প্রাথমিক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে প্রধানমন্ত্রী তোমাদের মেসি–এমবাপ্পের মতো ভালো খেলোয়াড় হতে হবে
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খেলাধুলার মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে, তবে খেলা ছাড়লে হবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে, সে সেইটা খেলবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। উদ্ভাবনের চেষ্টাও করতে হবে।
আজ শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২২ লাখ ছেলেমেয়ে গত দেড় মাসে এই গোল্ডকাপে ১ লাখ ২৩ হাজার ইভেন্ট খেলেছে। আয়োজকদের বলব, আপনারা গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে আমাদের এ কাজগুলো তারা গিনেস বুকে দিতে পারে।’
খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, তোমাদের শুধু খেললে হবে না। আমি জানি, তোমাদের অনেকে ভালো গান গাইতে পারো, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারো। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কাজেই তোমাদের সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা যদি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারো, তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি স্ট্রং (শক্তিশালী) বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তোমরা যখন বড় হবে, তোমাদেরকেই বাংলাদেশ ভালোভাবে চালাতে হবে।’
এ সময় খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখি তোমাদের কার কার মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস আছে, যারা খুব ভালোভাবে দেশ চালাতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো (ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো) খেলছে, মেসি (লিওনেল মেসি) খেলছে, এমবাপ্পে (কিলিয়ান এমবাপ্পে) খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়াড় হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে; যেমন ক্রিকেট। ক্রিকেটের মাধ্যমে সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। তাই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয়, ফুটবল দিয়ে আমাদের সবাই চিনবে, ইনশা আল্লাহ। হকি দিয়ে, সুইমিং দিয়ে, টেনিস দিয়েও সবাই আমাদের চিনবে। তোমরা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশকে তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দেশ গড়তে পারবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে, তবে খেলা ছাড়লে হবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে, সে সেইটা খেলবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। উদ্ভাবনের চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বিজয়ীই নয়, বরং এই খেলায় সহযোগিতায়ও যাঁরা ছিলেন, সবাইকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘তোমাদের খেলা ছাড়লে চলবে না। তোমাদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সব ব্যবস্থা আমরা করব। তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমাদের সব বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। কিছুদিন পর ঢাকার চীন মৈত্রীতে একটি উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে তোমাদের মতো বয়সী শিশুরা অংশ নেবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ফেমাস (বিখ্যাত) দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটা তোমাদের করতে হবে। কারণ, এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, এটা তোমাদের বাংলাদেশ। করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানার্সআপ দল, সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কৃত করা হয় রেফারিদেরও।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান প্রমুখ।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজন গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়াচর্চা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।