২০ জুন ঢাকায় বালক ও বালিকা বিভাগের ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা সদরের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলারদের জন্য এবারের যাত্রা যেন স্বপ্নপূরণের গল্প। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাধা পেরিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে।

২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক ও বালিকা) ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নির্ধারিত হবে দেশের সেরা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল। ফাইনাল খেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শুধু ত্রিশালের ছেলেদের ওই দলই নয়, দেশের বালক ও বালিকা—দুই বিভাগে ফাইনালে ওঠা চারটি বিদ্যালয়ের সব কটিই ঢাকার বাইরের।

দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩৭৬ জন এবং শিক্ষক ১১ জন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, আগে তাঁদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খেলেছে। এবার ফাইনালে খেলবে, এটা তাঁদের জন্য আনন্দের ও গর্বের।

শুধু ত্রিশালের ছেলেদের ওই দলই নয়, দেশের বালক ও বালিকা—দুই বিভাগে ফাইনালে ওঠা চারটি বিদ্যালয়ের সব কটিই ঢাকার বাইরের।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুন অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে বালিকা বিভাগের এক ম্যাচে ঢাকার ধামরাইয়ের নিকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য সেমিফাইনালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খিরাইকান্দি ইমাম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

ফলে বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই হবে আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে। 

অন্যদিকে বালক বিভাগের একটি সেমিফাইনালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লংলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য সেমিফাইনালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে ফাইনাল নিশ্চিত করে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অর্থাৎ বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়, যেখানে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নেয়। 

২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাকে  উৎসাহিত করতে প্রাথমিকে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী ও ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন।

এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়ানশিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়েরও পথচলা হয়েছিল এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। তাই বিজয়ী খেলোয়াড়েরা পরবর্তী স্তরে যেন ঝরে না পড়ে, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

এ বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ দুই বিভাগ মিলিয়ে অংশ নেয় ২২ লাখের বেশি শিশু।

ইউনিয়ন বা পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে গত ২৩ মে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়। এরপর ৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়, যেখানে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নেয়। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলা এক ঘণ্টার, মাঝে ১০ মিনিট বিরতি। প্রতিটি দলে ১৭ জন খেলোয়াড় থাকে।

এক লাখের বেশি ম্যাচ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এর মধ্যে ছাত্রী সাড়ে ৫২ লাখের বেশি এবং ছাত্র প্রায় ৪৭ লাখ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলা এক ঘণ্টার, মাঝে ১০ মিনিট বিরতি। প্রতিটি দলে ১৭ জন খেলোয়াড় থাকে।

ইতিমধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বালিকা বিভাগে তৃতীয় হয়েছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খিরাইকান্দি ইমাম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালক বিভাগে তৃতীয় হয়েছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ১৫ হাজার টাকা, রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়েরা ১০ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের খেলোয়াড়েরা পাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।

বিজয়ীরা যা পাবে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে তিন লাখ টাকা ও গোল্ডেন কাপ (রেপ্লিকা)। রানার্সআপ দল পাবে দুই লাখ টাকা ও সিলভার কাপ। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে এক লাখ টাকা ও ব্রোঞ্জ কাপ।

এ ছাড়া সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার থাকবে। খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে নগদ প্রণোদনা। চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ১৫ হাজার টাকা, রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়েরা ১০ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের খেলোয়াড়েরা পাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।

আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আগামীর তরুণ প্রজন্ম যেন সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা সনদভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্বারোপ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আগামীর তরুণ প্রজন্ম যেন সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।’ 

উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও চান, শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেম, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, টিমওয়ার্ক, শৃঙ্খলা শিখে বড় হোক। এ লক্ষ্যে সারা বছরই শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব