• Colors: Purple Color

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ কোনো আশঙ্কা নেই। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. এস এন নজরুল ইসলাম এ কথাগুলো বলেন।

যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও মাদক এবং ‘সন্ত্রাসী সজল’ ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররম বা আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় গত ২ মার্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় চার অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়। ওয়ারী থানার পুলিশ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হেফাজত থেকে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা জানায়, ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের গডফাদার সজল ওরফে অটো সজল অস্ত্র সরবরাহ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসী সজল ওরফে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করে বলে জানায় পুলিশ।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সজল জানান, স্বামীবাগ এলাকায় তাঁর একটি ভাড়া বাসায় বিপুল অস্ত্র ও মাদক আছে। ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলের আরও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে ২টি পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন, ৭৭টি তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন প্রস্তুতের জন্য ২৭ গ্রাম উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন সজল ওরফে অটো সজল (৩১), মো. বাপ্পী (২৮), মো. হানিফ (৪০) এবং শামসুন নাহার (৪৫)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি যে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না। এগুলো আমাদের অস্ত্র শাখায় পাঠানো হবে। রেজিস্টার যাচাই করে জানা যাবে, এগুলো কোন থানা বা এলাকা থেকে খোয়া গিয়েছিল।’

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র। আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র। আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারেছবি: পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া

বিভিন্ন ঘটনায় হামলার লক্ষ্য পুলিশ কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত দিনের কথা আমি বলতে চাই না। তবে ৫ আগস্টের পর পুলিশের যে ভঙ্গুর অবস্থা ছিল, সেখান থেকে পুলিশকে অনেকটা স্ট্রিম লাইনে (পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থা) আনার চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি।’

মোহাম্মদপুরের চাঁদাবাজ ফারুক জামিনে বের হয়ে আবার চাঁদাবাজিতে জড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘পুলিশের কাজ হলো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা, তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং আদালতে উপস্থাপন করা। পরবর্তী বিষয়গুলো আইনজীবী, প্রসিকিউশন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন। কাকে জামিন দেওয়া হবে, কাকে দেওয়া হবে না, কাকে শাস্তি দেওয়া হবে—এসব আদালতের বিষয়।’

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা বগুড়ার দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মৌখিকভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো লিখিত নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি।

জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে নামগুলো পরিবর্তন করার জন্য।’ নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে দাপ্তরিক চিঠি আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘হয়তো চিঠি আসবে। তবে উনি বলেছেন, তাই আমরা শুরু করব। মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি।’

এরপর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে গণশুনানি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘ইউএনও সাহেব আবার গণশুনানি করবেন। যেখানে যেখানে নাম পরিবর্তনের বিষয় আছে, সেই ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে তারিখ দেওয়া হবে। ওই তারিখে সবাই উপস্থিত হবেন। গণশুনানির মাধ্যমে যে নাম উঠে আসবে, সেটাই হয়তো করা হবে।’

১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ী’। অন্যদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটির নাম নিয়ে মূলত বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’। তাঁর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

নামকরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তোলা হয়।

সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছেন। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকা গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ রাখা হয়েছে। অন্য এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ‘দিগন্ত’ নাম দেওয়া হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন দুটির নাম মিলে যাওয়াকে তিনি কাকতালীয় বলে দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের এই ব্যাখ্যার পরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা চলতে থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের ৫৩ বছরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন করা হয়। এই অ্যাডহক কমিটির প্রধান শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর রাজনৈতিক প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন। এতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তাঁর নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তাঁর কাছে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখাই অধিকতর সমীচীন।

ওই আধা সরকারি পত্রে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তারে কাজ করে আসছেন। তাঁর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত বা উন্নয়ন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (স্থাপিত ১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব-শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)।

পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তাঁর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়।

এদিকে ৯ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় করার জন্য একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১৩ জুলাই ২০২৩ জারি করা ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২২ (সংশোধিত-২০২৩) ’-এর অনুচ্ছেদ ১৪.৫ অনুযায়ী উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নাম পরিবর্তনের সুস্পষ্ট মতামত ও যৌক্তিকতাসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব সুপারিশসহ প্রতিবেদন এ বিভাগে পাঠানোর জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে বলা হয়।

১৯৭৩ সালে শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিন দফায় শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেন। বিদ্যালয়ের আয়তন ৭৪ শতক। জমি দান করেছেন মরহুম রফিক উদ্দিন প্রামাণিক, মরহুম মুছা চৌধুরীসহ স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, ‘এ বিদ্যালয় কমিটিতে তিন দফা সভাপতি ছিলাম। আওয়ামী লীগ নেতারাও সভাপতি ছিলেন। কিন্তু অতীতে কেউ কখনো বিদ্যালয়ের নাম পাল্টে ফেলানোর চেষ্টা করেননি।’

শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে কারিগরি শাখাসহ দুটি শাখা চালু আছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৩৪। শিক্ষার্থীসংখ্যা ৯২৪।

সব রকমের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে এ বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয় উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম নির্বাচনের আগে থেকেই এ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে নানাভাবে অবদান রেখেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকায় মিলনায়তন এবং ৭ লাখ টাকায় নামাজঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিদ্যালয় জাতীয়করণেরও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে বিদ্যালয়ের নামকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির কারণে আবেদন প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয়ে ১১ জুন আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে সেই চিঠির অনুলিপি চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।

ঢাকা

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুতসহ দেশে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন।

খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।

উল্লেখ্য, ধানের এই পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে (১০০:৬৫ অনুপাতে) মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।

আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগই চাল (৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি।

শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫.১২ হাজার মে. টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের এই মজুতের পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপ সচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া।

তিনি বলেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা খুবই নিরাপদ।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। খাদ্য মজুত এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ  সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

খাদ্য সচিব জানান, আমদানিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে খাদ্য মজুত আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি দুই দিনের জন্য প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন।

তারেক রহমান ২২ জুন রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগর দালিয়ানে যাবেন।

আজ শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। দুই সফরসূচি নিয়ে বিস্তারিত জানান তিনি। বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জানিয়ে সচিব জানান, ‘মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।’

মালয়েশিয়ায় কী হবে

মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিবিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

চীন সফরে কী হবে

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে । এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ( সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।

২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওই দিন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকবেন।

২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।

বিকেলে চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।

পরদিন ২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ওই দিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন ।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্য দিয়ে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রসচিব। বিনিয়োগের জন্য চীনের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে সচিব জানান। বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা রয়েছে এবং সেটির কাজও হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেখানে বিভিন্ন বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে বলে জানানো হয় ।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব