• Colors: Blue Color

ওয়াশিংটন

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এ শপথ হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী ২৫ বৈশাখ সামনে রেখে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি এই দিন নির্ধারণ করেছে। অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশেষ মঞ্চ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। কলকাতা ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে।

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আজ কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ। তিনি নিউটাউনের একটি হোটেলে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে বিকেলে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম নিয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠকের পর বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণানের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজভবনে যেতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে যাঁর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সেই শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই জয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রচারে তাঁকে বিজেপির ‘লড়াকু মুখ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে একাধিকবার অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন ‘একজন বাঙালি ও ভূমিপুত্র’। সেই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

এবারের অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের একসঙ্গে উপস্থিতি। নির্বাচনী প্রচারের সময়ও উত্তর প্রদেশ, আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে জাতীয় রাজনৈতিক গুরুত্বের একটি আয়োজন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার গঠন এবং মন্ত্রিসভার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে কলকাতায় শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা। এজন্য আজ শুক্রবার (৮ মে) সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ।

আজ দুপুরে কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থী তথা হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। ওই বৈঠকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা চূড়ান্ত হতে পারে।

এরপর কাল শনিবার (৯ মে) ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার জমকালো শপথ অনুষ্ঠান।

রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে এখনও রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। এই পদের দৌড়ে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারী, নিশিথ প্রামানিক, অর্জুন সিং এবং গৌরি শঙ্কর ঘোষের। তবে দলীয় হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।

এছাড়া, নির্বাচনে জয়ী বিধায়কদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ, উৎপল মহারাজ, রাজেশ কুমার ও দীপঞ্জন চক্রবর্তী। দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম গঠনই মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

এদিকে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কোনো চমক অপেক্ষা করছে রাজ্যবাসীর জন্য।

  • দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে;
  • পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সংবেদনশীলতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে;
  • কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না;
  • কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, সেটা বাংলাদেশই ঠিক করবে;

দিল্লি থেকে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে চন্দ্রনাথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাঁর গাড়িতে থাকা আরও এক যুবক গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি গাড়ির চালক, নাকি চন্দ্রনাথের সহকর্মী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই যুবককেও কলকাতার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ওই হাসপাতালেই চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথ অতীতে সরকারি চাকরি করতেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে কাজ করেছিলেন।

এই গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা
এই গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, ছবি: সংগৃহীত
 

পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যম শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় একেবারে কাছ থেকে, কার্যত তার গাড়ির জানালার কাচে নল ঠেকিয়ে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা বাইকে বসে ছিল বলে জানা গেছে। তারা চন্দ্রনাথের গাড়িটি থামিয়ে কিছুক্ষণ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদের সংঘাতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুই দলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কারণেই এই খুনগুলো হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে, তা স্পষ্ট করে রাজ্য পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি। ব্যাপক হারে রাজ্যে লুটপাট, পার্টি অফিসে হামলা, আগুন লাগানো থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অনেকেই ঘরছাড়া। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করছে। অসংখ্য ব্যক্তিকে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপির প্রধান নেতার ব্যক্তিগত সহকারীকে খুনের জেরে সহিংসতা আগামী দিনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এ সময়ও ইরানের ওপর আরোপিত নৌ–অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা পরস্পর একমত হয়েছি যে অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকলেও প্রজেক্ট ফ্রিডম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে। মূলত (শান্তি) চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে ট্রাম্পের এ বার্তার বিষয়ে আজ বুধবার সকালে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে প্রণালিটি ছাড়তে সহায়তা করতে গত সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের চেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব