটা স্মৃতিও তৈরি হয়ে গেছে এর মধ্যে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দলকে পরপর চার ম্যাচে হারানো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। অথচ এই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ১৩ টেস্টে জয় ছিল না একটিও।

বাংলাদেশ যোগ্যতর দল হিসেবে, তা বোধ হয় না বললেও চলছে। মিরপুর আর সিলেট টেস্ট মিলিয়ে এমন খুব কম সময়ই এসেছে, যখন মনে হয়েছে, পাকিস্তান এগিয়ে গেছে। কোথাও সেই সম্ভাবনা তৈরি হলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরেছে মুহূর্তেই। প্রতিবারই হার মানতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এর ফলে হয়তো ভবিষ্যতের রোমাঞ্চকর এক পথচলার শুরুও হয়ে গেছে।

বয়স তাঁর জন্য কেবলই একটা সংখ্যা, নাকি এক অনন্ত যৌবনের বিজ্ঞাপন?

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখলে এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসতেই পারে। ৪১ পেরিয়ে গেছেন এবং এই বয়সে খেলতে যাচ্ছেন আরও একটা বিশ্বকাপ। অবশ্য এই বিশ্বকাপে তাঁর দলে থাকা নিয়ে সন্দেহ কখনোই ছিল না। পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অনেকবারই বলেছেন, রোনালদোকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামতে যাচ্ছেন তিনি। অবশ্য লিওনেল মেসিও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডাক পেলে রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

মার্তিনেজ দল ঘোষণা করেছেন ২৭ জনের। তবে বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নিয়ম মেনে চূড়ান্ত দল হতে হবে ২৩ থেকে ২৬ জনের। আসলে গত বছর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া পর্তুগিজ তারকা দিয়োগো জোতাকেও প্রতীকি ‘সদস্য’ ধরে নিয়ে ২৭ জনের নাম ঘোষণা করেন কোচ। তাঁর মূল স্কোয়াড ২৬ জনেরই।

রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। রয়টার্স
 

মার্তিনেজের ঘোষিত দলে খুবই অনুমিতভাবে রোনালদোর সঙ্গী হিসেবে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও নুনো মেন্দেসের মতো তারকারা। আবার চমকও আছে। চার বছর পর গত মার্চে জাতীয় দলে ফেরা রিয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড গনসালো গেদেস জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আছেন মাত্র ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মায়োর্কার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সামুয়েল কোস্তা। দলে সুযোগ না পাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েস্ট হামের মাতেউস ফার্নান্দেজ, বেনফিকার ডিফেন্ডার আন্তোনিও সিলভা এবং ফরোয়ার্ড পালিনিও, পেড্রো গনকালভেস ও রিকার্ডো হোর্তা।

বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ঘরের মাঠে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল—৬ জুন চিলির বিপক্ষে এবং ১০ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে।

পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: জোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দে ভেলিও। ডিফেন্ডার: জোয়াও কানসেলো, মাতেউস নুনেস, নুনো মেন্দেস, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, দিয়োগো দালত, তমাস আরাউজো, রেনাতো ভেইগা, নেলসন সেমেদো। মিডফিল্ডার: ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, রুবেন নেভেস, সামুয়েল কস্তা। ফরোয়ার্ড: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গনসালো রামোস, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, জোয়াও ফেলিক্স, পেদ্রো নেতো, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, গনসালো গেদেস।

ফিরলেন শান মাসুদও 

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১৬২/৫। জয়ের জন্য ২৭৫ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।

সৌদ শাকিলের পর ফিরলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও। তাইজুলের বলে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৭১ রান করা এ ব্যাটসম্যান।

সৌদ শাকিল আউট

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৫৬/৪। জয়ের জন্য ২৮১ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৬ উইকেট।

৪৪ তম ওভারের চতুর্থ বলে নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন সৌদ শাকিল। মাঠের আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর শাকিল রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ২১ বলে ৬ রান করেছেন শাকিল।

ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সালমান আগা। ৬৫ রানে অপরাজিত শান মাসুদ।

সোমবার সকাল থেকে অনেকেই চোখ রাখছিলেন ঘড়ির কাঁটায়। কেউ কেউ নিশ্চয়ই মোবাইল ফোনে অ্যালার্মও সেট করে রেখেছিলেন। রাত ২টায় কতিপয় নিশাচর মানুষ ছাড়া কে আর জেগে থাকেন!

কিন্তু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল তো বাংলাদেশ সময়ে ঘোষণা করবে না; ফলে নেইমার দলে আছেন কি না, তা জানতে অ্যালার্মই ভরসা। নাহ্‌, আনচেলত্তি বিশেষ কোনো চমক উপহার দেননি। জনমতকে পাশ কাটিয়ে ফিটনেস রিপোর্ট কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে খেলার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বও দিতে পারেননি। ফলাফল, চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে নেইমার খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।

নেইমারের ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়াটা তাঁর ভক্তদের জন্য বিশেষ আনন্দের। পাশাপাশি এটি কার্লো আনচেলত্তির দল নির্বাচনের দর্শনকেই যেন প্রতিফলিত করছে। চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে কিছু পজিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইতালিয়ান কোচ শেষ পর্যন্ত ভরসা রেখেছেন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। সে তালিকার সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমার।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে খুব বেশি চমক যেমন নেই, আবার পুরোপুরি রক্ষণাত্মক দলও এটি নয়; বরং পুরোনো নির্ভরযোগ্য তারকাদের সঙ্গে নতুন শক্তির একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করেছেন আনচেলত্তি।

আরও পড়ুন

নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

শুরুতেই আসা যাক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে। মাঠে সব সময় নেতৃত্ব না দিলেও এই দলে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু এখন অনেকটাই নেইমার। কারণ, এত দিন দলের প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখনো জাতীয় দলে প্রত্যাশামতো ধারাবাহিক হতে পারেননি।

তবে এটি রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস ও বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়ার জন্য খারাপ খবর নয়; বরং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাকে পাশে পাওয়ায় চাপ কিছুটা কমেছে তাঁদের ওপর। দুজনে আরও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবেন। শুধু নেইমারই নন, পুরো দল নির্বাচনেই অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। ২৬ সদস্যের দলে ১৫ জনই খেলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। এই শতকে বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে এত বেশি ‘অভিজ্ঞ’ খেলোয়াড় আর কখনো দেখা যায়নি। আনচেলত্তি হয়তো বুঝেছেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

নেইমারেই আস্থা আনচেলত্তির
নেইমারেই আস্থা আনচেলত্তিরইনস্টাগ্রাম

গোলকিপার বিভাগে ওয়েভারতনের অন্তর্ভুক্তি সেটারই উদাহরণ। আলিসন বেকার চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে ছিলেন, আর এদেরসনও ধারাবাহিক নন। তাই ব্রাজিল দলে এবার তৃতীয় গোলকিপারের গুরুত্ব বেশ বেড়ে গেছে। তরুণ বিকল্পদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। এই জায়গার জন্য আলোচনায় থাকা বেন্তো ও হুগো সোউজা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ভুল করেছেন, যা সমর্থকদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। কোচিং স্টাফরাও সম্ভবত পুরোপুরি নিশ্চিন্ত ছিলেন না।

তাই ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ওয়েভারতনের ওপরই ভরসা করেছেন আনচেলত্তি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা ইতালিয়ান এই কোচকে নিশ্চয়ই বাড়তি আস্থা দিয়েছে। ১৭ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ওয়েভারতন ২০১৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন এবং ২০২২ বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও ছিলেন।

কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি অভিজ্ঞ ও মানসিকভাবে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি আস্থার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। পজিশনভিত্তিক বিশ্লেষণে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠে তাঁর সেই বার্তারই যেন প্রতিফলন দেখা গেছে। এ দুটি জায়গায় তারুণ্য বা প্রতিভার দ্যুতির চেয়ে অভিজ্ঞতার আকরেই আশ্রয় নিয়েছেন আনচেলত্তি।

মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলকে কেন্দ্র করে ডিফেন্স গড়া হয়েছে। মাঝমাঠে আছেন কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেস। বিশেষ করে কাসেমিরোর দলে জায়গা পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, আনচেলত্তি এখনো বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেন। একই কারণে দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো খেলোয়াড়েরাও দলে জায়গা পেয়েছেন।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিএএফপি

তবে দলটি শুধু অভিজ্ঞদের নিয়েই নয়। আনচেলত্তি নতুনদের জন্যও দরজা খোলা রেখেছেন। বিশেষত ফরোয়ার্ড লাইনে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রতিভার মিশেল ঘটিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। এনদ্রিক, লুইস হেনরিক, রায়ান এবং ইগর থিয়াগোর মতো তরুণদের অন্তর্ভুক্তি জানাচ্ছে, বিশ্বকাপে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলাতে কিছু তরুণ তুর্কিকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবেন আনচেলত্তি।

বিশেষ করে এনদ্রিক ব্রাজিলের আক্রমণে বাড়তি গতি ও অপ্রত্যাশিত কিছু এনে দিতে পারেন। তবে এই জায়গায় এস্তেভাও এবং রদ্রিগোর না থাকাও আনচেলত্তি ও ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আক্ষেপের। এস্তেভাও আনচেলত্তির অধীনে সবচেয়ে কার্যকরী হয়ে উঠেছিলেন। গোল করার পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতার দিক থেকেও দারুণ সম্ভাবনাময় এই তরুণ। কিন্তু চোট ভেঙে দিয়েছে তাঁর বিশ্বকাপ–স্বপ্ন।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের এই দল ‘গ্যালাকটিকো’ ধরনের ঝলমলে স্কোয়াড নয়; বরং বাস্তবমুখী একটি দল। এখানে প্রতিভা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, আবার কিছু অনিশ্চয়তাও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে নেইমারের শারীরিক অবস্থা এবং ভিনিসিয়ুসদের ধারাবাহিকতা নিয়ে। তবে আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে দলটি অন্তত আগের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত মনে হচ্ছে। এই ব্রাজিল হয়তো ২০০২ সালের মতো ভয়ংকর আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে অনেক সময় এমন পরিণত, সংগঠিত দলই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপে নেইমার থাকবেন কি থাকবেন না—গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল দুনিয়ার অলিগলিতে এর চেয়ে বড় কোনো ‘সাসপেন্স’ সম্ভবত ছিল না। চোট, অস্ত্রোপচার, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারো গুঞ্জন পেরিয়ে অবশেষে যবনিকা নামল সেই নাটকের।

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে আজ সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়লেন, সেখানে সবচেয়ে কাঙ্খিত নামটা তাঁরই ছিল। অবশেষে আনচেলত্তির কন্ঠে উচ্চারিত হলো সেই নাম—নেইমার জুনিয়র।

হ্যাঁ, নন্দিত এবং কখনো কখনো নিন্দিত এই মহাতারকাকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল। দল ঘোষণার জমকালো অনুষ্ঠানে যখন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নাম উচ্চারণ করলেন আনচেলত্তি, করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। মিলনায়তন জুড়ে বয়ে গেল আনন্দের সুনামি।

বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ডকে দলের ডাকার আগে কোচ আনচেলত্তিও কম পরীক্ষা নেননি। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ছিলেন জাতীয় দলের রাডারের বাইরে। চোট আর ফর্মহীনতার দোলাচলে গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তাঁর ফিটনেস নিয়ে কোচের মনে ছিল একরাশ সংশয়।

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করছেন আনচেলত্তি।
রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করছেন আনচেলত্তি।সিবিএফ

সৌদি আরবের চোটজর্জর অধ্যায় চুকিয়ে গত জানুয়ারিতে নেইমার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। আর সেখানেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পান। চেনা আঙিনায় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেই আদায় করে নিলেন আনচেলত্তির ‘ছাড়পত্র’। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল)।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

বিশ্বকাপের ব্রাজিল দল:

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)। ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)। মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)। ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।

সিলেট টেস্টটা জিততে হলে এখন পাকিস্তানকে রেকর্ড বইয়ে ওলটপালট করতে হবে। নিজেদের ইতিহাস তো দূর, টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরের ইতিহাসেই কখনো ৪৩৬ রান তাড়া করে জেতার ঘটনা নেই। ২০০৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বোচ্চ ৪১৮ রান করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। এমন পরিস্থিতিতে বোলিং দলের নির্ভার হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ তা নয়।

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাইজুল ইসলাম বললেন, ‘আরও একটু লম্বা করতে পারলে হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। কারণ, উইকেট এখনো (ব্যাটিংয়ের জন্য) ভালো। আমরা যদি আরও কিছু জুটি গড়তে পারতাম, হয়তো ভালো হতো।’

দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহিমই বাংলাদেশের লিডটা ৪০০ পার করে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবু শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার পর তাঁকে হতাশই দেখা গেছে। বাউন্ডারি লাইন পার করে হতাশায় হেলমেটও ছুড়ে মেরেছেন ১৩৭ রান করা মুশফিক। সেটি কি আরও কিছু রান করতে না পারার কারণে?
তাইজুল উত্তরে বলেছেন, ‘আমরা যদি স্কোরবোর্ডে আরও ২০-৩০-৪০ রান যোগ করতে পারতাম হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। এখানে হতাশার কিছু নেই। কারণ, সব সময় যে ১০০% (চাওয়ামতো) হবে, এমনটাও নয়।’

মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটির পথে ২২ রান করেন তাইজুল ইসলাম
মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটির পথে ২২ রান করেন তাইজুল ইসলাম
 

যেহেতু বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে কিছু রান কম হয়েছে মনে করছে, চ্যালেঞ্জটা তাই বোলারদেরই বেশি। তাইজুলও তাঁদের একজন। নিজেদের ঠিকঠাক বোলিং করতে হবে, তা মনে করালেও এই বাঁহাতি স্পিনার আবার এটাও বলেছেন, কাজটা সহজ হবে না পাকিস্তানের জন্যও, ‘এটা চতুর্থ ইনিংস। উইকেট এখনো ভালো আছে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের লক্ষ্যটা (কত) দেখতে হবে। তারা যখন (কত রানের লক্ষ্য এই) সংখ্যাটা দেখবে হয়তো মাথায় অনেক কিছু কাজ করতে পারে। উইকেট যে রকম ভালো আছে, সে রকম আমাদেরও শৃঙ্খলা মেনে বোলিং করতে হবে।’

পাকিস্তান তাদের ইতিহাসে কখনো ৪০০–এর বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭৭ রান তাড়াই তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এখন সেই রেকর্ড ভাঙতে তো হবেই, গড়তে হবে নতুন বিশ্ব রেকর্ড। আজ ২ ওভার খেলে কোনো রান হারিয়ে শূন্য রান করা পাকিস্তান কতটা আত্মবিশ্বাসী?

এমন প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা উমর গুল যা বললেন, তাতে আশাবাদের ছাপই বেশি, ‘এখনো দুই দিন আছে, যদিও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আমরা মানসিকভাবে তৈরি যে যথেষ্ট সময় হাতে আছে। আমরা যদি পুরোটা সময় ব্যাট করতে পারি, তাহলে জেতার সুযোগ আছে। আমরা ড্র করতে চাইছি না। আমরা রান তাড়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

সে জন্য দলের ব্যাটসম্যানদের কী করতে হবে, তা–ও বলে গেছেন এই পেস বোলিং কোচ গুল, ‘দুই–তিনটা ভালো জুটি গুরুত্বপূর্ণ। ৪৩৭ রান তাড়া করতে আপনাকে সাহসী হতে হবে আর ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব, দুই দলেরই সম্ভাবনা আছে।’