বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আজ শুক্রবার দেওয়া এ রায়ের ফলে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ট্রাম্প শুল্ককে যেভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, তা আটকে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে ছয়জন এ রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন তিন বিচারপতি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সমর্থিত বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) রয়েছে, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ওই শুল্ক আরোপকে আইনবহির্ভূত বললেও এর আওতায় এখন পর্যন্ত যে ১৩০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র আদায় করেছে, তার কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করছেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা নজিরবিহীনভাবে ব্যবহার করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পাল্টা শুল্ক’। এ ছাড়া মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

রায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন কনজারভেটিভ বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থী তিন বিচারপতি। তাঁদের এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। এর আগে দেশটির নিম্ন আদালত বলেছিলেন, আইইইপিএর অধীনে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক অবৈধ ছিল। আজকের রায়ের বিপক্ষে ছিলেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ, ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।

আদালতের এই রায় নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই–পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রগরি ডাকো এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গড় শুল্ক হার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এই কমাটা সাময়িক সময়ের জন্য হতে পারে। কারণ, নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ খুঁজতে পারে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে শুল্ক নীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এরিকা ইয়র্ক বলেন, আদালতে এই রায়ের মাধ্যমে ‘প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশিমতো সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করবে’। তবু প্রেসিডেন্টের কাছে শুল্ক আরোপের জন্য অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহার করার সুযোগ রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই এক শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেহরির সময় সোলজারবাজার এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বিস্ফোরণটি এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের করাচি শাখার প্রধান হাসান খান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে যখন ভবনের বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ উদ্ধার অভিযান চলাকালীন অনেকের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক।

করাচিতে এই ধরনের ভবন ধসের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে শহরের উপশহর লিয়ারিতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বারবার এমন দুর্ঘটনায় শহরের ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর প্রশাসন ইতিমধ্যে করাচির প্রায় ৬০০টি ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ভবনগুলো অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মিত এবং যে কোনো সময় এগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান নিজেদের সামরিক–পারমাণবিক ক্ষেত্র ও স্থাপনা মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির কাজ করছে। সম্প্রতি কয়েকটি স্যাটেলাইট ইমেজ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইরান তাদের একটি সংবেদনশীল সামরিক ক্ষেত্রে নতুন একটি স্থাপনা তৈরির পর সেটির ওপর কংক্রিটের ঢাল তৈরি করে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

স্যাটেলাইট দিয়ে তোলা এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পারমাণবিক স্থাপনার সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বারগুলো মাটিতে ঢেকে দিয়েছে ইরান। অন্য একটি স্থাপনার কাছে সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বারগুলোকে মজবুত করেছে এবং সংঘর্ষের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো মেরামত করেছে।

গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানে কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে যেসব পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—

পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স

রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত পারচিন কমপ্লেক্স ইরানের সবচেয়ে সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটির একটি।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, তেহরান দুই দশকের বেশি সময় আগে সেখানে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ সম্পর্কিত পরীক্ষা চালিয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল বারবার ইরানের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এখানে ওপরে হামলার আগের এবং নিচে হামলার পরের ছবি
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল বারবার ইরানের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এখানে ওপরে হামলার আগের এবং নিচে হামলার পরের ছবি, ছবি: রয়টার্স
 

ইরান সব সময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল বারবার পারচিনে হামলা চালায়।

ওই হামলার আগে ও পরে তোলা স্যাটেলাইট ছবি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, হামলায় পারচিনের একটি আয়তাকার ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

১২ অক্টোবর ২০২৫ এর ছবিতে সেখানে আরও উন্নয়ন কার্যক্রমের তৎপরতা চিত্রে দেখা যাচ্ছে। সেখানে একটি নতুন ভবনের কাঠামো দেখা যাচ্ছে, তার পাশে দুটি ছোট ভবন। ১৪ নভেম্বরের ছবিতে কাজের অগ্রগতি স্পষ্ট। সেদিনের ছবিতে বড় ভবনের ওপর কংক্রিটের ছাদ বসানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তারপর ১৩ ডিসেম্বরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্থাপনার কিছু অংশ ঢেকে গেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারির ছবিতে স্থাপনাটি সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংক্রিটের একটি কাঠামোর আড়ালে সেটিকে লুকিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) ২২ জানুয়ারি তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, ওই স্থাপনার নতুন নির্মিত ভবনের চারপাশে কংক্রিটের ঢিবির মতো কাঠামো নির্মাণের কাজ অগ্রসর হচ্ছে। তারা ওই স্থাপনাটিকে তলেঘান–২ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইস্পাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সের সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ মাটিতে ঢাকা

ইস্পাহান কমপ্লেক্স হলো ওই তিনটি ইরানি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের একটি, যেখানে গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছিল।

পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের অংশ হিসেবে থাকা স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি ইস্পাহান কমপ্লেক্সে একটি ভূগর্ভস্থ এলাকা রয়েছে। কূটনীতিকদের ধারণা, ইরানের বেশির ভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভূগর্ভস্থ ওই এলাকায় সংরক্ষিত আছে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে ইস্পাহানের পারমাণবিক কমপ্লেক্সে সুড়ঙ্গ প্রবেশদ্বারগুলো মাটিতে ঢাকা রয়েছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা
স্যাটেলাইটের ছবিতে ইস্পাহানের পারমাণবিক কমপ্লেক্সে সুড়ঙ্গ প্রবেশদ্বারগুলো মাটিতে ঢাকা রয়েছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা, ছবি: রয়টার্স
 

আইএসআইএস জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ দিকে তোলা ছবিতে ইস্পাহান কমপ্লেক্সের দুটি সুড়ঙ্গ প্রবেশদ্বার মাটিতে ঢাকার নতুন প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

৯ ফেব্রুয়ারি হালনাগাদ তথ্যে আইএসআইএস বলেছে, তৃতীয় প্রবেশদ্বারও মাটিতে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে গেছে। এর অর্থ, এখন সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সটির সব প্রবেশদ্বার ‘সম্পূর্ণরূপে মাটির নিচে’।

নাতাঞ্জের কাছের কমপ্লেক্সের সুড়ঙ্গের মুখগুলো মজবুত করা হয়েছে

আইএসআইএস জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে নাতাঞ্জ কমপ্লেক্সের কাছের একটি পাহাড়ের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সের দুটি প্রবেশপথ ‘শক্তিশালী ও প্রতিরক্ষামূলকভাবে মজবুত’ করার কাজ চলছে।

নাতাঞ্জে ইরানের বাকি দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে। পাহাড়ের নিচে থাকা এই সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সটি নাতাঞ্জ কমপ্লেক্স থেকে ২ কিলোমিটার দূরে।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে নাতাঞ্জ কমপ্লেক্সের কাছের একটি স্থাপনার দুইটি সুড়ঙ্গ প্রবেশপথকে শক্তিশালী ও মজবুত করার কাজ চলছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা
স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে নাতাঞ্জ কমপ্লেক্সের কাছের একটি স্থাপনার দুইটি সুড়ঙ্গ প্রবেশপথকে শক্তিশালী ও মজবুত করার কাজ চলছে। এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তোলা, ছবি: রয়টার্স
 

আইএসআইএস আরও বলেছে, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে কর্মযজ্ঞ চলছে। ছবিতে সেখানে বহু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ডাম্প ট্রাক, সিমেন্ট মিক্সার এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিও রয়েছে।

‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি নিয়ে ইরান কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলেও জানিয়েছে আইএসআইএস।

দক্ষিণ শিরাজের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

দক্ষিণ ইরানের শিরাজ শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম ইরানের ২৫টি প্রধান ঘাঁটির একটি। ইসরায়েলি সংস্থা আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধে এই স্থাপনাটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির শিকার হয়েছে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে ইরানের শিরাজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। বাম দিকের ছবিতে (৩ জুলাই ২০২৫) পুনর্নির্মাণের আগে এবং ডান দিকের ছবিতে (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) পুনর্নির্মাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজের পর ঘাঁটির অবস্থা দেখা যাচ্ছে

স্যাটেলাইটের ছবিতে ইরানের শিরাজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। বাম দিকের ছবিতে (৩ জুলাই ২০২৫) পুনর্নির্মাণের আগে এবং ডান দিকের ছবিতে (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) পুনর্নির্মাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজের পর ঘাঁটির অবস্থা দেখা যাচ্ছে,ছবি: রয়টার্স

৩ জুলাই ২০২৫ এবং ৩০ জানুয়ারি তোলা ছবিগুলোর তুলনা করলে দেখা যায়, ঘাঁটির প্রধান লজিস্টিকস এলাকা এবং সম্ভাব্য কমান্ড কম্পাউন্ডে পুনর্নির্মাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।

কোম ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

আলমার মতে, কোম শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই ঘাঁটির ভূপৃষ্ঠের ওপরের অংশ মাঝারি মাত্রার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গুডহাইন্ডের মতে, ১৬ জুলাই ২০২৫ এবং ১ ফেব্রুয়ারি তোলা ছবিগুলোর তুলনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ওপর একটি নতুন ছাদ তৈরি করা হয়েছে। ছাদ মেরামতের কাজ ১৭ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এবং সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আজ বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গাজা পুনর্গঠনের কৌশল ও অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওয়াশিংটনের ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এ শান্তি পর্ষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা এ পর্ষদ থেকে নিজেদের কিছুটা সতর্ক দূরত্বে রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এতে যোগ দিচ্ছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই পর্ষদের ‘অসীম সম্ভাবনা’র প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।’ ট্রাম্প নিজেই এ পর্ষদের আজীবন চেয়ারম্যান।

তবে সমালোচকেরা এ পর্ষদকে ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পর্ষদ কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে।

পর্ষদে কারা থাকছে, কারা থাকছে না

এ পর্ষদের সদস্য হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই দুই নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তবে এ পর্যন্ত শুধু নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন; যদিও ‘গাজা নির্বাহী পর্ষদে’ তুরস্ক ও কাতারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ।

হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে এ পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজ ওয়াশিংটনের বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া দেশগুলোর কয়েকটির জন্য বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক নয়; অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে এ উদ্বোধনী বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা তাদের নিজ নিজ দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে কারা আসছেন? কারা আসছেন না?

সমালোচকেরা এ শান্তি পর্ষদকে ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এ পর্ষদ কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে।

উদ্বোধনী বৈঠকের এজেন্ডা

উদ্বোধনী বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হলো, গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা। ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজা বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; যে যুদ্ধে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে আসছে।

পর্ষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ‘গাজার মানবিক ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায়’ ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার তহবিলের ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজায় শান্তি বজায় রাখতে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স) গঠনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। গত বছর ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাহিনী গাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।

এ পরিকল্পনায় গাজায় ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও অন্তর্বর্তী সময়ে গাজা শাসনের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ শাসন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের ফাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ শান্তি পর্ষদস্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের জামাতা ও পর্ষদের নির্বাহী সদস্য জ্যারেড কুশনার গাজা পুনর্গঠনে একটি চকচকে রূপরেখা তুলে ধরেন। এর মধ্যে গাজা উপত্যকাকে সমুদ্রসৈকতের অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ও সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো একে ‘সাম্রাজ্যবাদী’ পরিকল্পনা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানান, শান্তি পর্ষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ‘গাজাবাসীর নিরাপত্তায় ও গাজায় শান্তি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশের জন্য হাজার হাজার কর্মী নিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে’।

ইসরায়েলি তাণ্ডবে গুঁড়িয়ে যাওয়া গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পুনর্গঠন করা একটি বিশাল কাজ। জাতিসংঘ মনে করছে, এ কাজে প্রায় ৭০ বিলিয়ন (৭,০০০ কোটি) ডলার প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার কথা থাকলেও এখন এ পর্ষদ বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব–সংঘাত নিরসনের পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, এ পর্ষদ ‘গাজার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য একটি সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবে এবং শেষ পর্যন্ত গাজার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করবে!’

উদ্বোধনী বৈঠকে কারা আসছেন, কারা আসছেন না

হোয়াইট হাউস ৫০টি দেশের প্রতিনিধিকে এ পর্ষদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও এ পর্যন্ত ৩৫টি দেশের নেতা আগ্রহ দেখিয়েছেন। অন্তত ১৪টি দেশের নেতারা আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে এ পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও  ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
 

ইউরোপ

ইউরোপের দেশগুলো এ পর্ষদ নিয়ে বিভক্ত। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি শেষ হওয়ার পরও তিনি এটির চেয়ারম্যান থাকবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা পর্ষদে যোগ দিচ্ছে না এবং ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বৃহস্পতিবারের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন পুতিনকে সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানোয় ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে; যদিও পুতিন পর্ষদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেন এ পর্ষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক কমিশনার দুব্রাভকা সুইচাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠাচ্ছে। একজন মুখপাত্র বলেছেন, পর্ষদের কর্মকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে সদস্য না হলেও জোট সদস্য হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া পর্ষদে যোগ দিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। অরবান ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত। কসোভো ও আলবেনিয়াও সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছে।

বৈঠকে ইতালি, সাইপ্রাস, গ্রিস ও রোমানিয়া পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যানও বৈঠকে সরাসরি অংশ নেবেন। পোপ ফ্রান্সিস এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাস্তবে বিষয়টি (শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়া) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ও ট্রাম্পের মতো অস্থির ব্যক্তিকে অসন্তুষ্ট না করার সঙ্গে বেশি জড়িত। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রেকর্ড ভালো নয়।তাহানি মুস্তাফা, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ভিজিটিং ফেলো

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শক্তিধর দেশ শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো, বাহরাইন, মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, কাতার ও কুয়েত এতে যোগ দিয়েছে। দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির ভিজিটিং ফেলো তাহানি মুস্তাফা মতে, আল–জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা ‘নিয়মভিত্তিক উদার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও বহুপাক্ষিকতা’ ধরে রাখতে চায়। এতে তারা সমান অবস্থান পায়।

তাহানি মুস্তাফা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বলছে, তারা বাস্তববাদী হতে চায় এবং গাজার জন্য যা ভালো, সেটাই করতে চায়; যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাবেক এই বিশ্লেষক বলেন, বাস্তবে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ও ট্রাম্পের মতো অস্থির ব্যক্তিকে অসন্তুষ্ট না করার সঙ্গে বেশি জড়িত। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রেকর্ড ভালো নয়।

এশিয়া ও ওশেনিয়া

মধ্য এশিয়া থেকে কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টরা সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের শীর্ষ নেতারাও ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক তো লাম অংশ নিচ্ছেন।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তান পর্ষদে যোগ দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ওয়াশিংটনে রয়েছেন। ভারত আমন্ত্রণটি পর্যালোচনা করছে, কিন্তু এখনো যোগ দেয়নি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আর অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তারা আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করে দেখছে।

আল–জাজিরা

ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাতে চলতি সপ্তাহের শেষেই প্রস্তুত থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বিষয়টি সিএনএনকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

সূত্রগুলো জানায়, হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমান ও নৌ শক্তির বড় ধরনের সমাবেশের পর সপ্তাহান্ত নাগাদ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হামলার পক্ষে ও বিপক্ষে-দুই ধরনের যুক্তিই বিবেচনা করছেন। তিনি উপদেষ্টা ও মিত্রদের মতামতও নিচ্ছেন।

বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। একই দিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে তাদের পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করেন। তবে সপ্তাহান্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার জেনেভায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে নোট আদান-প্রদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ইরানের প্রধান আলোচক বলেন, উভয় পক্ষ একটি ‘নির্দেশক নীতিমালায়’ একমত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এখনো অনেক বিস্তারিত বিষয় আলোচনা বাকি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, কূটনীতি ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা রয়েছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।

গতকাল বুধবার রাতে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’(কেএএন)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ছবি: এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় ইসরায়েলের হামলার এ সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এল।

এদিকে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মূল্যায়নে দেখা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।

তেহরান

জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা। তাঁদের অনেকেই ভবিষ্যতে দেশের প্রেসিডেন্ট হতে চান। শেষ পর্যন্ত তাঁদের কারও গন্তব্য যদি হোয়াইট হাউস হয়ও, তারপরও একটি উপাধি দাবি করতে পারবেন না—‘মুক্ত বিশ্বের নেতা’। বিগত এক বছরে তাঁদের জন্য মুক্তি বিশ্বের নেতা হওয়ার হিসাব–নিকাশ অনেক বদলে গেছে।

সম্মেলনে যোগ দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সিএনএনকে বলেন, সম্মেলনে যেসব নেতার সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন, তাঁরা মনে করেন আটলান্টিক পারের দেশগুলোর জোটের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষতির পেছনে দায় কার? বলাই বাহুল্য যে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে অবনতির জন্য অনেকাংশে দায়ী করা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তাঁর বক্তব্য ইউরোপের নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে। তা হলো, এখন ‘যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী’ শতাব্দী চলছে। তিনি বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। ইউরোপের পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ফ্রান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর ইঙ্গিত হলো—যুক্তরাষ্ট্র সব সময় মিত্রদের পাশে দাঁড়াবে, এমন বিশ্বাস আর ইউরোপের নেই।

দুর্বল হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র

সপ্তাহান্তের মিউনিখ সম্মেলনের দৃশ্য ছিল প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের সময়ের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। ম্যাককেইন এই সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে পরিণত করেছিলেন। ২০১৭ সালে মিউনিখে বায়ারিশার হফ হোটেলে ৫৩তম সম্মেলনের প্রথম দিন বক্তব্য দিয়েছিলেন ম্যাককেইন। এখনো সম্মেলনের প্রথম রাতে ওই হোটেলে ম্যাককেইনের নামে নৈশভোজ হয়।

এবার নৈশভোজে ম্যাককেইনের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস। তবে মূল মঞ্চে ম্যাককেইন নামের কেউ ছিলেন না। জার্মান চ্যান্সেলরের দেওয়া সংবর্ধনায়ও কংগ্রেস সদস্যদের উপস্থিতি ছিল কম। এর অর্থ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এরপরও বিশ্ব জনমতের বিরুদ্ধে যেতে তোয়াক্কা করছেন না রিপাবলিকানরা।

যেমন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ তিনি। গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ইরানে পদক্ষেপ নিতে বলছেন। না হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাহস বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা না বদলায়, তা হবে ভয়াবহ। এর মানে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না।

দেশের ভেতরে পরিবর্তন

ট্রাম্পের একের পর এক কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা উন্নতি করছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমেছে। এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের কাছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউসম সিএনএনকে বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়বেন। আমার মনে হয় বিশ্বও ধীরে ধীরে এই বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বেশির ভাগ সদস্য এবার মিউনিখ সম্মেলনে যেতে পারেননি। কারণ, রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল বাতিল করে দেন। এরপরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নিজ উদ্যোগে সম্মেলনে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলোরাডোর প্রতিনিধি জেসন ক্রো। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ক্রো।

সম্মেলনে ক্রো ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন যে ট্রাম্পের হাত থেকে অন্তত কিছু ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তুত। তিনি এই সতর্কবার্তাও দেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে পিছিয়ে দিচ্ছে। ক্রো বলেন, যদিও এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ সমাজের প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপের নেতারাও মার্কিন জনগণের মতোই একই ধাক্কার মুখে পড়েছেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়াকে একটি ব্যতিক্রম মনে করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ট্রাম্পের আবার নির্বাচিত হওয়া এবং বিশ্বমঞ্চে তাঁর আরও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ইউরোপের সে ভুল ভাঙিয়েছে। ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। এটি এখন আগের রূপে নেই।

সিএনএন

উত্তর কোরিয়া সম্ভবত একটি উত্তেজনাপূর্ণ পারিবারিক দ্বন্দ্বের দিকে এগোচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শিগগিরই দেশটির সম্ভাব্য উত্তরসূরি বা পরবর্তী নেতা হিসেবে কিম জং–উনের কিশোরী মেয়ে কিম জু আয়ের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

যদি তা–ই হয়, তবে ভবিষ্যতে ক্ষমতার লড়াইয়ে আয়েকে তার প্রভাবশালী ফুফু কিম ইয়ো জংয়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের বলেছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিম জু আয়ের নাম ঘোষণা হতে চলেছে। কিশোরী আয়ের বয়স ১৩ বছরের আশপাশে।

এ মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জু আয়ে ওই কংগ্রেসে উপস্থিত হয় কি না, তার ওপর নজর রাখছে এনআইএস। উত্তর কোরিয়ায় এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ, প্রতি পাঁচ বছর পরপর সেখানে দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণত দলীয় কংগ্রেসে পিয়ংইয়ং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নিজেদের বৈদেশিক নীতি, যুদ্ধ পরিকল্পনা, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এর পর থেকে বাবা কিম জং–উনের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আয়েকে দেখা গেছে। এমনকি গত বছর সেপ্টেম্বরে কিম জং–উনের চীন সফরের সময়ও সঙ্গী হয়েছিল আয়ে।

রক্ষণশীল ও পুরুষপ্রধান নেতৃত্বের দেশ উত্তর কোরিয়ার একজন মেয়ে নেতা হতে পারেন কি না, তা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বহুদিন ধরেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কিম জু আয়ের ঘন ঘন প্রকাশ্যে আসা তাঁদের সেই ধারণাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

এর আগে এনআইএস তাদের একটি মূল্যায়নে বলেছিল, কিম জু আয়েকে চীনে নিয়ে যাওয়া সম্ভবত উত্তরসূরি হিসেবে জনমনে তার গ্রহণযোগ্যতা গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

গত বছর জুনে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন, পাশে মেয়ে কিম জু আয়ে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবার পাশে আয়েকে দেখা যাচ্ছে
গত বছর জুনে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন, পাশে মেয়ে কিম জু আয়ে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবার পাশে আয়েকে দেখা যাচ্ছে, ছবি: রয়টার্স

যে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে

কিম জু আয়েকে উত্তরসূরি করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ আসতে পারে কিম জং–উনের বোন কিম ইয়ো জংয়ের পক্ষ থেকে। ৩৮ বছর বয়সী কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন। রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে তাঁর পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

কিম ইয়ো জং বর্তমানে কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে একটি উচ্চ পদে আছেন এবং ভাইয়ের ওপর তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং ইল উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতার ‘সম্ভাব্য’ লড়াই নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্ট তাঁর বরাত দিয়ে বলেছিল, যদি কিম ইয়ো জং মনে করেন তাঁর সুযোগ আছে, তিনি শীর্ষ পদ দখলের চেষ্টা করবেন।

রাহ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছিলেন, ‘এটা সময়ের ওপর নির্ভর করছে। তবে আমার বিশ্বাস, যদি কিম ইয়ো জং মনে করেন যে শীর্ষ নেতা হওয়ার সুযোগ তাঁর আছে, তবে তিনি সে সুযোগ নেবেন। তাঁর জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই।’

উত্তর কোরিয়ার ভেতরে ও বাইরে কিম ইয়ো জংয়ের কঠোর ও আপসহীন একটি ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে নিয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করার জন্য তিনি পরিচিত এবং মাঝেমধ্যেই নিজের নামে বিবৃতি দেন।

উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের ওয়েবসাইট ‘৩৮ নর্থ’–এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ‘অস্থিরতায়’ কিম জং উনের হঠাৎ মৃত্যুর ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনটিতে গুরুত্ব দিয়ে আরও বলা হয়েছিল, কিম জং–উন ও তাঁর সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কিম জং–উনের হঠাৎ মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কিম ইয়ো জংয়ের মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

বিপরীতে অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীর মধ্যে কিম জু আয়ে ও তাঁর দুই ভাই (ধরা হচ্ছে) আছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। তবে সে সঙ্গে এটাও বলা হয়েছিল, তারা এখনো খুবই ছোট এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই আগামী ৫ থেকে ১৫ বছর বাস্তবসম্মতভাবে উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের বিবেচিত হওয়া সম্ভব নয়।

একসময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভাই কিম জং–উনের পাশে নিয়মিত দেখা যেত কিম ইয়ো জংকে
একসময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভাই কিম জং–উনের পাশে নিয়মিত দেখা যেত কিম ইয়ো জংকে, ফাইল ছবি: রয়টার্স

রক্তাক্ত পারিবারিক ইতিহাস

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরিবারের ভেতর রক্তপাতের ইতিহাস পুরোনো। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিম জং–উন তাঁর চাচা ও একসময়ের পরামর্শদাতা (মেন্টর) জাং সং থাকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন। ২০১৩ সালে তাঁকে ‘পার্টিবিরোধী, বিপ্লববিরোধী ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ‘ফায়ারিং স্কোয়াডে’ তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

কিম জং–উনের সৎভাই কিম জং–নমকেও হত্যা করা হয়েছে। একসময় কিম জং–নমকে উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী বিবেচনা করা হতো। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই নারী কিম জং–নমের মুখে মারাত্মক বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট ‘ভিএক্স’ মেখে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং সেখানে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনের অধিকৃত জমি কেনা সহজ করার লক্ষ্যে নতুন কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় পদক্ষেপগুলো অনুমোদন করা হয়। ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে ‘কার্যত একীভূতকরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।

পশ্চিম তীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। অঞ্চলটির বড় অংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে শাসনকাজ পরিচালনা করে।

চলতি বছরের শেষ দিকে নেতানিয়াহুকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ইসরায়েলি বসতি এলাকায় তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। জোটের অনেক সদস্যই পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা এই ভূমির সঙ্গে কথিত বাইবেলীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা দাবি করে থাকে ইসরায়েল।

গতকাল ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম এ বিতর্কিত প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর এক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম তীরে বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছিল ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। ওই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ‘আমরা বসতি স্থাপনের বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের ভূমির প্রতিটি অংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছি।’

জমি নিবন্ধনের নতুন পদক্ষেপটিকে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অবৈধ জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার যথাযথ জবাব’ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, জমি নিবন্ধন একটি অত্যাবশ্যক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে।

 

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করে, এ পদক্ষেপটি আসলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা। তাদের মতে, অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে দখল আরও স্থায়ী করতে ইসরায়েলের নেওয়া পরিকল্পনার সূচনাপর্ব এটি।

ইসরায়েলি বসতি–বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা পিস নাউ বলেছে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের কারণে পশ্চিম তীরের প্রায় অর্ধেক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিরা জমি হারাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছেন। তবে তাঁর প্রশাসন ইসরায়েলের দ্রুত বসতি নির্মাণ ঠেকাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে এক পরামর্শমূলক মতামতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল ও বসতি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং যত দ্রুত সম্ভব তা বন্ধ করা উচিত। তবে ইসরায়েল এই মত মেনে নেয়নি।

রয়টার্স

দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ রোবববার গোপনে দেশত্যাগ করার সময় সাবেক ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন। আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারর আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন গালুশচেঙ্কো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে।

গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এছাড়া, ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে যে কোনো কন্ট্রাক্টের বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ ওঠার পর গত নভেম্বরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এবার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হলো তাকে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কোসহ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গেরমান গালুশচেঙ্কোও তাদের মধ্যে অন্যতম।

দুর্নীতি ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের বড় একটি সমস্যা। মূলত, এই কারণেই এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও ঝুলে আছে।