• Colors: Purple Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া জি এম সি ইনিস্টিটিউট কেন্দ্রে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোট দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, আমার এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ইনশাআল্লাহ আমি আশাবাদী। এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবে।

তিনি আরও বলেন, এই আসনে তিনি যতবার নির্বাচন করেছেন, এলাকার মানুষ তাকে বিজয়ী করেছেন। এই এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমার ওপর আস্থা রাখে এবং আমাকে বন্ধু মনে করে। আমার প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে, তাদের প্রতিও আমার একই রকম ভালোবাসা রয়েছে, যোগ করেন তিনি।

কক্সবাজার-১ আসনের এই প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এমন একটি মুহূর্ত এসেছে, যখন সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী এই আসনে নির্বাচন করে তার চেয়েও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় ফকিরখালি রোডের মাথায় অবস্থিত এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন।

ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিকূলতাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।বরং জনগণকে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সেনাবাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দল গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে মনে করছেন। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের রায় মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, জয়-পরাজয়ের চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের রায় দিতে পারেন, সেটিই প্রধান বিষয়।

১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে দেখা গেছে। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

 

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় টাকা নিয়ে ধরা খাওয়াটা ভালো, ভোট কেনার প্রয়াস সফল হবে না। কারো কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে থাকলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার পর রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের পর গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ভোট সুষ্ঠু আছে। সবাই ভোট দিতে আসছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।

গণমাধ্যমকে সত্য প্রকাশের অনুরোধও করেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ভোট দিতে কেন্দ্রের সামনে জড়ো হচ্ছেন মানুষ। তার মধ্যে অনেকে কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটাররা কেন্দ্রে হাজির হন। কোথাও কোথাও ভোটারের লাইন দীর্ঘ হতে দেখা গেছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদেরকেও এর মধ্যে ভোট দিতে দেখা গেছে।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবারই দেশজুড়ে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠায় ইসি। সারারাত ধরেই ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার ২৯৯টি আসনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোটের লড়াইয়ে নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। 

মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন এবং এদের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। আর মোট প্রার্থীদের মাঝে মাত্র ৮৩ জন হলেন নারী।

মোট প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন ও স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।

জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম সুষ্ঠু, সুন্দর, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবো আশা করি তা পূরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইসকাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেয়ার যে ওয়াদা করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেই মনে করছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ওয়াদা করেছিলাম উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেবো। ট্রেনে বাসে লঞ্চে সবাই বাড়ি চলে গেছে ভোট দেয়ার জন্য। সবাই উৎসবে মেতেছে। জাতিকে সুষ্ঠু, সুন্দর, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবার যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, আশা করি তা পূরণ হবে।

ভোটের দিন সামান্য ভুলত্রুটি হলেও দ্রুত তা সমাধান করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, আগের নির্বাচনে ভোটের সময় খালি মাঠ আর কুকুর দেখতাম। এবার তো কোথাও কুকুর দেখা যাচ্ছে না।

সিইসি আরও বলেন, টিভিতে দেখেছি কেন্দ্রের বাইরে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কথা বলেছেন। এই সৌহার্দ্য দেখে ভাল লেগেছে। দাবি করেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মহলও সন্তুষ্ট। আমাদের ১৭ লাখ লোক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি। আশা করি ভবিষ্যতেও সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবো।

'পাতানো নির্বাচন হচ্ছে কি না সেটা জনগণই বলবে। আমরা কারো পক্ষে কিংবা বিপক্ষে নেই। দেশে আর কখনো পাতানো নির্বাচন হবে না। পাতানো নির্বাচন ও ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে,' যোগ করেন এএমএম নাসির উদ্দিন।

আজ মহা আনন্দের দিন, নতুন উৎসবের সূচনা হলো। এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

গণভোটে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কার ত্বরান্বিত হবে।

ভোট দেওয়ার পরে মেয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।ছবি: প্রধান উপদেষ্টাের প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ মহা আনন্দের দিন, নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। দেশব্যাপী এই জন্মোৎসব পালন করা হবে।

প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

বিনা কারণে তিন কর্মীকে আটক ও নয়টি ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ভোট কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ভোট শুরু হয়েছে দুই ঘণ্টা হয়েছে। সারা দিনের ভোট বাকি। ফলে এখনই বলা যাবে না।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার তিনজন কর্মীকে বিনা দোষে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নয়টি ভোটকেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি পুলিশ, আর্মি ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার পর আশুগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে আনোয়ার হোসেন মৃধা ও নূর আলমকে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর আছিয়া সফিউদ্দীন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা নাছির মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা তিনজন রুমিন ফারহানার পক্ষের কর্মী।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের আটক করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের মধ্যে। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা গত রোববার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব