প্রবাসী বাংলাদেশিরা সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারিতেও ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই সময়ে মোট ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার কোটির বেশি টাকা।

রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে দেশে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে দেশে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে প্রবাসীদের পাঠানো তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

তারও আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দেশে এসেছিল। যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

 

মার্চ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা ও প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’-এর আলোকে মার্চ মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ও অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই হার যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হয়েছে। এই অপরিবর্তিত মূল্যহার মার্চ মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল ও নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার পুরো কাজ শেষ হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক করেন আহসান এইচ মনসুর। বৈঠক শেষে আহসান মনসুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট চার বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়া আহসান মনসুরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ১২ আগস্ট। আলাদা প্রজ্ঞাপনে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সচিবালয়ের দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে গত মঙ্গলবার নতুন গভর্নরের নাম দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নথি উপস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী।

সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপনের চর্চা রয়েছে। গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নামই যায় এবং এবারও সেটাই হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী গভর্নরের নিয়োগ বাতিল ও নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে। একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয় অর্থমন্ত্রীর কাছে। অর্থমন্ত্রী সম্মতি দিলে তা যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হয় বাতিল ও নিয়োগের দুই প্রজ্ঞাপন।

আজ বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকও উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর একসঙ্গে বেরিয়ে চলে যান অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা গভর্নরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

এদিকে হঠাৎ পরিবর্তনের নেপথ্য ঘটনা জানতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে কেন এভাবে বিদায় দিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলো? জবাবে অর্থমন্ত্রী তিনবার বলেন, ‘কিছুই বলার নেই।’

আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের দিন গত বুধবারও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিস করছিলেন। গণমাধ্যমে তাঁর চুক্তি বাতিলের খবর পেয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে বাসায় চলে যান বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে কথা হয়েছে—এমন কিছু সূত্র জানিয়েছে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একধরনের মব হয়েছে এবং যেটা হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক। কারণ, দুদিন আগেই তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই দিন বা তারপরের দিনও অর্থমন্ত্রী তাঁকে ইঙ্গিত দিতে পারতেন যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। জানলে তিনি এক দিনও সময় নিতেন না।

যোগাযোগ করলে আহসান এইচ মনসুর গতকাল কথা বলতে চাননি। তবে তাঁর বরাতে গতকাল একটি সূত্র জানায়, আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, কিছু অসম্পূর্ণ কাজ ছিল, এগুলো শেষ করে যেতে পারেননি। কোনো আশাবাদ দেখছেন না তিনি। গভর্নর হাউস ছেড়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার খোঁজে দিন কাটিয়েছেন গতকাল। আগামী রোববার তিনি তাঁর সাবেক কর্মস্থল পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে যাবেন। আহসান এইচ মনসুর ওই সূত্রটিকে আরও বলেছেন, ‘দেশটিতে জন্ম নিয়েছি বলেই আছি। নইলে কবেই চলে যেতাম।’

নতুন গভর্নর ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। যেসব কর্মকর্তা এই ‘মব কালচার’এর সঙ্গে জড়িত, মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার (২৫ফেব্রুয়ারি) ঘটে যাওয়া 'মবের' সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন। যেসব কর্মকর্তা এই 'মব কালচার'-এর সঙ্গে জড়িত, মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখপাত্র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়মমাফিক ও বৈষম্যহীন করা হবে। কাজের গতি বাড়াতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছেন গভর্নর। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এর আগে, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে 'মব' তৈরি করে বের করে দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নর ভবনের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

 

বন্ধ কলকারখানা আবার চালুর উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই আশ্বাসের কথা বলেন তিনি।

সভায় মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি চলমান সংস্কারকাজ অব্যাহত থাকবে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের নতুন গভর্নরের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন নতুন গভর্নর। সভায় তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়ায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী থাকবেন নতুন গভর্নর। তবে তথ্যপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ও আগের গভর্নরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে নতুন গভর্নর বলেন, এখন লক্ষ্য হচ্ছে সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো আবার চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুবিধা ও ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যোগদানের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান
যোগদানের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, ছবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সৌজন্যে
 

সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, এমন উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়মভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে বলে জানান গভর্নর। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এ ছাড়া সরকারের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে গভর্নর বলেন, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব। সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নবনিযুক্ত গভর্নর।

চুক্তির কয়েকটি ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

-পরিকল্পিতভাবে ও ধীরগতিতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ।

-যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে শূন্য শুল্ক বলা হলেও শর্তাবলি স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা (রিভিউ) করতে হবে। কারণ, চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও পাল্টা শুল্ক আরোপকে যে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন, সেটিও কাজে লাগানোর চিন্তা করা যায়। এ জন্য কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি। তবে কাজটি করতে হবে ধীরে–সুস্থে এবং পরিকল্পিতভাবে।

দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা আজ বুধবার ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এসব পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে কীভাবে শূন্য শুল্ক পাওয়া যাবে, তা–ও পরিষ্কার হওয়া দরকার। এমনকি এই চুক্তি কীভাবে হলো, তা-ও খোলাসা করা দরকার।

বৈঠকে সরকারের দিক থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে করণীয় কী হবে, তা নিয়েই অংশীজনদের সঙ্গে আজ বৈঠক করা হয়।

বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি। চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন খাতের কী সমস্যা, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে, সে ব্যাপারেও এখনো বলার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি যে এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিক থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা এগুলো পর্যালোচনা করব। এরপর করণীয় ঠিক করব।’

বৈঠকে অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এরপর যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চুক্তি যেহেতু হয়েই গেছে এবং দেশটিও যুক্তরাষ্ট্র, ফলে হুট করে কিছু করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে আমাদের মতো অনেক দেশ একই ধরনের চুক্তি করেছে। আমরা এখন দেখতে পারি যে তারা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।’

শূন্য শুল্ক নিয়ে ধোঁয়াশা

বৈঠকের পর গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘এটা সত্যি যে চুক্তিটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরিভাবে সংরক্ষিত হয়নি; বরং এতে কিছু উদ্বেগজনক ধারাও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তাকে কাজে লাগিয়ে আমরা কোনো সুযোগ নিতে পারি কি না, সেই চেষ্টাও করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলার ব্যবহার ও বিপরীতে শূন্য শুল্ক নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা আছে। চুক্তি পর্যালোচনা করে এগুলো পরিষ্কার করা দরকার।’

চুক্তি করার প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানান সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছি এ কারণে যে এটা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে একই জাতীয় চুক্তি করার ক্ষেত্রে যেন প্রশ্ন না ওঠে, সেটা হচ্ছে চাওয়া।’

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি এখনো বিকাশমান। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্য করা শুল্কের ব্যাপারে না ঘোষণা করেছেন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনেছি, সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি।’ যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, ১৫০ দিনের মধ্যে দেশটির কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। আর বাদ বাকি যা, আমরা টিভিতে দেখেছি।’

চুক্তি কি তড়িঘড়ি করা হয়েছিল

অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো গোপন করেছে ও তড়িঘড়ি করে চুক্তি করেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তির আলোচনার সময় নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) ছিল, তবে এ চুক্তিতে সংবেদনশীল বিষয় ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সংবেদনশীল। ফলে নানা কারণেই এই পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

বৈঠকের পর বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির একটা ভালো দিক হচ্ছে দেশটির তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক শূন্য হবে। এ জন্য কী কী শর্ত মানতে হবে, সেটি জানা দরকার। তৈরি পোশাক খাতের জন্য মার্কিন চুক্তি যদি দেশের জন্য ভালো না হয়, তাহলে সেটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি বৈঠকে।’

বৈঠকে আরও যাঁরা অংশ নিয়েছেন

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান ও সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, মেট্রো চেম্বারের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল-চৌধুরী, ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, সিরামিক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মইনুল ইসলাম, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, সিটি গ্রুপের পরিচালক শম্পা রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক প্রমুখ।

দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গ

বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেগুলোর দাম বাজারে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়েছে। সেগুলো অবশ্য সবজিজাতীয়। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতি ও শূন্যতার সুযোগ নেন। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ টাকা হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।

চাঁদাবাজি–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধে এত দিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করুন, আমরা কাজ করে দেখাব।’

দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির সংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিশেষ হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। 

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে যা ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুদিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভে প্রায় ০ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং নিট রিজার্ভে প্রায় ০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে।

সাধারণত একটি দেশের মোট রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায় বা দেনা বিয়োগ করলে যে অংশটি অবশিষ্ট থাকে, তাকেই প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ বলা হয়। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে এই নিট রিজার্ভ গণনা করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে বেশ কয়েক মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় ভবিষ্যতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এতে বলা হয়, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-কে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান কর্পোরেট ফাইন্যান্স, রফতানি, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বদানকারী একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। আইসিএমএবি’র এই ফেলো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদেরও সদস্য ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের জায়গায় নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করেছে। অর্থমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে তা যাবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক আজ দুপুর পৌনে দুইটায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেছেন। বের হওয়ার পর জানতে চাইলে নাজমা মোবারেক বলেন, ‘অপেক্ষা করুন। এখনই কিছু বলতে চাইছি না। কিছু হলে জানতে পারবেন।’

গণঅভ্যত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তৎকালীন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দেওয়ার পর ১৪ আগষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আহসার এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেয়। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার নয় দিনের মাথায় বর্তমান গভর্নরের জায়গায় নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আমি পদত্যাগ করিনি : গভর্নর

পদত্যাগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে আজ দুইটা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, 'আমি পদত্যাগ করিনি। কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। গণমাধ্যমে খবর দেখলাম। এর সত্যতা ধরে নিচ্ছি।'

গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে সমাবেশ

এ দিকে বিভিন্ন দাবি পূরণ ও তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো এবং বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকালে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এসব দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলমবিরতিতে যাবেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা—এমন ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা অংশ নেন।

গভর্নরের পদত্যাগ চায় কর্মকর্তারা, এ নিয়ে জানতে চাইলে আহসান মনসুর বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সভার পর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, কিছু কর্মকর্তা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পরিচালিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। কর্মকর্তাদের অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে। যদি কেউ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চান, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রক্ষায় কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

রোজার শুরুর দিকে তুলনামূলক বেশি খরচ হয় খাবারে। এরপরেই খরচের তালিকায় আছে নতুন পোশাক, জুতা, গয়নাসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য। অনেকে আবার এ সময়ে দেশ ও দেশের বাইরে বেড়াতে যান।

দেশের ব্যাংকগুলো তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডধারী গ্রাহকদের জন্য এই রোজার মাসে নানা ধরনের অফার বা সুবিধা দিয়ে থাকে। এর ফলে মানুষ কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় আগ্রহী হন। নগদ লেনদেনও চলে। আবার এসব কার্ডের অফারের ফলে ক্রেতারাও কেনাকাটায় অর্থ সাশ্রয় করতে পারেন।

ব্যাংকগুলো বলছে, রোজার সময় উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা বাড়ে। তাই ব্যাংকের গ্রাহকেরা যেন সহজে লেনদেন করতে পারেন, সে জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়।

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান তৌহিদুল আলম বলেন, রোজার মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই ব্যাংকগুলো নানা ধরনের ছাড় ও সুবিধা দেয়।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফারের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া এসএমএস ও অন্যান্য মাধ্যমেও গ্রাহকদের নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় বা ক্যাশব্যাকের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আবার বিভিন্ন দোকানের ক্যাশ কাউন্টারেও ঝুলছে এসব প্রচারণা।

সিটি ব্যাংকে কী ছাড় আছে

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স, ভিসা ও মাস্টারকার্ড ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডধারীদের লাইফস্টাইল ও গ্রোসারি আউটলেটে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৭০০টির বেশি রিটেইল স্টোরে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ও রয়েছে। ১০০টির বেশি রেস্তোরাঁয় খাবার বিলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এবং বিভিন্ন অনলাইন মার্চেন্ট ও ফুড ডেলিভারিতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় আছে।

ইফতার ও রাতের খাবারেও নানা ছাড় আছে। ৫০টির বেশি রেস্টুরেন্ট ও তারকা হোটেলে ইফতার ও ডিনারে অফার আছে সিটি ব্যাংকের কার্ডে। সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স ডেবিট কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট পাঁচ তারকা হোটেলে একটি প্যাকেজ কিনলে পরবর্তী প্যাকেজে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংক: ইফতার ও সাহ্‌রি ১টি কিনলে ৪টি ফ্রি

রোজা উপলক্ষে ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১ হাজার ৪০০টির বেশি আউটলেটে আকর্ষণীয় ছাড় পাচ্ছেন। ব্র্যাক ব্যাংকের সব কার্ডধারী সারা দেশের বিভিন্ন তারকা হোটেলে ইফতার ও রাতের খাবার এবং সাহ্‌রিতে একটি প্যাকেজ কিনলে চারটি ফ্রি পর্যন্ত বুফে অফার আছে।

এ ছাড়া ডাইনিংয়ের (খাবার) জন্য ৫৩টি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন এই ব্যাংকের গ্রাহকেরা। পাশাপাশি ১১৯টি লাইফস্টাইল পার্টনার শপে ব্যাংকের কার্ডধারীরা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।

এ ছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ডধারীরা ২৫টি গয়নার দোকানে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। অনলাইন কেনাকাটায় আড়ং, অ্যাপেক্স ও বাটায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাবেন। পাশাপাশি লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, মম ইন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ ৩৫টি ট্রাভেল ও এয়ারলাইনস পার্টনারদের সঙ্গে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন এই ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা।

প্রাইম ব্যাংকে ১০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক

প্রাইম ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডধারী গ্রাহকেরা লাইফস্টাইল কেনাকাটায় ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন। নির্দিষ্ট কিছু তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ইফতার এবং রাতের খাবারে রয়েছে ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ অফার। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য কেনাকাটায় রয়েছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার।

ইস্টার্ন ব্যাংকের কার্ডে ইফতারে ছাড়

ইস্টার্ন ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য ১৩টি তারকা হোটেলে ইফতার ও রাতের খাবারে আছে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান, টু ও থ্রি’ অফার। এ ছাড়া এই ব্যাংকের সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭০টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে কেনাকাটায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। জুয়েলারি ও মেকওভারের জন্য ২৫টি আউটলেটে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক: সুপারশপে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য পাঁচ তারকা বিলাসবহুল হোটেলে পবিত্র রমজান মাসজুড়ে ইফতার ও ডিনারে (রাতের খাবার) একটির মূল্যে চারটি পাওয়া যাবে, এমন অফার দিচ্ছে। ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আড়ং, আগোরা, অ্যাপেক্স, বাটা, চালডাল, দারাজ, ইউনিমার্ট ও মীনা বাজারে কেনাকাটায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক রয়েছে।

নেক্সাস–পে ও রকেট অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করলে পাওয়া যাচ্ছে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক। বে, লোটো, পিৎজা হাট, কেএফসি, ইজি, জেন্টেল পার্ক ও সেইলরে এ অফার পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদের কেনাকাটা ও ইফতারে রমজান মাসজুড়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারীরা স্বপ্ন, আগোরা ও মীনা বাজারে কেনাকাটায় ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাবেন। পাশাপাশি আড়ং, অ্যাপেক্স, বাটা, আর্টিসান ও ইয়েলোয় ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাবেন এই ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সরকারি–বেসরকারি ব্যাংকগুলো মিলে ডেবিট কার্ড রয়েছে চার কোটির বেশি। এ সময়ে ক্রেডিট কার্ড রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ও প্রিপেইড কার্ড প্রায় ৯০ লাখ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুত আবার ৩৫ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের জুনে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো একই উচ্চতায় উঠেছিল। তখন করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে এসেছিল। আর আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধ থাকায় হুন্ডি বন্ধ হয়ে বেড়েছিল প্রবাসী আয়। এবার হুন্ডি ও অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি বাড়তি প্রবাসী আয় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ মান অনুযায়ী অবশ্য রিজার্ভের পরিমাণ হবে ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’

জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। এরপর দেশে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়। ফলে ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ না থাকায় এত দিন রিজার্ভ বেড়েছে। এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়বে। এখন ব্যাংকগুলো সেভাবে ডলার বিক্রি করতে পারবে না। অর্থ পাচার না হলে ও নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি বাড়লে ডলার নিয়ে সংকট হবে না বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।