• Colors: Green Color

বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে মুক্তি পেল প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বুর্না বয়ের কণ্ঠে গাওয়া ‘দাই দাই’ গানটি। সপ্তাহখানেক আগে এক মিনিট ৭ সেকেন্ডের টিজারে ঝলক দেখান কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা।

গানটি মুক্তির ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) ফিফা জানিয়েছে, এর থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি জমা হবে তাদের গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবলে সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই অর্থ ব্যয় করা হবে, আর টুর্নামেন্ট শেষে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ফিফা জানিয়েছে, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের হাফ টাইমে ম্যাডোনা, শাকিরা ও কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ভক্ত-সমর্থকদের আনন্দে মাতাবেন। তার আগ পর্যন্ত তাদের হৃদয়ে ঢেউ তুলবে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ‘দাই দাই’।

বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা অবশ্য নতুন মুখ নন। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থিম সং দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এছাড়া ২০০৬ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও তার পারফরম্যান্স মাতিয়েছিল দর্শকদের।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল জাপান। চোটের কারণে কাওরু মিতোমাকে ছাড়াই আজ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। ২৬ জনের স্কোয়াড ঘোষণার পর উইঙ্গার মিতোমাকে দলে না পাওয়ার হতাশায় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই জাপানি কোচ। মোরিয়াসুর ভাষায়, মিতোমার অনুপস্থিতিতে জাপান এক ‘বড় ভরসা’কে হারাল।

গত সপ্তাহে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ব্রাইটনের ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান মিতোমা। জাপানের মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আগে ব্রাইটন উইঙ্গারের সেরে ওঠার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই।

ফলে ২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেই পরিকল্পনা সাজাতে হয় কোচকে। অথচ গত মার্চেই ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাপানের ১-০ গোলের জয়ের নায়ক ছিলেন মিতোমা।

আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ‘এফ’ গ্রুপে জাপানের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ১৪ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জাপান।

টোকিওতে প্রায় ৩০০ সংবাদকর্মীর সামনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময় বাদ পড়া খেলোয়াড়দের কথা বলতে গিয়ে মোরিয়াসুর চোখ ছলছল করে ওঠে। তবে দলে ব্যাকআপ খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। মোরিয়াসু বলেন, ‘যাঁরা জাপানের খেলা দেখেছেন, তাঁরা সবাই জানেন, দলে মিতোমা কত বড় এক ভরসা।

তবে গত বছর আমরা যখন প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো হারালাম, তখনো কিন্তু মিতোমা দলে ছিলেন না। এটাই আমাদের দলের মূল মন্ত্র—যে–ই একাদশে আসুক না কেন, দল যেন তার সেরা পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখতে পারে।’

‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু
‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসুরয়টার্স

সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে জাপানের রূপকথা লেখার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মিতোমার। সেবার শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। মিতোমার ছিটকে যাওয়া নিয়ে মোরিয়াসু বলেন, ‘অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে এই ধাক্কা তাকে বেশি পোড়াবে। আমি আশা করি, এই মানসিক কষ্ট কাটিয়ে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং চেনা ছন্দে মাঠে ফিরবে।’

মিতোমা ছাড়াও চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন মোনাকো ফরোয়ার্ড তাকুমি নামামিনো। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাঁ হাঁটুর এসিএল (অ্যান্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ছিঁড়ে যাওয়ায় মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েন।

চোটে ২০২৪ সালের জুনের পর জাপানের হয়ে কোনো ম্যাচ না খেললেও আয়াক্স ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসুকে দলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দলে আছেন ক্রিস্টাল প্যালেসের দাইচি কামাদা, লিভারপুলের ওয়াতারু এনদো এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের তাকেফুসা কুবো।

গত মার্চে গ্লাসগোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত ভলফসবুর্গের কেন্টো শিওগাই ডাক পেয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। এ ছাড়া ৩৯ বছর বয়সে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমো।

মিতোমার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য থেকে সরছেন না মোরিয়াসু, ‘বিশ্বকাপ অবশ্যই এক বিশেষ মঞ্চ, তবে সে জন্য আমরা আমাদের কাজের ধরন বদলে ফেলব না। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপ আমাদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং আমি খেলোয়াড়দের সব সময় বলি যে প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলকিপার: জিওন সুজুকি, কেইসুকে ওসাকো, তোমোকি হায়াকাওয়া। ডিফেন্ডার: ইউতো নাগাতোমো, শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আয়ুমু সেকো, ইউকিনারি সুগাওয়ারা, জুন্নোসুকে সুজুকি। মিডফিল্ডার/ফরোয়ার্ড: ওয়াতারু এনদো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, কোকি ওগাওয়া, দাইজেন মায়েদা, রিতসু দোয়ান, আয়াসে উয়েদা, আও তানাকা, কেইতো নাকামুরা, কাইশু সানো, তাকেফুসা কুবো, ইউইতো সুজুকি, কেন্টো শিওগাই, কেইসুকে গোতো।

গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলে দিয়েছিলেন ওয়ানডেকে, তারও তিন বছর আগে টি–টুয়েন্টি সংস্করণ থেকেও সরে দাঁড়ান। ৩৯ বছর বয়সী মুশফিকুর রহিম এখন খেলেন শুধু টেস্টে। এ সংস্করণে পারফর্ম করছেন নিয়মিত, তাঁর ফিটনেস নিয়ে তো প্রশ্ন ছিল না কখনোই।

এর মধ্যে গত বছর ওয়ানডে দলও পরপর চারটা সিরিজ হেরেছিল। ভালো করতে পারছিল না মিডল অর্ডার। মুশফিকুর রহিমকে তাই ওয়ানডেতে আবারও ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাতে অবশ্য সাড়া দেননি।

কেন? সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে উত্তর দিলেন মুশফিক, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন, আমার কাছে (প্রস্তাব) এসেছিল। কিন্তু আমি মনে করি, বাংলাদেশ দল ইনশা আল্লাহ এমন একটা পর্যায়ে এখন আছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে, আমি মনে করি যে আমার ও রকম সার্ভিস দরকার হবে না।’

বাংলাদেশের তিন সংস্করণে অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক। দেশের হয়ে ২৭৪ ওয়ানডে খেলে তাঁর সেঞ্চুরি ৯টি, ৩৬.৪২ গড়ে করেছেন ৭৭৯৫ রান। তবে এখন আর রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা নেই তাঁর। গত দেড় দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় পরিবারকে সময় দিতে পারেননি, সেটি করতে পেরেই খুশি মুশফিক।

সিলেটে অনুশীলনের ফাঁকে মুশফিক
সিলেটে অনুশীলনের ফাঁকে মুশফিক
 

টেস্ট ক্রিকেটেও এখন বেশ ভালো করছে বাংলাদেশ, মুশফিক সেটা উপভোগও করছেন। সর্বশেষ মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারানোর পথে দুই ইনিংসে ৭১ ও ২২ রানের ইনিংসে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

লম্বা ক্যারিয়ারে ৬ বছরে ৩৪ টেস্টে অধিনায়কও ছিলেন মুশফিক। দুই দশক আর ১০২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই সংস্করণে তিনি সাক্ষী হয়েছেন অনেক উত্থান–পতনেরও।

মুশফিক মনে করেন, ধারাবাহিকতা বিবেচনায় টেস্টে এখনই সেরা দল বাংলাদেশের।
মুশফিক বলেন, ‘আগেও অনেক দারুণ ব্যক্তিগত পারফরমার ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে আপনি যদি বলেন ধারাবাহিকতার দিক থেকে, যদি আপনি খেয়াল করে দেখেন, অবশ্যই এখন যে টেস্ট দলটা খেলছে, সব সময়ের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক। আগে আমরা এক বছরে গড়ে হয়তো সর্বোচ্চ তিনটা টেস্ট খেলতাম, এ রকম হলে ফল পাওয়া খুব কঠিন। এখন ৮–১০টা খেলি, আগের থেকে এটা ভালো।’

এখন পারফরমারের সংখ্যাও বেশি বলে মনে করেন মুশফিক, ‘এখন যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ। সেদিক থেকে বলব, তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তারা পারফর্ম করছে, যেটা আমি বললাম একটু আগে যে পারফরমারের সংখ্যাটা অনেক বেশি। পারফরমারের সংখ্যা যখন একটা দলে ৫ থেকে ৭–৮ জন হবে, সেই দলটা যেকোনো সংস্করণেই হোক তারা ভালো করবে।’

কতদিন খেলবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি মুশফিক
কতদিন খেলবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি মুশফিক
 

বয়স এখন চল্লিশ চলছে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্টও খেলেছেন। আর কত দিন ক্রিকেট খেলতে চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুশফিক বলেছেন, ‘আপাতত কোনো লক্ষ্য নেই। কালকের ম্যাচটাই শেষ হয়ে যেতে পারে আবার...বাকিটা উপরওয়ালা জানে। মৃত্যুর আগে শেষ কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা (হাসি)। বেঁচে থেকে যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে। এখন ছাড়ব বা কবে ছাড়ব, এটা আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ভালো সময় থাকতেই ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে স্বাগতিকরা।

বেঞ্চ থেকে ৬৯ মিনিটে মাঠে নামেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ঊরুর চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্ট্রাইকারকে মোটেও ভালোভাবে নিতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনেক ফাঁকা আসনের মধ্যে যাঁরা ছিলেন, বেশির ভাগই দুয়ো দেন এমবাপ্পেকে।

মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করা কোনো খেলোয়াড় সমর্থকদের দুয়োর শিকার হলে বুঝতে হবে, সমস্যা মাঠের বাইরের। এমবাপ্পের ক্ষেত্রেও তা মিথ্যা নয়। তবে গতকাল রাতে লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের ২-০ গোলে জয়ের পর সমর্থকদের দুয়ো নিয়ে ফরাসি তারকার মধ্যে তেমন হেলদোল দেখা গেল না।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এমবাপ্পে বলেন, ‘দুয়ো...এটাই জীবন। মানুষ ক্ষুব্ধ থাকলে তাদের মতামত পাল্টানো কঠিন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়ের জীবনে এটা মেনে নিতেই হবে।’

গঞ্জালো গার্সিয়া ও জুড বেলিংহামের দুই অর্ধের গোলে রিয়াল জিতলেও ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। বরং নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন এমবাপ্পে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের একাদশে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য বেশ চমকে দেওয়ার মতো। এমবাপ্পের দাবি, রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া তাঁকে বলেছেন, তিনি বর্তমানে রিয়ালে পছন্দের তালিকায় চতুর্থ স্ট্রাইকার!

বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পে
বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পেএএফপি

শুনুন এমবাপ্পের মুখেই, ‘ভালো আছি, শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি; কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’

ভিনিসিয়ুস, মাস্তানতুয়েনো ও গার্সিয়াকে রিয়ালের একাদশের হয়ে মাঠে নামান আরবেলোয়া। বেঞ্চ থেকে মাঠে নামা বেলিংহামের গোলের উৎস ছিল এমবাপ্পের পাস। ফরাসি তারকা রিয়ালের একাদশে ফেরার লক্ষ্যে বলেন, ‘একাদশের হয়ে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমি কোচের ওপর রাগান্বিত নই। সব সময় কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হয়। আমি একাদশে ফেরার চেষ্টা করব।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিয়াল সমর্থকদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে। সমর্থকদের অভিযোগ, ক্লাবের প্রতি এমবাপ্পের নিবেদনে ঘাটতি আছে। বিশেষ করে চোটের কারণে গত সপ্তাহে ‘এল ক্লাসিকো’তে তাঁর খেলতে না পারা এবং ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করায় ভক্তদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি চোট থেকে সেরে ওঠার সময়ে এমবাপ্পের সারদিনিয়ায় ছুটি কাটাতে যাওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেননি রিয়ালের সমর্থকেরা। যদিও এমবাপ্পের দাবি, ‘ক্লাবের অনুমতি নিয়েছিলাম। লোকে কী বলছে, বুঝতে পারছি না। তবে আমাকে এটা মেতে নিতে হবে।’

ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিস্ময় প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। রিয়ালের কোচ বলেন, ‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকত! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপ্পেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে “চতুর্থ পছন্দের” ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’

রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া
রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াএএফপি

আরবেলোয়া এরপর দলে নিজের কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না। যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে বসার মতো অবস্থায় ছিল না, আজ (কাল রাতে) তার একাদশে থাকা উচিত নয়। এটা ফাইনাল বা বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না যে তাকে নামাতেই হবে। কারও সঙ্গেই আমার কোনো বিরোধ নেই।’

আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘এমবাপ্পে খেলতে না পেরে অখুশি, তা আমি বুঝতে পারছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক ও স্বাভাবিক কাজ।’

এমবাপ্পের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি আরবেলোয়া, ‘আপনারা চাইলে “মিক্সড জোনে” কিলিয়ানের দেওয়া বক্তব্য আমাকে দেখাতে পারেন, তখন আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। সে ঠিক কী বলেছে, তা না শোনা পর্যন্ত আমি তার বাক্য ধরে মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত আমিই নেব। তাদের নামে (কতটা বড়) আমার কিছু যায়–আসে না।’

রিয়ালে বেশ কিছুদিন ধরেই গৃহদাহ চলছে। এর আগে ফেদে ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে মারামারির খবর চাউর হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। বড় কোনো শিরোপা জয় ছাড়া এবার টানা দ্বিতীয় মৌসুম শেষ করবে রিয়াল। মৌসুমে মাঝপথে জাবি আলোনসোকে সরিয়ে আরবেলোয়াকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমবাপ্পে এ মৌসুমের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো ছিল। কিন্তু মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে সব হারিয়ে ফেলেছি...জাবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সবাই জানে আমি তাকে কেমন মনে করি। কিন্তু আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে।’

আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে
আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে, এএফপি
 

মৌসুম শেষে আরবেলোয়ার জায়গায় রিয়াল যে নতুন কোচ আনবে, সেটা মোটামুটি পরিষ্কার। গুঞ্জন আছে, রিয়ালের ড্রেসিংরুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন আরবেলোয়া। তবে আরবেলোয়ার সঙ্গে কোনো সমস্যা না হওয়ার দাবি করেছেন এমবাপ্পে, ‘আরবেলোয়ার সঙ্গে সমস্যা নেই। সবারই নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। খেলার সময় বের করতে আমাকে মাস্তানতুয়োনো, ভিনি ও গঞ্জালোর চেয়ে ভালো হতে পরিশ্রম করতে হবে।’

লা লিগার চলতি মৌসুমে আর দুই ম্যাচ খেলবে রিয়াল। ৩৬ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আরবেলোয়ার দল।

দুই যুগ ধরে বিশ্বকাপ না জেতা ব্রাজিলের আশা-ভরসার কেন্দ্রে এবার কার্লো আনচেলত্তি। নিজেদের ইতিহাসে কখনো বাইরে থেকে কোচ না আনা দেশটি ইতালির এই কোচকে দিয়েছে জাতীয় দলের দায়িত্ব। আনচেলত্তি সেই ভরসার কতটা প্রতিদান দিতে পারবেন, সেটা বোঝা যাবে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে।

তবে বিশ্বকাপের জন্য রওনা দেওয়ার আগে নতুন খবর, শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপ নয়, পরের আসরের জন্যও তাঁর ওপর ভরসা করছে ব্রাজিল। আজ কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবল (সিবিএফ) জানিয়েছে, ইতালিয়ান এই কোচ চুক্তির মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়েছেন। যার অর্থ, ২০৩০ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল কোচের দায়িত্বে থাকবেন আনচেলত্তি।

৬৬ বছর বয়সী আনচেলত্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিল কোচের দায়িত্ব নেন। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী আনচেলত্তির কোচিং ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম কোনো জাতীয় দলের নেওয়া। প্রাথমিকভাবে চুক্তি হয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেয়াদ ধরে। তবে সেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগেই মেয়াদ বাড়ল আরও এক আসর।

সিবিএফের অফিশিয়াল এক্স পেজে আনচেলত্তির একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আনচেলত্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এক বছর আগে আমি ব্রাজিলে এসেছিলাম এবং বুঝতে পেরেছিলাম এই দেশটির কাছে ফুটবলের মানে কী। আমরা জাতীয় দলকে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি, কিন্তু সিবিএফ এবং আমি—উভয়েই আরও বেশি কিছু চাই। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমরা ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত একসাথে পথ চলা অব্যাহত রাখব।’

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকবেন কার্লো আনচেলত্তি
২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকবেন কার্লো আনচেলত্তিইনস্টাগ্রাম/কার্লো আনচেলত্তি

এ পর্যন্ত আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল ১০টি ম্যাচ খেলেছে, জিতেছে পাঁচটি, ড্র দুটি, হার তিনটি। সিবিএফ সভাপতি সামির শাউদ এই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিকে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ব্রাজিলীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

২০০২ বিশ্বকাপে সর্বশেষ ট্রফি জেতা ব্রাজিল এবার টুর্নামেন্ট শুরু করবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপের জন্য ১৮ মে দল ঘোষণা করার কথা আনচেলত্তির।

সময় এখন নাহিদ রানার। বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার এবার এপ্রিল মাসের জন্য আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। গত এপ্রিলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে খেলে উইকেট নেন ৮টি। ওই পারফরম্যান্সই তাঁকে মাসসেরা বানিয়েছে।

এই সিরিজের আগে ও পরে নাহিদ রানা পারফর্ম করেছেন। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। নেন ৪০ রানে ৫ উইকেট।

নাহিদ রানা এই প্রথম আইসিসির মাসসেরা পুরস্কার জিতলেন। গত বছরের এপ্রিলে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন নাহিদ রানা। তাঁর আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (২ বার) ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
 

মাসসেরা নাহিদ রানা বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। এটি দেশের মাটিতে পারফর্ম করতে পারা সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এবং এই সিরিজটি আমি সব সময় মনে রাখব।’

সেই সিরিজে নাহিদ রানার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই তিনি ঘুরে দাঁড়ান এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো নেন ৫ উইকেট।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচে নাহিদ রানা নেন ২ উইকেট। সিরিজসেরা খেলোয়াড়ও হন এই ফাস্ট বোলার।

মেয়েদের মাসসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লরা ভলভার্ট।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব