• Colors: Blue Color

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী বলে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ। তিনি বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সব সীমারেখা অতিক্রম ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

ইসরায়েলি সৈন্যরা এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে, এমন একটি ভিডিও দেখার পর আলবানিজ এ প্রতিক্রিয়া জানান।

আলবানিজ তাঁর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আমি যথেষ্ট দেখেছি, তাই সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে বলছি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী।’

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর আভিযোগ এনে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে আলবানিজের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি এমনকি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। 

ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে নিহত এক শিশুকে দেখছেন স্বজনেরা। খান ইউনিস, দক্ষিণ গাজা, ফিলিস্তিন
ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে নিহত এক শিশুকে দেখছেন স্বজনেরা। খান ইউনিস, দক্ষিণ গাজা, ফিলিস্তিনফাইল ছবি: এএফপি

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের এ বিশেষ দূত বলেন, তাঁর জীবন হুমকির মুখে রয়েছে এবং তিনি সবসময়ই বিপদের মধ্যে বাস করছেন। 

আলবানিজ আরও বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার পর থেকে তিনি যে চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন, তাতে তাঁর পরিস্থিতি এখন ‘রোলার কোস্টার রাইডের’ মতো হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। একই সঙ্গে আজ মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে কিছুটা চাঞ্চল্য ফিরেছে।

চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

এর আগে গতকাল সোমবার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। তবে আজ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা সেই আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ এবং এর আরোহীদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।

আজ মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জাহাজটিসহ এর নাবিক, ক্রু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের রক্ষায় প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

এর আগে গত রোববার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইরানি পতাকাবাহী ওই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তা জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশিত সামরিক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং পরে হেলিকপ্টার থেকে মেরিন সেনারা দড়ি বেয়ে জাহাজে নামছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান তার পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করবে। এ ঘটনার ফলে পরিস্থিতির যেকোনো অবনতির জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।’

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসন্ন শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নুর খান বিমানঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইসলামাবাদের নিকটবর্তী এই কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানগুলোর আগমনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এটি হতে পারে ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ। যদিও বিমানগুলোর নির্দিষ্ট মিশন বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনা অঞ্চলজুড়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে সামরিক উপস্থিতি বাড়ার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আলোচনা সফল হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অনিশ্চয়তাই এখন প্রধান বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। সূত্র: মানি-কন্ট্রোল

 

টোকিও

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব