ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। সেই তালিকায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির নেতাদের স্ত্রী-কন্যা, ছাত্রদলের নেত্রী, পেশাজীবী এবং সামাজিক প্রতিনিধিরা।

সাবেক ১০ সংসদ সদস্য এবারও

ছবিতে বাঁ থেকে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার
ছবিতে বাঁ থেকে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার
 

তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার।

সেলিমা রহমানসহ প্রত্যেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে আছেন।

বিএনপির নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারা

ছবিতে বাঁ থেকে শিরীন সুলতানা, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানসিলা জেবরিন ও জহরত আদিব চৌধুরী
ছবিতে বাঁ থেকে শিরীন সুলতানা, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানসিলা জেবরিন ও জহরত আদিব চৌধুরী
 

দলীয় নেতাদের স্ত্রী-কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী।

এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী (সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে), আইনজীবী শাকিলা ফারজানা (সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে), ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)। তিনি প্রয়াত বিএনপির নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর বোন। বীথিকা বিনতে হোসাইন (শফিউল বারীর স্ত্রী), সানসিলা জেবরিন (তরুণ চিকিৎসক ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে)। আরও রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সাবেক ডেপুটি সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)। তাঁর বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে।

সংখ্যালঘু ও আদিবাসি প্রতিনিধি

বাঁ থেকে আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, নিপুণ রায় চৌধুরী ও মাধবী মারমা
বাঁ থেকে আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, নিপুণ রায় চৌধুরী ও মাধবী মারমা

তালিকায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বও গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আন্না মিনজ উল্লেখযোগ্য। তিনি উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক।

সংরক্ষিত আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমাও মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জ ও মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে। সুবর্ণা সিকদার মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি একজন শিক্ষক। সুবর্ণা সিকদার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নানা রকম তথ্য আসছে। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। তবে সুবর্ণা সিকদার বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো কমিটিতে নেই।’ তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

এ ছাড়া মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা

সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও সাবিরা সুলতানা (মুন্নী)
সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও সাবিরা সুলতানা (মুন্নী)
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন, এমন তিনজনকে বিএনপি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁরা হলেন সানজিদা ইসলাম (তুলি), সাবিরা সুলতানা (মুন্নী) ও সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা)।

বাংলাদেশের গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সাবিরা সুলতানা (যশোর–২) নির্বাচন করেন, আর সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১) আসনে।

ছাত্রদলের নেত্রীরা

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা কয়েকজন নেত্রীও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও আইনজীবী আরিফা সুলতানা (রুমা), ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মানসুরা আক্তার, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমীন (তুলি), মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন), ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আরা আক্তার (উর্মি), ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা (নিশিতা) উল্লেখযোগ্য।

বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই তরুণ নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাম

এ ছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী শামীম আরা বেগম (স্বপ্না), বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহসভাপতি জীবা আমিনা খান, আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন, মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ আলো, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি রেজেকা সুলতানা, জনপ্রিয় টক শো 'তৃতীয় মাত্রা'র উপস্থাপক ও পরিচালক জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ফাহমিদা হক রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীতদের তালিকায়।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর দলের ভেতরে–বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংগীতশিল্পী কনক চাঁপা, বেবী নাজনীন, আসমা আজিজসহ আলোচিতদের অনেকে মনোনয়ন পাননি। আবার অনেকের মতে, সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা, পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা/পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি, তরুণ নেতৃত্ব এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব