ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সংকট সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে এবং বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে অনেকের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। কাজ করছে ১০টি এজেন্সি।
 
তিনি আরও বলেন, যে প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে গভর্নর ঋণখেলাপি বলা হয়, সেই প্রতিষ্ঠান একদিনের জন্য বন্ধ হয়নি, বেতন বন্ধ করেনি এবং ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকা এরইমধ্যে পরিশোধ করেছে। মাঝে কিছুদিন সুদহার নিয়ে জটিলতা হয়েছিলো, সেটি সমাধান হয়েছে। তারপরও বারবার কেন ঋণখেলাপি বলা হয় বোধগম্য না।
 
এছাড়াও ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
অন্যদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালো টাকা সাদা করা নিয়ে বিভ্রান্তি কাম্য না। শুধু জমি বিক্রির টাকা নিয়ে নির্দেশনা গতবারই ছিলো। এটা করা হয়েছিলো যেন জমির ক্রেতারা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে না পারে। এবার বিক্রেতাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার চায় তরুণেরা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নেতৃত্ব দেবে। 

স্টার্টআপ তহবিল গঠন: অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল হিসেবে নারী উদ্যোক্তা, নারী উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। 

স্টার্টআপকে ভ্যাট অব্যাহতি: স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী ৯ বছরের জন্য মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। একইভাবে সেবা আমদানি এবং স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহিত পাচ্ছে স্টার্টআপ। শুধু তা–ই নয়, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কর অব্যাহতি: বর্তমানে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি আছে। এই কর অব্যাহতি সুবিধা অন্যান্য সব ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রেও এখন প্রযোজ্য হবে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের আয় বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারের সেবার ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও পাবেন বলে বাজেটে বলা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করছাড়: তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে বাজেটে। একইভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সেবার ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও পাবেন। 

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, প্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ছাড়া কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভ খাতে ব্যাপক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। 

জানতে চাইলে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান গোযায়ানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিদওয়ান হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানির ভ্যাট ও টার্নওভার কর মওকুফের সিদ্ধান্তটি অসম্ভব রকমের ভালো উদ্যোগ। বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আনলে উদ্যোক্তাদের দেড় শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার আগে স্টার্টআপকে পুঁজি সরবরাহ করতে ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে একটি কোম্পানি হয়েছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সরকার প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির প্রবৃদ্ধির জন্য খুবই সিরিয়াস। 

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে দেশব্যাপী ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারে সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। 

জানতে চাইলে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান সবজিগ্রামের সহ উদ্যোক্তা রাহাত কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব জায়গায় কর দেওয়ার কারণে আমাদের ব্যবসার খরচ বাড়ছে। বাজেটে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়াটা খুবই ইতিবাচক। এতে তরুণ উদ্যোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে।’

এবারের বাজেটে তৈরি পোশাকশিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিল—করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি সহজীকরণ করা। এই দুই জায়গাতেই বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপগুলো সন্তোষজনক। এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। 

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলা হয়। 

সংগঠনটি বলছে, বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে করসুবিধা সম্প্রসারণ এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল উৎসে কেটে নেওয়া অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়, বহন বা ফেরতের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। কারণ, উৎসে অগ্রিম কর কেটে নেওয়ার পর সময়মতো সমন্বয় বা ফেরত না হলে ব্যবসার কার্যকর মূলধন আটকে যায়।   

বিকেএমইএর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, রপ্তানিমুখী নন বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক। 

তবে পলিয়েস্টার স্টাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর কতটুকু সময়োপযোগী বা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখার অনুরোধ জানায় বিকেএমইএ। 

দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট নিরসনে বাজেটে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি এখনো অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো দরকার। 

ঋণের উচ্চ সুদও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘ মেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সামগ্রিকভাবে নীতিগত দিক থেকে প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করণীয় সংশ্লিষ্ট আলোচনায় কয়েকজন জেলা প্রশাসক নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এসব কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা ইপিজেড। কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সহজ করাই এসব ইপিজেডের প্রধান কাজ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জেলার শিল্পকারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং উদ্যোক্তারা সহজে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এখানে এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ, মৎস্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেন, সড়কপথে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ধান, আলু ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যের প্রাচুর্যের কারণে কৃষিভিত্তিক শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় থাকায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ডিসি সম্মেলনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিজি প্রেস বই প্রকাশের কাজ করছে। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠির মাধ্যমে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদের কাজ চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমাতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস।

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।

আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

একই আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ জহির হোসেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। এর পর থেকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে ব্যাংকটির কিছু গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। জাতীয় সংসদেও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গ্রাহকদের ‘যৌক্তিক’ আন্দোলনের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা বেড়ে যায়। এতে ব্যাংকটি টাকার সংকটে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায়। আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক আড়াই হাজার কোটি টাকা ধার দেয় ইসলামী ব্যাংককে।

এদিকে, আজ বিকেল চারটার দিকে ব্যাংকটির এমডি, দুই অতিরিক্ত এমডি ও ছয়জন ডিএমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান। তাঁরা গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ‘ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা গভর্নরকে ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি অবহিত করেন।’

বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) আলতাফ হোসেন বলেছেন, ব্যাংকটির গ্রাহকদের টাকা তোলার সমস্যা দ্রুতই কেটে যাবে। ব্যাংকের লেনদেন পরিস্থিতি ও তারল্যসংকট কাটিয়ে উঠতে তাঁরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের বর্তমান লেনদেনের অবস্থা, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং আগামী দিনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে ব্যাংকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নগদ জমা ও উত্তোলনের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় সমান অবস্থানে আছে।

ওই বৈঠকের পর রাতে ব্যাংকটির পুরো পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আপাতত তাঁর নেতৃত্বে চলবে ব্যাংকটি।

চলতি জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে ১৩৬ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ফলে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪৮ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনের প্রথম ১৩ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে গত মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরও আগে মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় দেশে আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা সুবিধা এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব