৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে নভোচারী পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন।

সর্বশেষ চাঁদে নভোচারী গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। ওই সময় নাসার অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন। একে চাঁদে আর মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যখন নভোচারীদের নিয়ে ক্যাপসুলটি রওনা হয়, সেটার উৎক্ষেপণ দেখতে সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ক্যাপসুল কক্ষপথে পৌঁছাবে। সেখানে নভোচারীরা নানান পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবে।

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী (বাঁ থেকে) জেরেমি হ্যানসেন, ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইজম্যান ও ক্রিস্টিনা কোচ। গতকাল বুধবারই তাঁদের মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কথা রয়েছে। জেরেমি হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির এবং অন্য তিনজন নাসার নভোচারী
আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী (বাঁ থেকে) জেরেমি হ্যানসেন, ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইজম্যান ও ক্রিস্টিনা কোচ। গতকাল বুধবারই তাঁদের মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কথা রয়েছে। জেরেমি হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির এবং অন্য তিনজন নাসার নভোচারী, ছবি: এএফপি

উৎক্ষেপণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, নভোচারীরা ‘নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অত্যন্ত উৎফুল্ল’ আছেন।

‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ১০ দিনের এই মিশনে তাঁরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মনুষ্যবাহী এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবার নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই যাত্রার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘৫০ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও চাঁদে যাচ্ছে! আর্টেমিস-২ আমাদের সাহসী নভোচারীদের মহাকাশের অনেক গভীরে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আগে কোনো মানুষ পৌঁছাতে পারেনি।’

বিবিসিও আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব