মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন কিয়ারা আদভানি। শিগগিরই মুক্তি পাবে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ, ‘কেজিএফ ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন যশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারাকে একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ঘোষণার পর থেকেই।

অ্যাকশন, আবেগ আর গাঢ় নাটকীয়তার মিশেলে নির্মিত এই ছবির পরিচালক জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এর আগে তাঁর নির্মাণশৈলী ও চরিত্রনির্ভর গল্প বলার ধরন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফলে যশের মতো বড় তারকা ও গীতুর মতো নির্মাতার সমন্বয় শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’–এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অন্য রকম ছিল। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ‘গীতু আমাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তুমি যখন সেটে আসবে, আমি চাই তুমি পুরোপুরি তোমার চরিত্রের মধ্যে থাকো।’ বললেন কিয়ারা। এ তারকা জানালেন, তিনি সাধারণত সেটে গিয়ে সবার সঙ্গে ‘হাই’, ‘হ্যালো, ‘গুড মর্নিং’ বলেন। কিন্তু পরিচালক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাই না। সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে। কারও সঙ্গে হাই-হ্যালো নয়, এমনকি নিজের টিমের সঙ্গেও নয়। শুরুতে বিষয়টি কিয়ারার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তিনি বরাবরই প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচালক আসলে চরিত্রের আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে বাস্তবভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধীরে ধীরে আমি বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করি। এতে চরিত্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সহজ হয়েছে।’

‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে
‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে

শুধু মানসিক প্রস্তুতিই নয়, ভাষাগত দিক থেকেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ছবির অনেক দৃশ্য তাঁকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। কিয়ারা বলেন, ‘এটাই প্রথমবার, যখন আমরা একই দৃশ্য ইংরেজি ও কন্নড়—দুই ভাষায় শুট করেছি। প্রথমে ইংরেজিতে দৃশ্যটি করা হতো। নিখুঁত টেক পাওয়ার পর আবার কন্নড়ে একই দৃশ্য ধারণ করা হতো। কন্নড় তো আমার ভাষা নয়। ফলে প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে আমাকে আগের রাতেই সংলাপ মুখস্থ করতে হতো। শুধু উচ্চারণ ঠিক করাই নয়, আবেগটাও একইভাবে ধরে রাখতে হতো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
বলিউডে বহু অভিনেতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করলেও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব কম তারকাই এত খোলামেলা কথা বলেন। কিয়ারার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি ছবিটির প্রতি তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ।

টক্সিক ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ যশ। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’ বিশ্বজুড়ে বিপুল ব্যবসা করার পর দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর নতুন ছবির ঘোষণার জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে টক্সিক। শুরু থেকেই ছবিটিকে প্যান ইন্ডিয়া পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে ছবিটির বাজার ও প্রত্যাশা দুটোই বড়।

ছবিটিতে যশ ও কিয়ারা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বড় তারকাবহুল এই কাস্ট ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নয়নতারার যুক্ত হওয়াকে অনেকেই ছবির বড় চমক হিসেবে দেখছেন।

কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘টক্সিক’ প্রথমে ৪ জুন মুক্তির কথা ছিল। তবে পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। এখনো নতুন মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির আপডেট, পোস্টার ও তারকাদের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ছে।

মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন কিয়ারা আদভানি। শিগগিরই মুক্তি পাবে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ, ‘কেজিএফ ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন যশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারাকে একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ঘোষণার পর থেকেই।

অ্যাকশন, আবেগ আর গাঢ় নাটকীয়তার মিশেলে নির্মিত এই ছবির পরিচালক জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এর আগে তাঁর নির্মাণশৈলী ও চরিত্রনির্ভর গল্প বলার ধরন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফলে যশের মতো বড় তারকা ও গীতুর মতো নির্মাতার সমন্বয় শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’–এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অন্য রকম ছিল। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ‘গীতু আমাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তুমি যখন সেটে আসবে, আমি চাই তুমি পুরোপুরি তোমার চরিত্রের মধ্যে থাকো।’ বললেন কিয়ারা। এ তারকা জানালেন, তিনি সাধারণত সেটে গিয়ে সবার সঙ্গে ‘হাই’, ‘হ্যালো, ‘গুড মর্নিং’ বলেন। কিন্তু পরিচালক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাই না। সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে। কারও সঙ্গে হাই-হ্যালো নয়, এমনকি নিজের টিমের সঙ্গেও নয়। শুরুতে বিষয়টি কিয়ারার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তিনি বরাবরই প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচালক আসলে চরিত্রের আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে বাস্তবভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধীরে ধীরে আমি বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করি। এতে চরিত্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সহজ হয়েছে।’

‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে
‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে

শুধু মানসিক প্রস্তুতিই নয়, ভাষাগত দিক থেকেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ছবির অনেক দৃশ্য তাঁকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। কিয়ারা বলেন, ‘এটাই প্রথমবার, যখন আমরা একই দৃশ্য ইংরেজি ও কন্নড়—দুই ভাষায় শুট করেছি। প্রথমে ইংরেজিতে দৃশ্যটি করা হতো। নিখুঁত টেক পাওয়ার পর আবার কন্নড়ে একই দৃশ্য ধারণ করা হতো। কন্নড় তো আমার ভাষা নয়। ফলে প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে আমাকে আগের রাতেই সংলাপ মুখস্থ করতে হতো। শুধু উচ্চারণ ঠিক করাই নয়, আবেগটাও একইভাবে ধরে রাখতে হতো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
বলিউডে বহু অভিনেতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করলেও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব কম তারকাই এত খোলামেলা কথা বলেন। কিয়ারার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি ছবিটির প্রতি তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ।

টক্সিক ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ যশ। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’ বিশ্বজুড়ে বিপুল ব্যবসা করার পর দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর নতুন ছবির ঘোষণার জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে টক্সিক। শুরু থেকেই ছবিটিকে প্যান ইন্ডিয়া পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে ছবিটির বাজার ও প্রত্যাশা দুটোই বড়।

ছবিটিতে যশ ও কিয়ারা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বড় তারকাবহুল এই কাস্ট ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নয়নতারার যুক্ত হওয়াকে অনেকেই ছবির বড় চমক হিসেবে দেখছেন।

কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘টক্সিক’ প্রথমে ৪ জুন মুক্তির কথা ছিল। তবে পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। এখনো নতুন মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির আপডেট, পোস্টার ও তারকাদের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ছে।

প্রতিবারের মতো এবারও কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হেঁটে আলোচনায় আছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়ার রাই বচ্চন। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও বডি-শেমিংয়ের স্বীকার হতে হয়েছে তাঁকে। এ ইস্যুতে এবার কথা বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। বলেছেন, একজন মানুষের অর্জনকে তার ওজন, পোশাকের মাপ বা বয়স দিয়ে বিচার করা যায় না।

কানের লালগালিচায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন
কানের লালগালিচায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন
 

পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাধুরী বলেন, ‘ঐশ্বরিয়া গত ২০ বছর ধরে কানে যাচ্ছেন। তিনি পুরো দেশকে গর্বিত করেছেন। তিনি একজন বিশ্বতারকা। মিস ওয়ার্ল্ড হিসেবে এবং একজন শিল্পী হিসেবে দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাঁকে কোনো ওজনের সংখ্যা, পোশাকের সাইজ বা বয়স দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তিনি শুধু বাহ্যিকভাবে নন, ভেতর থেকেও সুন্দর একজন মানুষ।’

২০০২ সাল থেকে নিয়মিত কান উৎসবে অংশ নেওয়া ঐশ্বরিয়া সম্প্রতি ২০২৬ সালের আসরে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়ে নানা কটূক্তির শিকার হন।

দেবদাস ছবির ‘ডোলা রে’ গানের দৃশ্যে মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাই
দেবদাস ছবির ‘ডোলা রে’ গানের দৃশ্যে মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাই
 

মাধুরী মনে করেন, এ ধরনের মন্তব্য তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। তাঁর কথায়, ‘এতে মনে হয় মানুষের মূল্য তার চেহারার ওপর নির্ভর করে, অর্জনের ওপর নয়। এটা খুবই ভুল বার্তা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আগেও এমন মানুষ ছিল যারা এসব নিয়ে সমালোচনা করত, কিন্তু তাদের মন্তব্য সবাইকে জানানোর সুযোগ ছিল না। এখন সেই সুযোগ হাতের মুঠোয়।’

একই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরিও। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে আরাম করে অন্যকে নিয়ে মন্তব্য করা খুব সহজ। কিন্তু ঐশ্বরিয়া ম্যাম বা অনন্যা—তাঁরা দুজনই কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁরা অর্জনকারী মানুষ।’

তৃপ্তি আরও বলেন, শিল্পীর কাজ নিয়ে দর্শক সমালোচনা করতেই পারেন। তবে ব্যক্তিগত চেহারা বা অন্য বিষয় টেনে আনা বিরক্তিকর। তৃপ্তির কথায়, ‘দর্শক টিকিট কেটে বা সময় দিয়ে আমাদের কাজ দেখেন, তাই কাজের সমালোচনা তাঁদের অধিকার। কিন্তু যখন সেটাকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, তখন সেটা খারাপ লাগে।’

মাধুরী আরও বলেন, চলচ্চিত্রজগতে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তবে ডিজিটাল যুগে তা অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন সিনেমা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে প্রতিটি বিষয়ই মুহূর্তে আলোচনায় চলে আসে।’

মাধুরী ও তৃপ্তি দিমরি অভিনীত ডার্ক কমেডি চলচ্চিত্র ‘মা বেহেন’ আগামী ৪ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে।


এনডিটিভি অবলম্বনে

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য এবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। সাবেক স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় পাঁচ বছর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা–কল্পনা চলছে। এসবের মধ্যে কিছু কনটেন্টে নাগা চৈতন্যকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, তিনি সামান্থার ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন। এমন অভিযোগকে ‘অন্যায্য ট্রলিং’ আখ্যা দিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন।

কী অভিযোগ নাগা চৈতন্যের?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নাগা চৈতন্য দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর নাম, ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। শুধু বিচ্ছেদ–সংক্রান্ত গুজবই নয়, তাঁর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্টে তাঁর নাম বা চেহারার ব্যবহার, অনুমোদনহীন পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা গল্প ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো।
বিশেষ করে সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ‘তিনি প্রতারণা করেছেন’ কিংবা ‘সামান্থার ক্যারিয়ার নষ্ট করেছেন’—এ ধরনের বক্তব্যকে তাঁর আইনজীবীরা ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন।

 ২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

আদালতে কী বলা হয়েছে
মামলার শুনানিতে নাগা চৈতন্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই ‘ন্যায্য সমালোচনা’ নয়।

তাঁর ভাষায়, ‘এটি সমালোচনা নয়, এটি ট্রলিং। একজন ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা।’
আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, নাগা চৈতন্য এক দশকের বেশি সময় ধরে তেলেগু চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তেলেগুভাষী দর্শকদের মধ্যেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলাটি শুনেছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিং। শুনানিতে বিচারপতি বলেন, পরিচিত ব্যক্তিদের সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি সমালোচনা ও জন–আলোচনার মুখোমুখি হতে হয়। তবে সেই স্বাধীনতারও সীমা আছে।
এই পর্যবেক্ষণের পর আদালত–সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন জারি করেন এবং নাগা চৈতন্যের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বগত অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।

সামান্থা–নাগা বিচ্ছেদ: কেন এখনো আলোচনায়
ভারতীয় তারকাজগতের অন্যতম আলোচিত সম্পর্ক ছিল নাগা চৈতন্য ও সামান্থার প্রেম ও বিয়ে।
২০১০ সালে ‘ইয়ে মায়া চেসেভ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছরের প্রেমের পর ২০১৭ সালে ধুমধাম করে বিয়ে করেন তাঁরা। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দুজন।
কিন্তু ২০২১ সালে হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। যৌথ বিবৃতিতে দুজনই জানিয়েছিলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। কখনো সামান্থাকে দায়ী করা হয়েছে, কখনো নাগা চৈতন্যকে। আবার কিছু ইউটিউব চ্যানেল ও গসিপ পোর্টাল সম্পর্ক ভাঙার কারণ হিসেবে পরকীয়ার অভিযোগও তুলেছে।
কিন্তু এসব অভিযোগের কোনোটি কখনোই প্রমাণিত হয়নি।

সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

‘আমাদের সিদ্ধান্ত, অন্য কারও ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই’
বিচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও মুখ খুলেছিলেন নাগা চৈতন্য। এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও সামান্থা দুজনেই জীবনে ভিন্নপথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা দুজনই আমাদের নিজস্ব কারণে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনো আমরা একে অপরকে সম্মান করি। এর বাইরে আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন আমি দেখি না।’
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা–কল্পনায় নাগা বিরক্ত ছিলেন।

নতুন জীবনে নাগা ও সামান্থা
বিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন জীবন শুরু করেছেন। নাগা চৈতন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে সামান্থাও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালক রাজ নিধিমুরুকে বিয়ে করেন।
তবে নতুন সম্পর্কে জড়ালেও পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ কমেনি। আর সেই আগ্রহই বহু সময় গুজব, ট্রলিং ও ভুয়া তথ্যের জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভি অবলম্বনে

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আজমান রুশোর ‘রকস্টার’। দর্শক চাহিদায় দ্বিতীয় দিনেই ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির শোর সংখ্যা ১৮ থেকে বেড়ে ৩৬ হয়েছে। এদিকে মুক্তির পর থেকেই প্রচারে হলে হলে যাচ্ছেন সিনেমাটির পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা। প্রথম দিন ছিলেন আজমান রুশো ও সাবিলা নূর। গতকাল শুক্রবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রেক্ষাগৃহে আসেন রুশো ও ছবির আরেক অভিনেত্রী তানজিয়া মিথিলা। এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এই মডেল ও অভিনেত্রী।

‘রকস্টার’ সিনেমায় এলিনা গোমজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শাকিব খানের সঙ্গে এমন বড় সিনেমায় অভিনয় করে দায়িত্ব বেড়ে গেল কি না এ প্রসঙ্গে তানজিয়া মিথিলা বলেন, ‘দায়িত্বের চেয়ে আরও যেটা বেশি সেটা হলো, আমি গ্রেট অভিনেত্রী হতে চাই। সে জায়গা থেকে চাপটা অনেক বেড়ে গেল, ভালো অভিনয়ের জন্য, ভালো ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমার আরও অনেক কাজ করতে হবে।’

‘রকস্টার’-এর মতো সিনেমা বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য দরকার উল্লেখ করে তানজিয়া মিথিলা আরও বলেন, ‘যারা বাংলা সিনেমাকে ভালোবাসে তাদের উদ্দেশ্য বলব “রকস্টার” ভিন্নধর্মী একটা সিনেমা; বাংলাদেশের মিউজিক্যাল সিনেমা। একেবারেই একটা নতুন ঘরানা, যা আগে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে হয়নি। সে জায়গা থেকে বলব, দর্শকেরা আসবেন, নতুন সিনেমা দেখবেন। যখন নতুন ধরনের ছবি আসে, বিভিন্ন ধরনের সিনেমা আসে; তখন একটা ইন্ডাস্ট্রি বড় হয়। ইন্ডাস্ট্রি বড় হতে গেলে এ ধরনের ছবি বেশি বেশি আসা উচিত।’

‘রকস্টার’–এ মিথিলা ও শাকিব খান। ছবি: ভিডিও থেকে
‘রকস্টার’–এ মিথিলা ও শাকিব খান। ছবি: ভিডিও থেকে

এদিকে সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে একটি পোস্টার গতকাল নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন মিথিলা। তিনি লিখেছেন, ‘এলিনার রকস্টার, আমাদের রকস্টার। আগুন আর এলিনা বড় পর্দায় আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
সিনেমায় শাকিব খানকে দেখা গেছে এক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে। আজমান রুশোর গল্পে নির্মিত ছবিতে একজন সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রাম, উত্থান-পতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। আজমান রুশো জানান, নির্মাণে আসার আগে তিনি নিজেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের নানা অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি এই গল্প তৈরি করেছেন। সিনেমাটিতে শাকিবের সঙ্গে আরও আছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।

সিনেমাটির বেশির ভাগ গানের কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। গানগুলোয় কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব। অঞ্জন চৌধুরী নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি। সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়া। সিনেমাটির এক্সক্লুসিভ স্ট্রিমিং পার্টনার চরকি। সিনেমাটির সব গান মুক্তি পাচ্ছে এসভিএফ মিউজিক, চরকি, বিলিং মিউজিকের অফিশিয়াল চ্যানেলে।

মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় হরর সিনেমা ‘অবসেশন’। ২৯ মে ভারতেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তবে কিছু দৃশ্যে কাটছাঁটের পর সিনেমাটি পেয়েছেন ‘এ’ বা অ্যাডাল্ট সনদ, যা নিয়ে অন্তর্জালে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি সিনেমা যদি শেষ পর্যন্ত কাটছাঁট করেই মুক্তি দিতে হয়, তাহলে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার অর্থ কী?

কী কী বাদ দেওয়া হয়েছে?
ভারতের সেন্টাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির চূড়ান্ত অনুমোদিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। বোর্ড ছবিটি থেকে মোট ৩৮ সেকেন্ডের ফুটেজ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ সেকেন্ডের ‘চরম সহিংসতা’র দৃশ্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৪ সেকেন্ডের যৌনদৃশ্য পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। একটি নগ্নতার দৃশ্যও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপানের দৃশ্যে বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা যুক্ত করা হয়েছে।

‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

ক্ষুব্ধ হররপ্রেমীরা
সিনেমাটি মুক্তির পরপরই এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একজন দর্শক লিখেছেন, ‘এ সার্টিফিকেট দিয়ে আবার দৃশ্য কেটে দেওয়ার মানে কী? প্রথমে “সুপারম্যান”, এরপর “ধুরন্ধর”, আর এখন “অবসেশন”। সিবিএফসি কি মনে করে প্রাপ্তবয়স্করাও এসব দৃশ্য দেখার মতো পরিপক্ব নয়?’

আরেকজনের মন্তব্য, ‘ছবির ক্লাইম্যাক্সে এমন একটি কাট দেওয়া হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলোর অবস্থাই বদলে যায়। দর্শক বুঝতেই পারে না, আসলে কী ঘটল।’
কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যদি প্রাপ্তবয়স্করাও এসব দৃশ্য দেখতে না পারেন, তাহলে কারা দেখতে পারবেন, ভিনগ্রহবাসী?’

‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

অনেক দর্শকের দাবি, বাদ দেওয়া অংশগুলো শুধু সহিংস বা যৌনদৃশ্যই ছিল না; বরং সেগুলো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় বোঝার জন্যও প্রয়োজনীয় ছিল।

‘অবসেশন’ আসলে কী নিয়ে?
পরিচালক কারি বারকারের এই অতিপ্রাকৃত মনস্তাত্ত্বিক হরর ছবিতে অভিনয় করেছেন ইন্ডে নাভারেতে, কুপার টমলিনসন ও মাইকেল জন্সটন।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর স্বভাবের মিউজিক স্টোরের কর্মী। বহুদিনের ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় তিনি এমন এক অন্ধকার পথে হাঁটেন, যা ধীরে ধীরে ভয়ংকর ও অতিপ্রাকৃত রূপ নিতে শুরু করে।

সমালোচকদের প্রশংসা
সেন্সর বিতর্কের মধ্যেও ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি ভূতের গল্প নয়; বরং ভালোবাসা, আসক্তি ও অধিকারবোধের সীমারেখা নিয়ে নির্মিত এক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।

সমালোচকদের ভাষায়, ছবিটির মূল প্রশ্ন হলো—ভালোবাসা আর আসক্তির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? যখন কাউকে নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সেই অনুভূতি কি আর ভালোবাসা থাকে, নাকি তা ভয়ংকর এক আবেশে পরিণত হয়?

সেই কারণেই মুক্তির পর সিনেমার গল্পের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। দর্শকদের একাংশের মতে, যেসব দৃশ্য কাটা হয়েছে, সেগুলোই হয়তো ছবির মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারত।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ১২ মে তিশা শর্মা নামের এক তরুণীর মৃত্যু নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে। যৌতুকের দাবিতে তিশাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

৩৩ বছর বয়সী মডেল ও অভিনেত্রী তিশা শর্মার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের। এর মাত্র পাঁচ মাস পরই শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই সময় অনলাইনের খবরে জানা যায়, তিশার হত্যার ঘটনা তদন্তে সিবিআই-'টানেল ভিউ টেকনিক' ব্যবহার করছে । মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে ঠিক কী কী ঘটেছিল তা জানতে সিসিটিভি, মোবাইল ফোন কলের রেকর্ড, ওয়াই-ফাই লগ ইন, ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্ট ডিভাইস ডেটা, ফরেনসিক ম্যাপিং-সহ আরও নানা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তদন্ত চলছে।

গত বৃহস্পতিবার তিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিল সিবিআই। বাড়ির ডিজিটাল ম্যাপিং করা হয় সেখানে। তিশার স্বামী সমর্থ সিংকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোপালের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিশার শাশুড়ি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংকে।

আপনাদের মনে রাখা উচিত যে আমার ছেলে তার ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছে, সে তার জীবনসঙ্গী হারিয়েছে। আর আমরা এখন শোক পর্যন্ত পালন করতে পারছি না...সবাই আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে।গিরিবালা সিং

তিশার মা–বাবা ও ভাইবোনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে সমর্থ ও তাঁর মা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং তিশার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। তাঁরা তিশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গিরিবালা সিং। তাঁর দাবি, তিশা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা রজনীশ কাশ্যপ কৌল বিবিসিকে বলেন, সিং পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুকের কারণে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তিশার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সমর্থ সিং পলাতক ছিলেন। অবশেষে গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এর আগে ভোপালের একটি আদালত গিরিবালা সিংকে আগাম জামিন দিলেও সমর্থের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন এবং তাঁকে ২৩ মের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

গিরিবালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা উচিত যে আমার ছেলে তার ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছে, সে তার জীবনসঙ্গী হারিয়েছে। আর আমরা এখন শোক পর্যন্ত পালন করতে পারছি না...সবাই আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে।’

বিয়ের সাজে তিশা শর্মা ও তাঁর স্বামী সমর্থ সিং
বিয়ের সাজে তিশা শর্মা ও তাঁর স্বামী সমর্থ সিং, ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

এদিকে তিশার পরিবার তাঁর মরদেহ দাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছে। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গলায় ফাঁস দেওয়ার কারণে তিশার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় শুক্রবার হাইকোর্ট পরিবারের আবেদন মঞ্জুর করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত বেশি আগ্রহের মূল কারণ, তিশার নিজের পরিচিতি এবং তাঁর শ্বশুরের বাড়ির সামাজিক মর্যাদা।

মডেল ও অভিনেত্রী তিশা ২০১২ সালে ‘মিস পুনে’ খেতাব জেতেন। তিনি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন এবং একটি তেলেগু ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন (মার্কেটিং) কর্মকর্তা হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একজন সুখী, উদার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত যৌতুক দেওয়ার পরও সিং পরিবার প্রতিনিয়ত তিশাকে খোটা দিত যে এ বিয়ে তাঁদের মর্যাদা অনুযায়ী হয়নি। অবশ্য গিরিবালা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ভোপালের আইনজীবী সমর্থের সঙ্গে তিশার পরিচয়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে। বিয়ের দিনের ছবিগুলোতে এ দম্পতিকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছিল।

তবে তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত যৌতুক দেওয়ার পরও সিং পরিবার প্রতিনিয়ত তিশাকে খোটা দিত যে এ বিয়ে তাঁদের মর্যাদা অনুযায়ী হয়নি। অবশ্য গিরিবালা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভারতে যৌতুক দেওয়া–নেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে এর ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

তিশার পরিবার সম্প্রতি তাঁর কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ছবি প্রকাশ করে। পরিবারের কাছে পাঠানো সেসব বার্তায় তিশা অভিযোগ করেছিলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নির্যাতন করেন। একটি বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনটা জীবন্ত নরক হয়ে গেছে।’

এসব বার্তা প্রকাশের পর এ দম্পতির দাম্পত্য জীবন নিয়েও ব্যাপক তদন্ত চলছে।

তিশার পরিবারের দাবি, গত এপ্রিলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে ওঠে। স্বামী ও শাশুড়ি তাঁর ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অন্য কারও সন্তান গর্ভে ধারণ করার অপবাদ দেন। এরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়।

তবে গিরিবালা সিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিশা নিজেই সন্তান চাননি, নিজেই গর্ভপাতের জন্য জোর করেছিলেন।

তিশার বাবা নবনিধি শর্মা বিবিসিকে বলেন, ১২ মে রাতে মৃত্যুর ঠিক কিছু আগে রাত ৯টা ৪১ মিনিটে তিশা শেষবার তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিশা তার মায়ের সঙ্গে কথা বলছিল, হঠাৎ লাইনটি কেটে যায়।’ এরপর ২০ মিনিট ধরে চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেননি। পরে গিরিবালা ফোন ধরে বলেন, ‘তিশা আর বেঁচে নেই।’

তিশার পরিবারই প্রথম পুলিশকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানায়। পরিবারটির অভিযোগ, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেন পুলিশকে খবর দেননি? নবনিধি শর্মা বলেন, ‘একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিশ্চয়ই ভালো করে জানেন যে এমন পরিস্থিতিতে কী আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়।’

অবশ্য গিরিবালা সিংয়ের দাবি, তিশাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই পুলিশকে জানাতে দেরি হয়েছিল।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক বিচারক গিরিবালা ইদানীং সংবাদ সম্মেলন করা এবং সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি তিশার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁকে ‘উদার’ বলে আখ্যা দেন। পরে এক সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এ শব্দের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, তিশা উচ্ছৃঙ্খল ও অশ্লীল জীবন যাপন করতেন। গিরিবালার এমন মন্তব্য ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারের দাবি তুলছেন।

তিশার বাবার অভিযোগ, সাবেক এই বিচারক পরিকল্পিতভাবে তাঁর মৃত মেয়ের নাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তিশার পরিবার। তাদের অভিযোগ, তদন্তে শুরু থেকেই অবহেলা করা হয়েছে।

তিশার বাবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত—উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহল এ তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
 

অবশ্য বিবিসির কাছে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার। শুরুতেই হত্যাকাণ্ড বা খুনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং এখন পর্যন্ত আমাদের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।’

তিশার বাবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত—উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহল এ তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

পুলিশ কমিশনারের এ মন্তব্যই মামলার শেষ কথা নয়। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ঘোষণা করেছেন, এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত এখন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি তিশার পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার তাদের ‘পূর্ণ সহযোগিতা’ করবে।

মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘আমার মেয়ে বেঁচে থাকতে অন্যায়ের শিকার হয়েছে। এখন মৃত্যুর পরও যাতে সে বিচার না পায়, সে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হব না।’

বিবিসি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস, নতুন সকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে হারার পর অনেকেই তৃণমূল ছাড়ছেন। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে শত্রুঘ্নও কি দল ছাড়বেন। তিনি এখনো কথা বলেননি, তবে বাবার হয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা।

সোনাক্ষী তাঁর বাবার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখন তিনি রাজনীতি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে খুব সুন্দরভাবেই সেই জগতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তিনি যেখানে আছেন এবং যা করছেন, তাতেই খুশি।’ বাবা-মেয়ের সম্পর্কের সমীকরণ কেমন, তা নিয়েও অকপট অভিনেত্রী। তিনি জানান, ‘বাবারা সাধারণত সন্তানদের প্রতি একটু কঠোর হন। কিন্তু আমার বাবা সব সময়ই আমার প্রতি খুব নরম ছিলেন। আমাকে সব সময় বলতেন, নিজের যোগ্যতায় নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। বাবা স্রোতের বিপরীতে হাঁটলেও আমার মতে, এ রকম মানসিকতাই একটি মেয়েকে মনের দিক থেকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে।’

সোনাক্ষী সিনহা। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সোনাক্ষী সিনহা। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মধ্যে গুঞ্জন রটেছিল, শত্রুঘ্ন মেয়ে সোনাক্ষীকে নিয়ে সিনেমা প্রযোজনা করবেন। তবে সে গুঞ্জনও উড়িয়ে দেন সোনাক্ষী। তিনি বলেন, ‘বাবা দু-একটি ছবির প্রযোজনা করেছেন। কিন্তু আমাকে কখনো বলেননি যে তিনি আমার জন্য কোনো ছবি প্রযোজনা করতে চান; বরং এই মুহূর্তে সিনেমায় ফেরার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’

২০১০ সালে ‘দাবাং’-এ অভিনয়ের পর আলোচনায় আসেন সোনাক্ষী। তবু বলিউডের একজন সফল অভিনেত্রীর চেয়ে বেশি ‘শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে’ বলেই পরিচয় করানো হতো। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন শত্রুঘ্ন সিনহাকে ‘সোনাক্ষী সিনহার বাবা’ বলেও সম্বোধন করা হয়। এই মর্মে সোনাক্ষীর সংযোজন, ‘বাবা যখন বিমানে ভ্রমণ করেন, তখন বিমানবালারা এসে বলেন, “আপনি কি সোনাক্ষী সিনহার বাবা?” এতে বাবা খুব গর্ববোধ করেন।’

নিউজ ১৮ অবলম্বনে

সোনাক্ষী ও শত্রুঘ্ন। ইনস্টাগ্রাম থেকে
সোনাক্ষী ও শত্রুঘ্ন। ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডেকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সবাই এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। কী নিয়ে এত বিতর্ক? হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে—

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনন্যা পান্ডে ও লক্ষ্যের ছবি ‘চাঁদ মেরা দিল’। ছবিতে রয়েছে অনন্যার একটি নাচের দৃশ্য। মঞ্চে ভরতনাট্যম নেচেছেন তিনি। সেই নাচের দৃশ্য নিয়েই এত বিতর্ক। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনন্যা পান্ডে ও লক্ষ্যের ছবি ‘চাঁদ মেরা দিল’। ছবিতে রয়েছে অনন্যার একটি নাচের দৃশ্য। মঞ্চে ভরতনাট্যম নেচেছেন তিনি। সেই নাচের দৃশ্য নিয়েই এত বিতর্ক। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 ভরতনাট্যম নাচের পোশাক অনন্যার পরনে। সাজও তেমনই। মঞ্চে নাচছেন তিনি। ভরতনাট্যমের সঙ্গে এ যুগের নাচের মেলবন্ধন করেছেন কোরিয়োগ্রাফার, যাকে বলে ‘ফিউশন’। এই নাচ নিয়ে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন অনন্যা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভরতনাট্যম নাচের পোশাক অনন্যার পরনে। সাজও তেমনই। মঞ্চে নাচছেন তিনি। ভরতনাট্যমের সঙ্গে এ যুগের নাচের মেলবন্ধন করেছেন কোরিয়োগ্রাফার, যাকে বলে ‘ফিউশন’। এই নাচ নিয়ে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন অনন্যা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কেউ কেউ বলছেন, ‘ভরতনাট্যম নাচকে অসম্মান করেছেন অনন্যা।’ আরেকজন আবার লিখেছেন, ‘এসব কী হচ্ছে! এ কেমন নৃত্য পরিচালনা! অনন্যা পান্ডে এত প্রাচীন এক নৃত্যশৈলীর এ কী অবস্থা করেছেন!’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কেউ কেউ বলছেন, ‘ভরতনাট্যম নাচকে অসম্মান করেছেন অনন্যা।’ আরেকজন আবার লিখেছেন, ‘এসব কী হচ্ছে! এ কেমন নৃত্য পরিচালনা! অনন্যা পান্ডে এত প্রাচীন এক নৃত্যশৈলীর এ কী অবস্থা করেছেন!’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কেউ আবারও আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, অনন্যার স্টেপ ছিল রোবোটের মতো। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কেউ আবারও আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, অনন্যার স্টেপ ছিল রোবোটের মতো। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
তবে এই বিতর্কে এখনো মুখ খোলেননি অনন্যা বা ছবির নির্মাতারা। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২২ মে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
তবে এই বিতর্কে এখনো মুখ খোলেননি অনন্যা বা ছবির নির্মাতারা। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২২ মে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
তবে মুখ খুলেছেন অনন্যার বাবা চাঙ্কি পান্ডে। চাঙ্কি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মানুষ বিষয়টিকে পুরোপুরি ভুল বুঝেছেন। এটা কখনোই খাঁটি ভারতনাট্যম পরিবেশনা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এটা ছিল একটি ফিউশন পারফরম্যান্স, ঠিক সেই ধরনের পরীক্ষামূলক নাচ, যা প্রায়ই কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে দেখা যায়। মানুষ এটাকে প্রথাগত ভারতনাট্যম বলে ধরে নিয়েছিল এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এর বিচার করতে শুরু করেছিল।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
তবে মুখ খুলেছেন অনন্যার বাবা চাঙ্কি পান্ডে। চাঙ্কি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মানুষ বিষয়টিকে পুরোপুরি ভুল বুঝেছেন। এটা কখনোই খাঁটি ভারতনাট্যম পরিবেশনা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এটা ছিল একটি ফিউশন পারফরম্যান্স, ঠিক সেই ধরনের পরীক্ষামূলক নাচ, যা প্রায়ই কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে দেখা যায়। মানুষ এটাকে প্রথাগত ভারতনাট্যম বলে ধরে নিয়েছিল এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এর বিচার করতে শুরু করেছিল।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বিশুদ্ধ ভারতনাট্যমের জন্য বছরের পর বছর কঠোর প্রশিক্ষণ, প্রায় ২০ বছরের শৃঙ্খলার প্রয়োজন। এটা ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের উপাদানের সঙ্গে ভবিষ্যন্মুখী, উন্নত নৃত্যশৈলীর একটি সংমিশ্রণ। এটা একটা সৃজনশীল মিশ্রণ, কোনো শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশনা নয়। আমি দর্শকদের অনুরোধ করব, প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে ছবিটি দেখে এর পরিপ্রেক্ষিতটি বুঝুন।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বিশুদ্ধ ভারতনাট্যমের জন্য বছরের পর বছর কঠোর প্রশিক্ষণ, প্রায় ২০ বছরের শৃঙ্খলার প্রয়োজন। এটা ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের উপাদানের সঙ্গে ভবিষ্যন্মুখী, উন্নত নৃত্যশৈলীর একটি সংমিশ্রণ। এটা একটা সৃজনশীল মিশ্রণ, কোনো শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশনা নয়। আমি দর্শকদের অনুরোধ করব, প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে ছবিটি দেখে এর পরিপ্রেক্ষিতটি বুঝুন।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘চাঁদ মেরা দিল’ ছবিতে অনন্যা, চারু শঙ্কর অভিনীত ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পীর মেয়ে চাঁদনীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘চাঁদ মেরা দিল’ ছবিতে অনন্যা, চারু শঙ্কর অভিনীত ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পীর মেয়ে চাঁদনীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
বিবেক সোনি পরিচালিত এবং ধর্মা প্রোডাকশনস প্রযোজিত ‘চাঁদ মেরা দিল’ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পটভূমিতে নির্মিত ছবি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
বিবেক সোনি পরিচালিত এবং ধর্মা প্রোডাকশনস প্রযোজিত ‘চাঁদ মেরা দিল’ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পটভূমিতে নির্মিত ছবি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিনে সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ২০ কোটি রুপি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিনে সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ২০ কোটি রুপি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

গত ঈদুল ফিতরে শাকিব খান অভিনীত আবু হায়াত মাহমুদের সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আ ইন ঢাকা’ ডিসিপি-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রথম কয়েক দিন মাল্টিপ্লেক্সে চলেনি। এবার সিনেমাপ্রেমীদের মনে তৈরি হয়েছিল তেমন শঙ্কা। গতকাল দুপুরে ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের ফেসবুক পেজে এক বার্তার পর ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘রকস্টার’ ও ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

স্টার সিনেপ্লেক্সের ফেসবুক পেজে লেখা হয়, ‘রকস্টার’ ও ‘মাসুদ রানা’-এর কনটেন্ট ফাইল এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে আপাতত সিনেমা দুটির শো-সূচি প্রকাশ কিংবা টিকিট বিক্রি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিকেলেই ‘রকস্টার’ নির্মাতা আজমান রুশো প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, শঙ্কার কারণ নেই; ঈদের দিন থেকেই চলবে ‘রকস্টার’। সেটাই হয়েছে, গতকাল রাত ১২টার দিক থেকেই আজকের প্রদর্শনীটির টিকিট বিক্রি শুরু করে স্টার সিনেপ্লেক্স। আজ সকালে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রদর্শনীর টিকিটই শেষের দিকে।

এদিকে এবারের ঈদের সর্বোচ্চসংখ্যাক হলো পেয়েছে ‘রকস্টার’ সিনেমাটি। গতকাল রাতে সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুন্ডু ‘রকস্টার’ সিনেমাটির প্রেক্ষাগৃহের তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায় মাল্টিপ্লেক্স চেইন, একক হলসহ মোট ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে চলবে ‘রকস্টার’।

‘রকস্টার’–এ সাবিলা ও শাকিব। ভিডিও থেকে
‘রকস্টার’–এ সাবিলা ও শাকিব। ভিডিও থেকে

আজমান রুশোর গল্পে নির্মিত ছবিতে একজন সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রাম, উত্থান–পতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নানা দিক তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আজমান রুশো জানান, নির্মাণে আসার আগে তিনি নিজেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের নানা অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি এই গল্প তৈরি করেছেন।

সিনেমাটির বেশির ভাগ গানের কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। গানগুলোয় কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও আছে রাজীব হাসান, হাসান রোবায়েত ও অংকনের লেখা গান। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব। অঞ্জন চৌধুরী নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি। সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়া। ছবিটির এক্সক্লুসিভ স্ট্রিমিং পার্টনার চরকি।
সিনেমাটিতে শাকিবের খানের তিন নায়িকা—সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।

শুটিংয়ের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কেটেছে ঈদের দিন। তা-ও একাধিকবার। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মতো ঈদের আনন্দ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। শৈশবের ঈদ, অভিনয়জীবনের ঈদ, আর এবার সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের মধ্য দিয়ে কাটানো ঈদুল আজহা—সব মিলিয়ে ঈদ আমার কাছে স্মৃতি, ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্প।

ছোটবেলার ঈদ

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় কেটেছে আমার শৈশব। তখন ঈদ মানেই ছিল উৎসবের অপেক্ষা। কোরবানির ঈদের (ঈদুল আজহা) চেয়ে রোজার ঈদই (ঈদুল ফিতর) আমাকে বেশি টানত। ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা, নতুন জামা পরার আনন্দ—সবকিছু ঘিরে অন্য রকম উচ্ছ্বাস কাজ করত।

আর কোরবানির ঈদে ছোটবেলায় মন কিছুটা খারাপ থাকত। তবে কোরবানির মাংস বিলি করাটা বেশ উপভোগ করতাম। আনন্দ নিয়েই কাজটা করতাম। বড় হয়ে, বিয়ের পর সেই কাজটা আমি আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে করতাম।

কোরবানির ঈদে আমাদের বাসায় গরু ও ছাগল দুটোই কোরবানি হতো। হাট থেকে কিনে আনার পর আমি গরু-ছাগল খুব আদর করতাম। আমি তিন বোনের পরিবারে বড় হয়েছি। দুজন আমার বড়। তাই সুচন্দা আপা ও ববিতা আপার আদরের ছিলাম।

পর্দার তারকা হলেও ঘরের কাজে কখনো ছাড় পাইনি। তিন বোনই সিনেমার কাজের বাইরে ঘরের কাজে সহযোগিতা করতাম। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের নানা কাজ করতাম। ঈদ এলে আমার ওপর পড়ত মাংস বণ্টনের দায়িত্ব।

আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার কাজটি আমাকে করতে হতো। বিয়ের পর নিজের সংসারেও সেই দায়িত্বই পালন করেছি।

শৈশবের ঈদের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর একটি হলো নতুন পোশাক, মাথার ফিতা, চুড়ি আর জুতা ঘিরে। বাবা নতুন জামা-জুতা কিনে না দিলে ঈদ পূর্ণই হতো না। বলতাম, নতুন জামা, মাথার ফিতা, হাতের চুড়ি আর নতুন জুতা আমার চাই-ই চাই। একদম নাছোড়বান্দা ছিলাম।

কোরবানির ঈদ আমার জন্য তিন দিন চলত। তাই তিন দিনের জামাকাপড় চাই। রোজার ঈদ অবশ্য আরও বেশি, পাঁচ দিন। ঈদের আগের রাতে জামা বালিশের নিচে আর জুতা পাশে রেখে ঘুমাতাম।

তারপর একটু পরপর ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, সব ঠিক আছে কি না। জামা আছে তো, জুতা আছে তো, ফিতা আছে তো—এসব দেখেই আবার ঘুমাতাম। কখন ভোর হবে, সকাল হচ্ছে না কেন—অস্থির হয়ে থাকতাম।

নায়িকার ঈদ

অভিনয়জীবনে ঈদ মানেই ছিল নতুন সিনেমা মুক্তির আনন্দ। ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতাম। কখনো নাজ, কখনো মধুমিতা কিংবা মিরপুরের সনি সিনেমা হল—প্রতিটি হলে আলাদা স্মৃতি আছে আমার।

অভিনয়জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদগুলোর একটি কেটেছিল ভারতের ওডিশায়। সঠিক সময়টা মনে নেই, কিন্তু মনে আছে সেটা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। আমি তখন কাজ করছিলাম সন্দীপ রায় পরিচালিত টার্গেট সিনেমায়। ছবিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন ওম পুরী। কোরবানির ঈদের দিনও চলছিল শুটিং।

ইউনিটের সবাই এত আন্তরিক ছিলেন যে আমাকে কখনোই বিদেশে আছি, এমনটা বুঝতে দেননি। শুটিং পেছানোর সুযোগ থাকলেও আমি নিজেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মনে হয়েছিল, ঈদ তো জীবনে আবার আসবে।

নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
 

কিন্তু এত মানুষের শিডিউল একবার নষ্ট হলে সেটি মেলানো কঠিন। তাই কাজটাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। সেবার ঈদের দিনেও কাজ করেছিলাম।

আমার কাছে কোরবানির ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের গভীর এক শিক্ষা। ত্যাগ, ভালোবাসা আর ভাগাভাগির শিক্ষা। এই ঈদ আমাদের শেখায়, মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয় ও মূল্যবান জিনিসও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে পারে।

সেই ত্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আত্মশুদ্ধি, বিনয় ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক সুন্দর বার্তা। কোরবানির মাধ্যমে শুধু একটি পশু উৎসর্গ করা হয় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাও ত্যাগের প্রতীকী চর্চাও হয়। সেই ত্যাগের আনন্দই শেষ পর্যন্ত সমাজে সহমর্মিতা, ভাগাভাগি আর মানবিকতার সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তোলে।

এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা আমার জীবনে বিশেষ আনন্দ নিয়ে এসেছে। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল হজ পালন করার। নানা কারণে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও যাওয়া হয়নি। অবশেষে এবার সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসেছি।

পরিবারের সদস্যরাও আমার সঙ্গে আছে। মনে হচ্ছে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঈদটা এবারই কাটতে যাচ্ছে। পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতির মধ্যে আছি।

অনুলিখন: মনজুর কাদের

ভারতের পাঞ্জাবি গায়িকা ইন্দর কৌরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৩ মে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

কে এই ইন্দর কৌর
পাঞ্জাবি সংগীতের জনপ্রিয় শিল্পীদের একজন তিনি। ‘আফগান জট্টি’, ‘সোহনা লাগদা’, ‘লানেদারনি’, ‘দেশি সিরে দে’, ‘সোনে দি ওয়াং’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান গেয়েছেন ইন্দর কৌর।
গানের পাশাপাশি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার।

 

ইন্দর কৌরের সঙ্গে কী ঘটেছিল

তাঁর ভাই জোটিন্দর সিং পুলিশের কাছে করা অভিযোগে বলেন, ১৩ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাজার করতে বাড়ি থেকে বের হন ইন্দর কৌর। তিনি আর না ফেরায় পরিবার মোগার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখাকে সন্দেহ করে।
পরিবারের অভিযোগ, সুখবিন্দর তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁদের পরিচয় হয় এবং পরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু সুখবিন্দর যে আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে, তা জানার পর ইন্দর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

পুলিশের সন্দেহ, ১৩ মে সুখবিন্দর ও তাঁর সহযোগীরা ইন্দর কৌরের গাড়ির পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে তাঁকে অপহরণ করে। পরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ নীলো খালে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের আগে আগে তিনি কানাডা থেকে নেপাল হয়ে পাঞ্জাবে আসেন এবং হত্যার পর একই পথে আবার কানাডায় পালিয়ে যান।

 

কৌরের মরদেহ উদ্ধার করে সামরালার সিভিল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হয়তো তাঁর জীবন বাঁচানো যেত। পরিবার জানায়, ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং ও তাঁর সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

থানার কর্মকর্তা বলবীর সিং বলেন, সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ও পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে