প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া দেশে মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শনিবার টিআইবি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও। কিন্তু প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তাতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

টিআইবি বলেছে, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস। একই সঙ্গে শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। মতামত নিতে খসড়াটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে হবে। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার জন্য বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল এবং সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য পূর্বের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল; যা হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন সংস্থা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ নামে আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। এরপর গঠিত হবে নতুন সরকার। বর্তমান সরকারের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না; কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।’

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছিল, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লিখিত খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা করেন, নতুন সংসদ গঠনের পর একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে, যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

ইরান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসছে পাকিস্তানের নাম। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকের স্থান হিসেবে নিজেদের রাজধানী ইসলামাবাদকে প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে ওয়াশিংটনের অনেকের কাছেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসাটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গেও পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকাছবি: এএফপি

গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেপ্টেম্বর মাসের সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ছিলেন।

এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে সংঘাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য জুন ও অক্টোবর মাসে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকের কাছেই দেশটিকে প্রিয় করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

দক্ষিণ আমেরিকান দেশ পেরুর সীমান্তবর্তী অ্যামাজন অঞ্চলে কলম্বিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কলম্বিয়ার সরকারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। বিমানটিতে ১২৫ আরোহী ছিল যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সেনা সদস্য।

এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বাকিদের উদ্ধারে চলছে তৎপরতা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয় লকহিড মার্টিনের হারকিউলিস সি-ওয়ান থার্টি মডেলের বিমানটি। এমনকি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয় এটি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা না গেলেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষে দিকে বলিভিয়ান বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান দেশটির জনবহুল আল্টো শহরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০ জন আহত হন।

 

এক মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শুমার বলেন, ‘এক মাস আগেও দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৩ ডলার। আজ তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেবল একজন মানুষই দায়ী, আর তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

ডেমোক্রেটিক দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা শুরু থেকেই ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগের এক পোস্টে শুমার উল্লেখ করেন যে, এই অনর্থক যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি ডলার ‘অপচয়’ করা হচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের প্রভাবেই বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আল–জাজিরা

যমুনা টেলিভিশনে ৮ম শ্রেণি পাস ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অস্ত্রোপচারের সংবাদ প্রচারের পর রাজধানীর শ্যামলীর কলেজ গেটের ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকে অভিযান চালান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তিনি।

হাসপাতালে গিয়ে সেখানে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগীও মন্ত্রী আসার খবরে হাসপাতালে জড়ো হন। তারাও ডক্টরস কেয়ার হাসপাতালে এসে প্রতারিত হবার অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুরো হাসপাতাল একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে চলে বলে মন্তব্য করেন। পরে হাসপাতাল সিলগালা করার নির্দেশনাও দেন তিনি। এর পরপরই সেখানে থাকা রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টারের সঙ্গেও কথা বলেন। শোনেন রিপোর্ট করতে গিয়ে কতটা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

এরআগে, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে যমুনা টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার হয়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, নাম সর্বস্ব ক্লিনিকটিতে যারা অপারেশন করতেন, তাদের কেউ ছিলেন সরকারি হাসপাতালের দালাল। কেউ আবার ছিলেন ডাক্তারের চেম্বারের কর্মচারী। তারাই এখন নিয়মিত অস্ত্রোপচার করছেন। শুধু তাই নয়, রাজধানীর কলেজ গেটের ওই হাসপাতালের মালিকও তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ট্রাম্প জানান, রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়। আমি বলব, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’

ট্রাম্প যোগ করেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আজ সম্ভবত ফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা হবে।’

ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন।

ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তবে ট্রাম্প জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু জানতে পারেনি। খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

ট্রাম্প যোগ করেন, তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যু কামনা করেন না।

সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে হামলা চালিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন। সে অনুযায়ী তাঁর দেওয়া সময়সীমা আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে (তেহরান সময় মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ১৪ মিনিট) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্পের হুমকির পরদিন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলো ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হতে পারে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যদি তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো যেন ‘বিদ্যুৎকে বিদায় জানায়’।

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গতকাল রোববার জানান, ‘ইরানের শত্রু’ দেশগুলোর জাহাজ বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে দিনের শেষ ভাগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় তবে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

আজ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেকোনো হামলার একই ধরনের জবাব দেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা তেহরান অস্বীকার করেছে। তারা ট্রাম্পের এই দাবিকে জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে।

সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছে। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন।

গতকাল রোববার গভীর রাতের এ ঘটনার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ওই ট্রাক পুলিশ সদস্যরা পরিচালনা করছিলেন। এর আগে জানানো হয়েছিল, একজন সার্জেন্ট ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাত-পা ভেঙে গেছে এবং তাঁরা হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জ্যাজ এভিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত এয়ার কানাডার সিআরজে-৯০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজ ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিয়েল থেকে আসছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’ জানিয়েছে, রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ মাইল বেগে ফায়ার ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়।

রয়টার্সের ছবিতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি ওপরের দিকে হেলে আছে।

দুর্ঘটনার পর মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, আজ সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এর মধ্যে ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি যানের সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা
নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি যানের সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা, ছবি: রয়টার্স

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ট্রাকটি রানওয়েতে অন্য একটি ঘটনায় জরুরি ডাকে যাওয়ার সময় ৪ নম্বর রানওয়েতে উড়োজাহাজটির সঙ্গে ওই সংঘর্ষ হয়।

এ দুর্ঘটনার কারণে নিউইয়র্ক সিটির জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর এলাকায় ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয়, সড়ক বন্ধ ও যানজট তৈরি হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ান সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর ধরে অভিবাসন হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী লেকা করদিয়া। গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আবার ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আটক করা হয়।

২০২৪ সালের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বাইরে নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লেকাকেও আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২০২৫ সালের মার্চে নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের সময় আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, তার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ২০২২ সালেই ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

এদিকে, বিদেশে অর্থ পাঠানো নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে করদিয়া দাবি করেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠিয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক অভিবাসন বিচারক করদিয়ার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় জামিন শুনানিতে বিচারক সরকারের যুক্তিকে অসৎ আখ্যা দিয়ে ১ লাখ ডলার জামিনে তার মুক্তির নির্দেশ দেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) টেক্সাসের ডালাসের কাছে একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের করদিয়া বলেন, আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমি মুক্ত! আমি মুক্ত! অবশেষে, এক বছর পর।

ডিএইচএস অভিযোগ করেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী রাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে তার পরিবারের দাবি, তিনি কেবল আত্মীয়স্বজনদের কাছেই অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


সূত্র: বিবিসি

 

ইসরায়েলে অব্যাহত রয়েছে ইরানের মিসাইল হামলা। রোববার (২২ মার্চ) রাতভর রাজধানী তেলআবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বেশ কয়েকটি মিসাইল প্রতিহত করেছে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু কিছু স্থানে আঘাত হেনেছে এগুলো। পাওয়া গেছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত সকল স্কুল বন্ধ ও ৫০ জনের বেশি সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জারি করা হয়েছে একাধিক সতর্কবার্তা।

এর আগে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে ‘বিকট’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আল জাজিরার প্রতিনিধি সুহাইব আল-আসা জানান, সেখানে বিস্ফোরণের তীব্রতা ও শব্দ ছিল নজিরবিহীন।

বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ড্রোন মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরাকের ইরবিলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কার্যালয়ে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীগুলো।

এদিকে, বাগদাদে ইরানপন্থী গোষ্ঠী পিএমএফের হেডকোয়ার্টারে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, প্রধান বিমানবন্দরে মার্কিন কূটনীতিক ও লজিস্টিক সেন্টারে হামলা চালায় পিএমএফ।

অন্যদিকে, ইরানজুড়ে অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা। আইআরজিসির একাধিক ড্রোন ধ্বংসের ফুটেজ প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্টকম।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১৫ প্রদেশে কমপক্ষে ২০৬ বার হামলা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা  

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি প্রকল্পে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তাঁর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার যে হুমকি দিয়েছেন, তারই জবাবে গতকাল রোববার তেহরান এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় আজ সোমবার সকালে বিশ্ববাজার খোলার পর বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের জীবনযাত্রাও চরম হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের অনেক দেশের মানুষ সুপেয় পানির জন্য সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রকল্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো এমনভাবে ধ্বংস হবে, যা আর আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা ইরানের ক্ষতি করলেও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ইরানের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ। এই বিদ্যুৎ মূলত তাদের মরুভূমির শহরগুলোকে বসবাসযোগ্য রাখে এবং সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করে। বিশেষ করে বাহরাইন ও কাতারের ১০০ শতাংশ সুপেয় পানি আসে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রকল্পের মাধ্যমে। এ প্রকল্প বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে সুপেয় পানির ৮০ শতাংশ ও সৌদি আরবের পানির চাহিদার ৫০ শতাংশ মেটায় এ ধরনের প্রকল্প।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো “এমনভাবে ধ্বংস হবে, যা আর আগের অবস্থায় ফেরানো” সম্ভব হবে না।’

এদিকে ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ থাকবে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এ সরু জলপথ দিয়ে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত এ নৌপথ আর খুলে দেওয়া হবে না।’

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতার এনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্রের দৃশ্য। ২ মার্চ ২০২৬
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতার এনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্রের দৃশ্য। ২ মার্চ ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও পশ্চিমা দেশগুলোর মৈত্রীর সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

শেয়ারবাজারে ‘অনিশ্চয়তার টাইম বোমা’

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার–বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি বাজারের ওপর ৪৮ ঘণ্টার এক চরম অনিশ্চয়তার “টাইম বোমা” বসিয়ে দিয়েছে।’

আজ সোমবার লেনদেন শুরু হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সিকামোর। এর আগে গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়। গত প্রায় চার বছরের মধ্যে তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়। ইসরায়েল ইরানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর তেহরানও এর জবাবে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে পাল্টা হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

বিভিন্ন তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্বে সবচেয়ে বড় জ্বালানি–সংকট তৈরি করেছে। নৌপথটি বন্ধ হওয়ায় গত সপ্তাহে ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম একলাফে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘এ মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেবে। এ অভিযান শুরু হবে দেশটির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে।’

গত শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্পের ওই সময়সীমা বাংলাদেশ সময় আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে শেষ হবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (আইএমও) দেশটির প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ সুবিধা ‘ইরানের শত্রুদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি জানান, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে এ জলপথ দিয়ে চলাচল করা সম্ভব।

এদিকে জাহাজ চলাচল–বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ও পাকিস্তানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে। কিন্তু বেশির ভাগ জাহাজ এখনো কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেদের অবস্থানেই রয়েছে।

গত শুক্রবার তেহরান প্রথমবারের মতো ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোও এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়

গত তিন সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের নিজের সীমানার বাইরে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে তেহরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এ দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

গত শুক্রবার তেহরান প্রথমবারের মতো ৪ হাজার কিলোমিটার (২ হাজার ৫০০ মাইল) পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের আরাস অঞ্চলে। ১৭ অক্টোবর, ২০২২
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের আরাস অঞ্চলে। ১৭ অক্টোবর, ২০২২ছবি: রয়টার্স

এ ছাড়া ইসরায়েলের ডিমোনা শহরের প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত দেশটির একটি গোপন পারমাণবিক চুল্লির কাছেও ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

অন্য আরেকটি ফ্রন্টেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত চলছে। গত রোববার ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সেনারা দক্ষিণ লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বেশ কিছু অবস্থানে অভিযান চালিয়েছে। তারাও পাল্টা ইসরায়েলের ভেতর রকেট হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্স