জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে ঢাকার মিরপুরে দেলোয়ার হোসেনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৪০) বেলা ৩টা ২০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করেন। এ সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ সন্ত্রাসী আফজাল নাছেরের নির্দেশে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর শ্যামলীতে সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার হোসেন মারা যান। ওই ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার মামলাটি করে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইতে দায়িত্ব পালন করেন।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব