বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে নিজের একটি অলিখিত নিয়ম মেনে চলেছেন—পর্দায় চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গল্পের চাহিদা বদলায়, চরিত্রের গভীরতাও বাড়ে। সেই জায়গা থেকেই শেষ পর্যন্ত নিজের দীর্ঘদিনের ‘নো কিসিং পলিসি’ ভেঙেছেন তিনি, ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোঁকা’–এর জন্য।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল নিজেই এই সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প খুলে বলেছেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি মোটেই সহজ ছিল না। বরং শুটিংয়ের আগপর্যন্ত ভেতরে–ভেতরে অস্বস্তি কাজ করছিল। তিনি বলেন, ‘আমি খুব অস্বস্তি বোধ করছিলাম। যতক্ষণ না সেটে দাঁড়াচ্ছি, ততক্ষণ বুঝতেই পারছিলাম না, আমি সত্যিই এই দৃশ্যটা করব কি না।’

কাজল জানান, স্ক্রিপ্টে দৃশ্যটির গুরুত্ব তিনি বুঝেছিলেন শুরু থেকেই। কিন্তু ক্যামেরা অন হওয়ার পর নিজেকে সেই জায়গায় নেওয়া—সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনও মুহূর্ত এসেছিল, যখন মনে হয়েছিল, মাঝপথেই হয়তো থেমে যাবেন। তবু শেষ পর্যন্ত পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর অভিষেক সিরিজ ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোঁকা’–তে কাজল অভিনয় করেছেন নয়নিকা সেনগুপ্ত চরিত্রে—একজন গৃহবধূ, যে স্বামীর কেলেঙ্কারির পর নতুন করে আইনজীবী হিসেবে নিজের জীবন শুরু করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়, সামাজিক চাপ এবং পেশাগত লড়াই—সব মিলিয়ে চরিত্রটি বহুমাত্রিক।

‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি

সিরিজটি মূলত মার্কিন টিভি শো ‘দ্য গুড ওয়াইফ’–এর ভারতীয় রূপান্তর। এর ফলে গল্পের কাঠামো এবং আবেগের গভীরতায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপও ছিল নির্মাতাদের ওপর। কাজলের মতে, তাঁর চরিত্রের মানসিক যাত্রা ও আবেগের টানাপোড়েন বোঝাতে ওই চুম্বন দৃশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সহ-অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তর সঙ্গে সেই দৃশ্যে অভিনয় করেন কাজল। সিরিজে যীশু অভিনয় করেছেন রাজীব সেনগুপ্ত চরিত্রে, যে নয়নিকার স্বামী। এই দৃশ্য মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে—বিশেষ করে কাজলের দীর্ঘদিনের অবস্থান বিবেচনায়।

‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
 

পডকাস্টে কাজল আরও বলেন, ‘এটা কোনো ব্যক্তিগত নীতি ভাঙার বিষয় ছিল না। বরং চরিত্রের জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করেছি। যদি এই দৃশ্য বাদ দিতাম, তাহলে চরিত্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকই হারিয়ে যেত।’

কাজল স্পষ্ট করে দেন, সিদ্ধান্তটি আবেগ বা হঠকারিতা থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ পেশাদার বিবেচনায় নেওয়া। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার কাজই হলো চরিত্রকে পূর্ণতা দেওয়া—সে জন্য কখনো কখনো নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমাও অতিক্রম করতে হয়।

তবে ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যে অভিনয় করবেন কি না—সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি কাজল। বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তই নির্ভর করবে গল্প, চরিত্র ও পরিস্থিতির ওপর।

তিন দশকের ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুচকুচ হোতা হ্যায়’, কিংবা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’–এর মতো সুপারহিট প্রেমের ছবিতে অভিনয় করেও কাজল তাঁর এই নীতি অটুট রেখেছিলেন। তাই ‘দ্য ট্রায়াল’–এ সেই নিয়ম ভাঙার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের কাছে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে কাজলের এই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে—অভিনয়জগতে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পেশাদার দায়বদ্ধতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য কীভাবে কাজ করে। আর সেই ভারসাম্য রক্ষা করেই একজন অভিনেতা নিজের সীমা ভেঙে নতুন জায়গায় পৌঁছান।

চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বাবা দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই এই নায়িকা সম্পৃক্ত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

পূজা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেপ্তার এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ফোন এবং বার্তায় জানতে চাইছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’

পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

দীর্ঘ প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ার পূজার। এই সময়ে তিনি কখনোই এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।’

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই নায়িকা আরও লিখেছেন, ‘আমার বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি আমি বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নই।’

পূজা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শিল্পী হিসেবে তিনি সব সময় দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। কিন্তু পরিবারের এমন ঘটনা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে।’

এমন ঘটনায় অনেকেই এই অভিনেত্রীকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে পূজা লিখেছেন, ‘এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে চাই।’

মামলাটি নিয়ে সবশেষে পূজা চেরীর মন্তব্য, ‘মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন।’

কেউ এসেছিলেন একা, কেউ সপরিবার। লালগালিচায় তারকাদের টুকরা গল্প নিয়ে এই আয়োজন।

প্রথম অতিথি
ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৪টা ২০ মিনিট। লালগালিচার প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

[caption id="attachment_272411" align="alignnone" width="622"] লালগালিচার প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।[/caption]

‘অচল’ গল্পে বিশ্বাস
স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে এবার সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ। আলোচিত ‘তোমাদের গল্প’র জন্য এ পুরস্কার পান তিনি। পুরস্কার গ্রহণ করে ‘অচল’ গল্পে বিশ্বাস রাখার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই তাঁর লেখা নিতে চাইতেন না। তিনি বলতেন, ‘অচল গল্প’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ‘অচল গল্প’ দিয়েই পুরস্কার জিতলেন!

[caption id="attachment_272410" align="alignnone" width="622"] ‘জিম্মি’র জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছে জয়া আহসান।[/caption]

এত দিন পরে প্রথম
ঢাকা আর কলকাতা মিলিয়ে অনেক সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। অথচ তিনিই কিনা প্রথমবারের মতো জিতলেন পুরস্কার! অবাক হবেন না, জয়া প্রথমবার মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার পাননি; পেয়েছেন প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে। গত বছর আশফাক নিপুনের ‘জিম্মি’ দিয়ে সিরিজে অভিষেক, আর সেটা দিয়েই জয়া জিতেছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। পুরস্কার নিতে নির্মাতা আশফাক নিপুনকে নিয়েই মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।

কন্যার জন্য কন্যা
গত বছর কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন ইমরান মাহমুদুল। এবার তিনি ‘জ্বীন–৩’ সিনেমার গান ‘কন্যা রে’র জন্য পেয়েছেন সেরা গায়কের পুরস্কার। মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করে ইমরান বলেন, ‘“কন্যা রে” গানের জন্য পুরস্কার পেলাম, গত বছর আমিও কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছি।’

[caption id="attachment_272412" align="alignnone" width="622"] কেয়া পায়েল।[/caption]

টোলরহস্য
মঞ্চে তখন কেয়া পায়েল। এবার এটা ‘আমাদেরই গল্প’র জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন তিনি। সঞ্চালক নিশো মজা করে বলেন, আগে কেয়ার টোল ছিল একটা, পরে হয়ে গেল দুইটা। কেয়ার টোলরহস্য জানতে চান। মজা করে কেয়াও উত্তর দেন, ‘দুই গালে টোল, লল লল লল।’

‘তিন বছর আগে প্রথম যখন মেরিল-প্রথম আলোতে একদম পিছনে বসেছিলাম, ভয়ে ছিলাম। কারণ, পর্দার সব মানুষগুলো চোখের সামনে। দ্বিতীয়বার আরেকটু ভালো লাগছিল। গত বছর হাজবেন্ডের সঙ্গে এসেছি। সবাই বলত, তোমার হাতেও একটা অ্যাওয়ার্ড দেখতে চাই। আজকের তৃতীয় বছরে এসে পুরস্কারটা আমার হাতে।’ পুরস্কার জেতার পর বলছিলেন শাম্মি ইসলাম নীলা।

পুরস্কার গ্রহণ করে নীলা আরও বলেন, ‘আজ পুরস্কার আমার হাতে। জানি না, এই গল্প কতজনকে অনুপ্রাণিত করবে; কিন্তু আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করবে। আপনাদের কাছে ভালো ভালো কাজ নিয়ে মঞ্চে বারবার ফিরে আসতেই চাই।’

এরপর তিনি ‘ফার্স্ট লাভ’ নির্মাতা হাসিন হোসাইন রাখি, সহ-অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি।

গত বছরের ২৮ নভেম্বর ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় ‘ফার্স্ট লাভ’। আজ সকাল পর্যন্ত নাটকটির ভিউ ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি।

সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন বলে খবর দেন। এরই মধ্যে আরও এক ভারতীয় অভিনেত্রী সুখবর শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়
পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি: ইনস্টাগ্রাম
 

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে স্বামী কুণাল ভার্মার সঙ্গে এই সুখবর জানান পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, তিনি আবার গর্ভবতী। ভ্লগে নিজেই পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি—যেমনটা সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনও সামাজিক মাধ্যমে করেছিলেন।

২০২০ সালের অক্টোবরে পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ভার্মার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান কৃষভ। বিয়ের চার বছর পর এবার আবারও নতুন সদস্য আসছে তাঁদের পরিবারে। বর্তমানে নতুন অতিথিকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ভ্লগে শুধু আনন্দের কথা নয়, এক সন্তান থাকার পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো আসে, সেগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পূজা ও কুণাল ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে সেই সময় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করে তাঁরা বিয়ের বাজেট দান করেছিলেন সমাজসেবায়।

দেবের বিপরীতে ‘চ্যালেঞ্জ ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। তাঁকে আরও দেখা গেছে, ‘রকি’, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মতো সিনেমায়। ‘পাপ’, ‘ক্যাবারে’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে।
‘কাহানি হামারে মহাভারত কি’, ‘তুঝ সাং প্রীত লাগাই সাজনা’–এর মতো হিন্দি সিরিয়ালেও দেখা গেছে পূজাকে। ‘বাংলা ড্যান্স বাংলা ড্যান্সে’র বিচারকও ছিলেন পূজা।

হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাঁদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলারই এক নতুন স্বীকৃতি। তবে এই দীপ্তির পেছনে রয়েছে নিজের সঙ্গে লড়াই, বদলে যাওয়ার সাহস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের গল্প।

কভার শুটের সেটে তখন বাজছে ব্যাড বানি, বিলি আইলিশ, ম্যাডোনা—এই তিন তারকার মিশ্রণে তৈরি প্লে লিস্ট। বাতাসে উড়ছে তাঁর পোশাকের পালক, আলো-ছায়ার খেলায় তৈরি হচ্ছে এক অনায়াস সৌন্দর্য। কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্য সব সময় ছিল না। একসময় নিজেকেই নিজের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক মনে করতেন তিনি।
হ্যাথাওয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই তিনি ভালো শিল্পী হতে পারবেন। কিন্তু চল্লিশে পা দেওয়ার পর যেন জীবনের গিয়ার বদলে যায়। তখন আর নিখুঁত হওয়ার চাপে নয়; বরং আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’

এ উপলব্ধি আসলে হ্যাথাওয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই ফল। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘লা মিজারেবলস’-এর জন্য জিতেছেন অস্কারও।

২০২৬ সালটা হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। এক বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফেরা, এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাঁর সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও—মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।

[caption id="attachment_272132" align="alignnone" width="582"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

ব্যক্তিগত জীবনে হ্যাথাওয়ে কৃতিত্ব দেন তাঁর স্বামী অ্যাডাম শুলমানকে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, দুই সন্তান—সব মিলিয়ে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকেই তিনি ভালোবাসেন।

সৌন্দর্য সম্পর্কে হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিততাও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’ এ সংজ্ঞা যেন তাঁর নিজের জীবনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অপূর্ণতা লুকিয়ে না রেখে বরং তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে গেছেন তিনি।

[caption id="attachment_272131" align="alignnone" width="587"] ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’–এর প্রিমিয়ারের অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হতো।

ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।

‘দ্য ডেভিল ওয়াররস প্রাডা’র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম মজার সময়। যদিও তখন তিনি চাপ আর উদ্বেগে ছিলেন, তবু সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মেরিল স্ট্রিপের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম, যিনি সব সময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান।

[caption id="attachment_272130" align="alignnone" width="587"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

বয়স বাড়া নিয়েও হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। চল্লিশের পর তিনি বুঝেছেন, জীবনের উত্থান-পতনকে একটু দূরত্ব থেকে দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়। আগে যেখানে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতো, এখন তিনি অনেক বেশি শান্ত ও স্থির।

নিজের সৌন্দর্যচর্চা নিয়েও হ্যাথাওয়ের সহজ স্বীকারোক্তি আছে। ভালো কিছু খুঁজে নেওয়া—এটাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, ‘খারাপ পরিবেশ খুব নিষ্ঠুর। এটা ভেতরে নেতিবাচকতা তৈরি করে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পিপল ডটকম অবলম্বনে

আবার রেশন দুর্নীতি মামলায় ভারতের অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব করল দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ২৩ এপ্রিল পশ্বিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগেই ইডির তরফে ২২ তারিখ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নায়িকাকে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি বিশেষ সূত্র ধরে রেশন দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীর নাম উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে যখন বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ উঠেছিল, সে সময়ে নুসরাত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন। সে সময়ে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখতেই টালিউড অভিনেত্রীকে আগামী বুধবার ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কলকাতা না দিল্লি—কোন দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত? সেই বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শোনা যাচ্ছে, কলকাতায় নয়, বরং দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত জাহান। সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল ইডির পক্ষ থেকে কলকাতার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিনেত্রীই বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরার আরজি জানিয়েছেন।

যশ-নুসরাত দিন কয়েক ধরেই বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই তাঁদের ভ্রমণবিলাসের ঝলক দেখা যাচ্ছে নেট–ভুবনে। এমতাবস্থায় ইডির সমন পেলেন নুসরাত জাহান। উল্লেখ্য, অতীতেও ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
নতুন করে ইডির তলব বিষয়ে অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে

অস্কারজয়ী হলিউড তারকা শার্লিজ থেরন সম্প্রতি তাঁর জীবনের এক গভীর ও মর্মান্তিক অধ্যায় নিয়ে নতুন করে মুখ খুলেছেন। একটি ঘটনা, যা তাঁর কৈশোরকে বদলে দিয়েছিল চিরতরে। তবে বিস্ময়করভাবে সেই ভয়াবহ স্মৃতির মধ্যেও তিনি আজ নিজেকে ‘আতঙ্কিত’ মনে করেন না; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধরনের গল্প বলা জরুরি, যাতে অন্যরা নিজেদের একা মনে না করে।

১৯৯১ সাল, তখন থেরনের বয়স মাত্র ১৫। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁদের বাড়িতে এক রাতে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। তাঁর বাবা চার্লস থেরন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে এসে চরম উত্তেজিত ও সহিংস আচরণ করতে থাকেন। পারিবারিক অশান্তি তাঁর জীবনে নতুন ছিল না, কিন্তু সেদিনের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন—অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক।
থেরন স্মৃতিচারণা করে বলেন, সেই রাতে আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বাবার আচরণ, গাড়ি চালানোর ভঙ্গি—সবকিছুতেই ছিল একধরনের অস্থিরতা ও হুমকির ইঙ্গিত। তিনি নিজের ঘরে আলো নিভিয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলেন।একপর্যায়ে তাঁর বাবা অস্ত্র হাতে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দরজায় গুলি চালান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন সহিংস বাস্তবতারই প্রতিফলন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

