ওপার বাংলার নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু প্রথমবারের মতো নায়িকা হয়েছেন শাকিব খানের। তাঁকে দেখা গেছে ঈদের ‘প্রিন্স’ সিনেমায়। সম্প্রতি সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন এই নায়িকা। আড্ডায় ঘুরেফিরে আসে প্রাক্তন ও প্রেমের কথা।

বর্তমানে তিনি একা রয়েছেন, নাকি কোনো প্রেমের সম্পর্ক রয়েছেন—এমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জ্যোতির্ময়ী জানান, তিনি একাই রয়েছেন। তবে বিয়ে নিয়ে আপাতত ভাবছেন না। এদিকে দেশের ভক্তরা তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে বেশ সবর। অনেকেই নাকি তাঁর প্রেমেও পড়েছেন। সে খবরও শুনেছেন। তবে বাংলাদেশে বিয়ে করতে চান না এই নায়িকা।

নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু
নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ছবি: ফেসবুক থেকে
 

সিঙ্গেল থাকলেও এর আগে প্রেমে জড়িয়েছিলেন এই নায়িকা। সেই প্রেম ভেঙে যায়। ‘আমাদের ভালোবাসাটা একই রকম ছিল। কোনো কারণে আমাদের সম্পর্ক টেকেনি। একটা চাবি দিয়ে কি সব তালা খোলা যায়! আমাদের একটু সমস্যা হয়েছিল। আমি কাউকে খারাপ বলছি না। ও ওর মতো, আমি আমার মতো। একটা সময়ে এসে মনে হচ্ছিল, সব ঠিকমতো হয়ে উঠছিল না,’ বলেন তিনি।

জ্যোতির্ময়ী জানান, একটা সম্পর্কের শুরু হয় শতটা ভালো লাগা থেকে, কিন্তু নানা কারণে সেই বোঝাপড়া, ভালো লাগা একসময় থাকে না। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমরা নিজেরাই সম্পর্ক থেকে সরে এসেছি। ঝগড়া–ঝামেলা না করে আলাদা হয়ে যাই। পরে তারও মনে হয়েছিল, অন্য জায়গায় গিয়ে ভালো থাকতে পারবে। এখন সে তার মতো ভালো আছে। আমি আমার মতো আছি। আমি সব সময়ই মনে করি, একটা সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সবার আগে দরকার বিশ্বাস। কারণ, আমরা বেঁচেই থাকি বিশ্বাসে।’

নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু
নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রাক্তনের কাছ থেকে কী শিখেছেন—এমন প্রশ্নে জ্যোতির্ময়ী আরও বলেন, ‘আমার প্রাক্তন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ওর কাছে শিখেছি ভালোবাসা। ওই প্রেমটাই খুব মনোযোগ দিয়ে করেছিলাম। সব মিলিয়ে আমরা একসময় ভালোই ছিলাম। কিন্তু সময় সব সময় একরকম যায় না।’

জ্যোতির্ময়ী প্রিন্স সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ছবি: ফেসবুক থেকে
জ্যোতির্ময়ী প্রিন্স সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ছবি: ফেসবুক থেকে

কলকাতার টেলিভিশন অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর বড় পর্দায় অভিষেক হয় ‘প্রজাপ্রতি ২’ সিনেমা দিয়ে। গত বছরের বড়দিনে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায় দেব অভিনীত সিনেমাটি।

নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু
নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ছবি: ফেসবুক থেকে

রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলো তামিল অভিনেত্রী সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যমের। ‘কয়াল’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য দক্ষিণি ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। গতকাল সোমাবার চেন্নাইয়ে নিজের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী চেন্নাইয়ের পোরুর এলাকার কাছে আইয়্যাপ্পন্থাঙ্গলে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন, যেখানে শুটিংয়ের সময় তিনি অবস্থান করতেন। গত মাসের শুরুতে তিনি সেখানে ওঠেন। গত রোববার রাতে সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সুভাষিণী স্বামী বিপিন চন্দ্রণের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। সেই তর্কের মধ্যেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁর স্বামী দ্রুত অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

[caption id="attachment_271246" align="alignnone" width="821"] সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যম। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুভাষিণীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি কিলপক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীলঙ্কার মেয়ে সুভাষিণী বরাবরই অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা বুকে নিয়ে চলে আসেন চেন্নাইয়ে। তামিল বিনোদনজগতে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। অডিশন, ছোট ছোট চরিত্র এবং কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই তাঁকে এগোতে হয়েছে। তবে নিজের অধ্যবসায় ও অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নতুন নতুন সুযোগ পেতে শুরু করেন। ‘কয়াল’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন অভিনেত্রী।

অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

আগের রাতেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ হয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। সকাল থেকেই বাড়িতে আত্মীয়দের ভিড়। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে বাবাকে নিয়ে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হাজির হলেন বিদুষী বর্ণিতা। তাঁর মুখ থেকেই লাক্স সুন্দরী হওয়ার গল্পটা শুনলেন নাজমুল হক

মেহেবুব আলম ও মেরী ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র কন্যা বিদুষী বর্ণিতা। রাজশাহীতে জন্ম হলেও ঢাকাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। রেডিও ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বাবা। মা–ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। সংগীত শিক্ষালয় ছায়ানটে গান ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে নাচ শেখেন বর্ণিতা। তার মধ্যেই মা–বাবার হাত ধরে ছোট্ট বয়সে শোবিজযাত্রা শুরু। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয়। বর্ণিতার বয়স তখন ছয় কি সাত বছর। রেডিও এবিসিতে চাকরি করতেন বাবা। সেখানের জনপ্রিয় রেডিও শো ‘কি শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’–এর বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তাঁর ভয়েস। এরপর বেশ কটি টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন। তখন থেকেই শোবিজে নিয়মিত কাজ করার আগ্রহ। তবে তেমন সুযোগ তখন আসেনি। শুরুর সেই সময়টা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘অনেক লম্বা একটা সময়, প্রায় আট-নয় বছরের একটা গ্যাপ ছিল। সে সময় অনেক কাজ খুঁজেছি, কিন্তু তেমন সুযোগ পাইনি।’ নানা কারণে সেই সময় কাঙ্ক্ষিত সুযোগগুলো না আসায় তাঁর মনে অভিনয়ের প্রতি এক বিশাল ক্ষুধা জমে ছিল, কিছুটা আক্ষেপও ছিল। সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। সাত বছর পর ফিরে আসা এই প্রতিযোগিতার মঞ্চে শেষ হাসিটাও তিনিই হেসেছেন।

বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতাছবি: খালেদ সরকার

হাসপাতালের বিছানা থেকে
বর্ণিতার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন যখন শুরু হয়, তখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। একপ্রকার হবে না ভেবেই রেজিস্ট্রেশনটা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই সময়ই কেন এটা হলো, অন্য সময় হলে হয়তো ভালো করতাম।’ কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি বর্ণিতা। সুস্থ হয়ে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন তিনি। সেখান থেকে দীর্ঘ জার্নি শেষে সেরা দশে জায়গা পান বর্ণিতা। মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে নিজের রেজিস্ট্রেশনের কথা পরিবারকে জানাননি; চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হওয়ার পরই চমক দিতে।

 

আক্ষেপ ঘুচল
কখনো ‘প্রথম’ না হতে পারাটা বর্ণিতার জীবনের একটা বড় আক্ষেপ ছিল। পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম হতে পারেননি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো প্রথম হয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন। বর্ণিতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনো কোচিং করিনি বা কোনো টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়িনি, বাসায় একা পড়তাম। কেন জানি এর প্রভাব আমার মার্কসে পড়ত, হয়তো ডিজার্ভ করতাম ফার্স্ট পজিশন কিন্তু হয়েছি সেকেন্ড (হাসি)।’ শুক্রবারের রাত তাঁর জীবনের সব অপ্রাপ্তি মুছে দিয়েছে।
বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বর্ণিতার চোখ থেকে ঘুম উধাও। সকাল থেকে বাসায় আত্মীয়স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়, আর মোবাইলে হাজার হাজার বার্তা। বর্ণিতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে বাড়ছে তাঁর অনুসারী। একটি স্টোরিতেই প্রায় ৮০ হাজার ভিউ!

বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতা, ছবি: খালেদ সরকার

বড়দের সান্নিধ্য
পুরো জার্নিতে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন বর্ণিতা। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব বর্ণিতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘জয়া আহসান ম্যামের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে পারা বা ওনার কাছ থেকে একটা ছোট অ্যাডভাইস পাওয়া—এভাবে দাঁড়াবে, এভাবে কথা বলবে—এগুলো অনেক বড় ব্যাপার। এ ছাড়া মেহজাবীন ম্যাম ও রায়হান রাফী স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভিকি জাহেদ স্যার ও জাহিদ প্রীতম স্যারের প্রজেক্টে কাজ করাও জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। তা ছাড়া এই জার্নিতে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো বড়মাপের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।’

দায়িত্বের ভার
বর্ণিতার কাছে বিজয়ের ট্রফিটি কেবল শোকেসে সাজিয়ে রাখার বস্তু নয়; এই ট্রফি তাঁর কাছে হাজারো মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। তাই এটিকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রফিটা শুধু আমার নয়; যতজন মানুষ নেপথ্যে পরিশ্রম করেছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি এখানে আসতে পেরেছি, সবার পরিশ্রমের ভারটা ওই ট্রফির ওপর আছে। এই ট্রফির সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে, “আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।”’
বড় পর্দায় সুযোগ

বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতা
 

কেবল ট্রফি ও গাড়িই নয়, বিজয়ী হিসেবে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। সঙ্গে নির্মাতা শিহাব শাহীনের একটি ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এসব সুযোগ পেয়ে বর্ণিতা রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘যখন জানলাম যে রাফী স্যার, শিহাব শাহীন স্যার দুজনের সঙ্গেই কাজের সুযোগ পাব, তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ওনারা দুজনই এখন দেশসেরা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার শুরুটা তাঁদের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে হচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’
পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চলবে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্যই ভর্তি হয়েছেন বর্ণিতা। পড়ছেন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে।

নতুনদের প্রতি বার্তা
ভবিষ্যতে যাঁরা শোবিজ বা এমন প্রতিযোগিতায় আসতে চান, তাঁদের উদ্দেশে বর্ণিতার পরামর্শ খুব সহজ, ‘শুধু আমাকে দেখে বা অন্য কাউকে দেখে স্বপ্ন দেখতে হবে তা না, নিজেকে দেখে নিজের জন্য স্বপ্নটা দেখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে, সেই চেষ্টার দ্বারাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

ঢালিউডে প্রেম ও গুঞ্জন নতুন নয়, কিন্তু পূজা চেরীকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে মন্তব্য সব নজর কেড়েছে, তা দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে হাস্য ও আলোচনার এক মিশ্রণ তৈরি করেছে। গত বুধবার ‘দম’ ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে আফরান নিশো মজার ছলে বলেন, ‘বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়ার পূজার রেকর্ড নাই।’ এ মন্তব্য শুধু উপস্থিত সাংবাদিকদেরই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও চমকে দিয়েছে।

প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল
প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ছবি: চরকি
 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ ছবিতে পূজা চেরী অভিনয় করেছেন আফরান নিশোর বিপরীতে। ছবির গল্পে শাহজাহান ইসলাম নূরের চরিত্রে একজন সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। এই সিনেমার শুটিংয়ের কাজ বাংলাদেশের পাশাপাশি কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শীতে হয়েছে। মুক্তির পর থেকে ছবিটি দর্শক ও সমালোচকের মধ্যে সমান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউডের বিভিন্ন তারকা ও কলাকুশলী। প্রদর্শনীর পর সংবাদ সম্মেলনে আফরান নিশো তাঁর মজার মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। এ মন্তব্যের পর পূজা চেরী অকপটভাবে বলেন, ‘জোকস অ্যাপার্ট এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমি এনগেজড। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ তাঁদের এই খুনসুটি ও স্বীকারোক্তি দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আফরান নিশো ও পূজা চেরী
আফরান নিশো ও পূজা চেরী, ছবি : সংগৃহীত
 

ঢালিউডে শোনা যায়, পূজা চেরীর নাম নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই তারকা কখনোই তা স্বীকার করেননি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রেমের সম্পর্কে আছেন, তবে সেটি বিনোদন অঙ্গনের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়।

পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি
পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি, ছবি : চরকির সৌজন্যে
 

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই মন্তব্যকে ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন, কেউবা পূজা চেরীর এনগেজমেন্ট সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের খোঁজ করছেন। তবে সবাই একমত, আফরান নিশো ও পূজা চেরীর এই স্বাভাবিক খুনসুটি তাঁদের জনপ্রিয়তা ও দর্শকের কাছে সখ্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘দম’ সিনেমার গল্প, অভিনয় ও দর্শক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এই ধরনের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনকে মজার ছলে মিলিয়ে দেওয়া বক্তব্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মুক্তি–পরবর্তী তৃতীয় সপ্তাহে এসে ছবিটি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এবং পূজা–নিশোর এই খুনসুটি আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঢাকা

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল পা। হাতে ট্রফি, ঝলমলে আলো, ক্যামেরা আর করতালির শব্দ। তবু যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না—এটাই সত্যি! রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতার জন্য এই মুহূর্তটি শুধু একটি জয়ের নয়; বহুদিনের না পাওয়া এক স্বপ্নপূরণেরও গল্প।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ী পেল বাংলাদেশ।

ট্রফি হাতে নেওয়ার পরপরই আবেগাপ্লুত বর্ণিতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পা কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। দর্শকের ভালোবাসায় এই জায়গায় এসেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

প্রথম হওয়ার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতা
বর্ণিতার ভেতরে জমে ছিল এক দীর্ঘদিনের আক্ষেপ—কখনো প্রথম হতে না পারার। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে  তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় পড়ালেখায় ভালো ফল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছি। সব সময়ই মনে হতো, কোথাও না কোথাও প্রথম হতে চাই। আজ সত্যিই আমি এই মঞ্চে প্রথম হতে পেরেছি।’

জয়ের আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব
জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও বর্ণিতার চোখে স্পষ্ট দায়িত্ববোধ। তাঁর কাছে এই ট্রফি কেবল পুরস্কার নয়, আরও বড় কিছু। তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সবার ভালোবাসা আর সমর্থনেই আমি এখানে এসেছি। সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে চাই, সামনে আরও দূর যেতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

প্রথম আলো

এই জয় বর্ণিতার জন্য নতুন দরজাও খুলে দিয়েছে। ট্রফির পাশাপাশি তিনি পাচ্ছেন বিলাসবহুল গাড়ি, শিহাব শাহীনের ওয়েব কনটেন্টে কাজের সুযোগ এবং সবচেয়ে বড় চমক—ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। এ প্রসঙ্গে বর্ণিতা বলেন, ‘রাফী স্যার শুরু থেকেই আমাদের মেন্টর ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সিনেমা বড় পর্দায় দেখেছি দর্শক হিসেবে। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য। আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

প্রতিযোগিতার পথচলা
২০০৫ সালে শুরু হওয়া লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আয়োজনটি হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা
ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা

লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে সম্প্রচার শুরু হয় প্রতিযোগিতাটি। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। এর মধ্যে প্রথম রানারআপ হয়েছেন নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ চট্টগ্রামের আমিনা।

শুক্রবার অনুষ্ঠানে ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’ সেই যাত্রার নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন রাজশাহীর বর্ণিতা।

চ্যানেল আই অবলম্বনে

‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি।

দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে লাক্স সুপারস্টার পেল বাংলাদেশ। বর্ণিতার হাতে ট্রফি তুলে দেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান। জানা গেছে, বিজয়ী বর্ণিতাকে নিয়ে নির্মাতা রায়হান রাফী সিনেমা নির্মাণ করবেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। তিনি পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা—তাঁর প্রাপ্তি তিন লাখ টাকা।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি
শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি
 

চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত আয়োজনের পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে প্রতিযোগিতার সম্প্রচার শুরু হয়। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী।

‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ীবিজয়ী বর্ণিতা(মাঝে)
‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ীবিজয়ী বর্ণিতা(মাঝে)
 

অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর জানান, বিজয়ীদের নিয়ে শিহাব শাহীন ওয়েব সিনেমা নির্মাণ করবেন।
ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চূড়ান্ত আসরটি উপস্থাপনা করেন মোশাররফ করিম ও আরিফিন শুভ। অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেফার রহমান, ইরফান সাজ্জাদ, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খানসহ অনেকে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিহাব শাহীন, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিমসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।

ভক্তদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সেখানে ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অহেতুক তর্কবিতর্ক ও কাদা–ছোড়াছুড়ি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাস

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে অপু বিশ্বাস লিখেছেন, ‘আজ এই দীর্ঘ পথচলায় আপনারা যেভাবে আমার ছায়া হয়ে পাশে আছেন, তার জন্য আমি চিরঋণী। আপনারা আমাকে শুধু একজন শিল্পী হিসেবে নয়, আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ভালোবেসেছেন। আর এই ভালোবাসার পেছনের প্রধান কারণ হলো আমার কাজ। আপনারা আমাকে কাজ দিয়ে চিনেছেন, কাজের মাধ্যমেই আমি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছি।’

ভক্তদের প্রশংসা করে অপু বলেন, ‘আমি গর্বিত এই ভেবে যে আমার ভক্তরা শুধু সংখ্যায় নয়, বরং তাঁরা তাঁদের শিক্ষা, রুচি এবং মার্জিত আচরণের জন্য অনন্য। আপনারা যে কতটা ধৈর্যশীল এবং সুশিক্ষিত পরিবারের প্রতিনিধি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন। আমি মনে করি, অপুর ভক্ত হওয়া মানেই আভিজাত্য আর শিষ্টাচারের এক অনন্য মেলবন্ধন।’
এ সময় ভক্তদের উদ্দেশে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ—আপনারা কারও সঙ্গে কোনো ধরনের অহেতুক তর্কে বা কাদা–ছোড়াছুড়িতে জড়াবেন না।’

অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাস

মনে রাখবেন, যাঁরা নিজেদের কাজ বা অর্জন দিয়ে আলোচনায় থাকতে পারেন না, তাঁরাই অন্যের পরিবার নিয়ে চর্চা করেন বা আজেবাজে পোস্ট করে গুরুত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আপনাদের ব্যক্তিত্ব এতই ঊর্ধ্বে যে কারও নীচু মানের মন্তব্যের উত্তর দিয়ে আপনাদের সেই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার প্রয়োজন নেই। যাঁরা সস্তায় জিততে চান, তাঁরা কখনোই আপনাদের এই মার্জিত আভিজাত্যের নাগাল পাবেন না।

​নিজের পরিবারের প্রশংসা করে অপু লিখেছেন, ‘আমার পরিবার আমার অহংকার। যখন প্রয়োজন হয়েছে, আমি নিজেই আমার পরিবারকে আপনাদের সামনে এনেছি। এখন আর নতুন করে কোনো পোস্ট বা কথার মাধ্যমে আমার পরিবারকে নিয়ে কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার নেই। আমাদের পরিচয় আমাদের কাজ, আমাদের বংশমর্যাদা এবং আমাদের শিক্ষা।

অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাসছবি : অপু বিশ্বাসের সৌজন্যে

​পোস্টে অপু আরও লিখেছেন, ‘আপনারা যেভাবে আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই আপনাদের ভালোবাসার সেই ছোট্ট আব্রাহাম খান জয়কে আপনাদের স্নেহ আর মমতায় আগলে রাখবেন। তাকে সুন্দরভাবে সবার কাছে উপস্থাপন করাই হোক আপনাদের লক্ষ্য।’

সবশেষে অপু লিখেছেন, ‘​আমরা কোনো বিতর্ক বা হট্টগোলে নেই; আমরা আছি ভালোবাসা আর কাজের গৌরবে। আপনারা শান্ত ও হাসিখুশি থাকুন। কারণ, আপনাদের এই মার্জিত রূপটিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই হালকা মেজাজ, রসিকতা আর অনায়াস বিনোদন। ‘মানুষ হাসানো’ পেশা বানিয়ে যিনি গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য, তিনি কপিল শর্মা। অথচ এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা একেবারেই সহজ ছিল  না। মাত্র ৫০০ টাকা আয় দিয়ে শুরু করা এই কমেডিয়ান এখন প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। উপার্জনের দিক থেকেও তিনি ভারতীয় ছোট পর্দার সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারকাদের একজন। আজ তাঁর জন্মদিন।

১৯৮১ সালের ২ এপ্রিল ভারতের অমৃতসরে জন্ম কপিল শর্মার। বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল, মা গৃহিণী। সীমিত আয়ের সংসারে বড় হওয়া কপিল ছোটবেলা থেকেই গান, অভিনয় আর মঞ্চের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর এই আগ্রহকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি, বরং উৎসাহই পেয়েছেন বেশি।

ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে একটি অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ২০০১ সালে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবির শুটিং অমৃতসরে হলে সেটে গিয়ে ছোট একটি দৃশ্যে অভিনয়ের সুযোগ পান। কিন্তু শুটিংয়ের সময় নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে না পারায় অ্যাকশন পরিচালক তিনু বর্মার বকুনি তো খেয়েছিলেনই, এমনকি চড় দিয়ে সেট থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাটি কপিল পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করে বলেছেন, সেটাই তাঁকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য আরও দৃঢ় করে তোলে।

ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা
ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা, ফেসবুক থেকে
 

প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে টেলিভিশনের শীর্ষে
২০০৭ সালে তাঁর জীবনের বড় বাঁক আসে। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। পুরস্কার হিসেবে পান ১০ লাখ টাকা, যা তাঁর জীবনের প্রথম বড় সাফল্য। এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান কপিল। এরপর ‘কমেডি সার্কাস’-এর একাধিক আসরে অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ কমেডিয়ান হিসেবে। তাঁর তাৎক্ষণিক সংলাপ বলার ক্ষমতা, সাধারণ বিষয়কে হাস্যরসে রূপ দেওয়ার দক্ষতা তাঁকে দ্রুত দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা
স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা

বিতর্ক, বিরতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
তবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা সব সময় একই রকম থাকে না। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এসে কপিল শর্মাকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। সহশিল্পী সুনীল গ্রোভার ও আলী আসগরের সঙ্গে বিরোধ, শোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা—সব মিলিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুটিং সেটে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে, যা তাঁর মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একসময় এমন অবস্থাও তৈরি হয়, যখন তাঁর অনুষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

এই কঠিন সময় থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ান কপিল। কিছু সময় বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে ফেরেন তিনি। নতুনভাবে শুরু হওয়া ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ আবারও দর্শকদের মন জয় করে নেয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিণতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

টেলিভিশনের বাইরে বড় পর্দায়ও কাজ করেছেন কপিল শর্মা। ২০১৫ সালে ‘কিস কিস কো প্যার করু’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ফিরঙ্গি’, ‘জুইগ্যাটো’ এবং সাম্প্রতিক ‘ক্রু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন—‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি টু’ ছবিতে একটি চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা
‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা, ভিডিও থেকে
 

অর্থনৈতিক সাফল্যের দিক থেকেও কপিল শর্মা এখন শীর্ষে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। মুম্বাইয়ের অন্ধেরিতে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি দেশের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে অন্যতম, প্রায় ৩০ কোটি টাকা কর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
টেলিভিশনের পর্দায় হাসির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করা কপিল শর্মা এখনো বিনোদন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। জন্মদিন উপলক্ষে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ভক্তরা তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর স্মরণীয় মুহূর্ত, পুরোনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সহশিল্পী ও তারকারাও বিভিন্ন পোস্টে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।

আলোচিত মডেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনয়শিল্পী সিমরিন লুবাবা বলছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি, তবে বাগ্‌দান সেরেছেন।

গতকাল রাতে লুবাবার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ সন্ধ্যায় আরেক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সিমরিন লুবাবা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়েছে।’

বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবা
বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবাফেসবুক থেকে

দুজনের ছবিটি পেছন থেকে তোলা, ফলে বাগ্‌দত্তাকে চেনা যাচ্ছে না। তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ করেননি।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে ও ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ। কেউ কেউ বলছেন, লুবাবার বয়স এখনো ১৮ বছর হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে লুবাবা ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি। তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে, ইনশা আল্লাহ। আমরা সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।’

লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদের
লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরফাইল ছবি

সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন লুবাবা।

তুর্কি ধারাবাহিক ‘ভেনডেটা’ এখন বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সম্প্রচার করা হচ্ছে; এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। মূলত একটি পারিবারিক রক্তক্ষয়ী শত্রুতার প্রেক্ষাপটে দুই তরুণ, দিলান ও বারানের প্রেম এবং সংগ্রামের গল্প বলছে এই ধারাবাহিক। এই সিরিজটি নির্মাণ করেছে রেইনস পিকচার্স ও ইউনিক ফিল্ম। ধারাবাহিকটি তুরস্কে সম্প্রচারিত হচ্ছে কানাল ৭-এ।

রক্তক্ষয়ী শত্রুতা থেকে প্রেম

ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন দিলান ও বারান, যাঁদের চরিত্রে অভিনয় করছেন ইয়াগমুর ইউকসেল ও বারিশ বাকতাস। দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে শত্রুতা করে আসছে। শান্তি স্থাপনের জন্য তাঁদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়।

শুরুর দিকে সম্পর্ক ছিল ‘অস্বীকৃত’, একে অপরকে পছন্দ করতেও তারা দ্বিধা করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বোঝে যে তাদের মধ্যে জেগে ওঠা টুকরা টুকরা আকর্ষণ একদিকে প্রেমের সূচনা করতে পারে, অন্যদিকে পুরো জীবন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দর্শকেরা প্রতিটি দৃশ্যে দেখেছে, কীভাবে ছোট ছোট নীরব অনুভূতি, চুপচাপ একে অপরের দিকে টান এবং মানসিক টানাপোড়েন ধীরে ধীরে গভীর সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক সাফল্য: ৭০টির বেশি দেশে দর্শকপ্রিয়তা
‘ভেনডেটা’ শুধু তুরস্কেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সফলতা অর্জন করেছে। জর্জিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, ইউক্রেন, কাজাখস্তান এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় এটি প্রচুর দর্শক টানছে। বিশেষত জর্জিয়ায় এটি প্রাইম টাইমে শীর্ষস্থানীয় ধারাবাহিক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

বিপণন সংস্থা গ্লোবাল এজেন্সির প্রধান ইজেট পিন্টো বলেন, ‘আমরা সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে বিপণন শুরুর পর থেকেই এটি আলোচিত হয়েছে। যেকোনো দেশে সম্প্রচার শুরু হলেই এটি শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। দর্শকের সঙ্গে সংযোগ এত গভীর যে তারা চরিত্র এবং গল্পের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে যায়।’

প্রধান চরিত্র ও তারকা শক্তি
মূল অভিনেতারা প্রথমে নতুন মুখ হলেও, তাঁদের অভিনয়, আবেগপ্রবণতা এবং চরিত্রের গভীরতার কারণে তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ইজেট পিন্টো আরও জানান, তাঁদের অনুগামী সংখ্যা এক মিলিয়নেরও বেশি, যা ধারাবাহিকের দর্শকপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
দিলান চরিত্রটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁকে একজন শক্তিশালী নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি শুধু প্রেমে নয়, বরং পরিবার, ন্যায় এবং নিজের পরিচয় রক্ষায়ও দৃঢ়।

নারী সৃজনশীল দলের অবদান
‘ভেনডেটা’র সৃজনশীল দলের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে চিত্রনাট্যকারেরা নারী। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি গল্প বলার ধরনে নতুনত্ব এনেছে। একদিকে যেখানে প্রেম, প্রতিশোধ এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের কাহিনি দর্শকদের মোহিত করছে, অন্যদিকে নারী চরিত্রের স্বতন্ত্রতা গল্পে ভারসাম্য বজায় রাখছে।

‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক ভক্তশ্রেণি
ধারাবাহিকের গল্প কেবল প্রেমের নয়, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধনের ওপরও দৃষ্টি রাখে। দর্শকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন, মিম তৈরি করছেন। বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে অন্তর্জালে আলোচনা চলছে। ফলে ‘ভেনডেটা’ শুধু সিরিজ হিসেবে নয়, একটি আন্তর্জাতিক ভক্তশ্রেণিও তৈরি করেছে।

দর্শকের সঙ্গে সংযোগ
‘ভেনডেটা’র জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ এটির বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা। গল্পের টানাপোড়েন, চরিত্রের বিকাশ এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ দর্শকের কাছে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। এতে করে প্রতিটি দৃশ্যই শুধু বিনোদন নয়, বরং দর্শকের ভাবনার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করছে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর মনে করেন, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও সেই সাহসটুকু ধরে রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক আলাপচারিতায় নিজের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’, অভিনয়জীবনের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

অভিনয়জীবনের নতুন মোড়
ছোট শহরের বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেই শুরুতে পরিচিতি পান ভূমি। ‘দম লাগা কে হ্যাঁয়সা’ ছবির সন্ধ্যা ভার্মা চরিত্র দিয়ে তাঁর অভিনয়যাত্রার শুরু। এরপর ‘বালা’, ‘আফওয়া’, ‘ভক্ষক’, ‘বাধাই দো’সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মেয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে।

সেদিক থেকে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’ তাঁর ক্যারিয়ারে এনেছে ভিন্নমাত্রা। ভূমি এখানে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান কর্মকর্তা—ক্ষমতা, চাপ ও নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক জটিল চরিত্র। ভূমি বলেন, ‘এটা আমার যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ বলেই মনে হয়েছে। আমি সব সময় এমন গল্পের দিকে ঝুঁকেছি, যেখানে সমাজ বা মানুষের আচরণকে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা যেভাবে দেখিয়েছে, সে ধরনের কাজ আমি আগে করিনি।’

চরিত্রটি নিয়ে ভূমি আরও বলেন, ‘রীতা এমন একজন মানুষ, যে অমীমাংসিত ট্রমা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নীরবতার মধ্যে বাস করে। সিরিজটির জগৎ অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে খুব চ্যালেঞ্জিং। সেই অস্বস্তিই আমাকে এই প্রকল্পের প্রতি টেনেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমি এমন চরিত্র চাই, যারা সব কথা বলে না—দর্শকের ওপর ভরসা রাখে। যে চরিত্র আমাকে স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। “দলদল” ঠিক সেটাই করেছে।’

ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বদল নয়, বিবর্তন
ভূমি জানান, এখন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ‘প্রথমে গল্প আমাকে অনুভূতির জায়গা থেকে টানে, তারপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। এখন “সঠিক প্রকল্প” বলতে আমি বুঝি এমন কিছু, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, একটু ভয়ও দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘একঘেয়ে বা আরামদায়ক চরিত্রে আর আগ্রহ নেই; বরং এমন পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যাঁরা জটিলতা ও দ্ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেন।’

ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ‘বদল’ নয়, ‘বিবর্তন’ শব্দটিকেই প্রাধান্য দেন ভূমি। তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে পরিচিতি পেলেও এখন আমি এমন নারীর গল্প বলতে চাই, যারা সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে লড়াই করছে।’

ভূমি যোগ করেন, ‘চরিত্রের পরিসর বদলেছে, কিন্তু মানুষের গল্প জানার আগ্রহ একই আছে। আমার চরিত্রগুলো প্রায়ই এমন নারীদের নিয়ে, যারা সমাজ, শ্রেণি, লিঙ্গ ও নৈতিকতার কাঠামোর ভেতর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে।’
গণ্ডি ভাঙার ইচ্ছা

‘অর্থবহ সিনেমা’ও কখনো কখনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করেন ভূমি। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে বড় বাজেটের চমকপ্রদ সিনেমা এবং গভীর, সংবেদনশীল গল্প—দুটিই পাশাপাশি এগোচ্ছে। আমি এই দুই ধারাতেই কাজ করতে চাই।’

তবে একটি বিষয় ভূমি সব সময় ধরে রাখতে চান, ‘ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা’। তাঁর কথায়, ‘জটিল এবং সত্যনিষ্ঠ গল্প বেছে নেওয়ার সাহসটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা সত্যিই কিছু বলতে চান।’

ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে