• Colors: Green Color

পুরো ২০ ওভার খেলে বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল করতে পেরেছিল ৮ উইকেটে ১১০ রান। যে কোনো ধরনের টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই রানটা কম। জিতলেও কঠিন লড়াই হওয়ার কথা। কিন্তু পাকিস্তান নারী ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই রান নিয়ে জিততে কোনো কষ্টই হয়নি বাংলাদেশের।

ব্যাংককে পাকিস্তানকে মাত্র ৫৬ রানে অলআউট করে ৫৪ রানের বড় জয় পেয়েছে ফাহিমা খাতুনের দল। এই জয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল।

অল্প রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল পাকিস্তান। প্রথম ৬ ওভারে ২১ রান তুলতে হারায় ২ উইকেট। পাওয়ার প্লের পর বোলিংয়ে এসে দলটিকে আরও চাপে ফেলেন অধিনায়ক ফাহিমা।

নিজের প্রথম ২ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ফাহিমা। এ সময় পাকিস্তান উইকেট হারায় রানআউটেও। মাত্র ৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখনই ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে যায় পাকিস্তান। পরের ৫ উইকেটে ২৬ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সানজিদা আক্তার ৩.৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের রান তিন অঙ্কে নিতে মূল ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক ফাহিমা। ৩২ বলের ইনিংসে ৫ চারে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর কোনো ব্যাটার ২০ রানও করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ বলে ১৫ রান করেন শারমিন সুলতানা। ৬ ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরতে দেখা ফাহিমা একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা সচল রাখেন। সেই রানে শেষ পর্যন্ত জয়ও এসেছে। ব্যাট–বলের পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন ফাহিমা।

রোববার ভারত ‘এ’ নারী দলের বিপক্ষে ফাইনালে নামবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল: ২০ ওভারে ১১০/৮ (ফাহিমা ৩২, শারমিন ১৫, শামীমা ১৩; হাফসা ২/২৫)।
পাকিস্তান নারী ‘এ’ দল: ১৬.৪ ওভারে ৫৬/১০ (শাওয়াল ১৪, , হাফসা ১২; সানজিদা ৩/৬, ফাহিমা ২/৬)।
ফল: বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল ৫৪ রানে জয়ী।

প্রথমবার বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে ডাক পেয়ে খুশি সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। গত রাতে বাফুফের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সেই অনুভূতির কথাই বলেছেন আনিকা, ‘শৈশব থেকেই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্য ছিল। অবশেষে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। জাতীয় দলে নাম লেখাতে পেরে সত্যিই আমি খুশি।’

১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ খেলতে আজ রাত ২টায় ব্যাংকক হয়ে সিডনির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। তার আগে আজ দুপুরে বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ পিটার বাটলারের মুখে শোনা গেলে আনিকার প্রশংসা, ‘তার বয়স ২০–২১ বছর। ফেডারেশনের একজন সদস্য, মিস্টার ফাহাদ তার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। আমরা তার ভিডিও দেখেছি, অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার চোখে সে সত্যিই সম্ভাবনাময়, ভবিষ্যতের জন্য বড় আবিষ্কার হতে পারে।’

প্রথম প্রবাসী নারী ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন জাপানে জন্ম নেওয়া মাতসুশিমা সুমাইয়া। এবার আনিকাও এ তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন তিনি।

গত মাসে সুইডিশ কাপ দিয়ে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক। ইউরোপের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশ দলের হয়েও কাজে লাগাতে চাইবেন ২০ বছর বয়সী আনিকা।

অনুশীলনে আনিকা–ঋতুপর্ণারা
অনুশীলনে আনিকা–ঋতুপর্ণারা
 

বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আনিকার জন্য সহজ ছিল না। ভিডিও বার্তায় তেমনটাই বলেছেন এই প্রবাসী, ‘এখন ভালো লাগছে। তবে শুরুর দিকে কিছুটা কঠিন ছিল… আবহাওয়া এবং সবকিছুই ছিল নতুন। ধীরে ধীরে উন্নতি করছি।’

অল্প দিনে সতীর্থদের সঙ্গেও আনিকার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। আফঈদা, রিপা, স্বপ্না, রূপনারা আছেন ক্রমবর্ধমান সে তালিকায়। আনিকার মতো একজনকে পেয়ে অধিনায়ক আফঈদাও খুশি। আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সে (আনিকা) এখানে এসে ট্রায়াল দিয়েছে। মোটামুটি ভালোই আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। আশা করি তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

‎১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হবে এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

আজ রাত ২টায় সিডনির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের
আজ রাত ২টায় সিডনির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের
 

মূল টুর্নামেন্টে খেলার আগে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সিডনির ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ। ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় ফুটবল ক্লাব ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা আছে আফঈদাদের।

বাংলাদেশ কি ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে? ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলা এবারের বিশ্বকাপ না খেলায় এমন প্রশ্ন ছিল অনেকেরই। আজ সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

আইসিসির সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া–নিউজিল্যান্ডে হতে যাওয়া আসরটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে।

আজ কলম্বোয় নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সুপার এইটের লাইনআপ চূড়ান্ত হয়েছে। পাকিস্তান ছাড়াও সুপার এইটে উঠেছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড।

আজ সুপার এইট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান
আজ সুপার এইট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান, এএফপি
 

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইবিধি অনুযায়ী, সুপার এইটে ওঠা সব দলই ২০২৮ বিশ্বকাপ আসরের জন্য সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে অন্যতম আয়োজক হিসেবে নিউজিল্যান্ডের জায়গা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। অস্ট্রেলিয়া এবার সুপার এইটে ওঠেনি, তবে স্বাগতিক হিসেবে খেলা নিশ্চিত।

আইসিসি জানিয়েছে, ২০ দলের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাছাইপর্বের মাধ্যমে উঠে আসবে ৮টি দল। বাকি ১২টির মধ্যে ৯টি ঠিক হয়েছে এবারের আসরের পারফরম্যান্স ও স্বাগতিক হওয়ার মাধ্যমে। অন্য তিনটি চূড়ান্ত হবে টি–টুয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। আগামী ৯ মার্চ (ফাইনালের পরদিন) র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসাব অনুযায়ী এই তালিকা চূড়ান্ত হবে।

তবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডই ওই তিনটি জায়গা নেবে। বাংলাদেশ আছে ৯ নম্বরে, আফগানিস্তান ১০ আর আয়ারল্যান্ড ১২ নম্বরে। আগামী ৯ মার্চের মধ্যে এমন কোনো আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি নেই, যাতে এই তিন দলের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়তে পারে। যে কারণে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের ২০২৮ আসরে খেলা এখনই নিশ্চিত।

না কোনো অঘটন নয়!

কলম্বোতে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সহজ জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। টসে জিতে আগে ব্যাট করে সাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান তুলেছিল সালমান আগার দল। সেই রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া গুটিয়ে গেছে ৯৭ রানে।

১০২ রানের জয়ে পাকিস্তান সুপার এইটে জায়গা করেছে ৬ পয়েন্ট নিয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে সালমানের দল। এই জয়ে ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাও নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের।

রান তাড়ায় নামিবিয়া ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলবে, এমনটা আবহ দলটি তৈরিই করতে পারেনি। ৭.৩ ওভারে ৪৯ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট, একে একে ফিরে যান লরেন স্টিনক্যাম্প, ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনরা।

৪ উইকেট নিয়েছেন তারিক
৪ উইকেট নিয়েছেন তারিক, এএফপি
 

পরের ৬ উইকেটে যোগ হয়েছে ৪৮ রান। পাকিস্তানের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন স্পিনার উসমান তারিক। ডান হাতি এই রহস্য স্পিনার ১৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। লেগ স্পিনার শাদাব খান ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট।

এর আগে ব্যাট হাতে পাকিস্তান ১৯৯ রান করে ফারহানের প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি সেঞ্চুরিতে। ২৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ৫৭ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন করেছেন। এটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদের ৫৮ বলে সেঞ্চুরি। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে শুধু ফারহান ও শেহজাদই সেঞ্চুরি করেছেন।

ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

সেঞ্চুরির পথে আজ ফারহান হাঁকিয়েছেন ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। তবে শুরুটা ছিল ধীরগতির—ইনিংসের প্রথম ৩০ রান করতে তিনি খেলেন ২৭ বল। তবে পরের ৭০ রান করেন মাত্র ৩১ বলে। ফারহানের পাশাপাপাশি পাকিস্তান রান পেয়েছে শাদাব ও সালমানের ব্যাট থেকেও। শেষদিকে শাদাব ২২ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার আগে অধিনায়ক সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন।

সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান
সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান, এএফপি

এই সেঞ্চুরির সুবাদে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও এখন ফারহান। তাঁর মোট রান ২২০। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম, তাঁর সংগ্রহ ১৭৮ রান। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফারহানই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (ফারহান ১০০, সালমান ৩৮; ব্রাসেল ২/৪৮, ইরাসমাস ১/২৫)। নামিবিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৯৭ (স্টিনক্যাম্প ২৩; তারিক ৪/১৬, শাদাব ৩/ ১৯)। ফল: পাকিস্তান ১০২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: সাহিবজাদা ফারহান।

জিতলে সুপার এইট, হারলে বাদ—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের আজ সমীকরণ এমন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।

দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন ফারহান। এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১* রান করেছিলেন শেহজাদ।

ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

আজ ৩৭ বলে ফিফটি করা ফারহান সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল ৫৮ বলে।

সেঞ্চুরির পথে ১১ চার ও চার ছক্কা মেরেছেন ফারহান। তাঁর সেঞ্চুরির কল্যাণে পাকিস্তান তুলতে পেরেছে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ।

ফারহানকে আজ সঙ্গ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। শেষদিকে শাদাব খান ২২ বলে ৩৬ রান করে ছিলেন অপরাজিত। এর আগে ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হয়েছেন অধিনায়ক সালমান আগা।

পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান
পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান, আইসিসি
 

সেঞ্চুরিয়ান ফারহানের শুরুটা আজ তেমন একটা সাবলীল ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৩০ রান তিনি করেছেন ২৭ বলে, এরপর হাত খুলেছেন ফারহান। পরের ৭০ রান করেছেন ৩১ বলে।

এই সেঞ্চুরিতে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছেন ফারহান। তাঁর রান এখন ২২০, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এইডেন মার্করামের, ১৭৮ রান।

ক্রিকেট দিনে দিনে ছক্কার খেলায় পরিণত হচ্ছে বললে হয়তো ভুল হবে না। পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার—সব সময়ই ছক্কা মারার চেষ্টা থাকে ব্যাটসম্যানদের।

স্বাভাবিকভাবেই ছক্কার সংখ্যায় একটা টুর্নামেন্ট আরেকটাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। না, ছক্কার সংখ্যায় এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে ছাড়ায়নি। তবে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গড়া ছক্কার রেকর্ড ভেঙে এবারের বিশ্বকাপ নতুন রেকর্ড গড়বে, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত।

২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫২ ম্যাচে ছক্কা দেখা গিয়েছিল ৫১৭টি, যা এক টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ৩২টি। এরই মধ্যে ছক্কা হয়েছে ৪৩১টি। ফাইনালসহ এখনো ম্যাচ বাকি ২৩টি। রেকর্ড কি ভাঙবে? তেমনটাই তো হওয়ার কথা।

কারণ, গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি প্রায় ১০টি করে ছক্কা মেরেছে—৯.৯৪। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছক্কা হয়েছে ম্যাচপ্রতি অনেক বেশি— ১৩.৪৭ । সেই হিসাবে বাকি ম্যাচগুলোতে রেকর্ড ভেঙে যাওয়ারই কথা।

২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন। গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত স্ট্রাইকরেট ছিল ১০৯.৯৬, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৪২। এটিই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত স্ট্রাইকরেটের হিসাবে সর্বোচ্চ।

২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন
২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন, এএফপি
 

এবারের বিশ্বকাপ ও এর আগের বিশ্বকাপ ছাড়া এক আসরে ৪০০ ছক্কা হয়েছে মাত্র একবার। সেটি ২০২১ বিশ্বকাপে। সবচেয়ে কম ছক্কা হয়েছে ২০০৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। সেবার মাত্র ১৬৬টি ছক্কা হয়েছে, ম্যাচও হয়েছিল মাত্র ২৭টি।

অবশ্য চারটি বিশ্বকাপেই ২৭টি করে ম্যাচ হয়েছে। ২৭টি করে ম্যাচ হয়েছে এমন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা হয়েছিল ২০১০ সালে, ২৭৮টি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব