বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী অভিনীত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি নিয়ে মুক্তির আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর তাঁর পরিচালিত কাজটি ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা বলার পর আপত্তি জানিয়েছেন মৌসুমী ও তাঁর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী।

আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মূলত কোনো সিনেমা নয়, এটি একটি নাটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, দর্শক যেভাবে মৌসুমীকে দেখে অভ্যস্ত, কাজটি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না। তাই তিনি ছবিটির মুক্তি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

মৌসুমী ও ওমর সানি
মৌসুমী ও ওমর সানিসংগৃহীত

একই ভিডিওতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মৌসুমী। তিনি জানান, নির্মাতার অনুরোধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করতে রাজি হন এবং কয়েক দফায় শুটিংও করেন। পরে নির্মাতা তাঁকে জানান, ফুটেজ বেশি হওয়ায় এটি টেলিছবি হিসেবে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, কাজটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে এবং সেন্সর সনদও পেয়েছে—যা তাঁর কাছে বিস্ময়কর। মৌসুমীর অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই কাজটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘কাটপিসের মতো ব্যবহার’ করা হয়েছে, যা তিনি অনৈতিক বলে মনে করছেন।

সিনেমার একটি দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে
সিনেমার একটি দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌসুমী চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন—পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে ওমর সানী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মৌসুমী
মৌসুমী
 

ওমর সানী ও মৌসুমীর অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ভিডিওটি বানাতে মৌসুমী আপাকে বাধ্য করা হয়েছে। এই প্রকল্পে তাঁকে সিনেমার সম্মানী দিয়েই যুক্ত করেছিলাম।’

তবে এর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘কনট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মৌসুমী বলেছিলেন, ‘হাসান জাহাঙ্গীরের কোনো সিনেমার শুটিং করিনি। তাঁর সঙ্গে দুটি নাটকের কাজ হয়েছে।’

সবকিছু মিলিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি নির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ মে পর্যন্ত। উল্লেখ্য, মৌসুমীকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘সোনার চর’ সিনেমায়।

২০১৪ সালে কমেডি ঘরানার ছবি ‘ফাগলি’ দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের পর ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ থেকে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় দেখা গেছে কিয়ারা আদভানিকে। ‘কবীর সিং’, ‘শেরশাহ’, ‘সত্যপ্রেম কি কথা’ থেকে ‘গুড নিউজ’–এর মতো আলোচিত সিনেমা করেছেন। সামনে তাঁকে দেখা যাবে গীতু মোহনদাসের আলোচিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক’–এ। তবে সিনেমাটি নিয়ে নতুন এক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

গত বছর ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কিয়ারার বিকিনি দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আগামী ছবি ‘টক্সিক: দ্য ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন আপস’-এর ক্ষেত্রে খানিক ‘সংযত’ কিয়ারা। সিনেমার ফার্স্ট লুক সাড়া ফেলেছে। এর মধ্যেই বেঁকে বসলেন অভিনেত্রী! অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাঁচি চালানোর অনুরোধ। কাটছাঁট করে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করেছেন কিয়ারা।

কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের পর দৃশ্যগুলো দেখে আপত্তি জানিয়েছেন কিয়ারা। সহ–অভিনেতা যশ ও পরিচালকের কাছে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের আগে কিয়ারাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল কোনো দৃশ্যে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন না। স্বাচ্ছন্দ্য রাখার প্রতিশ্রুতিতেই রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ফুটেজ দেখার পর নাকি নিজের মত পরিবর্তন করেছেন কিয়ারা।

জানা গেছে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে আলাদা করে পরিচালক-অভিনেত্রীর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। সর্বোপরি যশ বা ‘টক্সিক’ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ছবিতে যশ, কিয়ারা ছাড়াও অভিনয় করেছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশিসহ অনেকেই।

সিনেমা মুক্তির আগেই একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমে ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’-এর। দিনক্ষণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ জুন। শোনা যাচ্ছে, আবার ছবি মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।

তিন দশকের বেশি মালাইকা–ম্যাজিকে বুঁদ বলিউড। কখনো ‘ছঁইয়া ছঁইয়া’ তো কখনো আবার ‘মুন্নি’র তালে মালাইকা অরোরা আবেদনময়ী রূপে ঝড় তুলেছেন পর্দায়। বয়স পঞ্চাশের গণ্ডি পার হলেও মালাইকার গ্ল্যামারের আগুন যে কমেনি, সেটা বোঝা গেছে গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘পয়জন বেবি’ আইটেম গানেই। মালাইকার ফিটনেস আর সৌন্দর্য বরাবরই থাকে আলোচনায়। ৫২ বছর বয়সেও কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন, একাধিকবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন মালাইকা। সম্প্রতি একটি টক শোতে বয়সের সঙ্গে সৌন্দর্যের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন মালাইকা।

‘দ্য রাইট অ্যাঙ্গেল শো’তে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ফিটনেস আর সৌন্দর্যের প্রশংসার মধ্যে কখনো বয়স বাড়ার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছেন? উত্তরে মালাইকা বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন আমি বয়স নিয়ে ভাবতাম। আবার আমার জীবনে এমন সময়ও এসেছে, যখন আমি এ বিষয়টা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিনি। শুধু নিজের কাজটা উপভোগ করি। যেটা করতে ভালো লাগে বা ভালোবাসি, সেটাই করি। আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে আমি জীবনের সবচেয়ে সুখী অধ্যায় উদ্‌যাপন করছি। জীবনে এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে। অনেক কিছু করতে চাই, তাই এসব বিষয় এখন আর আমাকে বিশেষ প্রভাবিত করে না।’

মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাধারণ কোনো নারী হোক বা সেলিব্রিটি, মেয়েদের বয়সের সঙ্গে তাঁদের জীবনের গতিপথের তুলনা করা হয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই হয় না। সমাজের এই বৈষম্যের বিরোধিতা করেছেন মালাইকা। তাঁর মতে, একজন নারীকে যেমন অকপটে তাঁর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পুরুষদেরও সেই প্রশ্ন অবশ্যই করা উচিত। মালাইকার মতে, ‘আমি মনে করি এই প্রশ্নগুলো সব সময় নারীদেরই করা হয়। খুব কমই কোনো পুরুষকে এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়। একজন নারীকে খুব সহজেই বলা হয়, তোমার জীবনের সেরা সময়ে তুমি এমন ছিলে, এখন এই বয়সে এসে কেমন লাগছে? তুমি কি এখনো নিজেকে সুন্দর মনে করো? আকর্ষণীয় মনে করো? কখনো শুনিনি কোনো পুরুষকে এই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে।’

বয়স বা সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষের ভাবনা, এমনটাই মনে করেন মালাইকা। অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘বাহ্যিক সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়। হ্যাঁ, পৃথিবী সেটাই দেখে, কিন্তু এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগের দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর সারা দিন কীভাবে কাটবে, আজ মন কী চাইছে—এগুলো আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে ভাবি না যে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে। এমন কিছু করতে চাই যে আমাকে, আমার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে, গর্বিত করবে।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

দেশ ছেড়ে প্রবাসজীবন বেছে নেওয়ার পর বাস্তবতা কখনো কখনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়। বিদেশের প্রেক্ষাপটে সেই গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’। এ  সিনেমায় উঠেছে বিবাহিত নারীর বাংলাদেশে স্বামী রেখে বিদেশে দ্বিতীয় বিয়ের গল্প। এর মধ্য দিয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সিনেমার শুটিং বেশ আগেই শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেমাটি সেন্সর সার্টিফিকেশন সনদ পেয়েছে। ১৫ মে দেশের প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পাবে। এ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। সিনেমাটির পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এ গল্পের মাধ্যমে নারীদের মর্যাদা ও সম্মানকে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ বিদেশে যান। পরে কীভাবে তাঁরা টিকে থাকেন, কীভাবে একটু করে সংসার সাজান, সে সংগ্রামের পেছনের গল্পই নিয়ে এ সিনেমা।’

শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে
শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে

সিনেমার ৮০ শতাংশ গল্পের শুটিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। পরবর্তী পোস্টের কাজ দেশে হয়েছে। হাসান জাহাঙ্গীর জানান, এই গল্পগুলোর উপকরণ বাস্তব থেকে নেওয়া। বিদেশের জীবনসংগ্রাম সবারই কম বেশি থাকে। পরিচালক মনে করেন, এই গল্পগুলো দর্শকদের দেখা উচিত। সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন আমাদের কাছে ১৫ মে ভালো সময় মনে হচ্ছে। এই সময়েই আমরা মুক্তি দেব। এটি বিদেশেও, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বেশ কিছু দেশে মুক্তি পাবে। আমরা মনে করি, গল্পটি দর্শকদের দেখা উচিত।’

[caption id="attachment_272981" align="alignnone" width="722"] মার্চে সিনেমাটি সেন্সর সার্টিফিকেশন সনদ পায়। ছবি: ফেসবুক থেকে[/caption]
 
 

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন মৌসুমী। পরিচালক জাহাঙ্গীর জানালেন, এরই মধ্যে সিনেমার শুটিং করেছেন। সর্বশেষ মৌসুমীর ‘সোনার চর’ সিনেমা মুক্তি পায়। দীর্ঘ দুই বছর পর মুক্তি পাচ্ছে মৌসুমীর নতুন সিনেমা। এর আগে পরিচালক একই নামে ওয়েব সিরিজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটিই এখন সিনেমা হয়ে হলে মুক্তি পাবে। ডন, হাসান জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পরিচালক জানালেন, ঈদে সিনেমাটির টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছেন। এটি ঈদেই ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে।

বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সাবেক স্বামী সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর তাঁর প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। তাঁর এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া কাপুর, মা রানি কাপুর ও দ্বিতীয় স্ত্রী কারিশমা কাপুরের দুই সন্তান সামারা ও কিয়ান। যদিও সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সম্পত্তির অধিকার অন্য কাউকে দিতে নারাজ। তিনি যেমন মামলা করেছেন, তেমনই প্রিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন কারিশমার দুই সন্তানও। এর পরিপ্রেক্ষিতে বড় রায় দিলেন আদালত।

আগেই কারিশমার দুই সন্তান দাবি করেছেন, প্রিয়া তাঁদের বাবার সম্পত্তি জাল করেছেন। জালিয়াতি করে বানানো নতুন উইলে সম্পত্তি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দেননি। সঞ্জয়ের জমি, বাড়ি ও তাঁর সংস্থা ছাড়াও ছিল দামি দামি ঘোড়া। ছিল বহুমূল্যের সব ঘড়ি, যেগুলোর বাজারমূল্য কয়েক লাখ, কয়েকটি আবার কোটির ঘরে। সম্পত্তিসংক্রান্ত নথিতে এ ধরনের জিনিসের কোনো উল্লেখ করেননি প্রিয়া। যখন উইলটি বানানো হয় সে সময় একবারও কারিশমার দুই সন্তানকে দেখানোর প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেননি তিনি।

কারিশমা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুর। কোলাজ
কারিশমা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুর। কোলাজ

কিয়ান ও সামারার এই অভিযোগের ভিত্তিতে রায় দিলেন দিল্লির উচ্চ আদালত। গতকাল দেওয়া রায়ে জানানো হয়, সঞ্জয়ের বিদেশের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হবে। ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কোনো রকমের আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না প্রিয়া।

এই রায় কারিশমার দুই সন্তানকে যে স্বস্তি দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এই রায় প্রকাশের পর বোন কারিনা কাপুর খান ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘আশার আলো, বিচার আমরা পাবই। সত্য প্রকাশ্যে আসবে।’

আদালত আরও নির্দেশ দেন, সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তি অবশ্যই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং এগুলো কোনোভাবেই হস্তান্তর কিংবা নষ্ট করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রিয়া সচদেব কাপুর যাতে ওই সম্পত্তিগুলো কোনোভাবেই বিক্রি না করতে পারেন, তাতে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশও জারি করেছেন।

এনডিটিভি অবলম্বনে

গত ২৯ মার্চ মারা যান পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক সামলে কাজে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কথা বলেছেন, রাহুলের মৃত্যু থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুলের মৃত্যুর পর দ্রুতই কাজে ফিরেছেন তিনি। কাজ অনেকটা থেরাপির মতো কাজ করেছে। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘নিজেও জানি না কেমন আছি এই মুহূর্তে। নানা সময়ে নানা রকম আছি। কখনো খুব দুর্বল লাগছে। আবার কখনো নিজেকে খুব স্ট্রং মনে হচ্ছে। কাছের মানুষ, কাজের জায়গা থেকে স্ট্রেংথ খুঁজে নিতে হচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন কেমন আছি! এ প্রশ্নের সত্যিই কোনো উত্তর এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। কাজই আমার থেরাপি। কোনো চরিত্র হয়ে ক্যামেরার সামনে এসে যখন দাঁড়াই, সেটা হলো প্রিয়াঙ্কার সবচেয়ে অথেনটিক সত্তা। তখন আমি বাকি সবকিছু সুইচ অফ করে দিই। সে কারণেই কাজটা করতে ভীষণ এনজয় করি। আর আমি তো একা কাজ করি না। অনেকে থাকেন, কাজের একটা আলাদা পরিবেশ থাকে। সব মিলিয়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও সবকিছু থেকে দূরে থাকতে পারি। ঠিক সে জন্য কাজটা করতে আমি ভীষণ এনজয় করি। কাজের চেয়ে ভালো থেরাপি সত্যিই আর অন্য কিছু নেই।’

সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে
সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে

কঠিন সময় সমালে নেওয়া, বিশেষ করে সন্তান সহজকে সামলানো প্রিয়াঙ্কার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় সেই স্পেসটা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। আমিও কাজে ফিরেছি। সহজও স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। পড়াশোনা নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। আমি সত্যিই জানি না সহজ কেমন আছে। কারণ, আমি যেটাই বলব, সেটা অনুমান করে বলা হবে। সেটা উচিত হবে না। আমি সহজকে সময় দিয়েছি। ওর নিজের ভাবনাগুলোকে একটু গোছাতে শিখুক। সহজের যদি মনে হয় এই সময়টা ও কী ভাবে ডিল করল সেটা বলতে চায়, তখন নিজেই বলুক। তার আগে নয়। আমরা শুধু চেষ্টা করছি একে-অন্যের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকতে। সেটা শুধু সহজ নয়। গোটা পরিবার, কাছের মানুষদের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। যে যার নিজের মতো করে ফিগার আউট করার চেষ্টা করছি।’

রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ আলোচিত হয়েছিল। অনেক ভক্ত অনুরোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা যেন পডকাস্টটি চালিয়ে নিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘প্রত্যেককে ধন্যবাদ “সহজ কথা”কে এতটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। এখনো ভালোবাসা পাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বলছি, এই অনুষ্ঠানে রাহুলের যে ক্রিয়েটিভ কন্ট্রিবিউশন, ওর তৈরি করা বন্ধুত্ব, রাহুলের হিউমার, লেখা, পড়াশোনা এগুলোই থেকে যাক। সহজ কথার সাফল্যের নেপথ্যে রাহুলের অনেক রিসার্চ, পড়াশোনা রয়েছে। যেটা একেবারেই সহজ ছিল না। সেটা আলাদা সম্মান ডিজার্ভ করে। তাই আমি আর সেখানে হাত দেব না।’

পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে সব সময়ই আলোচনা থাকে। অনেক অভিনয়শিল্পী এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না, কেউ আবার চরিত্রের প্রয়োজনে আপত্তি করেন না। ইদানীং ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরের মাধ্যমে করা হলেও একসময় এসবের চল ছিল না। তখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে ঘটত নানা ঘটনা। সম্প্রতি তেমনই একটি ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন অভিনেতা আন্নু কাপুর।

ঘটনা বহু বছর আগের। অভিনেতার দাবি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন নায়ক। ইউটিউবের একটি শোয়ে এসে অতীতের এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ‘আমি দেখেছি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করার সময় নায়ক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। এতটাই যে পরিচালক কাট বলার পরও থামছিলেন না।

কোনো উপায় না দেখে নায়িকা নিজেই কোনোক্রমে সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। সেই ঘটনায় নায়িকা বেশ ভয় পেয়ে যান। মন একদম চুরমার হয়ে গিয়েছিল, দুই দিন ঘর থেকে বের হননি।’

তবে কোন সিনেমার শুটিংয়ে এ ঘটনা ঘটেছিল বা অভিনয়শিল্পী কারা ছিলেন, সেটা জানাননি অভিনেতা।

‘সাত খুন মাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন আন্নু কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোলাজ
‘সাত খুন মাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন আন্নু কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোলাজ

সে ঘটনা প্রসঙ্গে আন্নু কাপুর আরও বলেন, ‘আমি প্রকাশ্যে নাম বলতে পারব না। তবে ওই অভিনেত্রী এই সাক্ষাৎকার দেখলে আমার বক্তব্যকে সমর্থন করবেন।’
ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতা আছে আন্নু কাপুরেরও। সেটা ২০১১ সালে, ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমার। চিত্রনাট্য অনুযায়ী একটি চুম্বনদৃশ্যে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও আন্নু কাপুরের অভিনয়ের কথা ছিল। কিন্তু ‘দেশি গার্ল’-এর সম্মতি ছিল না।

সে প্রসঙ্গে আন্নু বলেন, ‘বিশাল (সিনেমার পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ) বলেছিলেন, দৃশ্যটি গল্পের জন্য জরুরি, তাই বাদ দেওয়া যাবে না। পরে টিমের তরফে জানানো হয়, তিনি (প্রিয়াঙ্কা) স্বচ্ছন্দ নন। আমার কোনো সমস্যা ছিল না কিন্তু কীভাবে যে খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটা আজও জানি না। পেশাদার অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করি। যদি কোনো অভিনেত্রী নার্ভাস থাকেন, আমি শুধু জিজ্ঞেস করি তিনি ঠিক আছেন কি না। এর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করি না। কারণ, তাতে তিনি আরও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

সবচেয়ে ধনী দক্ষিণি নায়িকাদের কথা এলে অনেকেই হয়তো আনুশকা শেঠি, সান্থামা রুথ প্রভু বা তামান্না ভাটিয়ার কথা বলবেন। কিন্তু তাঁরা নন, সবচেয়ে ধনী দক্ষিণি নায়িকা আরেকজন। কে তিনি? হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে-

[caption id="attachment_272742" align="alignnone" width="986"] দক্ষিণের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রী নয়নতারা। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২০০ কোটি রুপি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

নয়নতারা একজন জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী এবং তিনি ‘দক্ষিণের লেডি সুপারস্টার’ নামে পরিচিত। বেশ কয়েকটি দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করার পর তিনি ২০২৩ সালে ‘জওয়ান’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।।

[caption id="attachment_272743" align="alignnone" width="991"] ‘বাহুবলী’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া আনুশকা শেঠি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। ফেসবুক থেকে[/caption]

আনুশকা বেশ কয়েকটি হিট দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছেন, কিন্তু ‘বাহুবলী’র মাধ্যমেই তিনি বিশ্বব্যাপী সাফল্য পান। জানা যায়, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩৫ কোটি রুপি। তামান্না ভাটিয়া আছেন তিন নম্বরে। তিনি দক্ষিণ ভারতীয় এবং হিন্দি—উভয় চলচ্চিত্রেই দুর্দান্ত কাজ করছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১১০–১২০ কোটি রুপি

[caption id="attachment_272746" align="alignnone" width="987"] এরপরে রয়েছেন সামান্থা রুথ প্রভু। ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

সামান্থাও এখন হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। তাঁর জনপ্রিয় হিন্দি প্রজেক্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ ও ‘সিটাডেল হানি বানি’। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সামান্থার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১১০–১২০ কোটি রুপি।

[caption id="attachment_272745" align="alignnone" width="988"] তৃষা কৃষ্ণান তামিল ও তেলেগু সিনেমার আলোচিত অভিনত্রী। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫-১০০ কোটি রুপি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_272744" align="alignnone" width="991"] এরপরে রয়েছেন কাজল আগরওয়াল, যাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৫ কোটি রুপিইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

দক্ষিণি অভিনেত্রীদের মধ্যে সুপারস্টার বলা হতো সামান্থা রুথ প্রভুকে। দিয়েছেন একের পর হিট, জয় করেছেন লাখো ভক্তদের হৃদয়। লম্বা সময় ধরে প্রেম করার পর ২০১৭ সালে দক্ষিণি তারকা নাগ চৈতন্যকে বিয়ে, ২০২১ সালে বিচ্ছেদ আর ২০২২ সালে বিরল অটোইমিউন রোগ মাইয়োসিটিসে আক্রান্ত হয়ে বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন সামান্থা। এরপর অতি সম্প্রতি আবার করলেন বিয়ে। সবকিছুর মাঝে নিজের ফিটনেস রেখেছেন আগের মতোই। অভিনয়দক্ষতা তো বটেই, স্টাইল আর আবেদনের দিক থেকেও তিনি কম যান না। আজ এই সুন্দরী ডিভার ৩৯ তম জন্মদিনে তাঁর বোল্ড আর আকর্ষণীয় লুকগুলো দেখে নেওয়া যাক তবে।

সবুজ শেডের এই টাইমলেস ড্রেসকে সামান্থা যেন নতুন এক মাত্রা দিয়েছেন। স্ট্র্যাপি গাউনটির পুরোটা জুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম বিডেড ডিটেইলিং। শিমারিং টেক্সচার ও নিখুঁত কারুকাজ পুরো লুকটিকে দিয়েছে গ্ল্যামারাস আবেদন।

 

চকোলেট কাটআউট গাউনে মোহ ছড়াচ্ছেন

 

প্রি-ড্রেপড ল্যাভেন্ডার শাড়ির সঙ্গে আকর্ষণ কাড়ছে তাঁর ব্রালেট আর বিডসে সজ্জিত কেপ।

 

শাড়ির সৌন্দর্য আর স্টেটমেন্ট ব্লাউজ দুটোই সুন্দরভাবে ক্যারি করেছেন সামান্থা

 

ডেনিম ব্রালেট আর নেটের ফ্লেয়ার প্যান্ট পরেছেন সামান্থা

 

লাল সিকুইনের লেহেঙ্গা পরেছেন এই সুন্দরী দক্ষিণি অভিনেত্রী

 

আইভরি ফুলেল টপ আর হাইওয়েষ্ট বটমের লুকে শুভ্র আবেদন কাড়ছেন তিনি

 

এখানে বোল্ড ও গভীর ভি নেকলাইনের কালো বডিস্যুট পরেছেন সামান্থা

 

মভ শেডের এই আউটফিটে স্টানিং লাগছে তাঁকে। অফ-শোল্ডার, ফুল-স্লিভ ক্রপ টপের সঙ্গে হাই-ওয়েস্টেড স্কার্ট পরেছেন সুন্দরী

 

কালো স্যুটের সঙ্গে শার্টবিহীন লুকে আবেদনময়ী বসলেডি সামান্থা

 

মিডনাইট ব্লু, ফ্লোরছোঁয়া গাউনে সামান্থা। ফিগার-হাগিং সিলুয়েট, ডিপ নেকলাইন এবং স্লিভলেস স্টাইলের পাশাপাশি গাউনের সামনের অংশের ডায়মন্ড আকৃতির কাটআউট ডিজাইনটি বিশেষ আবেদন যোগ করেছে তাঁর লুকে।

লেমন-গ্রিন শেডের শাড়িতে ফুলেল নকশা, কপালে ছোট্ট টিপে ভিন্ন সাজে দেখা দিলেন অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া ছবিতে থাকল আরও তথ্য।

[caption id="attachment_272584" align="alignnone" width="712"] ছবি পোস্ট করে লগ্নজিতা চক্রবর্তীর গান থেকে ধার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি জলছবিতে আঁকবো তোমার ইতঃস্তত’শিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272585" align="alignnone" width="720"] ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছবিতে ১১ হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট পড়েছে। সাড়ে পাঁচ শতাধিক মন্তব্য জমা পড়েছেশিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272586" align="alignnone" width="722"] রাজু আহমেদ নামে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘“আমাদের গল্প” নাটক দেখার পর থেকে আমি তোমার উপর ক্রাশ খেয়েছি।’ সোহরাব পলাশ নামে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘সুনেরাহ্ আমার একজন পছন্দের অভিনেত্রী।’শিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272582" align="alignnone" width="722"] গতকাল আরেক ছবি পোস্ট করেছেন সুনেরাহ্শিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272583" align="alignnone" width="722"] পোস্টে ৬ হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট পড়েছে, সাড়ে তিন শ মন্তব্য এসেছেশিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় একই বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদসহ অন্যরা মানবিক বিবেচনায় তাঁর জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুদীপ চক্রবর্তীকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তাঁর রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে।

গতকাল রোববার বাড্ডা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করে পুলিশ। পরে বাড্ডা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন মিমোর বাবা। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গতকাল বলেন, শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। তবে সেই কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন।

শিক্ষার্থীরা তো বটেই, পয়লা বৈশাখে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এনএসইউএসএস) আয়োজন দেখতে এখন অন্য ক্যাম্পাসের অনেকেও অপেক্ষায় থাকেন। বিশেষ করে এনএসইউয়ারদের ফ্ল্যাশমবের ভিডিও যে অনলাইনে সাড়া ফেলবে, সেটা এখন একরকম রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এবার পয়লা বৈশাখে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন একজন, তিনি মালিহা মাসফিরাত, ডাকনাম মেধা। রুনা লায়লা ও প্রীতম হাসানের গাওয়া ‘জ্বালা জ্বালা’ গানের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত নেচে মেধা এরই মধ্যে নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। মেধাকে চেনেন না, জানেন না, এমন অনেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘লাল জামা পরা মেয়েটা দারুণ!’

ভিডিওটা হয়তো আপনিও দেখেছেন। পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন বাংলা গানের সঙ্গে নেচেছে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের বেশ বড় একটা দল। তবে মেধার আলাদা করে নজর কাড়ার কারণ আছে। ঝলমলে হাসি আর একাগ্রতাই বলে দিচ্ছিল, ‘জ্বালা জ্বালা’ গানে নাচের দলটাকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিস্তারিত জানতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে। এই যে বেশ একটা ‘তারকাখ্যাতি’ ছড়িয়ে পড়ল, ব্যাপারটা কেমন উপভোগ করছেন? নাচের সঙ্গে তাঁর পথচলাটাই–বা কেমন?

দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি
দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি, ছবি: মেধার সৌজন্যে

নাচের প্রথম অধ্যায়

মেধা বড় হয়েছেন নওগাঁয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সুলতান মাহমুদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাচের তালিম নেওয়া শুরু। তবে একটু যখন বড় হলেন, পড়ালেখার চাপ বাড়ল, ধীরে ধীরে থেমে গেল নাচের চর্চা। দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি।
মেধা বলেন, ‘আমার বেসিক ছিল ক্ল্যাসিক্যাল। ছোটবেলায় আমি মূলত ভরতনাট্যম আর কত্থক বেশি করতাম। এরপর অনেক দিন নাচ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে পড়াশোনার কারণে। কিন্তু নাচটা কখনোই আমার ভেতর থেকে হারিয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হলো, এখন আবার শুরু করা উচিত। তারপর আলিফিয়া স্কোয়াডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুনভাবে নাচ শুরু করি, নিজেকে আরও ভিন্ন ঘরানায় গড়ে তোলার সুযোগ পাই।’

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব, ছবি: মেধার সৌজন্যে

বড় দলের চ্যালেঞ্জ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব। পুরো পারফরম্যান্সের কোরিওগ্রাফি, মঞ্চ পরিকল্পনা এবং দলীয় সমন্বয়ের একটি বড় অংশ ছিল তাঁর নেতৃত্বে। ‘জ্বালা জ্বালা’ ও ‘মহা জাদু’—দুটি গানে কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। পাশাপাশি অন্য গানগুলোয়ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

মেধা জানালেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রায় ৮০ জনের বিশাল দলটাকে এক ছন্দে আনা, কেননা তাঁদের বেশির ভাগই পেশাদার নৃত্যশিল্পী নন। সবার সহযোগিতায় চ্যালেঞ্জ উতরেছেন তিনি। বলছিলেন, ‘যেহেতু বেশির ভাগই নন-ড্যান্সার, সবাইকে স্টেপ শেখানো, আবার সবাই মিলে একসঙ্গে প্র্যাকটিস করা, বিষয়টা একদমই সহজ ছিল না। কিন্তু সবাই খুব সাহায্য করেছে। তাই ধীরে ধীরে সহজ হয়ে গেছে।’

মহড়ার সময়ও মেধা ভাবতে পারেননি, নাচটা এত সাড়া ফেলবে। বলছিলেন, ‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়। যদি সবাই এক তালে করতে পারে, তাহলে খুব সাধারণ স্টেপও দারুণ লাগে। পুরো পারফরম্যান্সটাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। আমরা সব সময় এটায় মনোযোগ দিয়েছি। সে জন্য হয়তো সবাই পছন্দ করেছে।’

‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়,’ বলেন মেধা।
‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়,’ বলেন মেধা। ছবি: মেধার সৌজন্যে

বড় পর্দার স্বপ্ন

মেধা শুধু নাচের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নন। মডেল হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন। ফটোশুটের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের প্রকল্পের সঙ্গে। টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) ও ওভিসিতেও (অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল) এখন তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। ক্যামেরার সামনে কাজ করার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ধাপে ধাপে এগিয়ে দিচ্ছে স্বপ্নের দিকে।

অভিনয়জগতে মেধার যাত্রা শুরু হয় জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর মাধ্যমে। কোনো আনুষ্ঠানিক অডিশন ছাড়াই, একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের আহ্বানে তিনি যুক্ত হন এই প্রকল্পে। তবে মেধার লক্ষ্য আরও বড়। বলছিলেন, ‘নিজেকে এমন জায়গায় চাই, যাতে আমাকে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বাইরের মানুষও চিনবে। যদি সুযোগ পাই এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চাই। এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

ফুয়াদ পাবলো