• Colors: Purple Color

দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন জোট-নির্ভর দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব শক্তির প্রদর্শন করেছে।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হওয়া এই নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জোটগত হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭। ফলে সরকার গঠনের পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত।

বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে এবং জোটগতভাবে ২১২টিতে জয় পেয়েছে। তবে ৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।

১৯৯১ সালে ১৮টি, ২০০১ সালে ১৭টি ও ২০০৮ সালে ২টি আসনে জয় পেয়েছিল জামায়াত। সেই তুলনায় এবারের ফল দলটির জন্য ঐতিহাসিক মোড়।

৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।

১৭ বছর পর জামায়াত নিজস্ব নেতৃত্বে জোট গড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সরকার গঠনের মতো আসন না পেলেও জোটগত ৭৭ আসন প্রাপ্তিকে জামায়াতের বড় উত্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

জামায়াতে ইসলামী অতীতে রাজধানী ঢাকায় একটি আসনও পায়নি। কিন্তু এবার ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে—ঢাকা-৪, ৫, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬। এ ছাড়া জোটের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।

এ ছাড়া ঢাকার আরও পাঁচটি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭—এই আসনগুলোতে জামায়াত বা জোটের প্রার্থীরা হেরেছেন কম ভোটের ব্যবধানে। এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে ৩ হাজার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে আর ঢাকা-৭ আসনে ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেক আসনে হারলেও দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে।

ফলাফলের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চল—রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—খুলনা বিভাগ জামায়াতের সাফল্যের প্রধান ক্ষেত্র।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমে সাফল্য

ফলাফলের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চল—রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—খুলনা বিভাগ জামায়াতের সাফল্যের প্রধান ক্ষেত্র। খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে, রংপুরের ৩৩টির মধ্যে ১৬টি এবং রাজশাহীর ৩৯টির মধ্যে ১১টি আসনে জয় পেয়েছে।

সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সব আসনে জয় দলটির আঞ্চলিক প্রভাবের গভীরতা দেখায়। রংপুর ও কুড়িগ্রামের সব আসন জোটগতভাবে জয়ী হওয়াও তাৎপর্যপূর্ণ; এর মধ্যে দুটি আসন পেয়েছে শরিক এনসিপি।

তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি এগিয়ে। ঢাকার ৭০টির মধ্যে ৮টি এবং চট্টগ্রামের ৫৮টির মধ্যে ৩টি আসনে জামায়াত এককভাবে জয় পেয়েছে। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে কেবল জোটের শরিক খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে—এমন আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যকেও কেউ কেউ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন।

ভোট-সমীকরণের রূপান্তর

এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে—এমন আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যকেও কেউ কেউ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন।

গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য বা জোটও একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

এই ক্ষেত্রে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিমের পর্যবেক্ষণে কয়েকটি বিষয় এসেছে। তিনি বলেন, জামায়াত রক্ষণশীল ডানপন্থী পরিচয় থেকে মধ্য-ডানপন্থী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করেছে এবং অনেকাংশে সফল হয়েছে। এত দিন বিএনপিকে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী ঘরানার ভোটগুলোর প্রধান জিম্মাদার মনে করা হতো। এই ক্ষেত্রে জামায়াতকে সহযোগী মনে করা হতো। এবার সেই ভোটে জামায়াত ভাগ বসাতে পেরেছে। এ ছাড়া দলটি নিজেদের ‘ক্ষমতামুখী নয়, পরিবর্তনের পক্ষে’ শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর প্রভাবও তরুণদের মধ্যে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে—সেটাই এ দেশে ঘটেছে। জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে।

তবে জামায়াতের এই উত্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসন ছিল।যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে—সেটাই এ দেশে ঘটেছে। জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে। তাদের দমন-পীড়নমূলক শাসন, বিরোধী দলকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন করতে না দেওয়ার কারণে এটা হয়েছে।

ঢাকা

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে সর্বোচ্চ আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়াবেন।

আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই যুগ পর সরকার গঠন করছে বিএনপি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। দলটি এ ঘোষণা আগেই দিয়েছে।

নির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। আর তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অর্থাৎ বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৭৭ আসন। ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কবে, কারা থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে শপথ হয় বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়ান।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ, সংসদ নেতা নির্বাচন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এরপর সুবিধাজনক একটি সময় নির্ধারণ করা হয় শপথের জন্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।’

তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে যদি বলা হয় আগামীকাল বা পরশু, সেটারও প্রস্তুতি আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সংসদ সদস্যদের শপথ হওয়ার পর জানা যাবে মন্ত্রিসভার শপথ কবে হবে।

শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি আছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।

শার্লি বোচওয়ে তার বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে একটি সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণভোটে অবদান রাখা সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আমি আন্তরিকভাবে প্রশংসা করি। বাংলাদেশ ও এর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং পরবর্তী ধাপে সমর্থন জোগাতে কমনওয়েলথের যে অঙ্গীকার, সেটি আমি আবারও পুনর্নিশ্চিত করছি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা অবশিষ্ট দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির মিত্র শরিক দলগুলো আরও তিনটি আসন লাভ করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যান্য শরিকেরা আরও ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের সংসদ একটি বৈচিত্র্যময় এবং প্রতিনিধিত্বশীল রূপ পেতে যাচ্ছে।

 

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের দুটি সিল মারা ব্যালট ও গণভোটের চারটি ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় লোকজন।‌ এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিকেলে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সহায়তায় ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ইউএনওর দাবি, ঘটনাটি কেন্দ্র করে তিনি ‘মবের’ শিকার হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের সিলমারা দুটি ব্যালট ও চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেন স্থানীয় লোকজন। বিদ্যালয়টি রংপুর-৬ আসনের নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র ছিল। এ‌ ঘটনার খোঁজ নিতে দুপুরে পীরগঞ্জের ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও নির্বাচন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গেলে ভোট ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে তাঁদের অবরুদ্ধ করা হয়।

ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না। কারণ, আমাদের কাছে সংরক্ষিত যে ব্যালটগুলো আছে, ওটার সাথে ওই সিলটা, ওই নম্বরটা মিল আছে কি না—এইটা আমরা আসলে ওই সময় দেখতে পাচ্ছিলাম না। ওখানে আসলে মব একটা ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়েছে।‌ ওরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্টেটমেন্ট চাচ্ছিল যে ওখানেই আমাদের বলতে হবে বিষয়গুলো।পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পীরগঞ্জ

ওই এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, ওই বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সিল মারা ব্যালট পায়। তারপর এলাকার লোকজন বিষয়টি দেখলে পীরগঞ্জের ইউএনও পপি খাতুনকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশের সহায়তায় বের হন ইউএনও।

পপি খাতুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এবং এগুলো সিজ (জব্দ) করার জন্য যাই। আসলে সিজ করতে গেলে তো একটা প্রক্রিয়া লাগে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়—কে দেখল, কে পেল। তাই না? সিজার লিস্ট (জব্দ তালিকা) তৈরি করে ওসি সাহেবসহ আমরা যখন ব্যাক করব, তখন আমাদের ওপর মব ভায়োলেন্স করা হয়। ওরা আসলে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখে ওখানে একটা পেশিশক্তির প্রদর্শন বা একটা হুমকি প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদান করে। আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না। কারণ, আমাদের কাছে সংরক্ষিত যে ব্যালটগুলো আছে, ওটার সাথে ওই সিলটা, ওই নম্বরটা মিল আছে কি না—এইটা আমরা আসলে ওই সময় দেখতে পাচ্ছিলাম না। ওখানে আসলে মব একটা ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়েছে।‌ ওরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্টেটমেন্ট চাচ্ছিল যে ওখানেই আমাদের বলতে হবে বিষয়গুলো।’

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ‘ইউএনওর সঙ্গে আমরাও যাই। তিনি বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙেছে।’

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রতীকে সিল মারা দুটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষর আছে। এ ছাড়া গণভোটে  ‘হ্যাঁ’ সিলযুক্ত দুটি ও ‘না’ সিলযুক্ত দুটি ব্যালট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ব্যালটের বিপরীত পাশে নির্বাচন কমিশনের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৯। ভোট গ্রহণ হয়েছে ২ হাজার ৪০২টি। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ হাজার ৫৩২ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ৮৩২। আসনটিতে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন। ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, ‘সব এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট শুরু করি। সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স থেকে ব্যালট গণনা করে ফলাফল শিট তৈরি করা হয়। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নাই।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম বলেন, তাঁরা ঘটনাটি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলো। ভোটাররা অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা অনেকে অনুভব করলেন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ভোটের হার স্বস্তিদায়ক বলা যায়। জয়ী দল বিএনপি বড় ধরনের ম্যান্ডেট পেল। আবার ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য তাদের আসন ও ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সার্থক হলো।

নির্বাচনের আগে অনেক আলাপ-আলোচনা ছিল, সংঘাত হতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মনে বড় আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর জোরালো ভূমিকা সেই শঙ্কা অনেকটা কেটে দেয়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। এবার আমরা যেটা দেখতে পেলাম, ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা হয়তো জরুরি হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল—সবাই মিলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মাইলফলক অতিক্রম করলাম। একটা হচ্ছে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত করলাম। আরেকটা হচ্ছে নির্বাচনের ফলাফলটাও মেনে নেওয়ার মাধ্যমে কার্যকর সংসদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক দূর এগিয়ে গেল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বিকভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নবায়নের একটা সুযোগ তৈরি হলো। জনচাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে এই স্থিতিশীল উত্তরণ। অর্থাৎ যাঁরা সরকার গঠন করতে পারছেন না, তাঁরাও ফলাফল মেনে নিয়েছেন। যদিও তাঁদের অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

মোটাদাগে আমরা দেখেছি মানুষ একটা মধ্যপন্থার দিকে এবং স্থিতিশীল উত্তরণের জন্য ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আসনভিত্তিক ফলাফল একধরনের বার্তা দিচ্ছে, আবার ভোটের বিন্যাস আরেক ধরনের বার্তা দিচ্ছে। ঢাকার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভোট হয়েছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় একদম একচেটিয়াভাবে হয়েছে—যেমন চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বিএনপি এবং খুলনা, রংপুর ও রাজশাহীর একটা অঞ্চলে জামায়াত একচেটিয়া আসন পেয়েছে। এই ভোটের বিন্যাসের তাৎপর্য বোঝাটা খুব জরুরি। মানুষ এগুলোর মধ্য দিয়ে কী বলতে চেয়েছেন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মনোভাবটা কেমন ছিল। মধ্যবিত্তের মনোভাব কেমন ছিল। এগুলো থেকে অন্য কোনো বার্তা আছে কি না।

ঢাকায় যাঁরা জিতেছেন, তাঁরা কম ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। বিজয়ীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা; বিশেষ করে ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে। অন্য একটি এজেন্ডাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ—বিকেন্দ্রীকরণ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ তো দূরের কথা, কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। এই সময়ে এসে বিকেন্দ্রীকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক এজেন্ডা নয়, খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডাও। ঢাকায় সবকিছু হয়—এই ধারণাটা ভেঙে দেওয়া দরকার। স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের সার্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক জীবনটা যে সফল করা দরকার, সেই বিষয়টাও অগ্রাধিকারে থাকা জরুরি।

গণভোটের বিষয়টাকে যদি দেখি, এখানে ‘না’ ভোটের চেয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি এসেছে। কিন্তু প্রায় ৭৪ লাখ ভোট বাতিল হয়েছে। তার মানে এটা অনেকটা ‘না’ ভোটের মতোই। হ্যাঁ, না ও বাতিল—তিনটাকে মাথায় রেখে গণভোটের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে, সুচিন্তিতভাবে এগোনো ভালো হবে। একদিক থেকে এটা ভালো যে এত দিন গণভোট নিয়ে কী হবে না হবে, তা ঐকমত্য কমিশনের পরিধির মধ্যেই হচ্ছিল। এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে—এখানে রাজনীতিবিদদেরই মুখ্য ভূমিকায় থাকা উচিত। সংসদেই এটার মূল সুরাহা হওয়া উচিত।

এখন আমাদের বহু কাজ করার আছে। দল ও তাদের মন্ত্রিসভা ইত্যাদির যেমন কাজ করার আছে, সংসদে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদেরও অনেক কাজ করার আছে। নাগরিক যাঁরা, আমরা যাঁরা ভোটার, আমাদেরও কিন্তু অনেক কাজ করার আছে। নাগরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অগ্রাধিকার থাকবে এই পরবর্তী পর্যায়ে।

এখানে তরুণদের একটি বিষয় আছে। তরুণদের একাংশের একটি দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন জিতেছেন। তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাঁরা যেন একটা সুষ্ঠু ভূমিকা পালন করতে পারেন। তরুণদের যে রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক সক্রিয়তার এজেন্ডা—এটা বড় এজেন্ডা হিসেবে উন্মোচিত হলো। এটাকে শুধু এনসিপির ভবিষ্যৎ কী, এই প্রশ্নের সঙ্গে সমার্থক দেখাটা উচিত হবে না। তরুণদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একটি দলের ভবিষ্যতের চেয়ে আরও বৃহত্তর। তরুণেরা আরও উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন।

এই নির্বাচনে নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদিও তাঁরা নির্বাচনে প্রতিযোগী হিসেবে সংখ্যায় নিতান্তই অপ্রতুল ছিলেন।

আমি অগ্রাধিকার হিসেবে যদি চিহ্নিত করি, তাহলে আমাদের জাতীয় ঐক্য সংহত করা খুব জরুরি। এই যে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফলাফল এল এবং সেটা গ্রহণ করা হলো, এটা জাতীয় ঐক্য সংহত করার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। এগোনোর পথে প্রতিযোগিতা থাকবে, বিতর্ক থাকবে, আলোচনা থাকবে, কিন্তু জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার যেকোনো ধরনের প্রবণতাকে পরিহার করা খুবই জরুরি। এখানে অবশ্যই প্রতিহিংসা পরিহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর আমি অগ্রাধিকার হিসেবে বলব, আমাদের অর্থনীতি খুবই সঙিন অবস্থায় আছে। অন্তর্বর্তী সরকার একধরনের সামাল দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। কিন্তু তারা বড় ধরনের তৈরি করা অর্থনীতি দিয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উচ্চতর আকাঙ্ক্ষা যেগুলো ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজন এখনই দেখা দিচ্ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম—এগুলো তো হবেই ধাপে ধাপে। সেই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম দিকেই অর্থনৈতিক ‘সিগন্যালিং’ (সংকেত দেওয়া) দেওয়াটা খুব জরুরি। ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থার জায়গায় তৈরি হবে কি না, সেটার চাহিদা থাকবে। মন্ত্রিসভা এবং যাঁরা চালাবেন রাষ্ট্র—তাঁদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতার বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ ‘সিগন্যালিং’ বিষয় হবে।

অনেক গোষ্ঠী থাকে যারা চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে। তা ছাড়া এখন এই অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের বিষয় আছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। আরেকটা দিক হলো ঋণের বোঝা। এটা বড় ধরনের অর্থনীতির বাস্তবতা হিসেবে দেখতে হবে। সঠিকভাবে সম্মিলিত শক্তিটা জড়ো করা গেলে এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এগুলো সবই অতিক্রম করা সম্ভব। এখানে ‘ম্যাজিকের’ খোঁজ করাটা সঠিক হবে না। আসলে ম্যাজিক করে বাস্তবে সমাধান হয় না। বাস্তবতা বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—অর্থনৈতিক সিগন্যালিংয়ের মাধ্যমে সেই ধারণা দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

কার্যকর সংসদও দরকার। অনেক সময় আমরা সংসদের গুরুত্ব ভুলে যাই। ‘স্টাইল অব গভর্ন্যান্স’কেও (রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন) অগ্রাধিকার দিতে হবে। মানুষের কথা শুনতে হবে। আবার সংকীর্ণ কোনো গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। প্রশাসন যন্ত্রকে নিজের সুবিধার জন্য সব সময় না রেখে জনগণের চাহিদা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা। প্রশাসন যন্ত্রের দক্ষতা, উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। ভালো নীতি নিলাম, সেটা বাস্তবায়ন হলো না—এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের আছে।

দুই-তৃতীয়াংশ জেতাটা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা বড় ধরনের বোঝাও হয়ে যায় অনেক সময়। কারণ, এর সঙ্গে আত্মতুষ্টির মধ্যে ঢুকে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তোষামোদির সংস্কৃতি গেড়ে বসার আশঙ্কাও থাকে। সেখানে সতর্ক থাকা খুব জরুরি। আশা করি, যাঁরা জিতেছেন, তাঁরা এগুলো পরিহার করে সুষ্ঠুভাবে, দক্ষতার সঙ্গে এগোবেন। যাঁরা জেতেননি, তাঁরা প্রথমেই দায়িত্বশীলতার একটা পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেননি। এ জন্য তাঁরা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো অভিনন্দনযোগ্য ও স্বস্তিদায়ক।

আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হচ্ছে যাঁরা প্রশাসনিক ক্ষমতার দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই সর্বেসর্বা। আমাদের একটা সুযোগ এসেছে কার্যকর সংসদের বাস্তবতা তৈরি করা। এখানে যাঁরা সরকার গঠন করেননি, কিন্তু সংসদে যাবেন, তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

  • হোসেন জিল্লুর রহমান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মাতারবাড়ী-মহেশখালীকে সাংহাই-সিঙ্গাপুর বন্দরের মতো উন্নতমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এর ফলে এখান থেকে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) দেড়শ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।

আজ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ১৬ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার রফতানি হবে। ২০৫৫ সালের মধ্যে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এতে করে দেশের চেহারা পুরো বদলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস বা নিউক্লিয়ার পাওয়ার স্টেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে, হবে শিল্প পার্ক। প্রথম ৫ বছরের মধ্যে ডিপসি চালু করা হবে, পরের ৫ বছরে রেল সংযোগ।

এ সময় বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ২০৪৩-৪৫ থেকে ২০৫৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার ও মহেশখালিকে পুরো এলাকা পর্যটনকেন্দ্রিক করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১২০ দিনের মধ্যে ভিশন ও মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া তৈরি করে দেয়া হবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব