ব্যাট হাতে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরির নাগাল পাননি টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন আক্তার।

অধিনায়কের সেঞ্চুরিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের সংগ্রহ ২৭১ রান।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। ম্যাচে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ওপেনার ফারজানা হক পিংকিও। মূলত এই তিন ব্যাটারের ইনিংসে ভর করেই নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। 

ইনিংসের শুরুতে দলীয় ১৫ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিম। এরপর শারমিনের সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি গড়েন ফারজানা। দলীয় ১১৯ রানে ফারজানার বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। ৮২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৩ রান তোলেন ফারজানা। এরপর জ্যোতির সঙ্গে ১৫২ রানের বড় জুটি গড়েন শারমিন। যেখানে জ্যোতি সেঞ্চুরি পেলেও ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন শারমিন। ৮০ বলে ১৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় জ্যোতি ফেরেন ১০১ রান করে। তার বিদায়ে বাংলাদেশ থামে ২৭১ রানে।

থাইল্যান্ডের হয়ে মায়া, পুত্তাংয়ু ও কামছম্পু নেন একটি করে উইকেট।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে না ওঠায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। গতকাল রোনালদোকে ছাড়াই বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের শেষ দুটি ম্যাচের দল ঘোষণা করেছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলতে নেমে মাংশপেশিতে চোট পান রোনালদো। এখনো সেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন তিনি। দুই সপ্তাহ ধরে মাদ্রিদে চিকিৎসা নিলেও সময়সমতো সেরে উঠতে পারেননি এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ২৮ মার্চ আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। ৩ দিন পর জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে মার্তিনেজের দল।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো আগামী বিশ্বকাপে খেলতে চান। পর্তুগাল কোচ মার্তিনেজ জানিয়েছেন, এই চোটে তাঁর বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ঝুঁকিতে পড়েনি। তাঁর ভাষায় ‘এটা ছোটখাটো চোট।’ রোনালদো আগামী ‘এক থেকে দুই সপ্তাহের’ মধ্যে মাঠে ফিরতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, ‘রোনালদো এ মৌসুমে যা করেছে, তাতে বোঝা যায় সে দারুণ এক সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। বিশ্বকাপে (পর্তুগালের) সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গনসালো রামোসের জন্য থাকবে। তাদের বাইরে আমরা একজন তৃতীয় স্ট্রাইকার খুঁজছি।’

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ
পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, এএফপি
 

দুটি প্রীতি ম্যাচেও যে সেই খোঁজ চলবে, সেটির ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার এটাই শেষ সুযোগ। কারণ, বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে এটাই শেষ ক্যাম্প।’

আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো
আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো,এএফপি
 

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর গোলসংখ্যাই সর্বোচ্চ। ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে সেই সংখ্যাটা তো বাড়াতে চাইবেন, রোনালদো নিশ্চিতভাবেই চাইবেন আরাধ্য বিশ্বকাপটাও জিততে।

বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে থাকা পর্তুগাল আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ।

লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা ৭৪ মিনিট ছুঁই ছুঁই। আর্সেনাল সমর্থকদের চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। এভারটনের রক্ষণে বারবার আছড়ে পড়ছে ‘গানার’দের আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই। উল্টো গোলপোস্ট আর ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েই পড়তে হতো স্বাগতিকদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগটা বুঝি এবার ফসকে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মিডফিল্ডার মার্তিন জুবিমেন্দিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামালেন ১৬ বছরের এক কিশোরকে—ম্যাক্স ডাউম্যান, যাঁর এখনো জিসিএসই পরীক্ষাই শেষ হয়নি!

আরতেতার সেই বাজিই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে দাঁড়াল। ডান দিক থেকে ডাউম্যানের এক নিরীহদর্শন ক্রস বিপক্ষ গোলরক্ষক এভারটন জর্ডান পিকফোর্ডকে ভুল লাইনে টেনে আনল। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে বল ঠেলে আর্সেনালকে এগিয়ে দিলেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ডাউম্যান যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এভারটনের এক কর্নার থেকে বল পেয়ে নিজের পায়ে ৬১.৩ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন দেখার মতো এক গোল। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডাউম্যান ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড।

আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা
আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, এএফপি
 

ডাউম্যানের ওই গোল হয়তো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়নি, গোলটি না হলেও আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতত। কিন্তু ওই গোল এবং এই মৌসুমে ‘সুপার সাব’দের কাছ থেকে পাওয়া এমন অনেক গোলেই লুকিয়ে আছে আর্সেনালের সাফল্যের একটা রহস্যও।

এবারের মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট (গোলে সহযোগিতা) পেয়েছে গানাররা। এর মানে মোট ২১টি গোলে অবদান এবার আর্সেনালের সুপার সাবদের, যা প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৭টি বেশি।

চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু ১১ জনে আসলে হয় না, লাগে এক শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। আর্সেনাল এবার ঠিক সে পথেই হাঁটছে। মার্টিন ওডেগার্ড, ইয়োকেরেস কিংবা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি—যখনই কেউ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামছেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেল্লির সমতাসূচক গোল কিংবা নিউক্যাসলের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর গোল—সবই এসেছে বেঞ্চ থেকে।

এর ঠিক উল্টো চিত্র ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেপ গার্দিওলার হাতে চেরকি, ডকু, ফোডেন বা রেইন্ডারসের মতো তারকা থাকলেও তাঁরা বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। এই মৌসুমে সিটির বদলি খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন মাত্র একটি, সেটিও সেই উদ্বোধনী সপ্তাহে উলভসের বিপক্ষে। এরপর ২৯ ম্যাচে সিটির কোনো বদলি খেলোয়াড় জালের দেখা পাননি। অথচ গত শনিবার ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ড্র ম্যাচেও ডকু-ফোডেনদের নামিয়েছিলেন পেপ, কিন্তু লাভ হয়নি।

 
আর্সেনাল এখন সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। গার্দিওলার হাতে রত্নভান্ডার থাকলেও সেটা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে আরতেতা তাঁর তুরুপের তাসগুলো ব্যবহার করছেন নিখুঁতভাবে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের গড়া বদলিদের ২৫ গোলের অবদানের রেকর্ডটি এবার ভেঙে দিতে পারে আর্সেনাল।

কে জানে, আরতেতার এই সুপার সাবরাই হয়তো শেষ পর্যন্ত এমিরেটসে উৎসবের আবির ওড়াবেন!

কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে সংশয় ছিল। চোট কাটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কি পারবেন নীল জার্সিতে ফিরতে? সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল দিদিয়ের দেশম ঘোষণা করেছেন ফ্রান্স দল। সেখানে যথারীতি সেনাপতি হিসেবে থাকছেন এমবাপ্পেই।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল গড়েছে ফরাসিরা। ২৬ মার্চ ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর তিন দিন পর ওয়াশিংটন ডিসিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়বে তারা। এ দুই ম্যাচের জন্যই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে দলে টেনেছেন দেশম। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রিয়ালের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরই এমবাপ্পের ফিটনেস নিয়ে সবুজ সংকেত পান কোচ।

এমবাপ্পের ফেরা নিয়ে দেশমও স্বস্তিটা লুকাতে পারেননি। বললেন, ‘সব নিয়ম মেনেই ওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। ওর আসার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, কিন্তু কিলিয়ান নিজে থেকেই আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল।’

২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ের ওপর আস্থা হারাননি দেশম।
২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ের ওপর আস্থা হারাননি দেশম।ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন

এমবাপ্পেকে রাখা ছাড়াও বড় ঘটনা দলে লুকাস শেভালিয়ের টিকে যাওয়া। পিএসজিতে কয়েক ম্যাচে নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পর রুশ গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনোভের কাছে জায়গা হারিয়েছেন তিনি। বসে থাকতে হচ্ছে বেঞ্চে। তবু ২৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের ওপর আস্থা হারাননি দেশম। কোচের ব্যাখ্যাটা বেশ চমৎকার, ‘মাঝে মাঝে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা ক্লাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমার কাজ। এটা বিশ্বাসের ব্যাপার। গত চার মাসে তো আর ওর সামর্থ্য হারিয়ে যায়নি।’

লিভারপুলের উগো একিতিকে এবং ম্যানচেস্টার সিটির রায়ান শেরকিকে নিয়ে আক্রমণভাগকে বেশ ধারালো করেছেন দেশম। ব্র্যাডলি বারকোলা গোড়ালির চোটে ছিটকে যাওয়ায় কপাল খুলেছে রানদাল কোলো মুয়ানির। টটেনহামের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করে নিজের ফেরার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের জুনে জার্মানির বিপক্ষে নেশনস লিগের পর আর ফ্রান্সের হয়ে খেলা হয়নি তাঁর। দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মুয়ানির সঙ্গে তাঁর একটা ‘পজিটিভ হিস্ট্রি’ আছে, আর সে ইতিহাসকেই মর্যাদা দিচ্ছেন তিনি।

কোলো মুয়ানি ও তাঁর সতীর্থ জুলস কুন্দে।
কোলো মুয়ানি ও তাঁর সতীর্থ জুলস কুন্দে।এএফপি

মে মাসের ১৩ তারিখে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন দেশম। ধারণা করা হচ্ছে, এই তালিকার বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিশ্বকাপের বিমানে উঠবেন। তবে দেশম এখনই আগাম কোনো মন্তব্যে যেতে নারাজ। বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ আই’য়ে সেনেগাল, নরওয়ে এবং প্লে-অফ থেকে আসা একটি দলের বিপক্ষে লড়বে ফরাসিরা।

ফ্রান্স দল

গোলরক্ষক: লুকাস শেভালিয়ের (পিএসজি), মাইক মাইনিয়ঁ (এসি মিলান), ব্রিস সাম্বা (রেনে)।

ডিফেন্ডার: লুকাস দিনিয়ে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকাস এরনান্দেজ (পিএসজি), থিও এরনান্দেজ (আল হিলাল), পিয়েরে কালুলু (জুভেন্টাস), ইব্রাহিমা কোনাতে (লিভারপুল), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল)।

মিডফিল্ডার: এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা (রিয়াল মাদ্রিদ), এনগোলো কান্তে (ফেনেরবাচে), মানু কোনে (রোমা), আদ্রিয়াঁ রাবিও (এসি মিলান), অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জাইর-এমেরি (পিএসজি)।

ফরোয়ার্ড: মাগনেস আকলিউশে (মোনাকো), রায়ান শেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে (পিএসজি), উগো একিতিকে (লিভারপুল), রানদাল কোলো মুয়ানি (টটেনহাম), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ), মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই দুহাত প্রসারিত করে স্বস্তির নিশ্বাসই ছেড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্যাম কার। এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনকে ২-১ গোলে হারিয়ে আট বছর পর ফাইনালের টিকিট কেটেছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। সেই খুশিতে শুধু স্যাম নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়া দলেরই এমন স্বস্তি পাওয়ার কথা।

নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, এশিয়ান কাপ জেতাটা রীতিমতো অভ্যস দলটির। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত টানা সাত আসরের শিরোপা গেছে চীনের শোকেসে। এরপর কিছুটা ছন্দপতন হলেও ২০০৬ সালে আবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে দলটি। সর্বশেষ ২০২২ সালেও ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায় চীন। এমন দাপুটে দলটাই এবার সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল।

পার্থে ম্যাচ শুরুর ১৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া
পার্থে ম্যাচ শুরুর ১৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া, এএফপি
 

পার্থে ম্যাচ শুরুর ১৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। মেরি ফ্লাওয়ারের বাড়ানো বল বক্সের মাঝখান থেকে নিখুঁত শটে জালে জড়ান ক্যাটলিন ফোর্ড। ২৬ মিনিটে জ্যাং লিনইয়ান গোল করে চীনকে সমতায় ফেরানোর পর ম্যাচটা আরও জমে উঠে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে তিনটি চমৎকার আক্রমণ করেও দ্বিতীয় গোলটি আদায় করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই প্রত্যাশাটা ঠিকই পূরণ হয়েছে স্বাগতিকদের, অধিনায়ক স্যাম কারই গোল এনে দেন। ক্যাটলিন ফোর্ডের পাস ধরে গোলকিপারের বাধা পেরিয়ে দুরূহ কোন থেকে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন স্যাম। এই গোলই অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।

২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুবার ফাইনাল খেলেও  আর ট্রফির দেখা পায়নি অস্ট্রেলিয়া
২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুবার ফাইনাল খেলেও আর ট্রফির দেখা পায়নি অস্ট্রেলিয়া, এএফপি
 

এশিয়ান কাপে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুবার ফাইনাল খেলেও  আর ট্রফির দেখা পায়নি তারা। এবার নিশ্চয়ই সেই আক্ষেপ দূর করতে চাইবে।

আগামী শনিবার ফাইনাল। তার আগে আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান। সেই ম্যাচের জয়ী দলই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে লড়বে।

ফুটবলপ্রেমীরা অনেকেই হয়তো ক্যালেন্ডারের পাতায় গোল দাগ দিয়ে রেখেছিলেন। একদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও লাতিন আমেরিকার সেরা দল আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একদিকে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে তাঁরই উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে যাকে—সেই লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু মাঠের সেই লড়াই আর হচ্ছে না। আপাতত বাতিলের খাতায় চলে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ‘লা ফিনালিসিমা’।

আজ উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, ২৭ মার্চ কাতারে যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল, তা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভেন্যু ও সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন সূচি ও ভেন্যু নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।

লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।এএফপি

ফিনালিসিমা হলো কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার লড়াই। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে প্রথমবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। এবারও আরও একটা লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বাদ সাধল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি। কাতার থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল উয়েফা, যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

উয়েফার বিবৃতিতে তাই একরাশ হতাশা ফুটে উঠেছে, ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির জন্য লড়াই করার সুযোগ করে দিতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

শেষ চেষ্টায় উয়েফা ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা জানিয়ে দেয়, পুরোনো তারিখে তারা খেলতে পারবে না। তারা শুধু ৩১ মার্চই খেলতে পারবে।

উয়েফা চেয়েছিল, কাতার না হলে অন্তত ইউরোপের কোনো মাঠে ম্যাচটি হোক। তাদের প্রথম প্রস্তাব ছিল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপর উয়েফা দুই লেগের হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রস্তাব দেয়। প্রথম ম্যাচ মাদ্রিদে এবং দ্বিতীয়টি বুয়েনস এইরেসে। ২০২৮ সালের ইউরো বা কোপা আমেরিকার আগে কোনো এক সময়ে এই ফিরতি ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। সেটিও ফিরিয়ে দেয় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

শেষ চেষ্টায় উয়েফা ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা জানিয়ে দেয়, পুরোনো তারিখে তারা খেলতে পারবে না। তারা শুধু ৩১ মার্চই খেলতে পারবে।
এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ভেস্তেই গেল ম্যাচটি।

প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। কাগজে–কলমে এখনো অনেক কিছু হতে পারে। ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকলেও আর্সেনালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির হাতে এখনো ৮টি ম্যাচ বাকি আছে। পাশাপাশি ইতিহাদে আর্সেনাল-ম্যান সিটির মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিও এখন বাকি। ফলে এখনই কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই।

কিন্তু সিটি-আর্সেনালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে হিসাবটা খুব একটা কঠিনও মনে হবে না। অতি নাটকীয় কিছু না হলে আর্সেনালের শিরোপা জয়কে সময়ের ব্যাপারই ধরে নেওয়া যায়। বিশেষ করে গতকাল রাতে দুই দলের ম্যাচের পর চিত্রটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। যেখানে এভারটনের বিপক্ষে আর্সেনাল জিতেছে ২-০ গোলে। আর ম্যান সিটি ১-১ গোলে ড্র করেছে ওয়েস্ট হামের সঙ্গে।

গতকাল রাতে আর্সেনালের জয়ে গোল দুটি আসে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে। ৮৯ মিনিটে আর্সেনালের হয়ে প্রথম গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। আর যোগ করা সময়ের ৭ম মিনিটে ইতিহাস গড়ে নিজের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ গোল করেন ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সী ম্যাক্স ডাউম্যান।

এর ফলে ডাউম্যান এখন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা। এর আগে ১৬ বছর ২৭০ দিনে গোল করে প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা ছিলেন জেমস ভন। ২০০৫ সালের এপ্রিলে এভারটনের হয়ে এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন তিনি।  

হলান্ডের হতাশা
হলান্ডের হতাশারয়টার্স

এদিকে ডাউম্যানের রেকর্ড গড়া রাতে সিটিকে রুখে দিয়েছে ওয়েস্ট হাম। ম্যাচের ৩১ মিনিটে বের্নার্দো সিলভার গোলে লিড নেয় সিটি। তবে ৪ মিনিট পর কনস্তানতিনোস মাভরোপানোসের গোলে সমতায় ফেরে ওয়েস্ট হাম। এরপর ম্যাচের বাকি সময় চেষ্টা করেও আর কোনো দল গোল পায়নি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

সিটি-আর্সেনাল ম্যাচ শেষে এখন দুই দলের পয়েন্টের পার্থক্য ৯। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সিটিই একমাত্র দল, যে ৩০ বা তার বেশি ম্যাচ খেলার পর শীর্ষ থাকা দলের চেয়ে ৯ বা তার বেশি পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও শিরোপা জিতেছে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে এই কীর্তি গড়েছিল ইতিহাদের ক্লাবটি।

শীর্ষ স্থানের লড়াইয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও গার্দিওলা অবশ্য এখনো চেষ্টা করে যেতে চান। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘এখনো শেষ নয়। কে এমনটা বলল? আমরা হারিনি। আমরা চেষ্টা করে যাব। আর্সেনালের বিপক্ষে ৯ পয়েন্ট (পিছিয়ে থাকা) অনেক, সেটা মানছি। আমাদের ঘরের মাঠের ম্যাচ বাকি আছে, তাই শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে। আর যদি সম্ভব না হয়, তখন আমরা চ্যাম্পিয়নকে অভিনন্দন জানাব। কিন্তু চেষ্টা করতে হবে।’

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ফেদেরিকো ভালভের্দের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় লেগের আগে বেশ চাপে পড়ে গেল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

বুধবার (১১ মার্চ) রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরুতে বলের দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল সিটি। তবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদে পড়ে ইংলিশ ক্লাবটি। ম্যাচের ২০ মিনিটে গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার গোলকিক থেকে দ্রুত আক্রমণ সাজায় মাদ্রিদ। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মাকে কাটিয়ে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ভালভের্দে।

চোটের কারণে এদিন রিয়ালের দলে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগো। তাদের অনুপস্থিতিতে আক্রমণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ভালভের্দে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বাম দিক থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ানো পাস ধরে অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে শক্ত শটে দ্বিতীয় গোল করেন এই মিডফিল্ডার।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভালভের্দে। ৪২ মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল বাড়ান ব্রাহিম দিয়াজকে। তিনি চিপ করে বল তুলে দেন ভালভের্দের সামনে। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল পেয়ে দারুণ ভলিতে জালে জড়ান তিনি।

বিরতির পর আক্রমণ বাড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি। তবে গোলের বড় সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদই। পেনাল্টি পেলেও গোল করতে পারেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তার শট ঠেকিয়ে দেন ডোনারুম্মা।

অন্য ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে ৫-২ গোলে হারিয়েছে চেলসিকে। ব্রাডলি বারকোলা ও ওসমান দেম্বেলে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও মালো গুসতো ও এনজো ফার্নান্দেজ চেলসিকে ম্যাচে ফেরান। শেষদিকে ভিতিনহা ও বদলি নামা খভিচা কাভারাতসখেলিয়া দুই গোল করে পিএসজির বড় জয় নিশ্চিত করেন।

নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিম্ট নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পোর্তিং সিপিকে। পেনাল্টি থেকে সন্দ্রে ব্রানস্টাড গোলের সূচনা করেন। পরে ওলে দিদরিক ব্লমবার্গ ও কাসপার হগ গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

দিনের আরেক ম্যাচে আর্সেনাল ১-১ গোলে ড্র করেছে বায়ার লেভারকুসেনের সঙ্গে। ৪৬ মিনিটে হেড থেকে গোল করে লেভারকুসেনকে এগিয়ে দেন রবের্ত আন্ডরিচ। তবে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান বদলি নামা কাই হাভার্টজ। এই ড্রয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের টানা আট ম্যাচ জয়ের ধারাও থেমে যায়।

 

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোয় অম্লমধুর রাত কেটেছে ফেবারিটদের। গতকাল রাতে প্রথম লেগে লিভারপুল ১-০ গোলে হেরেছে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করে বার্সেলোনা। তবে দাপুটে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। টটেনহামকে ৫–২ গোলে হারায় আতলেতিকো। আর আতালান্তাকে ৬–১ গোলে উড়িয়ে দেয় বায়ার্ন।

লিভারপুলের দুঃখ গালাতাসারাই

প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এরই মধ্যে হাত ফসকে গেছে। এমনকি পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলাও অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে লিভারপুলের জন্য ‘লাইফলাইন’ হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগ। কিন্তু শেষ ষোলো প্রথম লেগে গালাতাসারাইয়ের কাছে হেরে গেছে তারা। লিগ পর্বের ম্যাচেও তুরস্কের ক্লাবটির মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল। সেবারও একই ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছিল ‘অল রেড’রা।

গালাতাসারায়ের কাছে হেরেছে লিভারপুল
গালাতাসারায়ের কাছে হেরেছে লিভারপুল, এএফপি
 

গতকাল রাতে তুর্কি লিগের শীর্ষে থাকা গালাতাসারায়ের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মারিও লেমিনা। ৭ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জাল খুঁজে নেন। এর আগে বলটি নামিয়ে দিয়েছিলেন ভিক্টর ওসিমেন। দ্বিতীয়ার্ধে ওসিমেন আরেকবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে রক্ষা পায় লিভারপুল।

আগামী সপ্তাহে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে গালাতাসারাইকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে লিভারপুল। হারের পর লিভারপুলের হয়ে ১০০ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার মাইলফলক স্পর্শ করা কোচ আর্নে স্লট বলেন, ‘এখানে খেলা কঠিন। তার ওপর ১–০ গোলে পিছিয়ে থাকলে কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

বার্সাকে বাঁচালেন ইয়ামাল

সেন্ট জেমস পার্কে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে গোল করে পুরো স্টেডিয়াম মাতিয়ে তোলেন হার্ভে বার্নেস। এই গোলেই বার্সেলোনাকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছিল নিউক্যাসল। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে ম্যাচের শেষ কিকে গোল করে বার্সেলোনাকে দারুণ এক ড্র এনে দেন লামিনে ইয়ামাল।

যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে দানি ওলমোকে ফাউল করে বার্সাকে পেনাল্টি উপহার দেন নিউক্যাসলের মালিক থিয়াউ। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়ান ইয়ামাল। ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ ইয়ামালের গোলেই শেষ পর্যন্ত হার এড়িয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সা।

এর ফলে আগামী বুধবার ফিরতি লেগে ক্যাম্প ন্যুতে ন্যূনতম ব্যবধানে জিতলেই কোয়ার্টারে ফাইনালে পৌঁছে যাবে বার্সা। ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের সম্ভাবনা নিয়ে কোচ এডি হাও বলেন, ‘আশা অবশ্যই আছে। নিজেদের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে, সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস আছে। আজ আমরা সেটাই প্রমাণ করেছি।’

ইয়ামালের পেনাল্টি গোলেই হার এড়াল বার্সা
ইয়ামালের পেনাল্টি গোলেই হার এড়াল বার্সারয়টার্স

আতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম

আতলেতিকোর কাছে গতকাল রাতে ৫–২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে টটেনহাম। আতলেতিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যে ৩–০ গোলে পিছিয়ে পড়ে টটেনহাম। এই বিপর্যয় থেকে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। আতলেতিকোর হয়ে জোড়া গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ।

একটি করে গোল মার্কোস লরেন্তে, আতোয়াঁন গ্রিজমান ও রবিন লে নরমান্দের।
জয়ের পাশাপাশি তিন গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দারুণ খুশি আলভারেজ।

মুভিস্টার প্লাসকে ম্যাচ শেষে আলভারেজ বলেন, ‘জয় আর তিন গোলের লিডে আমি খুব আনন্দিত। কিন্তু এখনো ৯০ মিনিট বাকি। ওরা কিছু ভুল করেছে, আমরা জানতাম সেই সুযোগ কীভাবে নিতে হয়। চাপ তৈরি করে খেলেছি, আর সেটাই আমাদের গোলের সুযোগ এনে দিয়েছে।’

জয়ের পর আতলেতিকোর উদ্‌যাপন
জয়ের পর আতলেতিকোর উদ্‌যাপনএএফপি

‘সিক্স স্টার’ বায়ার্ন

আতলেতিকোর মতো বড় জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখও। দারুণ ছন্দে থাকা দলটি আতালান্তাকে উড়িয়ে দেয়  ৬–১ গোলে। দুর্দান্ত এই জয়ে শিরোপার দাবিটা যেন আরও জোরালো করল বায়ার্ন। এই ম্যাচে খেলেননি বায়ার্নে মূল স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

যদিও তাতে কোনো সমস্যা হয়নি জার্মান চ্যাম্পিয়নদের। বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল করেন মাইকেল ওলিসে। একটি করে গোল জোসিপ স্টানিসিক, সের্হে নাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালার। এ জয়ে বায়ার্নের শেষ আটে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেল।

ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি প্রাইম ভিডিওকে বলেন, ‘আমরা ঠিক এমন পারফরম্যান্সই চেয়েছিলাম। ম্যাচজুড়ে আমরা আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক ছিলাম। আমাদের দলে প্রতিভা ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে…তাই ছেলেরা যখন এভাবে খেলতে পারে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

ঘটনাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক দুই দিন পরের। নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরান। ম্যাচের আগে যখন ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, ফুটবলাররা তখন পাথরের মতো স্থির ছিলেন। ঠোঁট নড়েনি একজনেরও।

অনেকেই মনে করছেন, এটি ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে নারী ফুটবল দলের প্রতিবাদ। এই ঘটনা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা নারী ফুটবলারদের ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমাও দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে এশিয়ান কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় মঙ্গলবার সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। খেলোয়াড়দের এই আবেদন মেনে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড় সোমবার গভীর রাতে দলীয় হোটেল ছেড়ে গোপনে বেরিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চান।

নথিপত্রে স্বাক্ষর করা হচ্ছে
নথিপত্রে স্বাক্ষর করা হচ্ছেএক্স/টনি বার্ক

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁরা এখানে নিরাপদ এবং এখানেই যেন নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করেন।’ জাহরা ছাড়া অন্য চার নারী হলেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ ও মোনা হামৌদি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ দেশটির গণমাধ্যমকে সংযম দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, খেলোয়াড়েরা নিরাপদে পৌঁছানো পর্যন্ত আশ্রয় প্রার্থনার খবরটি প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিন ধরে গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। গোল্ড কোস্টের হোটেল ছাড়ার পর তাঁদের দ্রুত একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিল ঘিরে খেলোয়াড়েরা বসে আছেন, আর টনি বার্ক মানবিক বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসার কাগজপত্রে সই করছেন। বার্ক বলেন, বিশেষ ভিসা পাওয়ার পর খেলোয়াড়েরা ‘অজি, অজি, অজি’ স্লোগানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলের বাকি সদস্যরাও চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

ইরানের বাকি খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরে যাবেন, নাকি কবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়বেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, পাঁচ খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে আছেন। গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এ তথ্য জানান।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের জোর করে ইরানে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি প্রো লিগে গত শনিবার আল ফায়হার বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ৮১ মিনিটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে ছাড়েন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডাগআউটে বসে এরপর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আইসপ্যাক লাগাতে দেখা যায় তাঁকে। তখনই অনেকের মনে ভ্রুকুটি জেগেছিল—রোনালদো কি চোটে পড়েছেন?

শঙ্কা সত্যি হয় গত মঙ্গলবার। আল নাসর জানায়, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছেন রোনালদো। তবে সেরে উঠতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, সেটা তখন জানা যায়নি। তবে কাল আল নাসর কোচ জর্জ জেসুস জানালেন আরও শঙ্কার খবর। রোনালদোর চোট প্রথমে দেখে যতটা হালকা মনে হয়েছিল, আসলে তা নয়। জেসুসের ভাষায়, এই চোট নাকি ‘আরও মারাত্মক।’

আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো
আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো, এএফপি

জেসুস এরপর বলেন, ‘ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সে ফিরে এসে দলকে সাহায্য করতে পারবে।’
সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, রোনালদো সৌদি আরব ছেড়ে স্পেনে গেছেন এবং মাদ্রিদে ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের দ্বারস্থ হবেন। আজ রাতে এবং আগামী ১৪ মার্চ আল নাসরের ম্যাচে রোনালদো খেলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জেসুস। তবে এরপর থেকে যে তাঁকে পাওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তাও নেই।

🚨 Jorge Jesus: “After tests, we see the injury suffered by Cristiano Ronaldo was more serious than expected”.

“Cristiano will now travel to Spain, like other players who went for treatment when they were injured. His injury required treatment in Madrid with his personal… pic.twitter.com/uCb70kgiGg

— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) March 6, 2026

তবে রোনালদোর চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে পর্তুগালেরও। বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ২৯ মার্চ মেক্সিকো এবং ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুটি ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর খেলা নিশ্চিত নয়।

অবশেষে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় টানা দুই ম্যাচে হারের পর গতকাল সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ফেদেরিকো ভালভের্দের ৯৫ মিনিটের গোলে ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল।

লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার (৬৪) চেয়ে এখন রিয়াল (৬৩) পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। বার্সা খেলেছে ২৬ ম্যাচ ও রিয়াল খেলেছে ২৭ ম্যাচ। বার্সা অবশ্য আজ রাতেই পয়েন্টের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

ছন্দে ফিরতে মরিয়া রিয়ালের শেষ মুহূর্তে পাওয়া গোলেও আছে ভাগ্যের ছোঁয়া। উরুগুইয়ান মিডফিল্ডারের শটটি সাবেক সেল্তার ডিফেন্ডার মার্কোস আলোনসোর শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে।

সব ম্যাচকেই যুদ্ধ বললেন রিয়াল কোচ আরবেলোয়া
সব ম্যাচকেই যুদ্ধ বললেন রিয়াল কোচ আরবেলোয়া, এএফপি

সেল্তার ঘরের মাঠ বালাইদোস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। ১১ মিনিটে অরেলিয়ে চুয়ামেনি গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। ২৫ মিনিটে বোর্হা ইগলেসিয়াস গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান।

এই জয়ের পরও অবশ্য আরবেলোয়ার দুশ্চিন্তা কাটার কথা নয়। কারণ কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, রদ্রিগোরা চোটে পড়েছেন। আগামী বুধবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামবে রিয়াল। স্বাভাবিকভাবেই আরবেলোয়ার একটু দুশ্চিন্তায় ভোগার কথা।

লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার (৬৪) চেয়ে এখন রিয়াল (৬৩) পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে।
লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার (৬৪) চেয়ে এখন রিয়াল (৬৩) পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। এএফপি
 

আরবেলোয়া আশা প্রকাশ করেন, এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে, ‘আমি জানি আমাদের অনেক উন্নতি করার জায়গা আছে, তবে আজ দল যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা থেকে আমি আশা করি এটাই হবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্ত।’

ম্যাচশেষে রিয়াল মাদ্রিদটিভিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছেন, ‘ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন ছিল, কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দলে ছিলেন না। কিন্তু আমরা এখানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছিলাম। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, আমাদের বেশ ভুগতেও হয়েছে; তবে শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতেছে। বুধবারের ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এই জয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’