• Colors: Blue Color

ইরানে হামলা এমন এক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মোটেও প্রস্তুত নয়। কারণ, তারা ভুল একটি যুদ্ধ নিয়ে বড্ড বেশি ব্যস্ত।

ওয়াশিংটন যখন ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে শত শত কোটি ডলার ঢালছে এবং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলো তেলের দাম আর ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথের ওপর নজর রাখছে, তখন বেইজিং নিঃশব্দে এমন একটি নথি প্রকাশ করেছে, যা আগামী কয়েক দশকের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

গত ৫ মার্চ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে উন্মোচিত চীনের ১৪১ পৃষ্ঠার ‘১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাতে’ এমন এক উচ্চাভিলাষী কৌশলের কথা বলা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি নির্ধারণকারী প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও শিল্প খাতগুলোকে নিজেদের দখলে নেওয়া।

ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিস্ট ও লেখক শানাকা আনসেলাম পেরেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘কেউ এদিকে মনোযোগ দিচ্ছে না। আর এটাই হলো আসল পয়েন্ট।’

চীনের এই ব্লুপ্রিন্ট বা খসড়াটি কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক নীতিমালা নয়, বরং একে একটি জাতীয় প্রযুক্তিগত সংহতি বা প্রস্তুতির মতো মনে হচ্ছে। পুরো নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কথা বারবার এসেছে।

বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে তারা তাদের অর্থনীতির সিংহভাগজুড়ে এআইকে গেঁথে দিতে চায়।

মানুষের মতো দেখতে রোবটকে (হিউম্যানয়েড রোবোটিকস) প্রধান একটি শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এর উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এ ছাড়া এই পরিকল্পনায় চীন মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি, নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণায় গতি আনা এবং ‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’ প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

চীনের অর্থনৈতিক লক্ষ্যও বেশ চমকপ্রদ। এই পরিকল্পনা চলাকালে শুধু এআই–সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর মূল্য ১০ লাখ কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি ডলার।

চীনের এই উদ্যোগের মাত্রা দেখে বোঝা যায়, এটি একটি সুসংগঠিত জাতীয় শিল্প প্রচেষ্টা। স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধের ময়দানে জেতার চেয়ে তারা বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে উৎপাদনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় নীতিকে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চায়।

আনসেলাম পেরেরা যুক্তি দেখিয়েছেন, চীনের এই কৌশলের ব্যাপকতাই একে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তিনি লিখেছেন, ‘এটি কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; এটি এমন এক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যা যুক্তরাষ্ট্র লড়ছেই না।’

চীনের এই প্রযুক্তিগত উত্থানের মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের প্রধান পদক্ষেপ ছিল ২০২২ সালে পাস হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’ (চিপস অ্যাক্ট)। এই আইনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শক্তিশালী করতে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার সরাসরি অনুদান এবং ট্যাক্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৪০টির বেশি প্রকল্পে শত শত কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ এসেছে। প্রচুর উচ্চ-দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু এটি শুধু চিপসের বিষয় নয়

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টা মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর সীমাবদ্ধ। আর তা হলো চিপস।

অন্যদিকে চীনের কৌশল অনেক বেশি বিস্তৃত। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভারী শিল্প থেকে শুরু করে সেবা খাত—সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে চায়। শিল্প উৎপাদনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে রোবোটিকসকে ব্যবহার করতে চায়।

চীনের এই পরিকল্পনা একই সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মহাকাশ অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিকসের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রসেসিং ক্ষমতার (বিশেষ করে বিরল খনিজ) ওপর বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেয়।

পেরেরা এই পার্থক্যকে সহজ কথায় এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—‘চিপস অ্যাক্ট হলো একটি রাইফেল, আর পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো একটি অস্ত্রাগার।’

সেই অস্ত্রাগারের কেন্দ্রে রয়েছে বিরল খনিজ উপাদান। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ চীনের নিয়ন্ত্রণে। এই উপাদানগুলো ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক রাডার তৈরির জন্য অপরিহার্য।

প্রতিটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন, সেন্সর এবং অস্ত্রব্যবস্থা তৈরির জন্য শত শত পাউন্ড বিরল খনিজ প্রয়োজন হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ব্যাটারি এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদও এই বিরল খনিজের ওপর নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং এই খাতের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তপোক্ত করেছে। তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও কঠোর করেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে এই খনিজ সরবরাহের ওপর তাদের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, পুয়ের্তো রিকো
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, পুয়ের্তো রিকো, ছবি: রয়টার্স
 

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা কেনাকাটার নিয়মগুলো উল্টো পথে হাঁটছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পেন্টাগনের চুক্তিতে চীনা খনিজ উপাদান ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সরবরাহকারীদের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে বা তৈরি করতে হচ্ছে। তবে সেটা এখনো বড় আকারে নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে আগামী কয়েক বছর বা অন্তত দশকের জন্য ‘দুর্বলতার সুযোগ’ তৈরি হয়েছে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন বা গাজায় নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞে ইসরায়েলকে সহায়তা করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বিরল খনিজ সমৃদ্ধ গোলাবারুদ খরচ করে ফেলছে।

অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন খনি বা প্রক্রিয়াজাত প্ল্যান্ট নেই, যা বড় পরিসরে এই চাহিদা পূরণ করতে পারে।

পেরেরা লিখেছেন, ‘ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র) ধ্বংস হচ্ছে। আর চীন সেই ইন্টারসেপ্টর তৈরির সরবরাহব্যবস্থা আটকে দিচ্ছে।’ আর এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাই হলো সেই কৌশলগত নথি, যা এই চাপকে জাতীয় কৌশলে রূপান্তর করেছে।

সি চিন পিংয়ের ১৪১ পৃষ্ঠার এই পথনকশার লক্ষ্য হলো—আগামী ১৫ বছর এই ধ্বংসাত্মক সমরকৌশলের প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো যেন চীনের নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন যদি কাঁচামাল, রোবোটিকস এবং এআইকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অধীনে আনতে সফল হয়, তবে পরবর্তী বৈশ্বিক পরাশক্তি হওয়ার লড়াই পারস্য উপসাগরের আকাশে যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে না। বরং এফ–৩৫ আকাশে ওড়ার অনেক আগেই সরবরাহ চেইন এবং কারখানার ভেতরেই তার ফয়সালা হয়ে যাবে।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত শনিবার ওমান উপকূলে অবস্থান করছিল। রণতরিটিকে তখন হরমুজ প্রণালির অভিমুখে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-২ মিশন এই রণতরির ছবি প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কিছু ছবি শেয়ার করেছে। তাদের দাবি, ছবিগুলোতে গত শনিবার সমুদ্রে অবস্থানরত ওই রণতরিটির কার্যক্রম দেখা গেছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে আরব সাগরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে দেখা যাচ্ছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে। ৭ মার্চ, ২০২৬
কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে আরব সাগরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে দেখা যাচ্ছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে। ৭ মার্চ, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইরানে হামলা শুরু করার আগে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রেের দুটি বিমানবাহী রণতরির একটি হলো আব্রাহাম লিংকন। বর্তমানে ইরানি উপকূলের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা একমাত্র মার্কিন রণতরি এটিই।

সূত্র: রয়টার্স

বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারের হামলা হয়েছে। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

আজ সোমবার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়। হামলার শিকার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিটি দেশটির প্রধান তেল শোধনাগার। এটি দেশটির জ্বালানি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সরকারের দিক থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, ইরানি ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। লোকজন আহত হয়েছে। পরে তেল শোধনাগারটি থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যায়।

হামলার পরে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরান সোমবার প্রথম দফায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া আইআরআইবি একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে। এর গায়ে লেখা, ‘আপনার সেবায় প্রস্তুত, সাইয়্যিদ মোজতবা।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ইরানের জ্বালানি তেলের গুদামে ইসরায়েলি হামলার পর ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে রাজধানী তেহরানের আকাশ। আজ রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরটির প্রায় ১ কোটি মানুষ দেখেছেন আকাশ থেকে ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’।

রাজধানী তেহরান থেকে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন এমন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন।

প্লিটজেন বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই বৃষ্টি, বৃষ্টির পানি আসলে কালো—মনে হচ্ছে এটি তেলে সিক্ত বা মিশ্রিত।’

রয়টার্সের এক ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেছে।

প্লিটজেন আরও বলেন, ‘হামলার পর আজ সকালে ইরানি রাজধানীতে এমন তেলমিশ্রিত বৃষ্টি ঝরছে।’

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তারা তেহরানের এমন কিছু জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে সামরিক খাতসহ বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।

আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই বৃষ্টি, বৃষ্টির পানি আসলে কালো—মনে হচ্ছে এটি তেলে সিক্ত বা মিশ্রিত।
— ফ্রেড প্লিটজেন, তেহরানে সিএনএনের প্রতিনিধি

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হামলা, যা ইরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ শাসনের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এক বাড়তি পদক্ষেপ।’

সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব