আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিলাসী পণ্য, কিছু আমদানি পণ্য, রড ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব থাকায় এসবের দাম বাড়তে পারে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার হতে পারে, যার মধ্যে বড় অংশ নিজস্ব ও বিদেশি অর্থায়ন থেকে আসবে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য
চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা এবং কিছু ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসতে পারে।

ভোজ্যতেল ও কৃষিখাত
দেশীয় তৈলবীজ থেকে উৎপাদিত ভোজ্যতেলে ১০ বছরের কর অব্যাহতির পরিকল্পনা থাকায় স্থানীয় তেলের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি তেল
রিফাইনারি পর্যায়ে উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ
কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের আগাম কর প্রত্যাহার, ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড় এবং হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।

মোবাইল ও টেলিযোগাযোগ
স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, সিমের কর বাতিল এবং কিছু লাইসেন্স ফি–সংক্রান্ত কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসে কর কমানো এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর অব্যাহতির প্রস্তাব থাকতে পারে।

ইলেকট্রিক যানবাহন
ইভি চার্জিং স্টেশন, বাস ও ট্রাকে কর শূন্য করার পাশাপাশি নিবন্ধন ফি কমানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে।

সোনা ও প্রযুক্তিপণ্য
সোনা উৎসে কর ও ভ্যাট কমানো এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে আমদানি কর হ্রাসের প্রস্তাব আসতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য
সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় দাম বাড়তে পারে।

রড ও নির্মাণসামগ্রী
মাইল্ড স্টিলসহ রডজাত পণ্যে ভ্যাট ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

বিলাসী ও আমদানি পণ্য
বিদেশি প্রসাধনী, উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন বিলাসী পণ্যে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাজুবাদাম ও হিমায়িত মাছ
কাজুবাদামে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে এবং হিমায়িত মাছ আমদানিতে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব থাকতে পারে।

 

দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী মহলের অনিয়মিত ঋণ গ্রহণজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ রবিউল বাশারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বেলা তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদ সদস্য জানতে চান, দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী মহলের অনিয়মিত ঋণ গ্রহণের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলা ও জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কী কী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতাদের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি, সেসব ব্যাংকের জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ নিষ্পত্তি কৌশল (রেজোল্যুশন স্ট্র্যাটেজি) সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) আইনে সংজ্ঞায়িত ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার নং-৬ (১২ মার্চ ২০২৪) জারি করা হয়েছে। ওই নীতিমালার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে গৃহীতব্য ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানি লন্ডারিংয়ের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলা চিহ্নিত

অর্থ পাচার রোধ এবং অতীতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করেছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।

জেআইটির কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে মোট প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালতের মাধ্যমে সংযুক্ত বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১৪২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে একটি স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে।

পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করার বিষয়টি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক এআই ইস্টিসনা এবং আইএফআইসি গ্র্যান্ডেট শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড-সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবন এবং বিএসইসির সাবেক কমিশনার ড. শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কার ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েনের একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাজধানীতে আজ মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক এই ঋণচুক্তি সই হয়। এতে সই করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ তাকাহাশি জুনকো। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি নোট বিনিময় চুক্তিও সই হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও বাংলাদেশের ইআরডি সচিব সই করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তিটির আওতায় পাওয়া ঋণ দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা জোরদারে ব্যয় করা হবে। জাপান সরকারের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (পাওয়ার এশিয়া)’ উদ্যোগের আওতায় এটি প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য দুটি—বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নত পরিকল্পনা ও জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ–অর্থায়নে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন–সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নেও সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সরকারের আশা, এই সহায়তা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালীকরণে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশ ও জাপানের উন্নয়ন অংশীদারত্বও আরও জোরদার হবে।

প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলার।

এক বছর আগে দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতির আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিবিএসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকার পূর্বাভাস দিলেও প্রাথমিক হিসাবে তা ছাড়িয়ে গেছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে কৃষি ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

 

ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। পাশাপাশি বিষয়টির দ্রুত সমাধান হলে ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ উদ্বেগের কথা জানান এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে এ আলোচনা হয়।

মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন। গভর্নরও এই পরিস্থিতিকে কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

বৈঠকে ব্যাংক খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মাসরুর আরেফিন বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) ঋণসহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) কর্মসূচির আওতায় অর্থ বিতরণ করা হবে।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, রপ্তানি ও আমদানিসংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল বা বিলম্ব হয়। ফলে জাতীয় হিসাব-নিকাশে সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আমদানিপণ্যের মূল্য ঘোষণায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মূল্য যাচাই করে এলসি খোলা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। লক্ষ্য এটা নিশ্চিত করা যে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের কারণে দেশের ক্ষতি যেন না হয়।

বৈঠকে দেশের সব ব্যাংকের এমডিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ডেপুটি গভর্নর ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ব ভারতের বৃহৎ ডেনিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তানধান ডেনিম (Tandhan Denim) ঢাকার আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ২০তম আসরে অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রদর্শনীতে তানধান ডেনিমের কান্ট্রি হেড শাকিরুল খান বলেন, ‘আমাদের কারখানা কলকাতায়, বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে আমরা দ্রুত ডেলিভারি ও নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন সেবা দিচ্ছি।’

তানধান ডেনিম, তিন দশকের পুরোনো শিল্পগোষ্ঠী তানধান গ্রুপের একটি অংশ।

বাংলাদেশের বাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে তানধান ডেনিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশান্ত গিরি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত পণ্যসমূহ আমাদের ডেনিম ফেব্রিকের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্রেতার চাহিদা পূরণের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব