• Colors: Blue Color

ইরান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসছে পাকিস্তানের নাম। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকের স্থান হিসেবে নিজেদের রাজধানী ইসলামাবাদকে প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে ওয়াশিংটনের অনেকের কাছেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসাটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গেও পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকাছবি: এএফপি

গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেপ্টেম্বর মাসের সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ছিলেন।

এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে সংঘাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য জুন ও অক্টোবর মাসে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকের কাছেই দেশটিকে প্রিয় করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

দক্ষিণ আমেরিকান দেশ পেরুর সীমান্তবর্তী অ্যামাজন অঞ্চলে কলম্বিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কলম্বিয়ার সরকারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। বিমানটিতে ১২৫ আরোহী ছিল যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সেনা সদস্য।

এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বাকিদের উদ্ধারে চলছে তৎপরতা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয় লকহিড মার্টিনের হারকিউলিস সি-ওয়ান থার্টি মডেলের বিমানটি। এমনকি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয় এটি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা না গেলেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষে দিকে বলিভিয়ান বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান দেশটির জনবহুল আল্টো শহরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০ জন আহত হন।

 

এক মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শুমার বলেন, ‘এক মাস আগেও দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৩ ডলার। আজ তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেবল একজন মানুষই দায়ী, আর তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

ডেমোক্রেটিক দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা শুরু থেকেই ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগের এক পোস্টে শুমার উল্লেখ করেন যে, এই অনর্থক যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি ডলার ‘অপচয়’ করা হচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের প্রভাবেই বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আল–জাজিরা

যমুনা টেলিভিশনে ৮ম শ্রেণি পাস ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অস্ত্রোপচারের সংবাদ প্রচারের পর রাজধানীর শ্যামলীর কলেজ গেটের ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকে অভিযান চালান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তিনি।

হাসপাতালে গিয়ে সেখানে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগীও মন্ত্রী আসার খবরে হাসপাতালে জড়ো হন। তারাও ডক্টরস কেয়ার হাসপাতালে এসে প্রতারিত হবার অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুরো হাসপাতাল একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে চলে বলে মন্তব্য করেন। পরে হাসপাতাল সিলগালা করার নির্দেশনাও দেন তিনি। এর পরপরই সেখানে থাকা রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টারের সঙ্গেও কথা বলেন। শোনেন রিপোর্ট করতে গিয়ে কতটা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

এরআগে, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে যমুনা টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার হয়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, নাম সর্বস্ব ক্লিনিকটিতে যারা অপারেশন করতেন, তাদের কেউ ছিলেন সরকারি হাসপাতালের দালাল। কেউ আবার ছিলেন ডাক্তারের চেম্বারের কর্মচারী। তারাই এখন নিয়মিত অস্ত্রোপচার করছেন। শুধু তাই নয়, রাজধানীর কলেজ গেটের ওই হাসপাতালের মালিকও তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ট্রাম্প জানান, রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়। আমি বলব, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’

ট্রাম্প যোগ করেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আজ সম্ভবত ফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা হবে।’

ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন।

ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তবে ট্রাম্প জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু জানতে পারেনি। খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

ট্রাম্প যোগ করেন, তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যু কামনা করেন না।

সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে হামলা চালিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন। সে অনুযায়ী তাঁর দেওয়া সময়সীমা আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে (তেহরান সময় মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ১৪ মিনিট) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্পের হুমকির পরদিন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলো ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হতে পারে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যদি তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো যেন ‘বিদ্যুৎকে বিদায় জানায়’।

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গতকাল রোববার জানান, ‘ইরানের শত্রু’ দেশগুলোর জাহাজ বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে দিনের শেষ ভাগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় তবে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

আজ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেকোনো হামলার একই ধরনের জবাব দেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা তেহরান অস্বীকার করেছে। তারা ট্রাম্পের এই দাবিকে জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে।

সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব