ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে, সেখানে যেকোনো হামলা ‘এক দফা বা চূড়ান্ত কোনো আঘাত’ হবে না। বরং এমন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ত্যাগের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন এ দুই প্রতিনিধি।

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক প্রভাব খাটানোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে বলে তাঁর সহকারীরা জানিয়েছেন।

ইরানে বেশ বড় ধরনের আঘাত হানা হবে—ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের কাছে এমন পরিকল্পনা চেয়েছেন, যাতে দুর্বল হয়ে ইরানি নেতারা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন। তবে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠাবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কর্মকর্তাদের মতে, জেনেভার এই আলোচনা সংকটের অবসানে ‘শেষ চেষ্টা’ হতে যাচ্ছে।

ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহরে একটি ফলের বাজারে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সামরিক পাইলট ও দুই দোকানি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে সেনাবাহিনীর একটি বড় বিমানঘাঁটি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন পাইলট কর্নেল হামিদ সারভাজাদ আর কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি।

হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তাতে আগুন ধরে যায়। এতে বাজারের দোকানে কাজ করা দুজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি জানান, তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।

এর আগে এক সপ্তাহের কম সময় আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে একটি প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পুরোনো এফ-৪ মডেলের ছিল বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের পুরোনো সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজগুলো আধুনিকায়ন করতে পারছে না। এ কারণে দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

উত্তর কোরিয়ার শাসক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় আগামী বছরের নীতি নির্ধারণ করছে। এর মধ্যেই খবর এল, নেতা কিম জং–উনের বোন কিম ইয়ো জং পদোন্নতি পেয়েছেন। এটাকে কিম পরিবারের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে বলা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম ইয়ো জং আগে শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বিভাগের উপপরিচালক ছিলেন। এখন তাঁকে ‘পরিচালক’ করা হয়েছে। তবে কিম ইয়ো ঠিক কোন বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পিয়ংইয়ংয়ে পাঁচ বছর পরপর হওয়া বিশেষ দলীয় কংগ্রেস চলছে। পাঁচ হাজার প্রতিনিধির এ সভায় কিম জং–উন আবার দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, কিম জং–উনের কিশোরী কন্যা কিম জু আয়েকেও উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৯৪০ সাল থেকেই এই কিম পরিবার উত্তর কোরিয়া শাসন করছে।

কিম ইয়ো জংয়ের ভূমিকা

কিম ইয়ো জং দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর কোরিয়া সরকারের প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি বা উসকানিমূলক বিবৃতির জন্য তিনি পরিচিত। তবে সম্প্রতি সীমান্ত নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দুঃখ প্রকাশকে তিনি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যা ছিল বেশ ব্যতিক্রম।

উত্তর কোরিয়ায় নেতার ভাইবোনদের অবস্থান সাধারণত খুব একটা নিরাপদ থাকে না। কিন্তু কিম ইয়ো জং এখনো বেশ দাপটের সঙ্গে টিকে আছেন। ২০১৭ সালে সৎ বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল কিম জং–উনের বিরুদ্ধে।

সাবেক নেতা কিম জং ইলের ভাই শৈশবে মারা যান। আরেক সৎ ভাইকে বছরের পর বছর নির্বাসনে থাকতে হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কিম জং–উন এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বলছে, সম্মেলনে দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। কিম জং–উন আগেই জানিয়েছিলেন, এ সভায় তিনি দেশের পারমাণবিক শক্তি আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্পষ্ট করবেন।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় সাতজন আরোহী নিয়ে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

ডিজিসিএর বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত একটি বিচক্রাফ্ট সি৯০ বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় ২৩ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে রাডার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের পর ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে বারাণসীর প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে বিমানটি রাডার ও যোগাযোগের বাইরে চলে যায়।

প্যাক্স ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী, বিমানে দুইজন পাইলট, একজন রোগী, দুইজন পরিচর্যাকারী, একজন চিকিৎসক এবং একজন প্যারামেডিকসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির টেল নম্বর ছিল ভিটি-এজেভি।

ডিজিসিএ আরও জানায়, জেলা প্রশাসনের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) এর একটি দল পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

জানা গেছে, ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর দুর্ঘটনায় ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হন এবং তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিল্লিতে স্থানান্তর করতেই এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়েছিল।

 

নেপালের ধাদিং জেলার গাজুরি এলাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে একটি যাত্রীবাহী বাস ত্রিশুলি নদীতে উল্টে পড়ে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

নেপালের আধা সামরিক বাহিনী আর্মড পুলিশ ফোর্সের মুখপাত্র বিষ্ণু প্রসাদ ভাট্টা জানিয়েছেন, মোট ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে পিৃথ্বী হাইওয়ের ধাদিং অংশে দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয় সময় রাত ১ টা ৩০ মিনিটে বাসটি নদীতে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং নিয়মিত পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এ ঘটনায় মোট ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। আহতদের মধ্যে জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের দুই নারী রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, বাসটির উচ্চগতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র : এএফপি

 

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে আমদানি পণ্যের ওপর জারিকৃত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল করার ঠিক একদিন পরই নতুন করে এই পদক্ষেপটি নিল ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আদালত যে শুল্ক বাতিল করেছেন তার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

তবে, শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, এই হার এখন বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।

ট্রুথ সোশ্যালে করা ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আমাদের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। অনেক দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল এবং এর কোনো বিচারও হচ্ছিল না (যতক্ষণ না আমি ক্ষমতায় এসেছি!)। এখন থেকে আইন মেনেই তাদের ওপর এই বাড়তি কর কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিন কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এটিকে স্থায়ী ও আইনি বৈধতা দিতে তার প্রশাসন কাজ করবে।

উল্লেখ্য, গত বছর জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন (আইইইপিএ) এর অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের অভিমত, ট্রাম্প তার ক্ষমতার অধিক ব্যবহার করেছেন। শুল্ক আরোপের আগে তার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে যে জরুরি শুল্ক আরোপ করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তা অবৈধ বলে রায় দেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর আরও কয়েক ঘণ্টা পর এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন তিনি।

 

নিজেদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে হঠাৎ আফগানিস্তানের ভেতরে ঢুকে একযোগে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে হামলার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।

আল-জাজিরাকে আফগান সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোববার আফগানিস্তানের দুটি সীমান্তবর্তী প্রদেশ পাকতিকা ও নানগারহারে এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় স্কুলেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, হামলাগুলোতে ‘সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানা’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আস্তানাগুলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে।

আর পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি শিবিরে ‘নির্বাচিত অভিযান’ চালানো হয়েছে। টিটিপি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার দায়ে অভিযুক্ত। সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

আল-জাজিরা বলছে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই আফগানিস্তানে একযোগে বিমান ও ড্রোন হামলা চালালো ইসলামাবাদ। বান্নু জেলার ওই হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুজন সৈনিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে, গত সোমবার বন্দুকধারীদের সহায়তায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি বাজায়ুরের একটি নিরাপত্তা চৌকির দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এতে ১১ জন সৈনিক ও এক শিশু নিহত হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিল।

আর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট বা আইএস।

পাকিস্তান বলছে, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে চালানো হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। ইসলামাবাদ বহুবার অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে, তালেবান সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানের এই বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনায় জরুরি বৈঠক করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

আফগান সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের এটির জবাব দেওয়ার অধিকার আছে। কোন সময় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে সেটি তালেবান নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

জানা গেছে, আফগানিস্তানে চালানো সর্বশেষ এ হামলায় এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে পাকিস্তান।

আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ডজনখানেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়েছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। ওই সংঘাতে দুই দেশই বহু সৈন্য হারিয়েছে। পরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। তবে, পাকিস্তানের সবশেষ হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও বেজে উঠেছে।

 

রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। শনিবার ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটির সেনারা মস্কোর পূর্বে ভটকিনস্কে অবস্থিত রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাটিতে হামলা চালিয়েছে। এই কারখানায় ছোট-পরিসরের ইসকান্দার এবং আন্তঃমহাদেশীয় টোপোল-এম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ভটকিনস্ক ইউক্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিমি দূরে অবস্থিত।

ইউক্রেনের সেনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশীয়ভাবে তৈরি ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ফলে কারখানার এলাকায় আগুন ধরে যায়।

রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ আগেই জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি স্থাপনায় রাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আলেকজান্দার ব্রেচালভ বলেন, ‘হামলার ফলে ক্ষতি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।’ তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কের বিমানবন্দর এবং আশেপাশের অঞ্চলের শহরের বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া

রাশিয়া তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের শক্তি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। শীতের মাসগুলোতে লাখ লাখ ইউক্রেনীয়ের জন্য বিদ্যুৎ এবং তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনও ক্রমেই রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে সামারা অঞ্চলের রাশিয়ার কর্মকর্তারা এমন কোনো হামলার খবর প্রকাশ করেননি।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেওয়ার পর খুব দ্রুতই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার রাতে সারা বিশ্ব থেকে পণ্য আমদানিতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।

এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এ আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
 

এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গতকাল দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি প্রেসিডেন্টকে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ কারণে ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদালতের রায়ে আগের শুল্কব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও নতুন কৌশলে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিপণ্য এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ রায়ের ফলে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এ অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলবে।

আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে।
স্কট বেসেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং বলেন, ‘কানাডার উচিত আরও কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও নতুন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মতে, আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপে তারা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। তবে গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করছেন তিনি। শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বিরাট এক ধাক্কা হয়ে আসে। ওই শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ (অর্থনৈতিক) বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তা বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে।

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানে সীমিত আকারে সামরিক হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য একটি চুক্তিতে সম্মত হতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে এমনটা ভাবা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সন্দেহ—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তাঁর দেশ ‘সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেনেভায় আলোচনা চলার সময়ও ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে দেখা গেছে। মোতায়েন করা সরঞ্জামের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও আছে। এটি অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আর কিছু ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি রয়েছে।

ইতিমধ্যে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পোস্ট করে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি লিখেছেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র; কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা এটিকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’

এর আগে মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প সপ্তাহে কয়েকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। কখনো হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় যুক্ত হন, আবার কখনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে করে ভ্রমণের সময় কথা বলেন।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো যে সব সময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়, তা নয়। অনেক সময় সেগুলো একটি অপরটির সঙ্গে সাংঘর্ষিকও হয়।

ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ যেন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর ভাবনাগুলো নিজের ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে সীমিত রাখতে পছন্দ করেন।

গত বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এক প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব না। আমরা কোনো না কোনোভাবে একটি চুক্তি করব অথবা চুক্তি আদায় করব।’