কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডের ঈদের জামাতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান। আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে রাজ্যের সবচেয়ে বড় জামাত হয়েছে রেড রোডে।

মমতা ঈদের শুভেচ্ছা বিলানোর পর রেড রোডে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনকে মাথায় রেখে মমতা আরও বলেন, ‘এই রাজ্যে সংশোধিত নিবিড় ভোটার তালিকা (এসআইআর) প্রণয়নের নামে আপনাদের নাম কাটা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর জন্য আপনাদের পক্ষে আমার লড়াই জারি থাকবে।’

মমতা কটাক্ষ করে আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিজি হলেন ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।’ মমতা হুমকির সুরে বলেন, বাংলাকে যে টার্গেট করবে, সে জাহান্নামে যাবে। তাই মমতা এই রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আবেদন জানান। বলেন, ‘আমি ভারতীয়দের নিয়েই গর্বিত।’
প্রতিবছর কলকাতার ধর্মতলার রেড রোডে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আজ সকাল থেকে ছিল ঝিরঝিরে বৃষ্টি। তবে তাতে নামাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এসেছেন দলে দলে মুসল্লি। দেখা গেছে মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার। একবারে শিশু থেকে প্রবীণেরা ছিলেন। সবাই কোলাকুলি করেছেন।

কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা
কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: ভাস্কর মুখার্জী

নামাজ শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আবেদন জানান। মমতা বলেন, ‘এসআইআরে অনেকের নাম কাটা গেছে। আমি তাই নিয়ে লড়াই করছি। আদালতে গিয়েছি। সবার জন্য আমার এই লড়াই জারি থাকবে।’ মমতা জোরের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের অধিকার মোদিজিকে কেড়ে নিতে দেব না।’ মমতা কটাক্ষ করে এ কথাও বলেন, ‘উনি যখন সৌদি আরব বা দুবাই গিয়ে হাত মেলান, তখন মনে পড়ে না হিন্দু-মুসলমানের কথা? দেশে এলেই নাম কাটার কথা মনে পড়ে?’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডের ঈদের জামাতে গিয়ে বক্তব্য দেন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডের ঈদের জামাতে গিয়ে বক্তব্য দেনছবি: ভাস্কর মুখার্জী

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মানবতার জন্য আমাদের সবার একজোট হতে হবে। সাম্প্রদায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে। এই বাংলায় শান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে হবে।’

বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার জেরে সৃষ্ট অস্থিরতাকে তিনি এই নজিরবিহীন সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে সরকারগুলোকে আরও সরব হতে হবে। একই দিনে প্রকাশিত আইইএর এক প্রতিবেদনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানির চাহিদা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা কমানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরে বসে কাজ (হোম অফিস) চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফাতিহ বিরোল বলেন, বর্তমান সংকটের ব্যাপ্তি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর সৃষ্ট গ্যাস সংকট কিংবা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বড়— যার প্রেক্ষাপটেই আইইএ গঠিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে জ্বালানি অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় (কয়েক মাস) লেগে যেতে পারে।

আইইএ প্রধানের মতে, এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় অভিঘাতের মুখে পড়তে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে নায়িনি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, আজ ভোরে এ হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি নায়িনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজের বরাতে একই খবর জানিয়ে ‘তুর্কি টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে জেনারেল নায়িনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলা সত্ত্বেও তেহরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম।

যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করে নায়িনি বলেছিলেন, এ লড়াই চলবে। ইরানের জনগণের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে এই জেনারেল বলেন, ‘জনগণ চায়, শত্রু পুরোপুরি নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলুক।’ যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে যখন যুদ্ধের কালো ছায়া পুরোপুরি সরে যাবে, তখনই এ যুদ্ধের অবসান ঘটা উচিত।’

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইতিমধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় আরও রয়েছেন, আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি ও গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যে (ইরানে) মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। যদি পাঠাতামও, তবে নিশ্চিতভাবেই আমি আপনাদের তা জানাতাম না। কিন্তু আমি সেনা পাঠাচ্ছি না।’

ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত যাবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলার মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্য এল।

গত গ্রীষ্মে এক সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো পারমাণবিক সরঞ্জাম চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং সেগুলো জব্দ করার বিষয় আলোচনায় রয়েছে।

এ ধরনের কোনো অভিযান চালাতে হলে ইরানে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইম

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হওয়ায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

এ দেশগুলোর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির এক বড় অংশই আসে কাতার থেকে। কাতারের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস রাস লাফানে প্রক্রিয়াজাত ও সেখান থেকে রপ্তানি করা হয়।

জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজি আমদানির যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ পায় কাতার থেকে।

অন্যদিকে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত তাদের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি কাতার থেকে সংগ্রহ করে।

রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুর দিকে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কোম্পানিটির অনেক বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

সৌদি আরবের সামরেফ তেল শোধনাগারে ড্রোন বিধ্বস্ত

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের ‘সৌদি আরামকো’র সামরেফ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বর্তমানে ‘মূল্যায়ন করা হচ্ছে’।

এ ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

কুয়েতে তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা

কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলার ফলে সেখানে ‘সীমিত’ পর্যায়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কেএনএ) কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে এ ড্রোন হামলা কোথা থেকে চালানো হয়েছে, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। তেল শোধনাগারটি কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। দৈনিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই স্থাপনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির খুনিদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। লারিজানিকে হত্যার প্রায় একদিন পর বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত বিবৃতিতে লারিজানিকে একজন ‘বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি’ এবং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘এই ধরনের একজন ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ড থেকে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের শত্রুদের কাছে তিনি কতটা ঘৃণ্য ছিলেন, তা বোঝা যায়।… প্রতিটি রক্তের মূল্য রয়েছে, যা এই শহীদদের খুনিদের অচিরেই পরিশোধ করতে হবে।’

গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তাঁর পুত্রসহ নিহত হন। ওই দিন পৃথক আরেকটি হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরেকটি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খতিব ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এটাকে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ রাজনৈতিক ও সামরিক একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন।

বাবা আলী খামেনির মৃত্যুর কয়েক দিন পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।

এদিকে বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাড়তি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা

সৌদি আরবে আজ বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামী শুক্রবার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেন। এটি সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস হয়ে থাকে। ২৯ রমজান শেষে যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয় ৩০ রমজান শেষে।

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর চাঁদ দেখা নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের আলোকে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে। তার ভিত্তিতে এই দুই দেশ পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করবে। আর সিঙ্গাপুরে ঈদ উদ্‌যাপন করা হবে শনিবার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে উন্মুক্ত স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই দেশে এবার শুধু মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।

ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘চূড়ান্ত ও অনুশোচনাযোগ্য’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।

এক বিবৃতিতে আমির হাতামি বলেন, ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ) সেক্রেটারিকে হত্যার ঘটনায় ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে চূড়ান্ত ও অনুশোচনাযোগ্য।’

এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস আজ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শহীদ আলী লারিজানি ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যার রক্তের প্রতিশোধ নিতে’ মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

জো কেন্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ‘ আমার বিবেক ইরানে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে সাড়া দেয় না।’

ওই চিঠি এক্স–এ পোস্ট করা হয়েছে। কেন্ট আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি। এটি স্পষ্ট যে আমরা ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী আমেরিকান লবির চাপে এই যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি।’

সূত্র: আল–জাজিরা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য মস্কোতে অবস্থান করছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

কুয়েতের দৈনিক আল-জারিদা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় আহত হয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। চিকিৎসার জন্য তাকে রাশিয়ার রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অবস্থান প্রকাশ করেনি ক্রেমলিন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নতুন নেতা আহত হয়েছেন, তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন। তার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার প্রথম দিনে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তবে প্রাণে বেঁচে যান তার দ্বিতীয় ছেলে ও বর্তমান নেতা মুজতবা খামেনি।

গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মুজতবা খামেনি। সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান তিনি। ওই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হন।