সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ নতুন সরকারকে পর্যালোচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে স্কেলের দাবি আছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এটি করে গেছে। যেটি নিজে করতে পারেনি, সেটি অন্যের জন্য রেখে গেছে। বিগত সরকার অনেক কিছু এই সরকারের ওপর প্রলম্বিত দায় দিয়ে গেছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত, নিজের মতো করে নতুন করে কমিশন করে এটি পুনর্বিবেচনা করা। এ ক্ষেত্রে আগের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রশ্নহীনভাবে প্রস্তাবিত বেতন বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এরপরও বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক জায়গায় আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মেলন কেন্দ্রে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মিডিয়া ব্রিফিংটি আয়োজন করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়ল, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। বেতন বাড়লে পেনশনও বাড়ে। তবে পেনশনে খরচ কতটা বাড়ল, তা নিয়ে আলোচনা হয় না। প্রকৃতপক্ষে বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সরকারের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি লুকানো থাকে।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের জন্য সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন। তবে গ্রেড (ধাপ) আগের মতোই ২০টি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১: ৮, যা এত দিন ছিল ১: ৯ দশমিক ৪। সর্বনিম্ন ধাপে বেতনকাঠামো ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ ধাপে বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’ বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
সেদিন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।