• Colors: Blue Color

ইরান ও হিজবুল্লাহ একযোগে ইসরায়েলের হামলা চালিয়েছে। এ সময় ইসরায়েলের ১০০টির ও বেশি শহরে সতর্কসংকতে বেজে উঠে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চালানোর সময় ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ফলে একসঙ্গে ইসরায়েলের ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্কসংকেত বেজে উঠে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরা।

নাটকীয় পরিবর্তনের সুর বাজছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। আগ্রাসনমূলক কঠোর সব নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরো ৫০ অঙ্গরাজ্য এবার ফুঁসে উঠেছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে। প্ল্যাকার্ড-ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ; সবার কণ্ঠে এক দাবি, ‘ট্রাম্প হঠাও’। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তৃতীয় দফার দেশব্যাপী বড় আন্দোলন।

 

[caption id="attachment_270553" align="alignnone" width="826"] ‘ঘর থেকেই শুরু হোক রেজিম পরিবর্তন’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে বিক্ষোভরত এক মার্কিন যুবক। ছবি: বিবিসি[/caption]

বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো বড় শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আমেরিকার পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে রোম, প্যারিস ও বার্লিনের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতেও এই আন্দোলন চলছে। তবে এবার আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষদের এই আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

[caption id="attachment_270552" align="alignnone" width="825"] ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে লাখো মানুষের ঢল। ছবি: বিবিসি[/caption]

এবারের তীব্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে এই মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে এক কুখ্যাত ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল এবং নির্বিচারে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন এই অভিযানের সময় দুই নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবারের (২৮ মার্চ) এই বিশাল সমাবেশে নিহত সেই দুই নাগরিককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং তাদের স্মরণে বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর আগে, গত জুন ও অক্টোবর মাসেও দেশটিতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, এবারের ৮০ লাখ মানুষের এই রেকর্ড সমাবেশ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন।

[caption id="attachment_270551" align="alignnone" width="830"] আমেরিকান প্রবাসী ও কিছু ফরাসি নাগরিকরা মিলে প্যারিসের বাস্তিল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ছবি: বিবিসি[/caption]

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিশাল গণজাগরণ বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

[caption id="attachment_270550" align="alignnone" width="831"] লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্লোরিয়া মলিনা গ্র্যান্ড পার্কেও হয়েছে ব্যাপক জনসমাগম। ছবি: বিবিসি[/caption]

প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষমতায় এসেই বিচারবিভাগ ও প্রশাসনের ওপর একজন রাজার মতো নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। কিন্তু, মার্কিনিরা ‘নো কিংস’ আন্দোলনের মাধ্যমে বার্তা দেন তাদের দেশে ‘কোনো রাজার জায়গা নেই’। এছাড়া গণহারে প্রবাসীদের আটক করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া, গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং পরিবেশ নীতি নিয়েও ট্রাম্পের ক্ষোভ বাড়তে থাকে প্রতি সাধারণ মানুষের। মার্কিন জনসাধারণের সেই ক্ষোভের আগুনে এবার ঘি ঢেলেছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইরানে হামলার মাধ্যমে যা শুরু করেছেন ট্রাম্প নিজেই। 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও ঘোষণা ছাড়াই ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ২৭ দিন ধরে চলমান যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব হামলায়। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।

তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে এরই মধ্যে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের সংকটও তৈরি করে ফেলেছে ইরান। আর এই সংকট সরাসরি গিয়ে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতিতে। 

সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা।

ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্রদের উসকানিতে এ যুদ্ধ শুরু করে এখন ঘোর বিপদে পড়ে গেছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের স্বার্থে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করছেন বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন মার্কিন জনগণ; ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তারাও।

একদিকে প্রলম্বিত যুদ্ধ, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়— এসব মিলিয়ে এখন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রভাবশালী বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনসমর্থন বা অনুমোদন হার মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে বর্তমানে। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার জনপ্রিয়তার সর্বনিম্ন রেকর্ড। 

জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিনিদের সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে গেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা হারিয়েছেন সাধারণ আমেরিকানরা।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার, অথচ বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। এমনকি এই হার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক অনুমোদন হারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এবার নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহার করা জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। টোল থেকে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই ইরান এ পথকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। 

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনীর টহল
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনীর টহলছবি: ইরানের আধা–সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের এক্স পোস্ট

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা যে কত সহজ ও সস্তা, তা ইরান এবার ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে। আয়ের নতুন উৎস হিসেবে তারা এখন একে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।’

তবে ইরানের এমন পরিকল্পনা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। 

অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণেই স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের সুযোগ ইরান কোনোভাবে হাতছাড়া করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

সিএনএনের এক হিসাব বলছে, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।  

অবশ্য, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আদায়ের এ দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে এরই মধ্যে কিছু জাহাজ নিরাপদ পারাপারের জন্য ইরানকে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে, যা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ‘অতিরিক্ত আশাবাদী’ অবস্থানের বিষয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন ভ্যান্স। এক মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, এ কাজটি (সরকার পরিবর্তন) খুবই সহজ হবে। সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছিলেন তিনি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর (নেতানিয়াহুর) বক্তব্যগুলোকে সতর্ক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছেন।’

ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে ভ্যান্সের কাজকে বিঘ্নিত করছে। ভ্যান্স ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মুখ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। দুই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাশাপাশি তিনি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

একই মার্কিন কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এমন সব প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, যা পড়ে মনে হয়েছিল যে ইরান ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় বেশি আগ্রহী। কারণ, তাদের ধারণা, তিনি যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পক্ষপাতী হবেন।

ওই কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘এটা ভ্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একধরনের অপপ্রচার।’

আরেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে ভ্যান্সকেই সম্ভাব্য পথ বলে মনে করেন তাঁরা। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি ইরানিরা ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তারা কোনো চুক্তি পাবে না। তিনিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।’

ইরানের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বলেছে, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতে যাওয়া এই যুদ্ধে ইয়েমেন থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি।

লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুথি বাহিনীর সদস্যরা
লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুথি বাহিনীর সদস্যরা, ছবি: হুথি মিলিটারি মিডিয়া/রয়টার্স

আজ শনিবার ভোরের এই বিবৃতির আগে গতকাল শুক্রবার আরও কিছু খবর পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ইরান প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তেল আবিবে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল ও সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজছিল।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়ে নিজের মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত ট্রিস্টান রবার্ট (১৮) গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে (৪৫) হত্যা করে।

বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ট্রিস্টান রবার্টকে অন্তত ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

আদালতের শুনানিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে ট্রিস্টান ডিপসিক নামের একটি এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানান, সে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি বেশি কার্যকর। শুরুতে এআই এ বিষয়ে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পরে নিজেকে একজন অপরাধবিষয়ক লেখক পরিচয় দিলে তাকে হাতুড়ির ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস আদালতে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ট্রিস্টান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেয় এবং পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ট্রিস্টান অনলাইনে একাধিকবার নারীবিদ্বেষী পোস্ট করেছিল এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য মাকেই দায়ী করত। রেকর্ড করা অডিওতে হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া গেলেও, তার নিষ্ঠুরতার মাত্রা বিবেচনায় তা আদালতে বাজানো হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে প্রথমে নিজ বাড়িতেই মায়ের ওপর হামলা চালায় ট্রিস্টান। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যায়।

এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে একটি স্লেজহ্যামার বের করে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ টেনে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখে সে।

পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে ট্রিস্টানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে আরও জানা যায়, ট্রিস্টানের অটিজম ও এডিএইচডি থাকায় তার জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে।

নিজের ফোনে লেখা একটি নোটেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল: কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?

রায় ঘোষণার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট। তিনি বলেন,মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংস বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি ঠেকাতে এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো আরও কঠোর করা জরুরি।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব