• Colors: Blue Color

গত মাসে গ্যাসের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক সঞ্চয় চার বছরের মধ্যে এপ্রিলেই হয়েছে সবচেয়ে কম।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার প্রভাবে এপ্রিল মাসে ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যসূচক (পিসিই) বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, মার্চে যা ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে এপ্রিলে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, মার্চে যা ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ মার্চের তুলনায় কিছুটা ধীর।

অর্থনীতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, এপ্রিলে তা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশ, সেখানে এই গতি তুলনামূলকভাবে কম। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে হিসাব করলে দেখা যায়, প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। কর ফেরতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া অনেক পরিবার জ্বালানি দামের ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হবে।

নেশনওয়াইড মিউচুয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যাথি বোস্টজ্যানসিক বলেন, পরিবারগুলো এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ স্পষ্টভাবে অনুভব করছে। এক মাসে ভোক্তাদের আয় ছিল প্রায় স্থির। কর-পরবর্তী আয় কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করার পর প্রকৃত আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

এই অবস্থায় মানুষ সঞ্চয় ভাঙিয়ে খরচ চালাচ্ছে। এপ্রিলে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার নেমে এসেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে, ২০২২ সালের জুনের পর যা সর্বনিম্ন। চলতি বছরের শুরুতে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং লিখেছেন, আমেরিকানরা এখন আর্থিকভাবে চাপে আছে। মূল্যস্ফীতি ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং ব্যক্তিগত সঞ্চয় গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অনেকেই এখন আয় থেকে বেশি ব্যয় করছেন—বিষয়টি টেকসই নয়, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য।

মূল্যস্ফীতির আবারও উল্টো পথে

ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এপ্রিলে মাসিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। ব্যয় বৃদ্ধিও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। গত মাসে ব্যয়ের বড় অংশই গেছে গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে—জ্বালানি, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও খাদ্য মিলিয়ে মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক এসেছে এসব খাত থেকে। তবে মানুষ এখনো ঐচ্ছিক খাতে ব্যয় কমায়নি; বিনোদন ও রেস্তোরাঁয় খরচ বরং বেড়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, ফলে তেল, গ্যাস, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এই যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে, খাদ্যের দাম (বিশেষ করে তাজা পণ্যের) বাড়তে শুরু করেছে। সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এলিজাবেথ রেন্টার বলেন, তেলের দামের ধাক্কা ও তার পরোক্ষ প্রভাব এবং শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। কিন্তু আয় সেই হারে বাড়ছে না, ফলে ভোক্তারা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ছেন।

অর্থনীতিবিদেরা সাধারণত খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির খাত বাদ দিয়ে মূল্যসূচক পরিমাপ করে থাকেন। এতে মৌলিক মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বোঝা যায়। এই কোর পিসিই সূচক এপ্রিল মাসে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে; এটি প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও বার্ষিক হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে।

ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন জুনো মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে এই চাপ বাড়ছে। নেশনওয়াইডের বোস্টজ্যানসিক বলেন, টেকসই পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে, এটি জ্বালানি ও খাদ্য ব্যতীত মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি, যেখানে সাধারণত এই খাতে দাম কমে থাকে।

বোস্টজ্যানসিকের মতে, এর পেছনে আছে একদিকে শুল্কনীতি, অন্যদিকে চীনের পরিস্থিতিও দায়ী। তিনি বলেন, চীন এখন আর আগের মতো ডিফ্লেশন বা মূল্যহ্রাসের পর্যায়ে নেই; পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। রপ্তানিকারক হিসেবে তারা এত বড় যে মার্কিন শুল্কের কারণে বাণিজ্য কিছুটা কমলেও তাদের রপ্তানি বাণিজ্যের বদৌলতে মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।

ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের অধীন সুদের হার কমবে, আপাতত তেমন সম্ভাবনা কম।

বোস্টজ্যানসিকের মতে, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দীর্ঘ সময় ধরে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ করবে। বাণিজ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে সহায়তা কর্মসূচি কমে যাওয়ায় এক মাসে আয় কিছুটা কমেছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতিতে গড় মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি দ্রুত হারে বাড়ছে।

একই দিনে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। সংশোধিত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, আগের পূর্বাভাস ছিল ২ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি কিছুটা গতি পেয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা। আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।

সিএনএন

তেহরান

ইরানের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করায় একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি আইআরজিসি’র একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এমকিউ-১’ মডেলের একটি মার্কিন ড্রোন ইরানের ভেতরে একটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।

আইআরজিসি জানায়, ড্রোনটি ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করা মাত্রই বিপ্লবী গার্ডের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটিকে শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট  আরও বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এত দিন ‘যুবরাজ’ বলে চিহ্নিত তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারধর করা হয়েছে। আজ শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে হামলার শিকার হন লোকসভার সদস্য অভিষেক।

এ ঘটনার জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, পরিকল্পনামাফিক এ ঘটনা রাজ্যের শাসক দল ঘটিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, কিছু লোক অভিষেককে যথেচ্ছভাবে কিল–চড়, ঘুষি মারছে। এ ঘটনা ঘটার সময় কাছ থেকে ডিম ছুড়েও তৃণমূল নেতাকে মারা হয়।

এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরের একটু আগে নারীরা তাঁকে কালো পতাকা দেখান আর সোনারপুরে ঢোকার পরে শুরু হয় ডিমের বৃষ্টি। বহু মানুষ জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ধারাবাহিকভাবে ডিম ছোড়ার ফলে অভিষেকের পোশাক বেশ খানিকটা হলুদ হয়ে যায়। তিনি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর বাইক ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। তিনি মাথায় হেলমেট পরে নেন। সেটারই ওপরেই ডিমের বৃষ্টি চলতে থাকে। হেলমেট ও জামাকাপড় হলুদ হয়ে যায়। একপর্যায়ে মারতে মারতে তাঁর জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ সময় দলীয় নেতা–কর্মী ও কিছু নিরাপত্তারক্ষী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আজ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আজ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরেছবি: ভাস্কর মুখার্জি

এরপরে সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। অভিষেক বলেন, ‘এই হলো ডাবল ইঞ্জিন (সরকারের) নমুনা। সবাই চেয়েছিল, ডাবল ইঞ্জিন হোক (ডাবল ইঞ্জিন অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার) ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরোবে।’

হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি। কিন্তু এই পরিবারের ওপর হামলা হবে আমি বেরিয়ে যাওয়ার পরে। আমি এখন এদের ছেড়ে যেতে পারব না। নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে আগে এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’ হামলায় অভিষেকের চশমা, ঘড়ি ইত্যাদি ভেঙে গেছে বলে স্থানীয় প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

‘অভিষেকের পুনর্জন্ম হলো’

এ হামলা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনর্জন্ম ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও অন্যতম মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এই একইভাবে হামলা চালানো হয়েছিল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ওপরে। অভিষেকের মতোই তাঁরও নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং তার কী ফল হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি।’

‘এ হামলার ফলে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের পুনর্জন্ম ঘটল। এত দিন যাঁকে অভিহিত করা হতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বলে, আজ তাঁর ওপর আক্রমণ করে তাঁর নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হলো। আজকে যে লড়াই হলো…সেই স্নায়ুযুদ্ধকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অতিক্রম করে গেছেন এবং এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।’

হামলার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
হামলার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
 

হামলার নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শাসক ঘাতকে পরিণত হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এসবের মধ্যে বিজেপি নেই। এ ধরনের ঘটনা সুস্থ, স্বাভাবিক, গণতান্ত্রিক পরিবেশে হয় না। আজ বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা অক্ষত রয়েছেন। ওরা যে পরিমাণ অত্যাচার মানুষের ওপর করেছে, আমাদের জেলা সভাপতি, আমাদের দলের কর্মীদের ওপর করেছে, তারপর আমরা ছিলাম বলেই ওদের বিধায়ক-সাংসদেরা এখনো এ অবস্থায় আছেন। অন্য কোনো দল থাকলে এতক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেতেন না।’

আবার উত্তপ্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ

এ ঘটনার পরে সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুইলচেয়ারে বসিয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা আজ রাতে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, শীর্ষস্থানীয় নেতার ওপর এ হামলার ঘটনাকে সামনে রেখে আপাতত তাঁরা প্রতিবাদের রাজনীতি শুরু করবেন।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে হকার উচ্ছেদ ও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্তিকরণের বিষয়টি নিয়ে পথে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই মাস ধরে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোয় অর্থসহায়তা পাচ্ছেন না নারীরা, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই গরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এরপরে তৃণমূল কংগ্রেস, যাদের এখনো ৪০ শতাংশ ভোট রাজ্যে রয়েছে, তারা পথে নামলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

চীনের প্রত্যন্ত এক মরুভূমিতে সুবিশাল এক সামরিক স্থাপনা গড়ে উঠছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগাম হামলা থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার রক্ষা করা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র আগে হামলা চালালেও বেইজিং যেন নিশ্চিতভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানার সক্ষমতা চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আগে থেকেই রয়েছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

ছবিতে দেখা যায়, সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব ঘাঁটিতে (সাইলো) রাখা আছে, সেগুলোর কাছেই নতুন স্থাপনা বানাচ্ছে বেইজিং। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (লঞ্চপ্যাড), বাংকার ও যোগাযোগের বিভিন্ন উপকেন্দ্রের বিশাল এক নেটওয়ার্ক।

মরুভূমির প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় হামি নামের একটি পারমাণবিক সাইলো রয়েছে। এর কাছেই ৮০টির বেশি উৎক্ষেপন কেন্দ্র ও অষ্টভুজাকৃতির তিনটি স্থাপনা তৈরি করেছে চীন।

রয়টার্সের হয়ে ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তাঁরা জানান, এই লঞ্চপ্যাডগুলো চীনের ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া ছবিগুলোয় এমন কিছু স্থাপনা দেখা গেছে, যেগুলো ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার কাজে লাগতে পারে।

এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞের কথা আগে জানা যায়নি। ভূমিভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীকে পরিচালনা ও সুরক্ষিত রাখতে চীন যে ব্যাপকহারে দুর্ভেদ্য অবকাঠামো বাড়াচ্ছে, এটি তারই ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে এই নেটওয়ার্ক প্রমাণ করে, পাল্টা হামলার (সেকেন্ড-স্ট্রাইক) সক্ষমতা নিশ্চিতে বেইজিং অনেক দূর এগিয়েছে।

তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের পারমাণবিক প্রতিযোগিতাও যে তীব্র হচ্ছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

উৎক্ষেপণ সক্ষমতা

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবিতে কয়েক ডজন কংক্রিটের প্যাডের মধ্যে অন্তত দুটি দেখা গেছে। হাওয়াইভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ফোরামের অ্যাডজাংক্ট ফেলো আলেকজান্ডার নিল বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাইলো এলাকার বাইরেও হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার মরুভূমিজুড়ে ব্যাপক পরিসরে এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।’

এসব স্থাপনার প্রকৃত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিল আরও বলেন, ‘চীনের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা যে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বহুমুখী হচ্ছে, আমরা তারই প্রমাণ দেখছি।’

আগে হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করেই নিজেদের পারমাণবিক কৌশল সাজিয়েছে চীন। তাদের লক্ষ্য হলো, একটি ক্ষুদ্র হলেও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা। আর এ লক্ষ্য অর্জনে মরুভূমিতে থাকা সাইলো রক্ষার সক্ষমতা অর্জন করাটা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের সামরিক বাহিনী (পিপলস লিবারেশন আর্মি) সাবমেরিন ও বিমান থেকেও পারমাণবিক অস্ত্র ছুড়তে পারে। তবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চল ও গানসু প্রদেশে থাকা সাইলো এলাকাগুলোই তাদের পারমাণবিক বাহিনীর মূল কেন্দ্র।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি নজরে থাকে এই পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি।

কিছু পশ্চিমা কূটনীতিকের অভিযোগ, বেইজিংয়ের এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। চীনের বিকাশমান পারমাণবিক সক্ষমতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

চীনের সামরিক নীতির একটি মূলভিত্তি হলো পারমাণবিক অস্ত্র ‘প্রথমে ব্যবহার না করা’। অর্থাৎ তাদের বাহিনী আগে পারমাণবিক হামলা শুরু করবে না। তবে পশ্চিমা কিছু জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের ধারণা ভিন্ন। তাঁদের মতে, তাইওয়ান নিয়ে কোনো সংঘাত বাঁধলে বাইরের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চীন পারমাণবিক অস্ত্রের ভয় দেখাতে পারে।

চলতি মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন সি চিন পিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ ঠিকমতো সামলাতে না পারলে পরিস্থিতি ‘ভয়ংকর দিকে’ যেতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে আসা নতুন স্থাপনার বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

মরুভূমিতে অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা

পূর্ব জিনজিয়াংয়ে গত ছয় বছরে অষ্টভুজাকৃতির দুটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এই দুটি স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই মরুভূমির নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। স্থাপনা দুটি হামি পারমাণবিক সাইলো এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এর একটির দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার, অন্যটি প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়, অষ্টভুজাকৃতির কাঠামোগুলোর ভেতরে কর্মীদের থাকার জায়গা ও বড় সামরিক যানের অবস্থান রয়েছে। এর দুই পাশে রয়েছে সাঁজোয়া বাংকার ও সুরক্ষিত অস্ত্রভান্ডার। এ ছাড়া সেখানে থাকা এয়ারফিল্ড ও রেলওয়ে টার্মিনালগুলো হামি সাইলোর সঙ্গে অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনাগুলোকে যুক্ত করেছে।

ছবিতে আরও দেখা যায়, চলতি মাসে ও গত এপ্রিলে উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশে বড় সামরিক যান নিয়ে মহড়া চলেছে। সাম্প্রতিক ছবিতে বড় বড় তাঁবু চোখে পড়েছে। দুজন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, এগুলো মরুভূমিতে লুকিয়ে রাখা ছদ্মবেশী উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হতে পারে। এর কয়েকটিতে আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

দক্ষিণের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশের স্থাপনা

স্যাটেলাইট ছবিতে এই স্থাপনার চারপাশে রেললাইন, একটি রেল টার্মিনাল, একটি এয়ারফিল্ড এবং জ্বালানি সংরক্ষণের সম্ভাব্য জায়গা ও সুরক্ষিত বাংকার দেখা গেছে।

অষ্টভুজাকৃতির এসব স্থাপনার অস্তিত্বের কথা আগেই নথিপত্রে উঠে এসেছিল। তবে এসব স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের বিশাল নেটওয়ার্কের খবর রয়টার্সই প্রথম প্রকাশ করল। পাশাপাশি একটি স্থাপনার আশপাশে সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিশ্লেষকদের মূল্যায়নের বিষয়টিও তারা সামনে এনেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো থেকে ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা করা যেতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশে মহড়া

স্যাটেলাইটের ছবিতে গত এপ্রিল ও মে মাসে ওই স্থাপনার আশপাশে বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রয়টার্স পাঁচজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁরা সবাই একমত, এই অবকাঠামো মূলত চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামরিক কাজে সহায়তা করতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানা রয়ে গেছে।

যেমন চীন এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করবে? অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনাগুলোতে ট্রাকে বহনযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হবে কি না, নাকি সেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত করার সুবিধা থাকবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে কুচকাওয়াজ করে চীনের সামরিক বাহিনী। সেখানে তারা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম এমন অস্ত্রের প্রদর্শনী করেছে। এর মধ্যে সাইলোভিত্তিক ও ট্রাকে বহনযোগ্য আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও (আইসিবিএম) ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন।

চীনের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে পেন্টাগন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, চীনের ওয়ারহেড উৎপাদন ধীর হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ওয়ারহেড মোতায়েনের পথে এগোচ্ছে দেশটি। গত ডিসেম্বরের ওই প্রতিবেদনে আরও ধারণা দেওয়া হয়, চীন তাদের তিনটি প্রধান সাইলোতে ইতিমধ্যে ১০০টি আইসিবিএম প্রস্তুত রেখেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিজেদের আগাম সতর্কবার্তাব্যবস্থাও (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) জোরদার করছে চীন। এর কেন্দ্রে রয়েছে তাদের ‘হুয়োয়ান-১’ স্যাটেলাইট।

পেন্টাগন বলছে, এই ব্যবস্থায় কোনো আইসিবিএম ধেয়ে এলে তা উৎক্ষেপণের ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে শনাক্ত করা যায়। আর তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে তা কমান্ড সেন্টারে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। শত্রুর আঘাত হানার আগেই নিজেদের সাইলোভিত্তিক অস্ত্র থেকে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য এই সময়টুকুই চীনের জন্য যথেষ্ট।

‘অভাবনীয় এক উদ্যোগ’

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মরুভূমির অনেক দূর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা ও ভূগর্ভস্থ যে নেটওয়ার্ক চলে গেছে, প্রতিটি অষ্টাভুজ স্থাপনা তার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। এসব রাস্তাগুলো কংক্রিটের প্যাডগুলোকে যুক্ত করেছে, যেগুলো পাথুরে এলাকা ও খালের শুকনা তলদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে।

তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, এসব প্যাড ভ্রাম্যমাণ আকাশ-প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের উপকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আর তুলনামূলক বড় প্যাডগুলো ভ্রাম্যমাণ আইসিবিএম লঞ্চার হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক তথ্যপ্রকল্পের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এমন বৈরী পরিবেশে এত বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে যে, ‘কোনো কিছুর সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না’।

ক্রিস্টেনসেন ও নিল জানান, অষ্টাভুজাকৃতির কাঠামোগুলোর সঙ্গে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা ওই ভূগর্ভের সুরক্ষানলগুলোর ভেতরে যোগাযোগের জন্য ফাইবার অপটিক কেবল থাকতে পারে।

তিনজন বিশ্লেষক স্যাটেলাইট ডিশ ও দুটি বড় টাওয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একেবারে উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনায় মহাকাশ বা মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগের সম্ভাব্য ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পারমাণবিক নীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো টং ঝাও বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, অষ্টাভুজ কাঠামোগুলো এবং অদ্ভুত টাওয়ারগুলোর সঙ্গে সি–থ্রি (কমান্ড, কন্ট্রোল এবং কমিউনিকেশন)-এর যুক্ত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হামি আইসিবিএম সাইলো এলাকায় চীনের পারমাণবিক কার্যক্রমের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের সঙ্গেও এগুলো সম্পৃক্ত থাকতে পারে।’

লোপ নুর পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের দক্ষিণে অষ্টভুজাকৃতির তৃতীয় একটি স্থাপনা রয়েছে। তবে এটি এখনো সেভাবে উন্নত করা হয়নি। মনে হচ্ছে, এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনুশীলনের জায়গা (টার্গেট রেঞ্জ) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইটের ছবিতে সেখানকার মাটি ক্ষতবিক্ষত ও ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের বিশ্লেষকেরা জানান, সেখানে পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের রেপ্লিকা বা নকল কাঠামোও রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

অনুশীলনের জায়গা হিসেবে তৃতীয় অষ্টভুজের ব্যবহার

স্যাটেলাইটের ছবিতে ওই এলাকায় নকল উড়োজাহাজ, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ক্ষতবিক্ষত মাটি দেখা গেছে।

সাইলোর কাছে এমন বিশাল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চীনকে সম্ভাব্যভাবে অন্যান্য প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে বেইজিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড ও অস্ত্র মজুত রয়েছে। তবে আগাম হামলা ঠেকাতে তারা বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না। এর বদলে তারা বিপুলসংখ্যক সাইলো, সেগুলোর বিচ্ছিন্ন অবস্থান এবং মজবুত অবকাঠামোর ওপরই বেশি নির্ভর করে।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে যে বিশাল নির্মাণযজ্ঞ চলছে, তা দেখে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরাও অবাক হয়েছেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। এটি অসাধারণ এবং অভাবনীয় এক উদ্যোগ।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব