হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজগুলোকে তথ্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র, তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ‘এসকর্ট মিশন’ কিংবা মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে 'না'।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ করে তোলা।
রোববার (৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িত নয়—এমন বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো চলাচলের সুযোগ পায়।
ট্রাম্প এই পদক্ষেপের নাম দিয়েছেন 'প্রজেক্ট ফ্রিডম'। বিষয়টিকে 'মানবিক' পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তথ্য দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
তবে ইরান এর আগেই সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
হরমুজে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ উদ্যোগে তারা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ১০০টিরও বেশি স্থল ও নৌ-ভিত্তিক বিমান এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করবে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে 'খুবই ইতিবাচক আলোচনা' চলছে।
একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং তা বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে।
ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। কার্যত যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সেটি লঙ্ঘন করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে লেবানন-ইসরায়েল।