এই অবস্থায় থেরন ও তাঁর মা গেরদা মরিৎজ আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে নেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নেন এবং দরজা ধরে রাখেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য তিনি গুলি চালান—যাতে চার্লস থেরন নিহত হন।

এ ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও শার্লিজ থেরন বলেন, তিনি এটিকে এমনভাবে দেখেন না যে এটি তাঁকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে; বরং তিনি মনে করেন, এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা অনেক পরিবারেই ঘটে, কিন্তু খুব কমই প্রকাশ্যে আসে।

থেরনের ভাষায়, ‘এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কথা বলা উচিত। কারণ, এতে অন্যরা বুঝতে পারে যে তারা একা নয়।’ তিনি মনে করেন, পারিবারিক সহিংসতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা প্রায়ই গুরুত্ব পায় না—বিশেষ করে নারীদের অভিজ্ঞতা অনেক সময় উপেক্ষিত হয়।

এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই থেরনকে পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

পিপলডটকম অবলম্বনে

ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস আর নেই। ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। জনপ্রিয় পুলিশি থ্রিলার ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি
‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি

নাদিয়ার দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।’ ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাঁরা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

পরবর্তী সময়ে হলিউডেও কাজ করেন নাদিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার’-এ ‘এজেন্ট জেড কিনলার’ চরিত্রে এবং একই বছরে ‘স্টর্ম ওয়ার্নিং’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া। পরে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন আবারও মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানিয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘোষণার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীপিকার সেই পুরোনো বক্তব্য; যেখানে তিনি বলেছিলেন মাতৃত্বই তাঁর জীবনের ‘সেরা চরিত্র’।

আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি—ছোট্ট হাতের মুঠোয় ধরা একটি ‘প্রেগন্যান্সি কিট’। আর সেই ছবিই এখন বলিউডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র। দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন—এই সুখবরটি নিজেই জানালেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের হাতে ধরা রয়েছে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। কোনো দীর্ঘ ক্যাপশন নয়, খুবই সংযত ভঙ্গিতে এই ছবির মাধ্যমেই সুখবরটি জানান অভিনেত্রী। মুহূর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়, ভক্ত–সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া মন্তব্য করেন, ‘কনগ্রেটস!’—যা দ্রুতই নজর কাড়ে।

মাতৃত্ব নিয়ে দীপিকার ভাবনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। আগে নিজেকে ধৈর্যশীল মনে করলেও, সন্তান জন্মের পর সেই ধৈর্য ও সহনশীলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দীপিকার কথায়, মাতৃত্ব মানুষকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বের করে আনে। দীপিকা স্বীকার করেছিলেন, তিনি স্বভাবতই খুব সামাজিক ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের কারণে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে মেলামেশা, প্লে-স্কুলের পরিবেশ—সব মিলিয়ে তাঁকে নতুনভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে শিখিয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক বলেই দেখেন।

কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে
কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে

দীপিকা এই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই মা হতে চেয়েছি। আর এখন আমি আমার জীবনের সেরা চরিত্রে অভিনয় করছি।’এই এক বাক্যেই যেন তাঁর অনুভূতির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিনয়ের জগতে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করলেও, বাস্তব জীবনের এই ভূমিকাকেই তিনি সবচেয়ে পূর্ণতা দেওয়া বলে মনে করেন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দীপিকা ও রণবীরের সংসারে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান দুয়া। বেশ কিছু সময় তাঁরা মেয়েকে গণমাধ্যমের আড়ালে রেখেছিলেন। পরে দেওয়ালির সময় প্রথমবারের মতো কন্যার ছবি প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

সেই সঙ্গে এই দম্পতি জানান, ‘দুয়া’ নামটির অর্থ ‘প্রার্থনা’—যা তাঁদের জীবনে সন্তানের আগমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগের প্রতীক।

এদিকে পেশাগত জীবনেও দুজনেই রয়েছেন ব্যস্ততায়। রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে দীপিকাকে শিগগিরই দেখা যাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ ছবিতে। এ ছাড়া দক্ষিণের তারকা আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর আরেকটি বড় প্রকল্পও রয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। এই বিতর্কে সম্প্রতি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শার্লিজ থেরন। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আগামী ১০ বছরে এআই হয়তো অনেক অভিনেতার কাজই করতে পারবে, এমনকি টিমোথি শ্যালামের মতো তারকার কাজও এআই করবে। কিন্তু মঞ্চে সরাসরি পরিবেশনার বিকল্প কখনোই হতে পারবে না।

এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে টিমোথি শ্যালামের একটি মন্তব্য। সম্প্রতি এক আলোচনায় এই হলিউড অভিনেতা বলেছিলেন, অপেরা বা ব্যালেকে টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওই মাধ্যমের শিল্পীরা, তিনি চান না সিনেমার অবস্থাও অপেরা বা ব্যালের মতো হোক। শ্যালামে বলেন, সার্বিকভাবে সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ যদি দেখতে চায়, তারা নিজেরাই আসবে।

টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স
টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স

এই বক্তব্যেই আপত্তি জানান শার্লিজ থেরন। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি আলটপকা মন্তব্যই নয়, বরং দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম অপেরা ও ব্যালে সম্পর্কে একধরনের অবমূল্যায়ন। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পকে বরং আরও বেশি করে তুলে ধরা দরকার, কারণ এগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।

বিশেষভাবে নাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শার্লিজ। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, নাচ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অনুশীলনগুলোর একটি ছিল। তাঁর মতে, নৃত্যশিল্পীরা সত্যিকারের ‘সুপারহিরো’, যাঁরা নিঃশব্দে তাঁদের শরীরকে এমন এক সীমায় নিয়ে যান, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

কঠোর প্রশিক্ষণের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি—রক্তাক্ত পা, না শুকানো ক্ষত এবং প্রতিদিন একই রকম কঠিন অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। তাঁর কথায়, আপনি ছুটি পান না। জুতার ভেতর রক্ত ঝরছে, তবু থামা যাবে না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য।

এই প্রেক্ষাপটেই আসে এআই প্রসঙ্গ। অভিনেত্রী মনে করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবদেহের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া লাইভ পারফরম্যান্স—বিশেষ করে ব্যালে, তার স্বকীয়তা হারাবে না। কারণ, সেখানে শুধু দক্ষতা নয়, থাকে আবেগ, উপস্থিতি এবং মুহূর্তের সত্যতা—যন্ত্র দিয়ে যা পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।

তাঁর বক্তব্যে একধরনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চলচ্চিত্রশিল্পে এআইয়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি অভিনেতাদের কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সব শিল্পমাধ্যমকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

পাহাড়ে বৃহত্তর সামাজি উৎসব বিজু বৈসু সাংগ্রাই বিহু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা চার দিন ব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন হয় ৯ এ্রপ্রিল রাঙ্গামাটি পৌর প্রাঙ্গনে। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান উষাতন তালুকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। আরো উপস্থিত রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা।  এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নানান বয়সী ও বাহারী রঙের পোশাক পরিহিত নারী পুরষ। তাদের হাতে নানান দাবি সংবলিত প্লে কার্ড ও ব্যানার। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সাংস্কৃতি উপকরণ ডিসপ্লে করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদিবাসি ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার । সাবেক সাংসদ বিএনপি সরকারের প্রতি পার্বত্য ‍চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান জানান এবং এ ব্যাপারে জনগণকে আরো বেশি সচেতন হতে বলেন । তিনি আরো অধিকতর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।