• Colors: Purple Color

বিশ্ববাজারে টানা কয়েক দিন বৃদ্ধির পর আজ মঙ্গলবার সোনার দাম কিছুটা কমেছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল, গত তিন সপ্তাহের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সোনার স্পট মূল্য প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।

সোমবার সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৩০ ডলার। আজ মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সোনার দাম ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১৭৬ ডলারে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্স কমোডিটি মার্কেটের।

বিষয়টি হলো, যখনই অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখনই বাড়তে শুরু করে সোনার দাম। বিনিয়োগের নিরাপদ খাত হিসেবে পরিচিত সোনায় বিনিয়োগ বাড়াতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে ঊর্ধ্বমুখী হয় সোনা। ঠিক তেমনই দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

সম্প্রতি জরুরি আইন ব্যবহার করে ট্রাম্প যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু ট্রাম্প তো দমে যাওয়ার পাত্র নন। শুল্ক নিয়ে আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই আবহেই সোনার দামের ওপর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আবহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বাজারে। এক বছর ধরেই সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালে সোনার স্পট মূল্য বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার। বছরের শেষে তা ৪ হাজার ৩০০ ডলারের কাছাকাছি চলে যায়।

এরপর চলতি বছরের শুরুতে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ৫৯৪ ডলার ৮২ সেন্ট। এটাই ইতিহাসের সোনার সর্বোচ্চ দাম। ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এপ্রিলে ইউএস গোল্ড ফিউচারের সরবরাহ ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ২১৯ ডলার প্রতি আউন্স। একই সঙ্গে রুপার দামও অনেকটা বেড়েছে।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে নানা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা চলছে। আজ সোনার দামে কিছুটা সংশোধন হলেও চলতি বছর সোনার মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

সোনার দাম কত হতে পারে

লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাস জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও পূর্বাভাস বৃদ্ধি করেছে। তারা বলেছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে সোনার দাম ৫ হাজার ৪০০ ডলারে উঠতে পারে। এর আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল ৪ হাজার ৯০০ ডলার।

স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দামের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বাভাস ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার। রস নরম্যান বলেন, এই মুহূর্তে একমাত্র নিশ্চিত বিষয় হলো অনিশ্চয়তা। এই অনিশ্চয়তাই সোনার পালে হাওয়া দিচ্ছে।

ঈদ সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের কাছে টাকা চেয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা। তাঁরা ঈদের আগে দুই মাসের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন।

রাজধানীর মতিঝিলে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী। সেই বৈঠকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মজুরিসহায়তা বাবদ দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থের ঋণসুবিধা দিতে গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়।

দুই মাসের জন্য কত টাকা ঋণ প্রয়োজন—জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে বেতন-ভাতা বাবদ মাসে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

চিঠিতে গত সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও কেজিপ্রতি তৈরি পোশাক দাম কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, রপ্তানি কমে আসার সঙ্গে নতুন ক্রয়াদেশেও শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। এমনকি ক্রয়াদেশ পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঈদের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বোনাস পরিশোধ ছাড়াও বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও অন্যান্য খরচ পরিশোধ করতে হয়। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজনে তারল্যসংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ সংকট অতিক্রম করা উৎপাদকদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।

ইনামুল হক খানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিরত কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—দুই মাসে কারখানা খোলা থাকবে ৩৫ দিন। অথচ মার্চ মাসে নিয়মিত মজুরির পাশাপাশি ঈদ বোনাস ও মার্চ মাসের ৫০ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে চলমান তারল্যসংকটের ফলে মজুরি পরিশোধে ব্যর্থতা ও শ্রম অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে মজুরিসহায়তা বাবদ দুই মাসের সমপরিমাণ অর্থ তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন তিনি।

বিজিএমইএর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনের নেতারা মজুরির জন্য সহজ শর্তে ঋণের পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করার অনুরোধ করেন।

এ ছাড়া বিজিএমইএর নেতারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাড় করার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) আওতায় আবার ঋণসহায়তা চালু ও সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।

বিজিএমইএর নেতারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে বলেন, সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করা শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার স্বার্থে খুবই জরুরি।

বিজিএমইএ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গভর্নর বিজিএমইএর নেতাদের বক্তব্য শোনার পর তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুত আবার ৩৫ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের জুনে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো একই উচ্চতায় উঠেছিল। তখন করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে এসেছিল। আর আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধ থাকায় হুন্ডি বন্ধ হয়ে বেড়েছিল প্রবাসী আয়। এবার হুন্ডি ও অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি বাড়তি প্রবাসী আয় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ মান অনুযায়ী অবশ্য রিজার্ভের পরিমাণ হবে ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’

জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। এরপর দেশে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়। ফলে ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ না থাকায় এত দিন রিজার্ভ বেড়েছে। এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়বে। এখন ব্যাংকগুলো সেভাবে ডলার বিক্রি করতে পারবে না। অর্থ পাচার না হলে ও নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি বাড়লে ডলার নিয়ে সংকট হবে না বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

রোজার শুরুর দিকে তুলনামূলক বেশি খরচ হয় খাবারে। এরপরেই খরচের তালিকায় আছে নতুন পোশাক, জুতা, গয়নাসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য। অনেকে আবার এ সময়ে দেশ ও দেশের বাইরে বেড়াতে যান।

দেশের ব্যাংকগুলো তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডধারী গ্রাহকদের জন্য এই রোজার মাসে নানা ধরনের অফার বা সুবিধা দিয়ে থাকে। এর ফলে মানুষ কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় আগ্রহী হন। নগদ লেনদেনও চলে। আবার এসব কার্ডের অফারের ফলে ক্রেতারাও কেনাকাটায় অর্থ সাশ্রয় করতে পারেন।

ব্যাংকগুলো বলছে, রোজার সময় উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা বাড়ে। তাই ব্যাংকের গ্রাহকেরা যেন সহজে লেনদেন করতে পারেন, সে জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়।

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান তৌহিদুল আলম বলেন, রোজার মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই ব্যাংকগুলো নানা ধরনের ছাড় ও সুবিধা দেয়।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফারের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া এসএমএস ও অন্যান্য মাধ্যমেও গ্রাহকদের নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় বা ক্যাশব্যাকের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আবার বিভিন্ন দোকানের ক্যাশ কাউন্টারেও ঝুলছে এসব প্রচারণা।

সিটি ব্যাংকে কী ছাড় আছে

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স, ভিসা ও মাস্টারকার্ড ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডধারীদের লাইফস্টাইল ও গ্রোসারি আউটলেটে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৭০০টির বেশি রিটেইল স্টোরে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ও রয়েছে। ১০০টির বেশি রেস্তোরাঁয় খাবার বিলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এবং বিভিন্ন অনলাইন মার্চেন্ট ও ফুড ডেলিভারিতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় আছে।

ইফতার ও রাতের খাবারেও নানা ছাড় আছে। ৫০টির বেশি রেস্টুরেন্ট ও তারকা হোটেলে ইফতার ও ডিনারে অফার আছে সিটি ব্যাংকের কার্ডে। সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স ডেবিট কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট পাঁচ তারকা হোটেলে একটি প্যাকেজ কিনলে পরবর্তী প্যাকেজে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংক: ইফতার ও সাহ্‌রি ১টি কিনলে ৪টি ফ্রি

রোজা উপলক্ষে ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১ হাজার ৪০০টির বেশি আউটলেটে আকর্ষণীয় ছাড় পাচ্ছেন। ব্র্যাক ব্যাংকের সব কার্ডধারী সারা দেশের বিভিন্ন তারকা হোটেলে ইফতার ও রাতের খাবার এবং সাহ্‌রিতে একটি প্যাকেজ কিনলে চারটি ফ্রি পর্যন্ত বুফে অফার আছে।

এ ছাড়া ডাইনিংয়ের (খাবার) জন্য ৫৩টি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন এই ব্যাংকের গ্রাহকেরা। পাশাপাশি ১১৯টি লাইফস্টাইল পার্টনার শপে ব্যাংকের কার্ডধারীরা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।

এ ছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ডধারীরা ২৫টি গয়নার দোকানে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। অনলাইন কেনাকাটায় আড়ং, অ্যাপেক্স ও বাটায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাবেন। পাশাপাশি লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, মম ইন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ ৩৫টি ট্রাভেল ও এয়ারলাইনস পার্টনারদের সঙ্গে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন এই ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা।

প্রাইম ব্যাংকে ১০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক

প্রাইম ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডধারী গ্রাহকেরা লাইফস্টাইল কেনাকাটায় ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন। নির্দিষ্ট কিছু তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ইফতার এবং রাতের খাবারে রয়েছে ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ অফার। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য কেনাকাটায় রয়েছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার।

ইস্টার্ন ব্যাংকের কার্ডে ইফতারে ছাড়

ইস্টার্ন ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য ১৩টি তারকা হোটেলে ইফতার ও রাতের খাবারে আছে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান, টু ও থ্রি’ অফার। এ ছাড়া এই ব্যাংকের সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭০টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে কেনাকাটায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। জুয়েলারি ও মেকওভারের জন্য ২৫টি আউটলেটে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক: সুপারশপে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য পাঁচ তারকা বিলাসবহুল হোটেলে পবিত্র রমজান মাসজুড়ে ইফতার ও ডিনারে (রাতের খাবার) একটির মূল্যে চারটি পাওয়া যাবে, এমন অফার দিচ্ছে। ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আড়ং, আগোরা, অ্যাপেক্স, বাটা, চালডাল, দারাজ, ইউনিমার্ট ও মীনা বাজারে কেনাকাটায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক রয়েছে।

নেক্সাস–পে ও রকেট অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করলে পাওয়া যাচ্ছে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক। বে, লোটো, পিৎজা হাট, কেএফসি, ইজি, জেন্টেল পার্ক ও সেইলরে এ অফার পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদের কেনাকাটা ও ইফতারে রমজান মাসজুড়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারীরা স্বপ্ন, আগোরা ও মীনা বাজারে কেনাকাটায় ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাবেন। পাশাপাশি আড়ং, অ্যাপেক্স, বাটা, আর্টিসান ও ইয়েলোয় ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাবেন এই ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সরকারি–বেসরকারি ব্যাংকগুলো মিলে ডেবিট কার্ড রয়েছে চার কোটির বেশি। এ সময়ে ক্রেডিট কার্ড রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ও প্রিপেইড কার্ড প্রায় ৯০ লাখ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের জায়গায় নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করেছে। অর্থমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে তা যাবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক আজ দুপুর পৌনে দুইটায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেছেন। বের হওয়ার পর জানতে চাইলে নাজমা মোবারেক বলেন, ‘অপেক্ষা করুন। এখনই কিছু বলতে চাইছি না। কিছু হলে জানতে পারবেন।’

গণঅভ্যত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তৎকালীন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দেওয়ার পর ১৪ আগষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আহসার এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেয়। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার নয় দিনের মাথায় বর্তমান গভর্নরের জায়গায় নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আমি পদত্যাগ করিনি : গভর্নর

পদত্যাগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে আজ দুইটা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, 'আমি পদত্যাগ করিনি। কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। গণমাধ্যমে খবর দেখলাম। এর সত্যতা ধরে নিচ্ছি।'

গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে সমাবেশ

এ দিকে বিভিন্ন দাবি পূরণ ও তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো এবং বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকালে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এসব দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলমবিরতিতে যাবেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা—এমন ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা অংশ নেন।

গভর্নরের পদত্যাগ চায় কর্মকর্তারা, এ নিয়ে জানতে চাইলে আহসান মনসুর বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সভার পর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, কিছু কর্মকর্তা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পরিচালিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। কর্মকর্তাদের অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে। যদি কেউ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চান, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রক্ষায় কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব