• Colors: Purple Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তাঁর প্রত্যাশা, একটি অত্যন্ত ভালো, অংশগ্রহণমূলক ও সর্বোপরি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইভার্স ইজাবস এ আশাবাদের কথা শোনান।

নির্বাচনের পরিবেশ কেমন, তা জানতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক। সাধারণ পরিবেশটি খুবই আশাব্যঞ্জক। এই অর্থে যে তাঁদের অধিকাংশ আলোচনাসঙ্গী জোর দিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হওয়া উচিত। এ কারণেই নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ও সাধারণ প্রত্যাশা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান।

এর আগে, এদিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান বক্তব্য দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে- বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত জনপদে। ১৯ দিনে তিনি মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

১৯ দিনের প্রচারে প্রথম সিলেট থেকে শুরু করেন তিনি। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছে প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে মাজার- রাস্তার দু’ধারে ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরদিন সকালে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’। তারপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভা। সেখানেই ঘোষণা- বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা করা হবে, দ্রুত শেষ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ।

একই দিনে আরও ছয় জেলায় ছুটে গিয়ে জনসভা করেছেন- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।

পরদিন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশ রাজধানীর ভাষানটেক বিআরবি মাঠে। মাঝে শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা ধীরতা এলেও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে ফের চেনা ছন্দে। সেখানেই সবচেয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা- দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তা আর সারাদেশে খাল খননের ঘোষণা- চট্টগ্রামের বক্তৃতায় একসঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ দুই দিকই ছুঁয়েছেন তিনি।

ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ। তারপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা। উড়োজাহাজে উত্তরাঞ্চল সফর- রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া। দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক ভিটায় পা রাখা- বগুড়ায় রাত কাটানো রাজনৈতিক সফর হয়েও ছিল ব্যক্তিগত আবেগে মোড়া।

রংপুরে গিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল পেরিয়ে যান খুলনা ও যশোর। বরিশালে হেলিকপ্টার থেকে নামা, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি ও পদ্মা ব্যারেজের কথা।

তারেক রহমান ফরিদপুরে বিভাগ, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষে একই ডাক- সবার আগে বাংলাদেশ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা করেছেন- মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ দিকের জনসভা। প্রচারের ব্যস্ততা থামে সেখানেই। প্রচারণা শেষে তারেক রহমান যান মা ও বাবার কবর জিয়ারতে। তার যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে, তা শেষ হলো মা-বাবার কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরা দিয়ে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের সবকয়টিতেই ব্যালট পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আখতার আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। শতভাগ শুদ্ধ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চ্যালেঞ্জ ছিলো।

তিনি বলেন, ২৯৯ আসনে সব ব্যালট পৌঁছে গেছে। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মোবাইল ফোন নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবার বিষয়ের প্রজ্ঞাপনটি আজ প্রত্যাহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটের গণনা সময়সাপেক্ষ, তবে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত বিলম্ব করা হবে না।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে আসনটিতে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের বেশিরভাগই রাতের মধ্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে, সন্ধ্যার মধ্যে কেন্দ্রে যা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবে। সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফলাফল একসাথে গণনা হবে এবং ভোটের দিন ব্রিফিং হবে মোট চারবার।

সারাদেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল দেওয়া হবে বলেও জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, একটি আসনে ভোট স্থগিত। সাড়ে চারটার পর কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেয়া হবে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী। মোট ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ শতাংশ সাধারণ, বাকি ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানোর কথা বলা হয় ব্রিফিংয়ে।

আরও বলা হয়, ভোটে থাকছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক। ৯ লাখ ৫৮ হাজার জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন। ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নজরদারি নিশ্চিতে ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। এছাড়া, ড্রোন, বডিওর্ন ক্যামেরা থাকছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে এখন মোতায়েন আছে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।

ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে।

৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ৯০ শতাংশের কথা বললেও কতটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব দিতে পারেননি। সংখ্যাটি বুধবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিসি ক্যামেরা ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রয়োজন বিবেচনায় ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

 নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
 

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে এত ফোর্স, এত ক্যাপাসিটি ডেপ্লয় কখনোই করা হয়নি। তাই নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এরপরও যদি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে, সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, আমাদের ধারণা, নির্বাচনে অপব্যবহার করার জন্য আনা হয়েছিল।’

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে ইসি জানাবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় পাঠানো প্রায় চার কোটি টাকার একটি সন্দেহজনক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লেনদেনটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

নাটোর–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু) আজ মঙ্গলবার বিকেলে শহরের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় সন্দেহভাজন একটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানো হয়। জানতে পেরে তিনি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ওই লেনদেন স্থগিত রাখার আবেদন করেন। অভিযোগ পেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে লেনদেনটি স্থগিত করা হয়।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, ভোটের ঠিক এক দিন আগে এতগুলো টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সন্দেহজনক। এই টাকা ভোট কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি লেনদেনটি স্থগিত রাখা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছেন।

ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কর্মকর্তা (এভিপি) রেজাউল করিম বলেন, চার কোটি টাকা লেনদেন ইসলামী ব্যাংকের জন্য তেমন কোনো বড় লেনদেন নয়। ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই একটি এটিএম বুথের জন্য এসব টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহের কিছু নেই।

সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার কর্মকর্তা (এজিএম) উজ্জল কুমার বলেন, ‘একটি লেনদেনের ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি লেনদেনকে একজন প্রার্থী সন্দেহজনক বলে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব