• Colors: Purple Color

নির্বাচন কমিশনে আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূইয়া নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্ট জমা দেন।

২০২৪ সালে দলটির আয় ব্যায়ের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরে জাপার বার্ষিক আয় ২ কোটি ৬৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৩৮ টাকা। অন্যদিকে ব্যয় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪৪ টাকা। আয়ের খাতে কর্মীদের চাঁদা, প্রকাশনা ও ডোনেশন দেখানো হয়েছে। আর ব্যয় হয় প্রচার কার্যক্রম, অফিস কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদি খাতে।

এসময় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন করার জন্য জাপাকে ফ্যাসিস্ট এর দোসর বলা হচ্ছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপিও বিগত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। জাপাকে অবৈধ বলার দাবি উঠলে বিএনপিসহ বাকিদলগুলোকেও অবৈধ বলতে হবে।

আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে জাপা অংশ নিবে বলেও জানান তিনি। বিগত তিন নির্বাচনে অংশগ্রহনের দায়ে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করলে ২০১৮ এর নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপিসহ ৩১ টি দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আরপিও অনুযায়ী রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হয়। সেখানের কোন শর্ত জাপা লঙ্ঘন করেনি। এছাড়া কমিশনকে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নিরপেক্ষ বা পক্ষপাতদূষ্ট বলার পক্ষে নয় জাপা, যেহেতু এখনও তারা নির্বাচন করেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জাপা আয় করে ২ কোটি ২২ লাখ দুই হাজার ৪০৫ টাকা। আর ব্যয় করে এক কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ টাকা। ২০২২ সালে তাদের আয় হয় ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ টাকা। ব্যয় হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪২ টাকা। ব্যাংকে স্থিতি ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ টাকা। অর্থাৎ ২০২৪ সালে তাদের আয় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে।

সরকারি কর্ম কমিশন, দুদক, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান নিয়ে শেষ দিনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আজ বৈঠকে বসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ২৩তম দিনের সংলাপ শুরুর কথা রয়েছে।

এছাড়াও আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও ক্ষমতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণের বিষয়।

কমিশনের প্রত্যাশা, আজকের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা যাবে অমীমাংসিত প্রস্তাবগুলো। যথারীতি আজও বৈঠকে অংশ সবগুলো রাজনৈতিক দলের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

৩১ জুলাই, ২০২৪। ততোদিনে আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ নেই। রক্ত ঝরলো কেন- সেই জবাব চাইতে এদিন শুরু হয় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’। কারফিউ ভেঙে শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেন সারাদেশের আইনজীবীরাও।

‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ৩১ তারিখ বেলা ১২টার দিকে দোয়েল চত্বরে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে যুক্ত হয় বুয়েটের তরুণরাও। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই হাইকোর্ট অভিমুখে যেতে থাকে মানুষের স্রোত। এসময় আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে হাইকোর্ট প্রাঙ্গনেও তখন শুরু আইনজীবীদের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’। মিছিল নিয়ে বের হতে চাইলে পুলিশের সাথে হয় ধ্বস্তাধস্তি। ততোক্ষণে শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন আইনজীবীদের সাথে। এদিন জাতি দেখেছিল, শিক্ষার্থীদের প্রতি আইনজীবীদের অকুণ্ঠ সমর্থন। পুলিশের কাছে নিজেদের জিম্মি করে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তারা।

কারফিউর শেকল ভাঙা হচ্ছিলো গোটা দেশজুড়েই। রাস্তায় নামেন সারাদেশের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-আইনজীবী আর নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। চট্টগ্রামে আইনজীবীদের সহায়তায় আদালত প্রাঙ্গনে চলে আন্দোলন। রাজশাহী, খুলনা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ সারাদেশের পরিস্থিতিই সেদিন এক। কোনো চোখ রাঙানিতে আর কাজ হয়নি সেদিন।

এদিকে, বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি না করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। বলা হয়, হাইকোর্ট বেঞ্চের এক বিচারপতি অসুস্থ, তাই হবে না শুনানি।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি বুঝে বর্তমান-সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের একত্রিত করার চেষ্টা করছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে দাবার গুটি উল্টে যায়, নিজ দলের সাবেক নেতাদের কাছেই তাকে হতে হয় হেনস্তা। সাবেক নেতাদের ‘ভুয়াধ্বনির’ মুখে কোনোরকমে ঘটনাস্থল ছাড়েন সাবেক এই মন্ত্রী।

এদিন গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ডিবি হারুণকে বদলি করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। আর এদিন থেকেই ঢাকার সবগুলো থানার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে চলে আসে তার হাতে।

সমন্বয়করা বলছেন, ততোদিনে ভেতরে ভেতরে তৈরি হয়েছে ‘বিদ্রোহী ছাত্রলীগ’। ছাত্রলীগের অনেকে দলীয় বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করতেন আন্দোলনকারীদের। অনেক ছাত্রলীগ নেতা এসময় পদত্যাগও করেন।

সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশিদ বলেন, সবাইতো আসলে মন থেকে ছাত্রলীগ করেনি। ছাত্রলীগের যেসব সদস্য মন থেকে সাপোর্ট করতো না, তাদেরকে আমরা আন্দোলনে যুক্ত করেছি।

জুলাইয়ের শেষ দিনে স্পষ্ট হয়ে যায়, আন্দোলন এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের মাঝে বা কোটার দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই্। জনমানুষ ততোদিনে বিক্ষুব্ধ—সবার দাবি, হত্যার বিচার।

ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের প্রশংসনীয় অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেছে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সেনা সদরে এ সম্মাননা দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর এক বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিপদ সংকুল পরিস্থিতিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অন্যান্য স্টাফদের উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাসদস্যদের সাহসিকতা ও মানবিক আচরণ সেনাবাহিনীর পেশাগত মানদণ্ডের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে সকল সেনাসদস্যের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশে যাতে ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। সেজন্য বিশেষ করে নারী সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে মহিলা দলের আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, একজন মায়ের চোখে বাংলাদেশ যেমন হওয়া দরকার, তেমন দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার জন‍্য নিরাপদ, গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীরা ভূমিকা রেখেছেন। নারী শক্তিকে কর্মপরিকল্পনার বাইরে রেখে কোনও রাষ্ট্রই এগিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু দেশের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার ক্ষেত্রে নারীরা অনেকাংশে পিছিয়ে। তাদের অর্থনৈতিক সাবলম্বীতায় বিএনপির বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নারীদের শিক্ষাদান এবং অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে পারিবারিক সহিংসতা রোধ করা সম্ভব।

এ সময় বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রথম পর্যায়ে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ প্রান্তিক পরিবারের ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনসের পরিচালক কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিশেষ কোনও দলের ক্ষেত্রে আমাদের আলাদা কোনো নজর নেই। আমরা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সকলেই আমাদের কাছে সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ বা জীবন নাশের হুমকি থাকে সেখানে আমরা কঠোর হই বা আমরা জনসাধারণকে সহায়তা করে থাকি।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সেনাবাহিনীর দুর্বলতা আছে কি না জানতে চাইলে এ সেনা কর্মকর্তা এসব বলেছেন।

এ নিয়ে তার বক্তব্য, ‘সেখানে আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করতাম তাহলে হয়তো আরও হতাহত বা জীবন নাশের সম্ভাবনা থাকতো। তো সেই হিসাবে আমরা এটা করেছি। এখানে জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য ছিল, অন্য কিছু না।’

সেনাবাহিনী কখনও কোনও রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে সহায়তা করেনি বলেও দাবি করেন শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় তাদের সভা, সমিতি ও বৈঠক করবে তা সাধারণত স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচিতে দফায় দফায় হামলা চলে। ওই ঘটনায় সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন।

সেখানে সেনাবাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা একটা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ছিল, যেখানে ইট-পাটকেলই শুধু নিক্ষেপ করা হয়নি। এখানে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন সেখানে জীবন নাশের হুমকি ছিল তখন আত্মরক্ষার্থে আমাদের যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল তারা বলপ্রয়োগ করেছে বা করতে বাধ্য হয়েছে। এখানে প্রাণঘাতী কোন অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি।

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় সত্য উদঘাটনে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশন গঠন সত্য উন্মোচনে সক্ষম হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব