দেশের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ বা ৭৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা এখনো অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাঁদের প্রভাবিত করছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত, অনুষ্ঠান সহযোগী সামি মোহাম্মদ, মালিহা সাবাহ ও নূর ইয়ানা জান্নাত।

সিপিডির জরিপে দেখা গেছে, উন্নয়ন বলতে অধিকাংশ ভোটার এখনো সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও অন্যান্য দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পকেই প্রধান সূচক হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি এসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান যুক্ত থাকায় তাঁদের বিবেচনা হলো, এসব উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি), উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধারণা প্রবল।

ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন নিয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে উন্নয়ন ধারণা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও ভোটারদের ধারণা এখনো মূলত অবকাঠামোকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বাংলাদেশে সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—৯৫ শতাংশ ভোটার এমন আশাবাদী ধারণা পোষণ করেন।

হেলেন মাশিয়াত বলেন, উন্নয়ন ধারণার এই একমুখী প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়ালে ফেলে দিতে পারে। তাঁদের মতে, উন্নয়ন আলোচনায় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনমানের বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জরিপে ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার ৪৫০ জন নির্বাচন প্রার্থী, তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১ হাজার ২০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে পরিবেশ, সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন—এই তিন স্তম্ভে ভোটার ও প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় সহজ সমাধানের প্রতি ঝোঁক

জরিপে উঠে এসেছে, পরিবেশ রক্ষার উপায় হিসেবে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার গাছ লাগানো ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রার্থীরাও প্রায় একই ধরনের সমাধানের কথা বলেছেন। গবেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে একধরনের আচরণগত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, তাঁরা যেটা ব্যক্তিগতভাবে সহজে করতে পারেন, সেটাকেই পরিবেশ রক্ষার মূল সমাধান হিসেবে দেখছেন।
জরিপে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে জানেন—এমন ভোটারের হার ৪৭ শতাংশ। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪২ শতাংশ। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি আছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, পরিবেশ ও অর্থনীতির তুলনায় সামাজিক স্তম্ভকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। ভোটারদের কাছে দারিদ্র্য, আয় ও কর্মসংস্থানের চাপ এতটাই প্রবল যে সামাজিক বিষয়গুলো তাঁদের কাছে গৌণ হয়ে উঠছে।

সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে ভোটারদের অগ্রাধিকার খুবই মৌলিক দুটি বিষয়ে। সেই দুটি বিষয় হলো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। সিপিডির মতে, এই বাস্তবতা থেকে দেখা যায়, দেশের বড় একটি অংশ এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াই করছে।

ঢাকা

ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ এই তিন আসনের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর বলেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মধ্যম ও সাধারণ শ্রেণিতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোনো বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার তথ্য প্রচারের আগে সাংবাদিকদের প্রাথমিক যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভুল তথ্য বা উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশন না হয়।

সেনাবাহিনী নির্বাচনে প্রার্থীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে জানিয়ে, কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে এই গণসংযোগ শুরু করেন তিনি।

গুলশানের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এ সময় তিনি পথচারী, রিকশাচালক, সিএনজি চালক, দোকানদার, ফুটপাতের বিক্রেতা ও শপিং মলে আসা সাধারণ ভোটারদের হাতে নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করেন।

গণসংযোগকালে গুলশান এলাকার বিভিন্ন অফিস ও ব্যাংকের ভেতরেও প্রবেশতিনি। করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভেতরে উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

ভোটারদের উদ্দেশে জাইমা রহমান বলেন, আমি তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। আমার বাবা ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। আপনাদের কাছে তার পক্ষে ভোট চাই

গণসংযোগে পরিবেশবান্ধব বীজ বিতরণ করতে দেখা যায় তাকে। এসব বীজ লিফলেট মাটিতে বা টবে রোপণ করলে গাছ জন্মাবে বলে জানান তিনি। নির্বাচনী বর্জ্য কমানো এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জাইমা রহমান।

এই গণসংযোগে জাইমা রহমানের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিচর্যাকারী ফাতেমা খাতুনকেও দেখা যায়। পাশাপাশি নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও জাইমা রহমান সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে ভোট চাইতে মাঠে নামেন।

গুলশান পুলিশ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে গুলশান-১ সার্কেল পর্যন্ত গণসংযোগ চলাকালে তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। এ সময় অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তুলতে এগিয়ে আসেন, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

‘বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে দেব না। ধর্মের ভিত্তিতে বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না। কোনো ধার্মিক মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। তাঁর সাক্ষী বাংলাদেশের জনগণ। এ দেশে চারটি ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিষ্টান।’

আজ শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জে এক জনসভায় এ কথাগুলো বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। হবিগঞ্জ শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি, এ দেশে বংশানুক্রমে রাজার ছেলে রাজা হয়। আমরা সেই ধারা পাল্টে দিতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান, সে যদি মেধাবী হয়, তাহলে তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আমরা চাই, সে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই রাজনীতির ধারা আমরা চালু করতে চাই। এখন তারা জনগণের কাছে আসে ভোটের জন্য। এখন একেকজন দরবেশ-আউলিয়া হয়ে আসেন। তাঁরা আসেন বসন্তের কোকিল হয়ে। বসন্তের সুবাতাস উপভোগ করতে। ইলেকশনের সময় উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা আর কুশিয়ারা নদী ভাসিয়ে দেন। যখন ইলেকশন শেষ হয়ে যায়, তখন আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’

জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে ৫৪টি বছর পার করেছে। একটি জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। ভিয়েতনাম আমাদের বহু পরে স্বাধীনতা পেয়েছে। ভিয়েতনাম এখন এ অঞ্চলের উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু বাংলাদেশের কপালে কোনো ভালো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাস হয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই। চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির। দুর্নীতি আমাদের সমাজকে আগাগোড়া ছেয়ে ফেলেছে। এই বাংলাদেশ সবাইকে চেয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, যে দেশের মানুষের পরিশ্রমের হাতে ছোঁয়ায় ভিন্ন দেশের অর্থনীতির চাকা পালটে যায়। সে দেশের মানুষের ভাগ্যে পাল্টায় না কেন। না পাল্টানোর কারণ হলো অসৎ নেতৃত্ব।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করে নির্বাচনের মাঠে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না। ফুটপাতের হকারকে চোখের পানি ফেলতে হবে না। চাঁদাবাজরা সাহস পাবে না দুর্নীতি করার।’

জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবদুল বাসিত, একই দলের মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদির, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

বিএনপি একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে বার্তা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনি জনসমাবেশে এ বার্তা দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, মানুষ জীবন দিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে অত্যাচারিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। তাদের এই মূল্যায়ন কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এবারে নির্বাচন শুধু দেশের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য নয়, এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন।

তিনি বলেন, গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের যুবক তরুণের যেভাবে কর্মসংস্থান তৈরির ব্যবস্থা করার কথা ছিল, সেভাবে ব্যবস্থা হয়নি। দেশের মা-বোনদেরও সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। দেশের কৃষকদের যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার কথা ছিল, সেভাবে তাদের সহায়তা করা হয়নি। 

তারেক রহমান এরপর বলেন, একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে চায় বিএনপি। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। 

এ সময় তিনি দলীয় কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘবে কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল, রেশম কারখানা ও চা শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন বিএনপিপ্রধান। তারেক রহমান বলেন, এসব শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত স্থানীয় তরুণদের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে আইটি পার্ক বা আইটি হাব স্থাপন করা হবে, যাতে তারা নিজ এলাকায় থেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গ্রামে গ্রামে ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। এছাড়া এলাকায় মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের জনদাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্থানীয় বিমানবন্দরটি দ্রুত চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী ও নারীরা নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।

 

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার।

রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মায়ের নাম বালাশ্বরী সেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

দিনাজপুর কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার বলেন, ‘গত ১৭ আগস্ট রমেশ চন্দ্র সেনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আনা হয়। এখানে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। এখানে আনার আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাই।’

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, ‘সকালে অসুস্থ অবস্থায় রমেশ চন্দ্র সেনকে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম পাল সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন।’

রমেশ চন্দ্র সেন কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদে ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) আর বেঁচে নেই। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় হুজাইফা। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছিল।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, ১০ জানুয়ারি রাতে সীমান্তের ওপারে টানা গোলাগুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি খেলতে বাইরে বের হয়। এ সময় আবারও গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। মংডু টাউনশিপসহ আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানের ওপর জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। ছোড়া গুলি এসে পড়ছে বসতঘর, চিংড়ি ঘের ও নাফ নদীতে। শিশু হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

মাঠের উত্তরের গেট দিয়ে একের পর এক মিছিল ঢুকছে। মিছিলকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলাম। সারা শরীর তাঁর ধানের শীষে মোড়ানো।

কাজটি করতে একটু আগেভাগেই এসেছেন মাজেদুল। মাজেদুল জানালেন, ধানের শীষের প্রচারণার এই কৌশল তারেক রহমান দেখলেই তিনি খুশি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। সকাল ১০টার মধ্যে মাঠটি বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের আগমনে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বেলা ১১টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা আছে তাঁর। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি জনসভায় যোগ দেবেন। ১টার দিকে তিনি নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা হবেন।

এদিকে সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মাঠে হাজির হতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার হাতে ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন। দূরদূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা বাস, ট্রাক, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে জনসভায় আসছেন। তবে তাঁদের গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বে রেখে হেঁটে সমাবেশে ঢুকতে হচ্ছে।

নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মাজেদুল ইসলাম
নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মাজেদুল ইসলাম

মঞ্চের সামনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মীর বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি দেখা গেছে। এ সময় তাঁরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’, ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’সহ নানা স্লোগান দেন। দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরে আরও অনেক সাধারণ মানুষ এসেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, মঞ্চের ঠিক সামনেই কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বসার জন্য বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর পর থেকে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের জন্য জায়গা রাখা। এক পাশে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জায়গা। মাইকে তখন চলছে স্থানীয় নেতাদের বক্তৃতা। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ, দেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের শীষে মোড়ানো ট্রাকে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে ধানের শীষ দিয়ে।সেখানে পতাকা নাড়ছেন বিএনপি সমর্থক রাজিয়া সুলতানা
ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের শীষে মোড়ানো ট্রাকে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে ধানের শীষ দিয়ে।সেখানে পতাকা নাড়ছেন বিএনপি সমর্থক রাজিয়া সুলতানা
 

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে হরিপুর উপজেলার দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। উপজেলার মিনাপুর গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী (৫৮) সকাল ৯টার দিকে জনসভাস্থলে এসে হাজির হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছেন আরও ৫৫ জন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান যেদিন দেশে আসলেন, সেদিনও ঢাকায় গিয়েছিলাম।’

সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মুন্সিরহাট এলাকার বিএনপির কর্মী শহিদুল ইসলাম (৫২) বলেন, ‘২০০৩ সালের শীতের মধ্যে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে আসছিলেন। আমি সেদিনও ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।’

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হাসান (৫৫) মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি না, তবে তারেক রহমানের কথা শুনে ভালো লেগেছে। তাই তাঁকে দেখতে এসেছি। সুযোগ পেলে তাঁর সঙ্গে একটা ছবি তুলব।’

রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা গ্রাম থেকে জনসভায় এসেছেন মাসুমা বেগমসহ আটজন নারী। একফাঁকে মাসুমা (৪৭) বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম আমাকে অবাক করে। তাঁর কারণে আমি এই দলটার ভক্ত। আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়া নেই, শুধু চাই দেশটা সুন্দর হোক।’

ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আঠাশ মাইল থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মো. বাদশা
ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আঠাশ মাইল থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মো. বাদশা
 

ধানের শীষে নিজেকে মুড়িয়ে গাইবান্ধা থেকে শাহজাহান মণ্ডল আর দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আঠাশ মাইল থেকে এসেছেন মো. বাদশা। গরমে কষ্ট হলেও তাঁরা তারেক রহমানকে দেখবেন, এ জন্য খুশি।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীর মধ্যে শুধু নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এই জনসভায় কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেবেন বলে আমরা আশা করছি।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ ২১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাসহ পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচনি দায়িত্বের অংশ হিসেবে পানছড়ি উপজেলার ২৫টি এবং দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের ১টি ভোটকেন্দ্রে গত ৩০ জানুয়ারি পানছড়ি উপজেলায় ৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম।

এছাড়া দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নাড়াইছড়িতে অবস্থিত ১টি হেলি-সাপোর্টেড ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা যানবাহন, পায়ে হেঁটে ও নদী পারাপারের মাধ্যমে নিয়মিত ডমিনেশন টহল পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন নজরদারি, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং আধুনিক রায়ট কন্ট্রোল সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে লোগাং বিজিবি ক্যাম্প ও গিলাতলী বিওপি এলাকায় ২টি চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে জনসংযোগ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে উপকূলীয় ৬টি উপজেলা ব্যতীত ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছে।

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের আহ্বান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে যান। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক মোড়ে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

ডাকসুর নেতৃবৃন্দ আন্দোলনকারীদের প্রতি জনদুর্ভোগ কমানোর আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা রাস্তা ছেড়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে শাহবাগ মোড় পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ায় সব দিকের সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে আপাতত জনস্বার্থ বিবেচনায় আজকের কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের একাংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিন দুপুরের পর শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পরে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা করেন নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা বাংলামোটর মোড়ে অবস্থানের চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ এলাকা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছিল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে জাতিসংঘের অধীনে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করছিল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।