জনগণ নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও দখলদারদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছি—আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। মজলুমের কষ্ট তো বোঝার কথা। কিন্তু দেখা গেল, বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হয়ে গেছে।’

আজ রোববার রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল, অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তরুণেরা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল—আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে আমাদের ন্যায্য কাজ তুলে দাও।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে।

জনগণ আধিপত্যবাদের দাসত্বকেও প্রত্যাখ্যান করবে—বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে যে অপকর্মের মাধ্যমে জনগণকে কষ্ট দিয়েছে, একই ধরনের কর্মকাণ্ড ৬ আগস্টের পর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে।

জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 

বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, যারা গত দেড় দশক দেশের মাটিতে ছিলেন না, পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, ফিরে এসে তারাই এখন মামলা বাণিজ্য করছেন। ৬ আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এমনকি ফুটপাতে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কি সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাই মাসে এ জন্য লড়াই করেছিলাম? পুরোনো চাঁদাবাজের বদলে নতুন চাঁদাবাজ তৈরি হবে—এ জন্য তো আন্দোলন হয়নি।” আন্দোলনের মূল দাবি ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই ছিল তরুণদের আকাঙ্ক্ষা।

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য’ উল্লেখ করে জনসভায় জামায়াতের আমির আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে বিচার একেক জনের জন্য একেক রকম হবে না। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে, তাঁকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন? এদের এমপি বানিয়ে দুর্নীতি দমন হবে—এটা শুনলে হাসি পায়।’ তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। সেই টুঁটি চেপে ধরা নিজেদের ঘর থেকে শুরু করা প্রয়োজন।

ক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের অর্থ ফেরত আনার জন্য সর্বাত্মক লড়াই চালানো হবে বলেও জনসভায় প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব