বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট করতে নামবেন আর চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে রেকর্ড বইয়ে ওলট-পালট করবেন—এমন দৃশ্য এখন নতুন কিছু নয়। তবে আজ হায়দরাবাদের বিপক্ষে রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান যা করেছেন, তা রেকর্ড ছাড়িয়েও যেন বেশি কিছু।

সূর্যবংশী আজ ৩৭ বলে করেছেন ১০৩ রান। টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে কম ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে তাতে। আর রেকর্ডগড়া ইনিংসটিই সূর্যবংশী খেলেছেন অনেকটা ‘প্রতিশোধের’ আবহে।

এবারের আইপিএলে গত ১৩ এপ্রিল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান-হায়দরাবাদ। সে দিন প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেই দলের বিপক্ষে জয়পুরে আজ ১০৩—প্রতিশোধের কথা বলা হচ্ছে এ কারণেই। তবে এটুকুতেই আটকে থাকেননি বিহারের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী
সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী, এএফপি
 

সূর্যবংশী সে দিন শূন্য রানে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছিলেন প্রফুল হিঞ্জের বলে। আজ সেই একই বোলারকে প্রথম ওভারে সামনে পেয়ে টানা চারটি ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী। শুরুতেই অমন ঝড় তোলা এই বাঁহাতি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ১৫তম বলে। পরের পঞ্চাশে পৌঁছাতে অবশ্য একটু বেশি বলই লেগেছে। তবে ৩৬তম বলে সেই তিন অঙ্কও ছুঁয়েছেন দাপটের সঙ্গে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে। আইপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে চতুর্থ টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরি।

পরিসংখ্যান বলছে, সূর্যবংশী চারটি সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন মাত্র ২৬ ইনিংসে। টি-টুয়েন্টিতে এর আগে সর্বনিম্ন ৩৩ ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের উসমান খান। তার চেয়ে ৭ ইনিংস কম খেলেই রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন সূর্যবংশী।

৫ ছক্কা ১২ ছক্কায় করা তাঁর ১০৩ রানের ইনিংসটি থেমেছে সেঞ্চুরির পরের বলেই, সাকিব হুসাইনের বলে এলবিডব্লু হয়ে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা সূর্যবংশীর দল ২০ ওভারে করে ৬ উইকেটে ২২৮ রান।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি রিশাদ হোসেন। তাঁর প্রশংসা শোনা যায় নিয়মিতই। আর রিশাদের প্রশংসা করা মানুষটি যদি লেগ স্পিনার হন, তাহলে তো কথাই নেই। নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইশ সোধিও ব্যতিক্রম নন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সোধি খেলছেন তিন সংস্করণেই। এক যুগের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সোধিও উচ্ছ্বসিত রিশাদকে নিয়ে। বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনারের ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতাও যার একটা কারণ। টি–টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে আজ চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে সোধির বলা কথাগুলো শুনুন তাঁর মুখেই, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিগ ব্যাশে এত চমৎকার বোলিং করাটাই প্রমাণ করে যে সে কতটা বহুমুখী প্রতিভার লেগ স্পিনার।’

সোধি এরপর ব্যাখ্যা করেন, ‘সাধারণত এশিয়ান লেগ স্পিনারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা (উচ্চতার কারণে) নিচু থেকে (ফ্লাইট কম) বল ছাড়ে আর ফ্ল্যাট বোলিং করে। কিন্তু সে বেশ প্রথাগত ধারার বোলার; সে বলের ওপর জোর দিয়ে বাউন্স আদায় করে নিতে পারে। সত্যি বলতে, এই অঞ্চলের ক্রিকেটে অনেক দিন ধরে এ ধরনের বোলার দেখা যায়নি।’

২০২৩ সালে অভিষিক্ত রিশাদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বছরেই আলো ছড়ান। বিগ ব্যাশে গিয়েও স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট নেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শুধু ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টিই খেলছেন রিশাদ।

স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের সঙ্গে রিশাদ হোসেন
স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের সঙ্গে রিশাদ হোসেন
 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেললেও এখনো টেস্টে রিশাদকে দেখা যায়নি। তাঁর সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে আগে থেকেই যোগাযোগ আছে সোধির, দুজনের কথা হয়েছে বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজেও। রিশাদকে টেস্টে দেখার আগ্রহটা আজ জানিয়ে রাখলেন সোধি, ‘আমার মনে হয়, ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পড়ে আছে এবং আশা করি, সে টেস্ট ক্রিকেটেও জায়গা করে নিতে পারবে। সত্যি বলতে, টেস্ট ক্রিকেটে আবারও লেগ স্পিন দেখাটা হবে দারুণ ব্যাপার, যা আজকাল বেশ বিরল, তা–ই না? তবে ওর মধ্যে নিশ্চিতভাবেই সেই দক্ষতা আছে।’

এত সব প্রশংসার ভিড়েও রিশাদ আছেন উন্নতির খোঁজে। কয়েক দিন ধরে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদকে। সোধির পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশতাক জানিয়েছেন সেটির কারণও।

পাকিস্তানের সাবেক এ লেগ স্পিনার বলেন, ‘আমরা আলাদা বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছি, ক্রিজটাকে কীভাবে আরও ব্যবহার করা যায়, গুগলি নিয়েও। গুগলিতে আরও কিছুটা উন্নতি দরকার তাঁর। ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে কোন দিক থেকে বল করবে, স্টাম্পের কাছাকাছি কীভাবে আসা যায়, দূরে যাওয়া, এসব আরকি।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ
 

ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে খেললেও শেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না রিশাদ। মুশতাকের দাবি, রিশাদ দল থেকে বাদ পড়েননি, এটা তাঁর উন্নতির একটা প্রক্রিয়া। মুশতাকের ভাষায়, ‘আমরা স্পিনারদের দিক থেকে আরও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করেছি শুধু। যদি কিছু হয়…যেন অন্য স্পিনাররা এর আগেই গেম টাইমটা পায়।’

আগামী সোমবার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামেই দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ২ মে ঢাকায় হবে তৃতীয় ম্যাচ। এর আগে ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।

‘দ্য চেজ মাস্টার।’

বিরাট কোহলি কালও আইপিএলে নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর লক্ষ্য ছিল ২০৬। রান তাড়ায় কোহলি খেলেছেন ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস, হয়েছেন ম্যাচসেরা। এমন ইনিংস খেলার পথে নতুন এক মাইলফলকও ছুঁয়েছেন কোহলি।

৮১ রানের ইনিংসে কোহলি ছক্কা মেরেছেন ৪টি। তাতে আইপিএলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩০০ ছক্কার ক্লাবে ঢুকেছেন বেঙ্গালুরুর সাবেক এই অধিনায়ক। ২৬৬ ইনিংসে কোহলির ছক্কা ৩০৩টি। আগে থেকেই এই ক্লাবের সদস্য ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা।

গেইলের নামটাই সবার ওপরে। আইপিএলে মাত্র ১৪১ ইনিংসে ৩৫৭টি ছক্কা মেরেছেন গেইল। ৩১০ ছক্কা নিয়ে দ্বিতীয় রোহিত শর্মা, খেলেছেন ২৭১ ইনিংস। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, আইপিএলে ছক্কার রাজা গেইলই। রোহিত-কোহলিরা গেইলের ৩৫৭ ছক্কা ছাড়াতে পারবেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

সে ক্ষেত্রে এখনো তাঁদের কয়েক মৌসুম খেলতে হবে। ৩৫৭ ছক্কার মাইলফলক তাঁরা ছাড়িয়ে গেলেও ছক্কাবাজ হিসেবে গেইলের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। কোহলির প্রশংসাও আলাদা করে করতে হয়। ইনিংস ধরে খেলতে অভ্যস্ত কোহলি প্রয়োজনে যে ছক্কাও মারতে পারেন—এই ক্লাবে নাম লেখানোই তো তার প্রমাণ।

কাল ফিফটির পর কোহলি
কাল ফিফটির পর কোহলি, বিসিসিআই

এবারের টুর্নামেন্টে অবশ্য কোহলি ছক্কার তালিকায় খুব একটা ওপরের দিকে নেই। আইপিএলে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছক্কা অভিষেক শর্মার, ২৭টি। কোহলির ছক্কা ১২টি। অবশ্য সর্বোচ্চ রানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ওপেনার অভিষেককে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি।

৩২৩ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন অভিষেক। কাল ৮১ রানের ইনিংসের পর কোহলির রান দাঁড়াল ৩২৮। ৩২০ রান নিয়ে তালিকায় তৃতীয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হাইনরিখ ক্লাসেন। ৩ জনই খেলেছেন ৭টি করে ম্যাচ।

স্ট্রাইক রেটে অবশ্য কোহলি ও ক্লাসেনের চেয়ে অনেক এগিয়ে অভিষেক। কোহলির স্ট্রাইক রেট ১৬৩.১৮, ক্লাসেনের ১৫৩.১১। অন্যদিকে অভিষেকের স্ট্রাইক রেট ২১৫.৩৩।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়িয়েছেন দুজনেই। ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। গতকাল শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু তাঁদের কাউকেই রাখা হয়নি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা খেলতে পিএসএল ছেড়ে দেশে ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। টি-টুয়েন্টি সিরিজে যেহেতু তাঁরা বাংলাদেশ দলে নেই, তাহলে কি তাঁরা আবার ফিরে যাবেন পিএসএলে? কাল রাতে বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এবার আর ফেরা হচ্ছে না মোস্তাফিজ ও নাহিদের। পিএসএলে বাকি মৌসুমের জন্য তাঁদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বিসিবি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ
 

দুজনের কারণ অবশ্য ভিন্ন। হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামেননি মোস্তাফিজ, ছিলেন না দ্বিতীয় ম্যাচেও। তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলার পর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে মোস্তাফিজের শারীরিক অবস্থা, করা হবে একটি স্ক্যানও। এরপর বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েও যেতে হবে মোস্তাফিজকে।

শুরুতে ওয়ানডে সিরিজের পর পিএসএলে ফেরার কথা থাকলেও তাই এখন আর যাচ্ছেন না মোস্তাফিজ। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলবে তাঁর এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। এ কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও এখনো কোনো দলে নাম লেখাননি মোস্তাফিজ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন নাহিদ রানা
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন নাহিদ রানা
 

নাহিদ রানাও বিশ্রামে থাকবেন এ সময়ে। আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা এই পেসার আপাতত টেস্টের প্রস্তুতি নেবেন।

এবারের পিএসএলেই প্রথমবারের মতো দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গিয়েছিলেন নাহিদ রানা। পেশোয়ার জালমির হয়ে ৪ ম্যাচে ওভারপ্রতি ৫.৪২ গড়ে রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন নাহিদ। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজ পান ৬ উইকেট।

আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগতভাবে আলো ছড়িয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু দলটির হয়ে এখনো বড় কোনো ট্রফি জেতা হয়নি তাঁর। একাধিকবার কাছাকাছি গিয়ে সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই থাকতে হয়েছে রোনালদোকে। কিন্তু রোনালদোর সেই আক্ষেপ মিটতে পারে এই মৌসুমে।

আল নাসরের হয়ে একাধিক শিরোপা জেতার সুযোগ আছে ‘সিআর সেভেন’-এর। তবে জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে হিসাব করলে রোনালদো এ বছর জিততে পারেন অন্তত চারটি ট্রফি, যার দুটি জিততে পারেন এই মে মাসেই। যেখানে পাঁচ দিনের মধ্যে দুবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পেতে পারেন এই পর্তুগিজ তারকা।

আগামী ১৭ মে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুর ফাইনালে আল নাসর খেলবে জাপানি ক্লাব গাম্বা ওসাকার বিপক্ষে। গতকাল রাতে আল আহলিকে ৫-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আল নাসর। গতকাল রাতে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখেছেন, ‘দল নিয়ে গর্বিত। ফাইনাল অপেক্ষা করছে।’ এখন রিয়াদের ফাইনালে শেষ ধাপ পেরোলেই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের দ্বিতীয় স্তরের শিরোপা নিশ্চিত হবে রোনালদোদের।

এই ফাইনালের পাঁচ দিন পর সৌদি প্রো লিগে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে আল নাসর। বর্তমানে শীর্ষে থাকা আল নাসর শিরোপা–দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে। ২৯ ম্যাচ শেষে আল নাসরের পয়েন্ট এখন ৭৬। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই আছে আল হিলাল। ৮ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা আল হিলালের জন্য বাকি ম্যাচগুলোতে আল নাসরকে পেছনে ফেলা কঠিনই হবে। আর শেষ পর্যন্ত লিগ শিরোপা ঘরে তুলতে পারলে এটি রোনালদোর জন্য বড় অর্জনই হবে।

ফাইনালে ওঠার পথে সতীর্থের সঙ্গে রোনালদোর উদ্‌যাপন
ফাইনালে ওঠার পথে সতীর্থের সঙ্গে রোনালদোর উদ্‌যাপন, রয়টার্স

আল নাসরের হয়ে রোনালদোর এ বছর আরও একটি শিরোপা জেতার সুযোগ আছে। সেই শিরোপা হলো সৌদি সুপার কাপ। সৌদি প্রো লিগ ও কিংস কাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়া চার দল খেলে এই টুর্নামেন্টে।

তবে এই চার শিরোপার বাইরে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপাটি রোনালদো পেতে পারেন এ বছরের জুলাইয়ে। আর সেটি যে বিশ্বকাপ শিরোপা, তা বোধ হয় আলাদা করে না বললেও চলছে। যেকোনো ফুটবলারের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে বিশ্বকাপ জেতা।

রোনালদোর মতো সর্বকালের সেরা তারকার জন্য বিশ্বকাপ ছাড়া ক্যারিয়ার শেষ করা বেশ হতাশার ব্যাপার। সেই হতাশাকে কবর দেওয়ার শেষ সুযোগটা রোনালদো পাবেন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত বিশ্বকাপে। যদি শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যে রোনালদো সফল হন, তবে তা রোনালদোর তো বটেই, ফুটবলের ইতিহাসেই অনন্য এক ঘটনা হয়ে থাকবে।

চট্টগ্রাম থেকে

২১০ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ জিতল ৫৫ রানে

শেষটা হলো সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে। মিরাজের বলে ফক্সক্রফটের বড় শট, লং অনে কিছুটা ডাইভ দিয়েই ক্যাচ নিলেন সাইফ। ৭২ বলে ৭৫ রান করা ফক্সক্রফটের বিদায়ে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।

বাংলাদেশের ২৬৫ রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে অলআউট ২১০ রানে। বাংলাদেশ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে জিতল ৫৫ রানে, সঙ্গে ২–১ ব্যবধানে সিরিজও।

ম্যাচ শেষ!
ম্যাচ শেষ!

নিউজিল্যান্ড ম্যাচের শুরুটা করেছিল ভালোই। বাংলাদেশের প্রথম ৩২ রানে তুলে নিয়েছিল ৩ উইকেট। আবার শেষের দিকে দলটির দশম উইকেট জুটি মাত্র ৩১ বলে তুলেছে ৫০ রান। তবে কিউইদের শুরু ও শেষের ভালো বাদে ম্যাচের বাকিটা সময়ে এগিয়েছিল বাংলাদেশই।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে ছিল। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানো দলটিকে কিছুটা আশা জুগিয়েছিলেন নিক কেলি। এই বাঁহাতি ওপেনার ৫৯ রান করে ফিরে যাওয়ার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি। ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। বাংলাদেশের হয়ে কিউইদের চাপের মধ্যে ফেলার মূল কাজটি করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা এই পেসার ৪৩ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। নাহিদ রানা ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ইনিংস: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (নাজমুল ১০৫, লিটন ৭৬, তাওহিদ ৩৩, মিরাজ ২২; ও’রুর্ক ৩/৩২, লেনক্স ২/৫০, লিস্টার ২/৬২)।
নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫; মোস্তাফিজ ৫/৪৩, মিরাজ ২/৩৬, নাহিদ ২/৩৭)।
ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন (১১৯ বলে ১০৫ রান)।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: নাহিদ রানা (৮ উইকেট)।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সমতায় নেমে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ।

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ৫ রান করে বিদায় নেন। ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে ওপেনার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৯ বলে ৮টি চারে ৪০ রান করেন তিনি।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটিতে। করুনারত্নে ৪০ ও সামারাবিক্রমা ৫০ রান করে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কৌশানি ৪ রান করে ফেরেন। পরে কাভিশা ও নীলাক্ষী দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হয়ে যান।

একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন অধিনায়ক জ্যোতি। ১০১ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতু মনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আরও তিন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

আবু হায়দার সেঞ্চুরি পাননি, সেঞ্চুরি পাননি ১৪৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী আশিকুর রহমানও। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় দিনটা তবু সেঞ্চুরিশূন্য থাকেনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে সেঞ্চুরি পেয়েছেন উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমার ও আকবর আলী। দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরের অধিনায়ক আকবর ১২১ রানের আউট হয়ে গেলেও ১৫১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন উইকেটকিপার প্রিতম কুমার।

গতকাল ম্যাচের প্রথম দিনে দক্ষিণকে ৩১৪ রানে অলআউট করে উত্তর। বিনা উইকেটে ১৬ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করা উত্তর দ্বিতীয় দিনটা শেষে করেছে ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান তুলে। দলটি এগিয়ে ৬৫ রানে।

আজ দিনের তৃতীয় ওভারে উত্তরাঞ্চল ২৮ রানে হারায় প্রথম উইকেট। ৫৩ রান তুলতেই আরও ২ উইকেট হারানো দলকে উদ্ধার করে প্রিতম ও আকবরের ২৩৩ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। ১৫৮ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রান করা আকবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সামীউন বাসির। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো, বিসিবি
 

চারে নামা প্রিতম পেয়েছেন এই সংস্করণে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ১৮৪ বলে খেলা অপরাজিত ১৫১ রানের ইনিংসটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ বছর বয়সী প্রিতমের সর্বোচ্চ ইনিংসও। তাঁর আগের সর্বোচ্চ ১৪৩, গত নভেম্বরে সর্বশেষ জাতীয় লিগে রাজশাহী বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে। এ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রিতমের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

পাশের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চলের আবু হায়দার ফেরেন আর কোনো রান যোগ না করেই। বাংলাদেশ টেস্ট দলের পেসার খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হায়দার। ৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা আশিকুর ফিরেছেন ৮৬ রানে। পেসার ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনিও। ৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চল অলআউট ৩০৭ রানে। ৫৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইবাদত।

ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম
ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম, বিসিবি
 

প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চল দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে। উইকেটকিপার অমিত হাসান ৮৮ রানে ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন। ফিফটি পেয়েছেন দলটির ওপেনার মাহমুদুল হাসানও, করেছেন ৬৪ রান।

ম্যাচের প্রথম বল হয়েছে বেলা এগারোটায়, ৫০ ওভারের ইনিংস শেষ হওয়ার কথা আড়াইটায়। কিন্তু বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করা কিউইদের ইনিংস আড়াইটার মধ্যে শেষ হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের পৌনে এক ঘণ্টা পর সোয়া ৩টায় শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। তাও ৪৮.৪ ওভারে অলআউট না হলে সময় বেশি লাগত আরও।

সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচটিতে এমন বিলম্বে বাংলাদেশ দলকে জরিমানা করেছে আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ ওভার কম করায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। আজ আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।

গরমের মধ্যে চলা বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দুই ম্যাচেই প্রথম ইনিংস শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লেগেছে। গরমের কারণে একাধিক পানি পানের বিরতি, খেলোয়াড়দের ছোটখাটো চোটের কারণে অস্বস্তি আর পেসারদের দিয়ে বেশি বোলিংয়ের কারণে বিলম্বটা বেশি হয়েছে।

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
 

আইসিসি জানিয়েছে, সময়ের সব ছাড় বিবেচনায় নেওয়ার পরও দেখা যায়, মিরাজরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ওভার পিছিয়ে ছিলেন। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেল, তৃতীয় আম্পায়ার নীতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে মন্থর ওভার রেটের অভিযোগ আনেন।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিরাজ অপরাধ স্বীকার করে শাস্তির প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২২ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মোট ১০ শতাংশ জরিমানার আদেশ দেন।

বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় মুখোমুখি হবে দু্ই দল। এ ম্যাচের জন্য টিকিটের মূল্যতালিকা আজ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে পূর্ব গ্যালারির টিকিটের দাম সবচেয়ে কম—২০০ টাকা। পশ্চিম গ্যালারির টিকিটের দাম ৩০০ টাকা। শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড ও শহীদ শ্রাবণ স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ৬০০ টাকা করে।

পূর্ব ও পশ্চিমে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ২৫০০ টাকা করে। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ছাদের ওপর দুই প্যাভিলিয়ন এন্ডের টিকিটের দামও ২৫০০ টাকা করে। স্টেডিয়ামের এই চারটি জায়গার টিকিটের দামই সবচেয়ে বেশি।

[caption id="attachment_272100" align="alignnone" width="695"] বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডে টিকেটের মূল্য[/caption]

ওয়ানডে সিরিজে এরই মধ্যে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ২৬ রানে জেতে নিউজিল্যান্ড। একই ভেন্যুতে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে সিরিজ শেষে তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। ২৭ ও ২৯ এপ্রিল দুটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। ২ মে তৃতীয় ও শেষ টি–টুয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। টি–টুয়েন্টি সিরিজে সব কটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ২টায়।

‘খেলাধুলার অস্কার’খ্যাত লরিয়াস বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে এবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল টেনিস। শীর্ষ দুই পুরস্কারের দুটিই নিজেদের করে নিয়েছেন দুই টেনিস তারকা। বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার এ পুরস্কার পেলেন আলকারাজ ও সাবালেঙ্কা। মাদ্রিদের সিবেলেস প্যালেসে গতকাল রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় এ পুরস্কার। যেখানে বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার উঠেছে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের হাতে। ২০২৬ সালের এ আয়োজন উপস্থাপনা করেন ক্রীড়াজগতের দুই তারকা নোভাক জোকোভিচ ও আইলিন গু।

টেনিসে গত বছরটা দারুণ কেটেছে ২২ বছর বয়সী আলকারাজের। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন জিতেছেন। আর এ সাফল্যের কারণেই বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ামাল। পুরস্কার পেয়ে আলকারাজ বলেছেন, ‘যাঁরা খেলাধুলা এত গভীরভাবে বোঝেন, তাঁদের কাছ থেকে এ স্বীকৃতি পাওয়া আরও বেশি অর্থবহ। এই রাত আমি কোনো দিন ভুলব না, হৃদয়ে গেঁথে থাকবে সব সময়।’

নারীদের শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কা গত বছর জিতেছিলেন ইউএস ওপেন। এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গ্র্যান্ড স্লাম। পুরস্কার হাতে নিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি এখন কাঁপছি! আমার নামটা যেসব কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের পাশে লেখা হবে, যাঁদের দেখে বড় হয়েছি, যাঁদের অনুসরণ করেছি। বিষয়টা ভাবতেই একটু অবিশ্বাস্য লাগছে।’
বর্ষসেরা স্পোর্টিং ইনস্পাইরেশন পুরস্কার জিতেছেন টনি ক্রুস
বর্ষসেরা স্পোর্টিং ইনস্পাইরেশন পুরস্কার জিতেছেন টনি ক্রুস, এএফপি

বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের। আমি একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার পরিবারকে—আমার মা, যিনি আমার ভাইকে নিয়ে বাসায় আছেন, আমার বাবা, আমার দাদি, আমার সতীর্থরা এবং সেই দলকে, যারা সব সময় আমাকে সমর্থন দেয়।’

লরিয়াসে দুবার বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জেতা লিওনেল মেসিকেও স্মরণ করেন ইয়ামাল, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। সব খেলাধুলার মধ্যে তিনি সেরা কি না, জানি না, তবে না হলেও খুব কাছাকাছি আছেন। তিনি একজন আদর্শ। তিনি যা অর্জন করেছেন, তার জন্য সবাই তাঁকে সম্মান করে।’

বর্ষসেরা দল নির্বাচিত হয়েছে পিএসজি। গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের পথে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে ফ্রান্সের ক্লাবটি।

[caption id="attachment_272080" align="alignnone" width="622"] কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা, তরণ ক্রীড়াবিদ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল।[/caption]